রাজকুমারী Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
রাজকুমারী।
------------------
গভীর রাত বাইরে অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়ছে।অসময়ের বৃষ্টি।একটা শীত- শীত ভাব বাতাসে।গায়ে চাদরটা টেনে নিয়ে ওপাশ ফিরে শোয় রুমি।গভীর ঘুমে থাকলে সচরাচর রুমির ঘুম ভাঙ্গে না।কিন্তু কদিন ধরেই ঠিক মাঝরাতে অদ্ভুত একটা স্বপ্ন দেখে ঘুমটা ভেঙ্গে যাচ্ছে ওর।কেন এমন হচ্ছে কিছুতেই বুঝতে পারছে না।একদিনও এর অন্যথা হচ্ছে না।কে যেন ওর গায়ে হাতটা রেখে আলতো ধাক্কা দিয়ে ডেকে বলছে-
'রু ওঠো।এদিক ফিরে শোও।''
এদিক ফিরে শুতেই একটা পুরুষালি হাত গভীর আবেগে ওকে জড়িয়ে ধরছে।তারপর আদরে-আদরে পাগল করে দিচ্ছে।প্রতিদিনই হাত বাড়িয়ে তাকে খোঁজার চেষ্টা করে রুমি।মনে হয় স্বপ্নটা যেন শেষ না হয়।কি একটা নেশা আছে যেন স্বপ্নটার ভেতর। অদ্ভুত অমোঘ টান।উপেক্ষা করতে চাইলেও উপেক্ষা করা যায়না।তবু ঠিক এই সময় প্রতিদিন স্বপ্নটা ভেঙ্গে যায় ওর।আকাশ- পাতাল কিছু বুঝতে না পেরে বিশাল বড় বার্মা টিকের পালঙ্কটার ওপর হতভম্ব রুমি উঠে বসে।সামনের বড় দেওয়াল জোড়া আয়নাটায় নিজেকে প্রতিবিম্বিত দেখে।তাকিয়ে দেখে ঘরের আশপাশ।না কেউ তো নেই ঘরে!তবে কে রোজ এমন করে ওকে ডাকে?তার মুখটা দেখতে পায় না স্পষ্ট করে।কিন্তু দুটো অন্তর্ভেদী গভীর দৃষ্টি যেন ওর দেহ- মনের ভেতর পর্যন্ত নিবিড় ভাবে দেখতে থাকে।তারপর এপাশ-ওপাশ করে রাতটা কাটে রুমির।কি একটা অস্বস্তি হয়।কিছুতেই ঘুম জোড়া লাগে না।সারাটা দিন ঐ গভীর চোখ দুটো ওকে তাড়া করে ফেরে।কেমন একটা আনচান ভাব।রাতের স্বপ্নের স্পর্শ গুলো যেন সারা গায়ে মেখে থাকে।কেবলই মনে হয় কে যেন পিঠের কাছটাতে গভীর নিঃশ্বাস ফেলে ওকে ফিস্ ফিস্ করে ডাকছে।পিছন থেকে আচমকা গভীর আবেগে জড়িয়ে ধরছে।
''রু আমার রু, কাছে এসো আরো কাছে এসো না।''
রুমি কি পাগল হয়ে যাবে নাকি?কে এমন করে আসে প্রতিদিন?রুমির বন্ধুরা কেউ তো ওকে রু বলে ডাকে না।কিন্তু এইসব কথা ও কাউকে বলতে পারেনা।মাকে না বন্ধুদেরও না।কলেজ পাশ করে রুমি সবে ইউনিভার্সিটিতে ঢুকেছে।এখনও প্রেমে পড়েনি।তবে অনেকেই সুন্দরী রুমির জন্য পাগল।সে যাইহোক--
রুমির ঠাকুমার ঘরের এই বার্মা টিকের পালঙ্ক টা দুশো বছরের পুরোনো।কত ইতিহাসের সাক্ষী এই পালঙ্কটা।কত প্রেম বিরহ গাথা লেখা হয়েছে এই পালঙ্কের বিছানায়।সেসব ভাবলে রুমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে।রুমি বড় হওয়ার পর থেকে একা এই ঘরটাতেই শোয়। রুমির ঠাকুমার বিয়েতে ঠাকুমার মামার বাড়ী থেকে দিয়েছিল এই বিশাল কালো পালিশের পালঙ্কটা।এত বছরেও তার জৌলুস আজও কমেনি।।ঠাকুমার মামীর বিয়ের পালঙ্ক এইটা।এই ঐতিহ্য পূর্ণ পালঙ্ক বিয়েতে দেওয়া নাকি খুব শুভ।কতটা শুভ তা জানা নেই রুমির কেননা ওর ঠাকুমা ষোলো বছর বয়সে মারা গেছিল রুমির বাবার জন্মের সময়।সেই থেকে দাদু রাজকুমারী রাজকুমারী করে পাগল হয়ে গেছিল।ঠাকুমার নাম ছিল রাজকুমারী।দাদু আদর করে ঠাকুমাকে রু বলে ডাকত।এক পূর্ণিমা রাতে সামনের খোলা ছাদ থেকে দাদু লাফ দিয়ে নাকি আকাশের চাঁদ ধরতে গেছিল।ঐ চাঁদের ভেতর তার পরম প্রিয়া রু-কে দেখেছিল হয়তো!তারপর পাঁচিল থেকে পড়ে সব শেষ!
এইসব অনেক গল্প রুমি শুনেছে ছোট থেকে।এমনও শুনেছে অপঘাতে মৃত্যু হলে সেই অতৃপ্ত আত্মা নাকি বাসস্থানের মায়া ত্যাগ করতে পারেনা।বাবারা ছোটবেলায় মাঝে- মাঝে বাগানের দোলনায় যুগল মূর্তিকে দুলতে দেখত।লাল শাড়ি পরে বারান্দায় কাকে হেঁটে যেতে দেখত।কিন্তু রুমি এত বড় হল সেসব কখনও দেখেনি।ওর মনে হয় এসবই মনের ভুল।কাল্পনিক বিভ্রম।দাদু নাকি মাঝে-মাঝে বলত-
''ঐ ঐ চুড়ির রিন্ রিন্ শোনা যাচ্ছে।ঐ যে আমার রু আলতা পরে হেঁটে যাচ্ছে।একবার এসো না এদিকে।আমি যে বসে আছি সেই কখন থেকে।''
দাদুর মুখে নাকি এইসব কথা রাতদিন শুনতে পাওয়া যেত ঠাকুমা মারা যাওয়ার পর।রুমি ওর দাদুকে দেখেনি।ঠাকুমাকেও না।তবে সকলে বলে রুমিকে নাকি হুবহু ওর ঠাকুমার মতোই দেখতে।ষোলো বছর বয়েসে ওর ঠাকুমা রাজকুমারীর রূপও রুমির মতোই এমন চারদিক উদ্ভাসিত করে তুলত।ঠাকুমার মতোই রুমির বড় মিষ্টি স্বভাব।
রুমিদের বিরাট বড় বাড়ী।বড় ঠাকুরদালানে সাদা কালো মার্বেলের বারান্দা,নাচঘর,বাইরে বাড়ীর একদিকে কাঠের অন্যদিকে ধবধবে সাদা পাথরের সিঁড়ি।গাড়ী বারান্দায় বেতের টেবিল চেয়ার পাতা।সেখানে সকালে বসে চা-পর্ব।বারান্দার শেষ প্রান্তে ইজিচেয়ারে দাদু বসত।তার আগে দাদুর দাদু। এইভাবে বংশপরম্পরার স্মৃতি বহন করে চলছে এই ইজিচেয়ার।সন্ধে- সকালে -দুপুরে সময়মতো বড় গ্র্যাণ্ড ফাদার ক্লকে ঢং ঢং শব্দ শোনা যায়।আগে সন্ধে হলেই ঠাকুমা পিয়ানোয় গান গাইত।দাদু শুনত ইজিচেয়ারে বসে।রুমিও পিয়ানো বাজায়।গান গায় সন্ধেবেলা।বড় মিষ্টি গলা রুমির।
----''সব পথ এসে মিলে গেল শেষ তোমারি দুখানি নয়নে নয়নে----''
রুমির সেই সুমিষ্ট সুর ভেসে যায় বিরাট বড় বাড়িটার ইঁট -কাঠ- পাথরে।উৎসব অনুষ্ঠানে ঝাড়লন্ঠনের আলোয় রুমিদের বাড়িটা এক মায়াবী রূপ ধারণ করে।দুর্গাপূজোয় ঢাকের তালে মন আনন্দে নেচে ওঠে।লক্ষ্মী পুজোয় প্রতিমার মুখ প্রদীপের আলোয় রাজরাণীর মতো ঝলমল করে। বিশাল বড় আয়নাগুলোতে আর ঠাকুরদালানে মোমবাতির আলোয় অতীত যেন ঝলসে ওঠে।প্রতিফলিত হয়ে ওঠে কত শত বছরের অজানা ইতিহাস। সামনের বড় হলঘরে দাদু ঠাকুমার অয়েল পেন্টিং এর ছবি।ছবিটা ঠাকুমার বিয়ের সময় আঁকা। লাল বেনারসী আর এক গা গয়না পরে সলজ্জ নববধূ দাদুর কোল ঘেঁষে বসে আছে।একঝলক দেখলে মনে হবে হয়তো রুমিই বসে আছে।এত মিল যে ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকতে- থাকতে মাঝে মাঝে রুমি অবাক হয়ে যায়।ঠাকুমার বিয়ের সব গয়নাগুলো মায়ের কাছে রাখা।এই বংশের নিয়ম অনুযায়ী নাতি আর নাতনিরাই ঠাকুমার গয়না পায়।যেহেতু নাতি নেই তাই রুমি ই সেগুলো পাবে তার বিয়ের সময়।
আজ পূর্ণিমা।যথারীতি রুমি ঘুমিয়ে পড়েছে গভীর ঘুমে।ঘুমের ভেতর স্বপ্ন দেখল আবার রুমি।দেখল চাঁদ উঠেছে আকাশ জুড়ে।চাঁদনী আলো এসে পড়েছে ওদের বাগানের গাছগুলোর মাথায়।চাঁদিম আলো অকাতরে তার আদর মাখিয়ে দিচ্ছে। কে যেন প্রতিদিনকার মতোই রুমির কানে-কানে ফিস্ ফিস্ করে বলছে -
''রু জাগো জাগো এমন জ্যোৎস্না ভাসা রাতে কেউ ঘুমায় না।''
ঘুমের ঘোরে স্বপ্নিল আচ্ছন্নতায় হাত বাড়িয়ে রু কাকে খুঁজতে থাকল।মনে হল কে যেন দোলনায় দোল দিয়ে ওকে দোলাচ্ছে।দুলুনিতে আরো গভীর ঘুম পাচ্ছে।কিন্তু গভীর আদরে আবার ঐ অচেনা মানুষটা ওর ঘুম ভাঙ্গাচ্ছে।রুমি বেশ বুঝতে পারছে এক বিশাল দেহ সুঠাম পুরুষ তাকে দু হাতের ভিতর আষ্টে-পৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে।রুমির মনে হচ্ছে ওর দমটা বন্ধ হয়ে যাবে অথচ কি এক ভাললাগায় ওর শরীর- মন ভরে যাচ্ছে।মনে হচ্ছে এই স্পর্শ যেন ওর খুব চেনা।এই স্পর্শের অপেক্ষাতেই থাকে ও সারাটা দিন।কিন্তু মুখটা দেখতে পাচ্ছে না কিছুতেই। মিষ্টি গন্ধ চারদিকে।ঐ পুরুষালি সুঠাম দেহের পুরুষ দু হাত দিয়ে কোলে তুলে নিয়েছে রুমিকে। আধো অচেনা পুরুষটির ছোঁওয়ায় শিহরণ জাগছে রুমির শরীরে।আদরে আচ্ছন্ন রুমিকে ঐ অচেনা পুরুষটা নিয়ে যাচ্ছে কোথায়?বারান্দা পেরিয়ে চলে যাচ্ছে ছাদের দিকে।রুমি স্পষ্ট দেখছে অয়েল পেন্টিং এর ছবির ভেতর থেকে দাদু হাসছে---বিশাল বার্মা টিকের পালঙ্ক টা ফুলে ফুলে সাজানো---আজ কি রুমির ফুলশয্যা?----কে বসে আছে ঐ পালঙ্কের ওপর?লাল বেনারসীতে গয়নায় সেজে?ও কি রাজকুমারী নাকি রুমি?---মাথাটা গোলমাল হয়ে যাচ্ছে রুমির----আকাশে রূপোর থালার মতো চাঁদ---না না চাঁদ কোথায়----ও তো রাজকুমারীর মুখ---কে যেন পাঁচিলের ওপর থেকে রুমিকে কোলে তুলে হঠাৎ ঝাঁপ দিল নীচে---রুমির ঘুমটা ভেঙ্গে গেল---বুকের ভেতরটা ফাঁকা হয়ে গেছে---ও কি বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে?---কিছুই বুঝতে পারছে না---বাইরে দূরে বাগানে একটা রাতচরা পাখি টিঁ টিঁ শব্দে ডাকছে---চাঁদের অবাধ্য আলো এসে পড়েছে বার্মা টিকের পালঙ্কের গায়ে।যেখানে মিনে করা রূপোর ফ্রেমে দাদু-ঠাকুমার যুগল মূর্তি।দাদু অদ্ভুতভাবে হাসছে।---রুমির মনে হল কে যেন ওর কানের কাছে আদুরে গলায় বলছে-
'' আমি আবার আসব রু।তুমিই আমার রাজকুমারী।''
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments