Header Ads Widget

বাগানবাড়িতে এক রাত

বাগানবাড়িতে এক রাত Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)




●বাগানবাড়িতে এক রাত●

মাধ্যমিক হয়ে যাওয়ার পর বাড়িতেই সময় কাটছিলো টুবাইয়ের, ঘরে টিভি দেখে আর ভিডিও গেমস খেলে সময় কাটছেনা আর... মনে মনে খুব বিরক্ত হচ্ছিল সে... বাবারও এই সময় অফিসের কাজের চাপ... ইয়ার এন্ডিং চলছে... তাই বাবার কাছেও কোথাও ঘুরতে যাওয়ার প্রোপোজাল দিতে পারছিলোনা সে... এমনই একদিন সন্ধাবেলা রোহিত আঙ্কেল তার সমস্যার সমাধান করে দিলেন....
রোহিত আঙ্কেল হলেন বুবুনের বাবা... বুবুন আর টুবাই একই স্কুল থেকে মাধ্যমিক দিলো এবছর... বুবুন যেমন টুবাইয়ের বন্ধু তেমন রোহিত আঙ্কেল আর টুবাইয়ের বাবাও একটা নতুন ব্যাবসা শুরু করতে চলেছেন... তাই বন্ধুত্বের সাথে সাথে বিজনেস পার্টনারও বলা যায়.. 
টুবাইয়ের মা এমন সময় ঘরে এসে রোহিত আঙ্কেল কে চা দিলেন... আর বললেন দাদা আপনাকে একটু অপেক্ষা করতে বলে গেছেন(টুবাইয়ের বাবা)
শুনে একটু আলতো হাসলেন রোহিত আঙ্কেল এবং টুবাইয়ের দিকে চোখ গেল তাঁর...চায়ের কাপটা হাতে তুলে নিয়ে বললেন কি টুবাইবাবু?? বাড়িতে সময় কাটছে??
তখন টুবাই সুযোগ পেয়ে বলে উঠলো না আঙ্কেল খুব ঘুরতে যেতে মন চাইছে...রোহিত আঙ্কেল চায়ের কাপে আলতো চুমুক দিয়ে বললেন তবে যাও কদিন ঘুরে এসো...
টুবাই তখন কাঁচুমাচু মুখে একবার মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো কোথায় আর যাবো?? বাবার কাজের চাপ......
টুবাইয়ের কথা শুনে রোহিত আঙ্কেল হা হা করে হেসে উঠলেন তারপর বললেন বুবুনও খুব বায়না করছে তাহলে এক কাজ করো... পুরুলিয়াতে আমি যে নতুন বাঙলোটা কিনেছি সেটা দেখে আসো... 
টুবাই এর মন নেচে উঠলো.. সে বললো তাই?? তবে বুবুন কেও নেবো... আর সৈকত আর বাপ্পাকেও বলে দেখি...
তারপর আবার সে প্রশ্ন করলো আচ্ছা আঙ্কেল বাড়িটা কেমন? 
রোহিত আঙ্কেল বললেন আমি কেনার সর থেকে মোটে দুবার গেছি... একজন চাকর ছারা কেউই থাকেনা... তোমরা যাও বেশ অ্যাডভেঞ্চারাস ফিলিং পাবে... বলে মুচকে হাসলেন একবার...
টুবাইয়ের মন লাফিয়ে উঠলো.. সে আবার বললো তবে কবে যাবো??
আঙ্কেল বললেন তোমরা পরশুদিন রওনা হয়ে যাও... আমি টিকিটের ব্যাবস্থা করে দেবো....
এমন সময় টুবাইয়ের মা বলে উঠলেন.... কিন্তু রোহিতদা ছেলেগুলোকে একা এভাবে ছাড়া কি ঠিক হবে?? 
ঠিক সেই সময় টুবাইয়ের বাবা ঘরে ঢুকলেন... এবং বললেন আরে রোহিত !! কতক্ষন??
আঙ্কেল বললেন এইতো দাদা মিনিট দশেক হলো...
টুবাইয়ের বাবা বললেন তা কি নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে?
টুবাইয়ের মা কিছু বলতে যাচ্ছিলেন টুবাই তাকে একপ্রকার থামিয়ে দিয়েই বলে উঠলো বাবা আমরা চারজন আমি, বুবুন, সৈকত আর বাপ্পা পুরুলিয়াতে রোহিত আঙ্কেলের বাঙলো দেখতে যেতে চাই....
শুনে টুবাইয়ের বাবা বললেন- বাহ! এ তো ভালো কথা যা কদিন ঘুরে আয় ভালো লাগবে...
টুবাইয়ের মা এবার বললেন কিন্তু এত দুরের পথ একা একা ছেলেগুলো যাবে....
বাবা সেসে বললেন আরে এই তো বয়স... এখনই তো এসব করবে... কিচ্ছু হবেনা যাক কদিন ঘুরে আসুক...
টুবাইয়ের দুই চোখে দেখা গেল আনন্দের ঝিলিক.... সে বললো তবে আমি বাপ্পা দের ফোন করে আসি.... বলে উঠে চলে গেল সে....

নির্দিষ্ঠ দিনে চার বন্ধুতে ট্রেনে চেপে বসলো..আগেরদিন রাতেই বাপ্পা আর সৈকতকে ম্যানেজ করে নিয়েছিল টুবাই... আর রোহিত আঙ্কেলও টিকিটের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন...
ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে ঠিক ছটায় ট্রেন ছাড়লো... ট্রেনে উঠে তারা হালকা কিছু খাওয়াদাওয়া করে নিলো... কারন প্রায় পাঁচঘন্টার পথ তাদের যেতে হবে... খাওয়াদাওয়া করে শুরু হলো তাদের গল্পাসর...
রাত তখন প্রায় 11টা... পুরুলিয়া ষ্টেশনে ট্রেন দাঁড়ালো... জানলা দিয়ে উঁকি মেরে ষ্টেশন দেখে নেমে পড়লো চার বন্ধু... এদিক ওদিক তাকিয়ে খুঁজতে লাগলো তারা হরিহর(চাকর) কে।। রোহিত আঙ্কেল বলেছিলেন ষ্টেশনেই থাকবে হরিহর... রাত হয়ে গেছে এদিকের পথঘাটও অচেনা.. চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার.. দুরে একটা ঘরে আলো জ্বলছে..বোধহয় ওটাই ষ্টেশন মাষ্টারের ঘর... এসব দেখতে দেখতেই তারা ব্যস্ত ছিলো... এরকম সময়ে হঠাৎ পিছন থেকে কেউ ডাকলো " কি বাবুরা"??- চমকে উঠলো সবাই.. পিছন ঘুরে তারা দেখলো আধময়লা একটা ধুতি আর একটা চাদর গায়ে একটা কিম্ভুত কিমাকার জীব দাঁড়িয়ে আছে... অন্ধকারে মুখটা ঠিক বোঝা যায়না...হাতে একটা লন্ঠন....লন্ঠনের আলোয় জীবটা মুলোর মতো সাদা ভ্যাটভ্যাটে দাঁত বের করে খিক খিক করে হাসছে...
"এভাবে কেউ আচমকা ডাকে???" বলে উঠলো বুবুন...
লোকটি আবার দাঁত বের করে বলে উঠলো আজ্ঞে আমি হরিহর!! "খিক খিক!! আমি দেখছিলাম বাবুরা আপনারা আমায় খুঁজছেন! কিন্তু আমি আপনাদের পিছনেই ছিলাম" বলে আবার খিক খিক করে হেসে উঠলো....
লোকটার মনে হয় মাথার গন্ডগোল আছে এটাই ভাবছিলো সবাই.. হরিহর বললো চলেন বাবু রাত হয়েছে আমার পিছে পিছে আসেন.... বলে এগিয়ে গেল।।
টুবাইরা তাকে অনুসরন করে চলতে থাকলো... মিনিট পাঁচেক হাঁটার পরে তারা পৌঁছালো বাগানবাড়িতে.... বাগানবাড়ি বলতে বিরাট কম্পাউন্ড ওয়ালা একটা দোতলা বাড়ি... দরজা ঠেলে আগে ঢুকলো হরিহর.... বললো আসেন বাবুরা....
পথে আসতে আসতে একটাও কথা বলেনি হরিহর এই সবে বললো... 
যাইহোক বাড়িটা বেশ সুন্দর অনেক গুলো ঘর... হরিহর একতলার একটা ছোট ঝরে থাকে... টুবাইদের দোতলা একটা ঘরে থাকার ব্যবস্থা করেছে হরিহর...সেই রাতে কথা না বাড়িয়ে খাওয়াদাওয়া করে টুবাইরা শুয়ে পরলো... কিন্তু এই অদ্ভুত হরিহরকে দেখে তাদের মনে খটকা টা থেকেই গেলো....
পরদিন সকালে ফ্রেশ হয়ে প্রাতরাশ করেই চার বন্ধুতে ঘুরতে বেরোলো... বাড়িটা ঘুরে দেখাটাই তাদের উদ্দেশ্য... তারা বাগানটা এদিক ওদিক ঘুরতে লাগলো... ঘুরতে ঘুরতে তারা লক্ষই করেনি বুবুন তাদের সাথে নেই... হঠাৎ বাপ্পা বলে উঠলো এই বুবুন কোথায় গেল রে?? 
সৈকত বললো যাবে আর কোথায় এই আসেপাশেই আছে.. আরো দশ মিনিট এদিক ওদিক দেখেও যখন বুবুনের দেখা পেলোনা তারা তখন সবাই মিলে বাড়ির পিছন দিকটায় গেল...
গিয়ে দেখলো বুবুন কাঠের মতো দাঁড়িয়ে আছে... কাছে যেতেই হাতের আঙুল দিয়ে ইশারা করে দেখালো বুবুন... 
সামনে তিনটে কবরের মতো মাটি দিয়ে ঘেরা... ওপরে সিমেন্টের মেঝে... তারা আলোচনা করতে লাগলো এটা কি সেই বেপারে... হঠাৎ পিছন দিয়ে একটা কর্কশ কন্ঠস্বর... "এখানে আসা মানা আছে বাবুরা !! এখানে কেন এসেছেন??"
পিছন ঘুরে তারা দেখলো হরিহর দাঁড়িয়ে আছে... পরনে সেই কালকের পোষাক... চোখে যেন বিরক্তির ছাপ..
বুবুন বললো এখানে আসা মানা কেন??
হরিহর বললো অতসত আমি জানিনা... এখানে আসা মানা আছে ব্যাস!! চলুন রান্না হয়ে গেছে... বলে কথাটা ঘুরিয়ে দিলো হরিহর...
ঘুরতে ঘুরতে টুবাইদেরও বেশ খিদে পেয়েছিল... সৈকত জিজ্ঞাসা করলো আজ কি মেনু?? 
হরিহর বললো কচি পাঁঠার ঝোল আর ভাত...
মন নেচে উঠলো সবার ফিরতে ফিরতে... কিন্তু মনের কোনে কোথাও একটা খচখচ করতে লাগলো.... দুপুরে খাওয়াদাওয়া সেরে চার বন্ধুতে গল্প করতে লাগলো.. গল্পের টপিক কি আছে বাড়ির পিছনে?? হরিহর কেন বললো ওখানে যাওয়া মানা?? এইসব আলোচনা করতে লাগলো... হঠাৎ বুবুন বলে উঠলো আজ রাতে ওখানে গিয়ে দেখলে কেমন হয়?? হরিহর যখন ঘুমাবে তারা চুপিসারে বাড়িটার পিছনে গিয়ে দেখবে এরকমই প্ল্যান ঠিক করলো চার বন্ধুতে....
সেদিন বিকেলে আর কেউ ঘুরতে বেরোলো না... ঘরেই গল্প করে কাটিয়ে দিলো.. রাতের অপেক্ষা করতে লাগলো তারা... 
রাত দশটা নাগাদ খাবার দিয়ে গেল হরিহর... চুপচাপ বসে খেয়ে যে যার মতো শুয়ে পরলো তারা... 
রাত তখন প্রায় একটা.. চারদিক নিস্তব্ধ নিচের তলা থেকে হরিহরের নাক ডাকার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে... 
আস্তে আস্তে বিছানা থেকে নেমে টুবাইকে ধাক্কা দিয়ে জাগালো বুবুন... বাপ্পা আর সৈকতও ইতিমধ্যে রেডি...হাতে একটা লন্ঠন নিয়ে পা টিপে টিপে চারজন বাড়ির বাইরে এসে দাঁড়ালো... চারদিকে অছেদ্য অন্ধকার লন্ঠনের আলো সেই অন্ধকারে হাড়িয়ে যায়... 
আস্তে আস্তে তারা এগিয়ে গেল অন্ধকার ভেদ করে.. বাড়ির পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো তারা।। লন্ঠনের আলোয় তারা সামনে দেখতে পেলো সেই কবরের মতো জায়গাটা... বুবুন শক্ত করে টুবাইয়ের হাতটা চেপে ধরলো.... সবে মাত্র একপা বাড়িয়েছে এমন সময় তারা শুনতে পেলো এক হার হিম করা অট্টহাসি... ভয় পেয়ে পিছিয়ে এলো তারা এমন সময় সামনে দেখলো কবর ফুঁড়ে বের হয়ে আসছে একটা কাটা হাত... হাতটা তাদের ইশারা করে ডাকছে... লন্ঠনটা পরে গেল টুবাইয়ের হাত থেকে... পিছন ঘুরে উদ্ধশ্বাসে দৌড় দিলো চারজনে... একছুটে বাড়িতে ঢুকে সোজা দোতলার ঘরে গিয়ে তারা দেখলো খাটে ওপরে বসে আছে হরিহর.. গায়ে চাদর আধময়লা ধুতি হাতে একটা পিদিম.. তারা ঘরে ঢুকতেই তাদের হরিহর বললো আমি মানা করেছিলাম তাও আপনারা ওখানে গেলেন... তখন বুবুন বললো সেই কাটা হাতটার কথা...
হরিহর তখন বলতে শুরু করলো.... আজ থেকে প্রায় একশো আশি বছর আগে এটা একটা রাজার বাড়ি ছিলো...রাজা তার রানী আর মেয়েকে প্রচন্ড ভালোবাসতো..চোখে হারাতো তাদের কখনো চোখের আড়াল হতে দিতো না... একদিন রানী বাপের বাড়ি যাবে বলে খুব বায়না ধরলো রাজা কিছুতেই মানতে রাজী নন... এক কথা দুকথার পর রাজার সাথে রানীর তুমুল অশান্তি হয়... রাজার মাথায় খুন চেপে যায় রাগের বশে একটি ছোড়া তুলে রানীকে হত্যা করে রাজা... রানীকে মারার পর তার চোখ যায় তার মেয়ের দিকে... সে তখন তার মেয়েকেও হত্যা করে একই ছোড়া দিয়ে... হরিহর বলতে থাকে.... আর আমি ছিলাম রাজার খাজাঞ্চী... ঠিক সেই মুহুর্তে আমি কিছু হিসাব দেখানোর জন্য ওই ঘরে ঢুকি... ঢুকে দেখি দুইপাশে রানী আর রাজকন্যার দেহ পরে আছে... রক্তে ভেসে যাচ্ছে ঘরখানা.. হঠাৎ রাজার চোখ পরে আমার দিকে আমি পালিয়ে যাওয়ার আগেই রাজা বাঘের মতো এসে পরে আমার ওপর.. হাতের ছোরাটা দিয়ে পরপর পাঁচবার আঘাত করে সে আমার গলায়.... আমি মাটিতে লুটিয়ে পরি... এখনো আমার গলায় দাগটা আছে দেখো বাবুরা........
চারজন বন্ধু এতক্ষনে একভাবে হরিহরের কথা শুনছিল হঠাৎ চমকে ওঠে তারা... কোথায় হরিহর??? খাটের ওপরে তো কেউ নেই.... 
পায়ের নিচে থেকে মাটি সরে যেতে থাকে তাদের... সারা বাড়ি জুড়ে ধ্বনিত হয় হরিহরের কন্ঠস্বর... "গলার কাটা দাগটা দেখো বাবুরা" .......

চারজনে একসাথে জ্ঞান হাড়ায় তারা... পরদিন যখন জ্ঞান ফেরে তারা দেখে পুরুলিয়া ষ্টেশনের এক কোনে পরে আছে তারা.... 

লেখনী : নিজস্ব
কাহিনী : কাল্পনিক

গল্পটি ভালো লাগলে কমেন্টে জানাবেন... আর বন্ধুদের শেয়ার করতে ভুলবেন না...












website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments