Header Ads Widget

বিশ্বাস-অবিশ্বাস

বিশ্বাস-অবিশ্বাস  Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)






( নিজের জীবনের ঘটনা অবলম্বনে )
# বিশ্বাস-অবিশ্বাস
আপনাদেরকে আমার জীবনের একটি ঘটনা বলেছিলাম যেটি ছিল ভূত আর ভগবানের অস্তিত্ব নিয়ে । আজকের ঘটনাটি তেমনিই আশ্চর্যজনক আর হতচকিত করার মতোই বিষয় । আজকের ঘটনাটি আপনাদের সাথে ভাগ করে নিলাম ।...........
দিল্লী নিবাসী রনদীপ চক্রবর্তী এবং ওনার স্ত্রী নির্মলাদেবীর সাথে দিল্লীতে থাকার দরুনই আলাপ হয়েছিল। ২০১৯ এর ১৪ই অগস্ট, আমি বাবা আর মাকে নিয়ে উওরাখন্ড বেড়াতে এসেছিলাম । সাথে রনদীপ চক্রবর্তী আর ওনার স্ত্রী এবং রনদীপবাবুর পরিচিত আরোও এক বয়স্ক দম্পতিও সঙ্গে ছিলেন । আমাদের সাথেও আলাপ হল। রনদীপবাবু চাকুরী থেকে অবসরপ্রাপ্ত । প্রায় ষাটের কাছে বয়স হবে । তিনি নিজে ঠাকুর দেবতা, আধ্যাত্মিক ব্যাপার নিয়েই থাকেন।
প্রত্যেক বছরই নিয়ম করে এই দুটি পরিবার আসেন উওরাখন্ডের পিথোরাগড় জায়গাটায় । রনদীপবাবুর সাথে হোটেল রুমে বসে কথাবার্তা হতে হতে কথায় কথায় ভূত আর ভগবান নিয়ে প্রসঙ্গটি উঠল । আমি জানতে চাইলাম আপনি কি নিজে এসব মানেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই রনদীপবাবু বললেন নিশ্চই বিশ্বাস করি। আমি এর প্রত্যক্ষদর্শীও বটে ।
তিনি বললেন...তবে সবার সাথে সব ঘটনা ঘটবেই এর কোনো মানে নেই । সবাই সব ঘটনার সাক্ষী হতেও পারে না । বহু পুরনো মন্দিরের প্রতিষ্ঠা নিয়ে হয়তো শুনে থাকবে যে মায়ের স্বপ্নদৃষ্ট হয়ে অমুক রাজা বা জমিদার এই মন্দির তৈরী করেছেন । এখন যদি বলি আমিও পূজো করি, ডাকি, কই আমি তো ঠাকুরের স্বপ্ন পাই না ।..
একটু চুপ করে থেকে বললেন আমি তখন এইট কি নাইনে পড়ি আমার দাদু মারা যায় । তার ঠিক এক সপ্তাহ বাদে আমি দারুন জ্বরে পড়লাম । রাএিরে ঘুমের মধ্যে দেখতাম দাদু এসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। তখন গা একেবারে ঠান্ডা মনে হতে লাগলো । কোনো জ্বরের লক্ষণ অবধি নেই। যদি কেউ বলে অবচেতন মনে আপনার এই সব মনে হয়েছে, তাদের কে বলি দাদুর কথা বিন্দুমাএ তখন মনে হয়নি আর শরীর জ্বরে যখন পুড়ে যাচ্ছে হঠাৎ করে শরীর স্বাভাবিক ভাবেই ঠান্ডা বলে মনে হবে না ।
রনদীপ বাবু আবার বললেন জানো আমার এক পুরোনো বন্ধু ( নাম কৃষেন্দু ) পুলিশে ছিল । সে বলতো আরে কত অ্যাকসিডেন্টাল থেকে মার্ডার হওয়া বডি দেখে আসছি জীবন ভোর, আমি ভূত প্রেত কিছুই তো দেখলাম না৷ কথাটা যর্থাথই ঠিক ছিল । কিন্তু আজ থেকে ছ-বছর হতে যায় একদিন নিজের বাড়িতেই সকালে বিছানায় হার্টফেল করে মারা যায় ।বিস্ফারিত চোখে চিত হয়ে শুয়ে রয়েছে । শরীরে অথচ রোগের কোনো লক্ষণ কখনই ছিল না । শক্ত সামর্থ পেটানো চেহারা...রাতেও দিব্যি ভালো ছিল । হঠাৎ করে তার হার্টফেল হয়ে গেল ।...ডাক্তারও স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই রির্পোট দিলেন। আমার বন্ধুর স্ত্রী নলিনীদেবী পরবর্তীকালে অবশ্য বলেছিলেন আমি পাশের ঘর থেকে যেন শুনতে পাচ্ছি, মাঝরাতে আপনার বন্ধু যেন কাকে বলছে তুই চলে যা, তুই আমায় নিয়ে যেতে পারবি না । তুই চলে যা।... রনদীপ বাবু বললেন ব্যাপারটা কি সত্যিই স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল । আমার দেখে সেটা মোটেও মনে হয়নি। এবার অনেকেই হয়তো বলবে জোর করে আপনি এর মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যাপার-স্যাপার দেখছেন ।......
একটু চুপ করে থেকে আমি বললাম তা আপনি এইখানেই প্রত্যেক বছর কেন ঘুরতে আসেন, যদিও উওরাখন্ডের বহু জায়গা টুরিষ্টস্পট হিসাবে খুবই জনপ্রিয় সেটা জানি ...আমাকে কথা শেষ করতে না দিয়েই বললেন...না , এখানে সেজন্যে আসি না ।
একটু চুপ করে থেকে বললেন, তোমার বাবা মায়ের সামনেই একটি ছোট্ট ঘটনা বলি.. যার জন্য এইখানে প্রত্যেক বছর আমরা আসি । একটু চুপ করে থেকে রনদীপবাবুর পাশেই বসা ওনার সেই পরিচিত ভদ্রলোক ও ভদ্রমহিলার দিকে তাকিয়ে ইশারায় কিছু বললেন । সেই ভদ্রলোক শুধু বললেন বলতে পারেন অসুবিধা নেই । ওনাদের দেখিয়ে রনদীপবাবু বললেন উনি তখন কলকাতায় থাকতেন আর আমি ওনাদেরই পাশের বাড়িতে থাকতাম । সময়টা ২০০৫ এর দিকে আমার এই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দম্পতির ছেলে ব্যাঙ্গালোরে গাড়ি অ্যাকসিডেন্টে মারা যায় । শোকে মূহ্যমান এই পরিবারটি একদিন রেগে গিয়ে ঠাকুর সিংহাসন সমেত বাড়ির বাইরে এসে ফেলে দিতে যাচ্ছিলো । আমিও সেই মুহূর্তে সেখানেই ছিলাম । দেখি কি...সেই ভরদুপুর বেলায় বেশ লম্বা করে একজন বউ লালপাড় শাড়ি পরা, মাথায় কোঁকড়ানো বেশ বড় বড় চুল, সিঁথির মাঝখান থেকে সিঁদুর ভর্তি, কপালে লাল গোল একখানা টিপ, হাতে শাখা পলা, গলাটা সোনার হারে ঢাকা । কোথা থেকে এসে যেন আমদের থেকে খানিকটা দূরে দাঁড়ালো । আমরা খেয়ালই করিনি কেউ । কি অদ্ভুত শান্ত চোখের দৃ্ষ্টি । দূর থেকেই পরিষ্কারভাবে বলল.... ঠাকুরকে ফেলে দিলেই তোর ছেলে ফিরে আসবে না । ভাগ্যের লেখা কে কেউ কোনোদিন পরিবর্তন করতে পারে না । সবই ভবিতব্য । কষ্ট পাস না । “হাটকালীকা” মায়ের কাছে তোর কষ্টের কথা বল গিয়ে। সব কষ্ট দেখবি ধীরে ধীরে লাঘব হবে ।......আমরা হাঁ করে জড় পর্দাথের মতো তাকিয়ে রইলাম। দেখলাম আস্তে আস্তে হেঁটে সামনের একটি মাঠ দিয়ে কোথায় চলে গেল ।
রনদীপবাবু বললেন এবার বলো কি বলবে ঐ ভরদুপুর বেলায় আশপাশের বাড়ির থেকে অচেনা কেউ কি এসেছিল কিন্তু ঐভাবে আর্বিভাব হয়ে ঐ বেশভূষায়, ...জানলোই বা কি করে আমার প্রতিবেশীর সাথে কি হয়েছে । এবার আমি যা ভাবছি নিশ্চই আপনারা সেটাই ভাবছেন । শুনলে অবিশ্বাস্য মনে হয় বা লোকে হয়তো হেসেই উড়িয়ে দেবে । কিন্ত নিশ্চই একজন বয়ষ্ক দম্পতি নিজেদের একমাএ ছেলেকে নিয়ে এই গল্প বলবে না । আর তাই ওনাদের সাক্ষী রেখেই তোমার বাবা-মায়ের সামনেই ঘটনাটি বললাম ।
যাইহোক এরপর খোজখবর করেই হাটকালীকা মায়ের মন্দিরে আসি । ২০০৬ এর মাঝামাঝি সময় পর আমি দিল্লী চলে আসি আর ওনারাও কলকাতার বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে দিল্লীতে চলে আসেন ।
সেই ভদ্রলোক এবার বললেন আদি শঙ্করাচার্য কেদার-বদ্রী হয়ে এখানে আসার সময় মা কালীকার অল্প বয়সী কন্যা রুপ শঙ্করাচার্যকে দেখা দিয়ে, বলেন...অসুর দমন করতে গিয়ে যে অতি সাংঘাতিক তেজস্বীনি ও জোয়লামুখী রুপ ধারন করেছিলেন । সেই রুপকে শান্ত করার জন্য এখানে মন্দির প্রতিষ্ঠিত করে দেবীর পূজো করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ।
....................................... .............................................. ...........................
আধ্যাত্মিক ভক্তি, শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস নিয়ে পরদিন সকালে আমি বাবা-মাকে নিয়ে রনদীপ চক্রবর্তীদের সাথে আমরা হাটকালীকা মন্দিরে পৌঁছেছিলাম। ছোট বাচ্চা কথা বলতে পারত না, কেউ কঠিন অসুখে দীর্ঘদিন ভুগছিল, কেউ অর্থনৈতিক ভাবে বিধ্বস্ত ছিল, আর তার থেকেই হতাশার জন্ম নিয়েছিল। আরও কত দুঃখ, কষ্ট নিয়ে যারা একদিন মায়ের কাছে পূজো দিয়ে মানত করেছিল তাদের কে দেখলাম মানত পূর্ণ হওয়ায় আনন্দ অশ্রুধারায় মায়ের গর্ভগৃহে মায়ের কাছে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোভাসার সাথে পূজো দিচ্ছে । সেই দিন মন্দিরে মাকে দর্শন করে মায়ের কাছে পূজোও দেওয়া হল ।......
একটি প্রচলিত জনশ্রুতি ও মন্দিরের পূজারীর কথা অনুযায়ী, মা কালী এখানে বিশ্রাম করতে আসে মধ্য রাএে । সেখানে অনেকের মুখে এবং রনদীপবাবু আর সেই ভদ্রলোকের মুখেও ঘাট কালীকা মায়ের অলৌকিক এই ব্যাপারটি শুনলাম । সন্ধ্যে তখন সাতটা আরতি শেষে সবাই মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বিদায় নিচ্ছে অনেকেই । পূজারী মহাশয় গর্ভগৃহে মাকে নতুন দামি লাল রঙের শাড়ী, জবা ফুলের মালা দিয়ে সাজিয়ে দিলেন । মায়ের সামনে মিষ্টি, ধূপ, ও সিঁদুর কৌটো দেওয়া হল এবং ঐ গর্ভগৃহেই দেবী মায়ের বিছানায় নতুন পশমের চাদর পেতে তার উপরেও জবা ও আরও ফুল দিয়ে সাজিয়ে দিলেন এবং একটি শালপাতার বড় পাখা রেখে দিলেন । সব কিছুর শেষে পূজারী মহাশয় গর্ভগৃহের বাইরে এসে বললেন...মা রাএির বেলা এখানে বিশ্রাম করতে আসেন । এত কিছু সাজানো গোছানো কাল এসে সব কিছুর পরিবর্তন দেখবেন । রনদীপবাবু আর সেই ভদ্রলোক এবং সেখানে থাকা লোকজনও পূজারী মহাশয়েরর কথায় সায়ও দিলেন। গর্ভগৃহ থেকে শুরু করে মন্দিরের মেন গেট পর্যন্ত সাতটা গেটে সাতখানা তালা দিয়ে বন্ধ করা হল । ................
সেইদিন রনদীপবাবু আর সেই ভদ্রলোকের সাথে মন্দিরের বাইরের চত্বরে সারারাত জেগেছিলাম । রাত দুটো থেকে আড়াইটে এই আধঘন্টা সময়ের মধ্যে একটা ঝোড়ো হাওয়া মন্দির প্রাঙ্গন জুড়ে বইতে লাগল কিন্তু চারদিক যেমন নিস্তব্দ তেমনিই নির্জন । সেই হাওয়ায় মন্দিরের ঘন্টার ধ্বনির আওয়াজ কানে এসে পৌঁছোতে লাগল । কিছুক্ষুনের মধ্যেই আবার সব শান্ত । কোনো ঝোড়ো হাওয়া বা অন্যকিছুরই লক্ষণ দেখা গেল না । ঠিক ভোর চারটে এর সময় পূজারী মহাশয় এলেন ইতিমধ্যে বেশ কিছু ভক্তেরও সমাগম হতে শুরু করেছে....ভোর ছটায় পূজোর আরতি আরম্ভ হবে ।পূজারীজি যখন এক এক করে ছয়টা গেটের ছয়টা তালা খুলে গর্ভগৃহের দরজার আসল সাত নম্বর তালা টি খুললেন....যা দেখলাম তাতে করে বিহ্বল হয়ে দেখতে লাগলাম। মায়ের শিলাখন্ডটি জল দিয়ে স্নান করানো আর অনেকটা সিঁদুরে মাখানো । সেইসাথে দেখলাম বিছানার উপর গতকাল রাতে সাজিয়ে রাখা গোটানো পশমের চাদর টা এলোমেলোভাবে পড়ে রয়েছে । বিছানার উপর রাখা ফুলগুলো মায়ের শিলাখন্ডটির কাছে জোড়ো হয়ে পড়ে আছে । প্রসাদ হিসাবে দেওয়া মিষ্টি টি থালায় সামান্য ছড়ানো ।........
প্রত্যেকদিনই নাকি মাঝরাতে কিছু সময় ধরে বেশ ঝোড়ো হাওয়া মন্দির প্রাঙ্গন জুড়ে বইতে থাকে । আর গর্ভগৃহের এই অলৌকিক ঘটনাটি আজও একইভাবে ঘটে থাকে ।
মানত করে পূজো দেওয়ার বেশ কিছু নিয়ম আছে এই হাট কালীকা মায়ের মন্দিরে । মানতের ফল নাকি কোনোদিন ব্যর্থ হয় না ।   
সত্যিই তাই । সেই দম্পতিও আজ ভালো আছেন ।
এখানে মায়ের গর্ভ গৃহে একটা আসল শিলামূর্তি আছে যেটি মাটি ফুড়ে বেড়িয়ে ছিল ।এখানে দেবী জগদম্বা রুপে পূজো করা হয় । ( ছবি তোলায় কোনো বাধা নিষেধ না থাকায় মায়ের শিলাখন্ডের যে ছবিটি তুলেছিলাম ঘটনাটির শেষে ছবিটি দিয়েছি ) মন্দিরে মায়ের একটি মূর্তিও আছে সেটিরও নিত্য পুজোর প্রচলন আছে ।
                                                                                     নমস্কার ।












website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments