Header Ads Widget

একচোখা_বিড়াল

একচোখা_বিড়াল Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)








#একচোখা_বিড়াল
 
 

আজও বিড়ালের বাচ্চাগুলোর চিৎকারের শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো মিনুর। এই নিয়ে আজ পাঁচ দিন একইভাবে ঘুম ভাঙ্গলো তার৷ মুহূর্তেই মেজাজ প্রচন্ড খারাপ হয়ে গেল মিনুর ৷ 

আজ রবিবার। প্রতিদিন সকাল সকাল উঠে রাহুলের নাস্তা বানানোর হ্যাপা পোহাতে হয়, তাই শান্তিমতো ঘুমাতে পারে না মিনু। ছুটির দিন বলে রাহুল আজ বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে গেছে, আজ নাস্তা বানায় নি সে৷ রাহুল গতকাল কিনে আনা পাউরুটি আর নিজেই চা বানিয়ে খেয়েছে। দুপুরেও রাঁধবে না মিনু৷ আজ দুপুরে ওরা বাইরে খাবে বলে প্ল্যান করেছে। তাই আজ বেশ জম্পেশ একটা ঘুম দিয়ে দেরী করে উঠবে বলে ভেবেছিলো সে কিন্তু হতচ্ছাড়া বিড়ালের বাচ্চাদের কারণে তা আর হলো কই? মিনু বিছানায় উঠে বসে বালিশে হেলাল দিয়ে স্থির হয়ে বসে রইলো কয়েক মিনিট। 

মিনুদের বাড়ির সিঁড়ির নিচে একটা বিড়াল এসে দুটি বাচ্চা জন্ম দিয়েছে। মিনু বিড়াল একদমই পছন্দ করে না। সবসময় এই প্রাণীটাকে এড়িয়ে চলতে চায়। আর তার বাড়িতে এসেই কিনা একটা বিড়াল বাচ্চা জন্ম দিয়ে ফেলেছে। আর বিড়ালটা দেখলেও কেমন যেনো গা শিরশির করে উঠে তার৷ একে তো বিড়ালটা কুচকুচে কালো তার উপর আবার একটা চোখ নষ্ট। কেউ হয়তো ঢিল মেরে বা আঘাত করে তার একটা চোখ নষ্ট করে দিয়েছে। এই একচোখা বিড়ালটাকে দেখলেই মিনুর গা গুলায়। সে তো বাচ্চা সমেত বিড়ালটাকে রাস্তায় ফেলে আসতে চেয়েছিলো কিন্তু পারে নি কেবল তার স্বামী রাহুলের জন্যে৷ ওর আবার দয়ার শরীর কি না!

"আহা! এমন করো না৷ ছোটো ছোটো এইটুকুন দুটো বাচ্চা নিয়ে বিড়ালটা যাবে কোথায়। একটু বড় হলে দেখবে বাচ্চা গুলো নিয়ে বিড়ালটা চলে যাবে ৷ ততদিন একটু কষ্ট করে ম্যানেজ করে নাও না প্লিজ৷ "

তা, রাহুলের অনুরোধ টা ফেলতে পারেনি মিনু৷ কিন্তু এখন মনে হচ্ছে অনুরোধের ঢেঁকি গিলে ভুল করেছে সে৷ দিন নেই রাত নেই, যখন তখন বিড়ালের বাচ্চাগুলোর করুণ শব্দের কান্নায় আঁতকে উঠে মিনু৷ প্রতিদিন সকালে মা বিড়ালটা ক্ষুধার তাড়নায় খাবারের সন্ধানে বের হয় আর বাচ্চা গুলো করুণ স্বরে চিৎকার করে তার ঘুমের ভবলীলা সাঙ্গ করে৷  

বিছানা ছেড়ে নামলো মিনু৷ সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলেছে সে,ঢের হয়েছে। আর সহ্য করবে না সে৷ 

 স্টোররুম থেকে একটা চটের বস্তা এনে সিঁড়ির নিচে গিয়ে দাঁড়ালো । বাচ্চা দুটো এখনো করুণ স্বরে ডেকে চলেছে। মা বিড়ালটা নেই... নিশ্চয়ই খাবারের সন্ধানে বের হয়েছে। যাক ভালোই হলো, ভাবলো মিনু৷ বাচ্চা দুটো বস্তায় ভরে বাইরে উঠোনে এলো সে... তখুনি মা বিড়ালটা এসে পড়লো।এই বিড়ালটাকে যতবারই দেখে ততবারই ঘৃণায় মুখ কুঁচকে যায় মিনুর,এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। মিনুর হাতের বস্তার ভেতর থেকে বাচ্চাদের আওয়াজ ভেসে আসতেই যেনো ক্ষেপে গেলো বিড়ালটা। শরীরের পশমগুলো ফুলে উঠলো, লেজ ঘনঘন নাড়তে লাগলো। প্রথমে মিনুর পায়ে আঁচড় বসাতে চাইলো বিড়ালটা। মিনু সজোরে পা চালিয়ে লাথি মারতেই কয়েক হাত দূরে ছিটকে পড়লো বিড়ালটা৷ তারপর আবার ছুটে এসে ঝাঁপ দিলো মিনুর হাতে ধরা বস্তা লক্ষ্য করে৷ যেভাবেই হোক,সে যেনো তার সন্তানদের ঐ বস্তা থেকে মুক্ত করবেই করবে৷ মিনুও ছাড়ার পাত্রী নয়৷ বিড়ালটার হিংস্র আচরণ তাকেও আরো কয়েকগুণ বেশী হিংস্র করে তুললো৷ ওদিকে বস্তায় ঝাঁপ দিয়ে সুবিধা করতে না পেরে বিড়ালটা এবার মিনুর পা আঁচড়ে দিলো তার পায়ের থাবা দিয়ে। পায়ে যন্ত্রণার প্রতিক্রিয়াতেই হাত থেকে বস্তা খসে পড়লো মিনুর। এবার মাথায় রক্ত উঠে গেলো তার৷ হতচ্ছাড়া বিড়ালটার এতো বড় সাহস, তাকে আঘাত করে। পায়ের কাছেই একটা ইটের টুকরো পড়ে ছিলো । সেটা তুলে নিলো সে ৷  

এদিকে বস্তার মুখ খোলা থাকায় সেই খোলা মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসা বাচ্চা দুটোকে জিভ দিয়ে চেটে চেটে আদর করতে ব্যস্ত ছিলো মা বিড়ালটা৷ মিনু বিড়ালটার পিছন গিয়ে হাতে ধরা ইটের টুকরোটা দিয়ে গায়ের সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে বিড়ালটার মাথায় আঘাত করলো৷ ভয়াবহ এক আর্তচিৎকার বেরিয়ে এলো বিড়ালটার মুখ দিয়ে৷ তারপর ছটফট করতে লাগলো মরণ যন্ত্রণায়। তড়পাতে তড়পাতে একসময় স্থির হয়ে গেলো নিথর দেহটা। বাচ্চা দুটো মায়ের নিথর দেহ ঘিরে দাঁড়িয়ে রইলো, ওরা বুঝতে পারছে না তাদের মা কেনো এভাবে স্থির হয়ে রক্তের স্রোতের মাঝে শুয়ে আছে। মিনু, বাচ্চা দুটোকে ফের বস্তায় ভরতে যাবে তখনই রাহুলের গলা ভেসে এলো।

"কি হচ্ছেটা কি মিনু।"

তারপর রক্তের মাঝে নিথর হয়ে পড়ে থাকা বিড়ালটার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো," ওহ গড! বিড়ালটাকে এভাবে মেরে ফেললে কেনো৷ "

মিনুর মেজাজ এমনিতেই সপ্তমে চড়ে ছিলো। রাহুলের আদিখ্যেতা তাতে আগুনে ঘি ঢালার মতই যেনো৷ 

" বিড়ালটা যে আমার পা আঁচড়ে ক্ষতবিক্ষত করেছে সেদিকে তোমার খেয়ালই নেই। তুমি কৈফিয়ত চাচ্ছো বিড়ালটাকে কেনো মেরেছি তাই না।"

রাহুল , মিনুর পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখলো ওর বাম পা'টা রক্তাক্ত। দ্রুত মিনুকে ঘরের ভেতর নিয়ে গিয়ে, ফাস্ট এইড বক্স বের করলো। ক্ষতস্থানে ডেটল ঢেলে তুলো দিয়ে মুছে দিলো৷ তারপর ব্যান্ডেজ করলো। 

"পায়ে যন্ত্রণা হচ্ছে মিনু?"

" হালকা একটু করছে। "

"কি হয়েছে এবার খুলে বলো তো। "

মিনু সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর থেকে যা যা হয়েছে সব খুলে বললো৷  

সব শুনে রাহুল বললো," আর কয়টা দিন একটু সহ্য করতে , বাচ্চা গুলো তো ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠছে৷ বিড়ালটা চলে যেতো বাচ্চা গুলো নিয়ে। "

মিনু কর্কশ স্বরে বললো," প্লিজ এসব শুনতে একদম ভালো লাগছে না৷ তুমি গিয়ে বিড়ালটা আর বাচ্চা গুলো কোথাও ফেলে আসো৷ "

রাহুল কয়েক মুহূর্ত মিনুর দিকে তাকিয়ে রইলো৷ তারপর বললো," ঢের হয়েছে মিনু৷ একে তো তুমি বাচ্চা গুলোকে এতিম করেছো এখন আবার বাচ্চা গুলো বাইরে ফেলে আসতে বলছো, ওদের এখন বাইরে ফেলে আসলে শেয়াল কুকুরে কামড়ে মারবে৷ যতদিন পর্যন্ত না ওরা বড় হচ্ছে ততদিন এখানেই থাকবে৷ তোমার এই অন্যায় আদেশ আমি মানতে পারবো না। "

রাহুলের উঁচু গলার কথায় হকচকিয়ে গেলো মিনু৷ ও আজ পর্যন্ত কোনদিন তার সাথে এভাবে কথা বলে নি৷ হতবাক হতবিহ্বল মিনু আজ রাহুলের মেজাজ দেখে কিছুটা চুপসে গেলো। কিছু বলার সাহস পেলো না আর৷  

রাহুল, বিড়ালটাকে বাড়ির পেছনে পুঁতে দিয়ে এলো৷ তারপর বাচ্চা দুটোকে ফের সিঁড়ির নিচে রেখে এলো৷ কিচেনে গিয়ে গুঁড়ো দুধের প্যাকেট থেকে একটা বাটিতে দুধ ঢেলে পানি মিশিয়ে, ফের সিঁড়ির নিচে এলো৷ বাচ্চা দুটোর সামনে বাটিটা রাখতেই, ওরা যেনো রীতিমতো ঝাঁপিয়ে পড়লো বাটির উপর। বাচ্চা দুটো খুবই ক্ষুধার্ত ছিলো বলাই বাহুল্য৷ নিমেষেই বাটি খালি করে দিলো৷  

****

দিনদুয়েক পর।
 
রাত বারোটা বাজে ৷ বারান্দায় পায়চারি করছে মিনু৷ রাহুল এখনো অফিস থেকে ফিরে নি৷ প্রতিদিন তো দশটা নাগাদ অফিস থেকে ফিরে। তবে আজ এতো দেরী করছে কেনো৷ ফোনটাও বন্ধ ওর৷ বারবার মিনুর চোখ যাচ্ছে উঠোনের শেষ মাথায় ভেজানো গেটটার দিকে। 

 এদিকে আজ কেনো যেনো গা' টা একটু ছমছম করছে মিনুর৷ সন্ধ্যায় ঘরের বাতিগুলো জ্বেলে ও যখন বারান্দায় এসে বারান্দার বাতিটা জ্বেলে দিলো তখনই হঠাৎ নজর গেলো সিঁড়ির নিচে... যেখানে বিড়ালের বাচ্চা দুটো থাকে। তখনই দেখলো কুচকুচে কালো বিড়ালটাকে,যেটাকে সে দিনদুয়েক আগে মেরে ফেলেছে।বিড়ালটার রেডিয়ামের মতো জ্বলজ্বলে, ভালো চোখটা তার দিকেই স্থির হয়ে তাকিয়ে ছিলো। ব্যাপারটা স্থির ছিলো কয়েক মুহূর্ত মাত্র ৷ তারপর হঠাৎ করেই যেনো হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো বিড়ালটা ৷ তখন প্রচন্ড ভয় পেয়ে রুমে ঢুকে দরজা লক করে দিয়েছিলো মিনু৷  

এখনো বারান্দায় পায়চারী করতে করতে বারবার তার চোখ সিঁড়ির নিচে চলে যাচ্ছিলো, তবে সেরকম কিছু চোখে পড়লো না। 

রাহুল এলো রাত পৌনে একটায় ৷ অফিসে একটা জরুরি মিটিং ছিলো। সেটা শেষ হতে অনেক সময় লাগায় এতটা দেরী। ফ্রেশ হয়ে খেতে বসলো রাহুল৷ মিনু.. রাহুল অফিস থেকে এলে একসাথেই খেতে বসে। তবে আজ খিদে লাগায় সে আগেই খেয়ে নিয়েছে। রাহুলের পাতে কাতল মাছের পেটিটা তুলে দিতে দিতে ও ভাবলো, সন্ধ্যায় দেখা ঘটনাটা রাহুলকে বলবে কি না। কিন্তু সব শুনে রাহুল যদি ব্যাপারটা নিয়ে হাসাহাসি করে তাই ইতস্তত করতে লাগলো৷ রাহুল খেতে খেতে, মিনুর অন্যমনস্ক ভাব লক্ষ্য করে বললো," কি ব্যাপার মিনু, কোন সমস্যা?"

মিনু ব্যাপারটা এড়িয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিলো৷ 

"না, কিছু না। তুমি খাও তো।"

***

সারাদিনের ক্লান্তির ফলস্বরূপ রাহুল বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। কিন্তু পাশেই শুয়ে ছটফট করছিলো মিনু৷ আজ কেনো যেনো ওর একটুও ঘুম আসছে না৷ কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছে। সেই সাথে গা'টাও কেমন ছমছম করছে, কেনাে কে জানে। তবে কি সন্ধ্যার সেই ঘটনাটাই তার মনের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে? 

অনেকক্ষণ এপাশ ওপাশ করার পর কখন যেনো তন্দ্রা মতো এসেছিলো মিনুর, কিন্তু হঠাৎ করেই বুকের উপর কিসের যেনো চাপ অনুভব করায় ঘুমটা ভেঙে গেলো তার। চোখ খুলতেই রীতিমতো আঁতকে উঠলো মিনু। ভয়ে স্রেফ জমে গেলো যেনো সে৷ তার বুকের উপর স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কুচকুচে কালো বিড়াল টাকে নাইট ল্যাম্পের আলোতে চিনতে মোটেও বেগ পেতে হলো না৷ যে বিড়ালটাকে সে দুদিন আগে নিজহাতে মেরেছে সেই বিড়ালটা জ্বলজ্বলে এক চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে । শরীরের সব শক্তি একত্র করে গলা ফাটিয়ে চিৎকার দিলো মিনু৷ পাশে বেঘোরে ঘুমিয়ে থাকা রাহুল ধড়মড় করে উঠে বসলো৷  

''ক..ক্ক..ক্কি হয়েছে মিনু৷ এভাবে চিৎকার করছো কেনো? 

ওদিকে চোখের পলকে মুহুর্তেই গায়েব হয়ে গেছে বিড়ালটার অবয়ব। 

রাহুল কিছুটা ধাতস্থ হয়ে মিনুকে বিছানায় উঠিয়ে বসালো, খাট থেকে নেমে এনার্জি লাইট টা জ্বেলে দিলো৷ তারপর বেডসাইড টেবিল থেকে বোতলের মুখ খুলে গ্লাসে জল ঢেলে মিনুর দিকে এগিয়ে দিলো৷ এক চুমুকে গ্লাসটা খালি করে অতঃপর ধীরে ধীরে কিছুটা ধাতস্থ হলো মিনু৷ 

 তারপর আজ সন্ধ্যায় এবং একটু আগের ঘটে যাওয়া ঘটনাটা খুলে বললো রাহুলকে৷ রাহুল সবশুনে কেমন গম্ভীর হয়ে রইলো৷ কিছুক্ষণ নীরব রইল। তারপর বললো," আমার মনে হয় পুরো ব্যাপারটাই তোমার হ্যালুসিনেশন৷ বিড়ালটাকে মেরে তোমার অবচেতন মন হয়তো অপরাধ বোধে ভুগছে। তার ফলস্বরূপ তুমি মৃত বিড়ালটাকে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছো।''

রাহুলের ব্যাখা শুনে ক্ষেপে গেলো মিনু৷ তার কথাও কেমন জড়িয়ে গেলো। চিৎকার করে বললো, " ত..তু..তুমি আমার কথা বিশ্বাস করছো না৷ আমি সত্যি সত্যি বিড়ালটাকে দেখেছি। হুবহু সেই কুচকুচে কালো বিড়ালটা, একটা চোখ নষ্ট। ভালো চোখটা দিয়ে কেমন করে যেনো তাকিয়ে ছিলো আমার দিকে।উফ! ভাবতেও গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে। "

"ঠিক আছে, মানলাম তুমি দেখেছো বিড়ালটাকে। প্লিজ এখন একটু শান্ত হও তো৷ একটু ঘুমাবার চেষ্টা করো৷"

রাহুল... মিনুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো৷ মিনু রাহুল কে জড়িয়ে ধরে একসময় ঘুমিয়ে গেলো৷  

***
পরদিন রাত নয়টা।
 
একাকীত্ব আর ভয় কাটাতে বিছানায় বসে ল্যাপটপে একটা কমেডি মুভি দেখছে মিনু৷ আর মাত্র ঘন্টাখানেক পরেই রাহুল চলে আসবে ৷  

হঠাৎ খাটে আচমকা একটা বিড়ালের অবয়ব দৃশ্যমান হতেই সেদিকে নজর গেলো মিনুর। জায়গাতেই যেনো জমে গেলো সে৷ উফ! সেই কুচকুচে কালো বিড়ালটা যে কিছুতেই তার পিছু ছাড়ছে না। বিড়ালটার শরীরের পশমগুলো ফুলে উঠতে লাগলো, লেজটা ঘনঘন নাড়তে লাগলো ঠিক সেদিনের মতো৷ মিনু কি করবে ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না।ল্যাপটপটা একপাশে রেখে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো সামনের দিকে ৷ বিড়ালটা কি তবে আজ ওর হত্যার বদলা নিবে?

 বিড়ালটা মিনুকে লক্ষ্য করে ঝাঁপ দিতেই... মিনু বিছানার একপাশে ঝাঁপিয়ে পড়লো আর ঠিক তখনই সিলিং থেকে খসে পড়লো সিলিং ফ্যানটা৷ পড়লো বিছানার ঠিক মাঝখানে যেখানে এতক্ষণ মিনু বসে ছিলো! মিনুর মাথায় চলন্ত ফ্যানটা পড়লে তখনই তার ভবলীলা সাঙ্গ হয়ে যেতো৷ ব্যাপারটা ভাবতেই গায়ে কাটা দিয়ে উঠলো মিনুর৷ এদিকে বিড়ালটার অবয়ব ও যেনো চকিতে হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। তবে কি বিড়ালটাই আজ তাকে বাঁচালো। ব্যাপারটা ভাবতেই দু চোখ বেয়ে নোনাজল গড়িয়ে পড়তে লাগলো মিনুর। বিবেকের দংশন তাকে আচ্ছন্ন করতে লাগলো। যাকে সে নিজ হাতে হত্যা করেছে সেই-ই আজ তার প্রাণ রক্ষা করলো। 
***
অফিস থেকে ফিরেই অভাবনীয় এক দৃশ্য দেখে অবাক হলো রাহুল, সেই সাথে মনটাও ভরে গেলো তার।
 দেখলো মিনু বারান্দায় মোড়ায় বসে... বিড়ালের বাচ্চা দুটো কে কোলে তুলে, বাটিতে করে পরম মমতায় দুধ খাওয়াচ্ছে।  

রাহুলকে দেখে মুখ তুলে তাকালো মিনু৷ মুচকি হেসে তারপর হাত বুলাতে লাগলো বাচ্চা দুটোর নরম তুলতুলে দেহে। 

  বারান্দার শেষ মাথায় সামনের দুই পায়ের উপর ভর দিয়ে বসে, এক চোখে মিনুর দিকেই তাকিয়ে আছে এক হতভাগিনী মা। তার মুখাবয়বে এখন আর কোন দুশ্চিন্তার ছাপ নেই। বরং রয়েছে যথেষ্ট নির্ভরতা আর পরম আশ্বস্তের ছাপ। 

#সমাপ্ত












website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments