অক্সিজেন সিলিন্ডার Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
"Hello! ব্লুল্যান্ড নার্সিংহোম? আপনাদের ওখানে একটা বেড পাওয়া যাবে? নেই? Ok অন্তত যদি একটা অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যাবস্থা করে দেন...
তাও নেই"!
"হা ঈশ্বর! কোথায় যাবো? কি করবো?"
ফোনটা কেটে দিয়ে রাগে সজোরে বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে দিলীপ।
সামনের বিছানায় তার মা একটু প্রাণবায়ুর জন্য কাতরাচ্ছেন। ফুসফুসে একটু বিশুদ্ধ অক্সিজেনের চাহিদায় গোটা শরীরটা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে বারবার। গোটা শরীর কেমন যেনো নীলবর্ণ ধারণ করছে।
এই দৃশ্য চোখে দেখা যায় না। সবেগে কেঁদে ফেলে দিলীপ। চোখ ফিরিয়ে নেয় সে। যেকোনো সন্তানের কাছে তার নিজের মায়ের এমন তিলেতিলে মৃত্যু হতে দেখা যে বড়ই কষ্টের, বড়ই দুর্ভাগ্যের......
করোনা আক্রান্ত মায়ের সেই বিকাল থেকে তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে। গোটা শহরে অক্সিজেনের বড়ই আকাল। এখন রাত ১০ টা।সমস্ত হসপিটাল, নার্সিংহোম,নিজের সমস্ত কন্টাক্টস কাজে লাগিয়েও এখনো একটাও অক্সিজেন সিলিন্ডার জোগাড় করা গেলো না।।।
এমন তো হওয়ার কথা ছিলো না। বেশি নয় এইতো মাস ৩ আগেও তার বাড়ির পিছনে গোডাউনে সবসময় ৩০-৪০ টা অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত থাকতো।
বেশ ফুলেফেঁপে উঠেছিলো ব্যবসাটা। যদিও অবৈধ। তাতে কি? অক্সিজেন সিলিন্ডারের আকাল দেখে সেও সিলিন্ডার পিছু ১৩০০০-১৫০০০ টাকা দাম হাঁকিয়ে ছিলো। গরীব, বড়লোক সবার জন্য এক rate। কারোর ন্যাকা কান্নাকে সে কোনোদিন পাত্তা দেয় নি। মরলে মরুক, তার কি? আগে টাকা দাও তারপর অক্সিজেন নাও। যার টাকা নেই, তার বাঁচার অধিকারও নেই। ব্যাবসার ক্ষেত্রে কোনো compromise করে নি সে।
বেশিদিন লাগেনি। মাত্র দুমাসে সে কোটিপতি হয়ে যায়। অবশ্য টাকাটা সে একা ভোগ করে নি, লোকাল নেতাও খেয়েছে। তবে তাতে তার আফসোস ছিলো না। নেতা দাদা না থাকলে হয়তো ব্যবসাটা করাই হতো না।
কিন্তু শালা! পুলিশ ব্যবসাটা জমতে দিলো কই?? তার আগেই তো জেলে চালান করে দিলো। ভাগ্যিস নেতা দাদা ছিলো।
না হলে এতদিন জেলে পচে মরতে হতো।
ব্যাবসা গিয়েছে তাতে তার দুঃখ নেই। কমাসে সে যা কামিয়েছে, তাতে সারাজীবন বসে খেলেও শেষ হবে না।।।
কিন্তু আজ প্রথম দিলীপ উপলব্ধি করলো, জীবনে টাকাটা সব নয়। কি মূল্য আছে সেই টাকার, যে টাকা দিয়ে মরণাপন্ন মায়ের জীবন কেনা যায় না???
কি লাভ ওই টাকা রেখে?? যে টাকা দিয়ে একটা সামান্য অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনা যায় না????
কাঁদতে কাঁদতে ফেসবুকে একটা "হেল্প" লাগবে পোস্ট করে। তখনো মা বিছানায় ছটফট করছে,তবে এখন অনেকটা ধীর। হয়তো একটু বুকভরা শ্বাসের জন্য লড়তে লড়তে এখন ক্লান্ত। হয়তো প্রাণবায়ু বেরোনোর আর বিশেষ বিলম্ব নেই।
ফোনের রিংটোনটা শুনে লাফিয়ে ওঠে দিলীপ।
দেখে একটা অজানা নাম্বার থেকে ফোন এসেছে।
ফোনটা ধরতে ওপার থেকে এক অজানা কন্ঠ ভেসে আসে।
"Hello! দিলীপবাবু বলছেন।
"হাঁ বলছি।"
"আমি আপনার বাড়ির নীচে দাঁড়িয়ে আছি। আমার কাছে একটা সিলিন্ডার আছে। আপনি নীচে আসুন কথা বলছি।"
আনন্দে, বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায় দিলীপ। একটু আশার আলো দেখতে পেয়ে দ্রুত পায়ে নীচে নেমে আসে সে।।
তবে একটা খটকা দিলীপের মনে থেকে যায়,
ফোনের ভদ্রলোকের গলাটা বড্ড ফ্যাশফ্যাশে,বড্ড মিহি। মনে হয় ভদ্রলোক দূর থেকে বহুদূর থেকে কথা বলছেন।
নীচে নেমে দিলীপ দেখে একটি অল্পবয়সী ছেলে দাঁড়িয়ে। তাকে দেখে ছেলেটি এগিয়ে আসে।
"আসুন sir! একটু গেলেই আমার বাড়ি। ওখানে অক্সিজেন আছে। আমার আর অক্সিজেনের প্রয়োজন নেই! ওটা আপনি নিয়ে আসুন।"
দিলীপ ছেলেটিকে দেখে কেমন যেন মুষড়ে যায়, চেনাচেনাও লাগে, কোথায় যেন দেখেছে, কোথায় যেন???
তবে তার থেকেও অবাক করে ছেলেটির মুখ! কেমন যেন রক্তশুন্য,ফ্যাকাশে। যেমন মৃত মানুষের হয়। আর চোখদুটো যেন দুটো জ্বলন্ত কয়লার টুকরো।
শুনশান রাস্তায় পাশাপাশি হাঁটতে থাকে দিলীপ আর ছেলেটি।
দিলীপই প্রশ্ন করে,
"আচ্ছা! আপনাকে কোথায় দেখেছি বলুনতো??
খুব চেনাচেনা লাগছে???"
ছেলেটি হেঁসে উত্তর দেয়,
"আমি তো আপনারই এলাকার ছেলে হয়তো কোথাও দেখে থাকবেন।"
আবারও অবাক হয় দিলীপ।
মানুষের কন্ঠস্বর এমন হতে পারে??? এমন মিহি, এমন খনখনে। পাশেই তো আছে তাহলে কেন মনে হচ্ছে আওয়াজটা বহুদূর থেকে আসছে???
মনে দ্বিধা নিয়ে আবারও দিলীপ প্রশ্ন করে,
"আচ্ছা! আপনি বললেন, আপনার আর অক্সিজেনের প্রয়োজন নেই। কেন এমন কথা বললেন?"
ছেলেটি কেমন অদ্ভুতভাবে হাসে।
তারপর বলে,
"আসলে অক্সিজেনটা আমি মায়ের জন্য নিয়েছিলাম।
কিন্তু মাকে বাঁচাতে পারলাম না। তাই ভাবলাম অক্সিজেনটা আপনাকে দিয়ে দি। বিশ্বাস করুন আমি অক্সিজেনটা বিন্দুমাত্র ব্যাবহার করি নি।
অক্সিজেন কিনে নিয়ে যাওয়ার আগেই"....
কথাটা শেষ করার আগেই ছেলেটি কান্নায় ফেটে পড়ে।
দিলীপ চুপ করে যায়। কি বলবে ভেবে পায় না সে।
খানিক পরে ছেলেটি বলে ওঠে,
"আসলে কি জানেন! মায়ের কোনো জাত হয় না। সে আপনার মা হোক বা আমার। মা, "মা" হন। আমার মাকে বাঁচতে না পারলেও আপনি আপনার মাকে বাঁচলে বড়ই খুশি হবো।"
দিলীপের স্বার্থপর মনটা কেমন ব্যাথা করে ওঠে।
কই! সে তো এমনভাবে কোনোদিন চিন্তা করে নি।
এবার দিলীপের আসল কথাটা মাথায় আসে,
"আচ্ছা! আপনি সিলিন্ডারের দাম কতো নেবেন???"
দিলীপ ছেলেটিকে জিজ্ঞাসা করে।
"ভয় নেই! অতি নগণ্য! আপনার কাছে সেটা কিছুই নয়।"
দিলীপও প্রসঙ্গ বাড়ায় না। তার অর্থের অভাব নেই।
তাছাড়া তার মায়ের জীবনের জন্য সে যেকোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত।
"Sir! আমরা এসে গেছি।এই আমার বাড়ি।"
দিলীপ দেখে একটি ভগ্নপ্রায় বাড়ির সামনে সে দাঁড়িয়ে।
ছেলেটি আগে গিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢোকে।
তারপর দিলীপকে ঘরে আসতে বলে।
ঘরে ঢুকে দিলীপ অন্ধকারে হারিয়ে যায়। ঘরে কোথাও আলোর চিহ্ন নেই। ছেলেটিও কোথায় যেন মিলিয়ে গেছে।
দিলীপ চেঁচিয়ে ওঠে,
"আরে মশাই! কোথায় গেলেন। আমি কিছু দেখতে পাচ্ছি না।"
অনেক দূর থেকে সেই ছেলেটির কন্ঠস্বর ভেসে আসে,
"আপনার পাশেই সুইচ আছে। প্লিজ একটু অন করে নেবেন।"
পাশের সুইচটি on করতেই একরাশ বৈদ্যুতিক আলো দিলীপের উপর আছড়ে পড়ে। সেই আলোতে গোটা ঘরটা একবার চোখ বুলিয়ে নেয় সে। ভাঙাচোরা ঘর। আসবাবপত্র নেই বললেই চলে। দারিদ্রের ছাপ সুস্পষ্ট। তবে দিলীপকে বেশি অবাক করে ঘরের গুমোট ভাব। মনে হয় অনেকদিন ঘরটি খোলা হয় নি। একটা বিশ্রী পচা দুর্গন্ধ গোটা ঘরে ছড়িয়ে রয়েছে।
এরমধ্যে ছেলেটি কোথায় গেলো, কে জানে????
দিলীপের বমি পেয়ে যায়। নাকে রুমাল চাপা দিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে,
"কোথায় গেলেন? অক্সিজেনের সিলিন্ডার কোথায়?"
"আপনি সামনের ঘরে চলে আসুন। ওখানেই আছে।"
আবারও সেই গলা বহুদূর থেকে শোনা গেলো।
দিলীপ সামনের ঘরে গিয়ে দেখে। এখানেও অন্ধকার। তবে এখানে পচা গন্ধটা আরও তীব্র।
হাতড়ে হাতড়ে অনেক খুঁজে দিলীপ ঘরের আলো জ্বেলে দেয়।
আর ঠিক সেই মুহূর্তে একরাশ আতঙ্ক দিলীপকে গ্রাস করে।
আতঙ্কগ্রস্থ দিলীপ দেখে সামনের বিছানায় কাপড় পরিহিত এক নারী কঙ্কাল শুয়ে, আর ফ্যানের সিলিং -এ একটি ছেলের কঙ্কাল গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে আছে। সামনের মেঝেতে সেই মহামূল্যবান অক্সিজেন সিলিন্ডারটি দাঁড় করানো রয়েছে।
ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপতে থাকে দিলীপ। স্মৃতির মণিকোঠায় কিছু চলমান চিত্র ফুটে ওঠে।
মনে পড়েছে! দিলীপের সব মনে পড়েছে। আরে ছেলেটিকে এবার মনে পড়েছে।
প্রায় ৩ মাস আগে এই ছেলেটিতো প্রথমে ৩০০০ টাকা নিয়ে আমার কাছে এসেছিল অক্সিজেনের জন্য। একে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম, বলেছিলাম ১৩০০০ টাকার এক পয়সা কম হবে না।
ছেলেটা ফিরে গিয়েছিল তারপর আবার ফিরে আসে মাত্র ৫০০০ টাকা নিয়ে।আমার হাতে পায়ে ধরে কেঁদেছিলো। বলে ছিলো মা বাঁচবে না।পাত্তা দিই নি। লাথি মেরে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম।
আবার এসেছিলো ছেলেটি।হাতে নগদ ৫০০০ টাকা আর একটি মোটা সোনার মঙ্গলসূত্র নিয়ে। সম্ভবত মঙ্গলসূত্রটি ছেলেটির মায়ের।
টাকা আর মঙ্গলসূত্র হাতে নিয়ে তবেই অক্সিজেন সিলিন্ডার ওকে দিয়েছিলাম।
তবে কি ছেলেটি সুইসাইড করলো???
মাথা কাজ করছে না। দিলীপের মাথা কাজ করছে না। কি করণীয় কিছুই মনে করতে পারছে না সে।
হঠাৎ সেই কন্ঠস্বরটা আবারও ভেসে আসে,
"Sir! অক্সিজেন সিলিন্ডারটা নিয়ে যান। কোনো দাম দিতে হবে না। শুধু আমার আর মায়ের একটু সদগতির ব্যাবস্থা করে দিলেই হবে। হিন্দু তো! মুখে একটু অগ্নি স্পর্শ না পেলে মুক্তি হয় না যে।
দেখবেন আপনার মা ভালো হয়ে যাবে,সুস্থ হয়ে যাবে।
নিজের মাকে বাঁচাতে পারিনি তাতে কি? আপনার মা সুস্থ হয়ে উঠলে আমি খুব খুশি হবো।
আসলে কি বলুনতো,
"মায়ের কোনো জাত হয় না। সে আপনার মা হোক বা আমার। মা, "মা" হন.........
সমাপ্ত
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments