বখাটে Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
"তোকে ছাড়ানোর জন্য সবকিছু করবো। আমার বন্ধু ইনস্পেক্টর রনজয় মুখার্জীর সাথে সব কথা হয়ে গেছে। তুই পুলিশকে শুধু বলবি যে বাপনকে ছাদ দিয়ে তুই ধাক্কা দিয়েছিস।", প্রনয় মুখার্জী এ কথা বলতেই সামনে দাঁড়ানো এগারো বছর বয়সী ছেলেটা অবাক চোখে তাকালো প্রনয় মুখার্জীর দিকে। ছেলেটার একটা চোখের মণির রঙ কালো, আরেকটা চোখের মণি লাল। প্রনয় বললো,"তোকে আমি তুলে এনেছি। পুষেছি। আজ তোর কৃতজ্ঞতা দেখানোর পালা। যা বলছি বলতে সেটাই বলবি।"
এগারো বছরের বখাটে ছেলেটা ছলছল চোখে তাকালো পাশে দাঁড়ানো মা রঞ্জনা আর মাকে জড়িয়ে ধরে থাকা সাত বছরের ভাই সানির দিকে। তারপর কাঁধে ঝোলানো গিটারের ব্যাগটা খুলে সেটা থেকে গিটারটা বের করে সপাটে চালালো প্রনয় মুখার্জীর কানের নীচে। ছিটকে পড়া প্রনয় মুখার্জীর মাথায় আবার সপাটে মারলো বখাটেটা। মৃত্যু যন্ত্রনায় কাঁপতে থাকা প্রনয় তাকিয়ে দেখলো তার স্ত্রী রঞ্জনার মাথাতেও গিটারের সাইড চালিয়ে দিয়েছে বখাটেটা। সাত বছরের সানি সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে পালালো দোতলায়। এগারো বছরের বখাটেটা এসে হাঁটু ভাঁজ করে বসলো মৃতপ্রায় প্রনয়ের সামনে আর অস্ফুটে বললো,"মিথ্যে শাস্তির চেয়ে সত্যির জন্য শাস্তি পাওয়া ভাল।" বলেই হাতের গিটারটা দিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে চালাতে লাগলো স্বামী স্ত্রীর মাথায়। তাদের দেহ নিথর হয়ে যেতেই উঠে দাঁড়ালো বখাটেটা। তারপর দোতলার সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে বলতে লাগলো,"সানি রে সানি, তুই কোথায় আমি জানি.."।
💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️
কলিংবেলটা বাজতেই দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে শান্তির মা চেঁচিয়ে বললো,"কে??"। দরজার ওপাশ থেকে একটা ছেলের গলা এলো,"রাহুল, নাম তো সুনাহি হোগা।" শান্তির মা দরজাটা খুলতেই রাহুল জিজ্ঞেস করলো,"ঝিল্লি কোথায়?"। শান্তির মা উত্তর দিলো,"দিদিমনি স্নানে গেছে।" রাহুলের বিড়ালের মতো কটাকটা চোখে আর মুখে বিরক্তি ভরে এলো। বাড়ির ভিতর ঢুকে সোফায় বসে বিড়বিড় করে বললো,"মেয়েদের সবকিছুতে এত টাইম লাগে কেন ভগবান জানে!" রান্নাঘর থেকে ঝিল্লির মায়ের গলা এলো,"হ্যাঁ রে রাহুল, তোরা কোথায় যাচ্ছিস রে?"। রাহুল বললো,"আন্টি, তোমাকে বলেনি ঝিল্লি? আজ বাবিনের জন্মদিন। ও পার্টি দিয়েছে অলিভার পাভে। ওখানেই যাচ্ছি।" বলতে বলতেই ঝিল্লির মা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে রাহুলের পাশে বসলো সোফায়। তারপর বললো,"শান্তির মা, বড়বাবুর রুমটা পরিস্কার করে দিও। পরশু ছুটিতে ফিরছে।" শান্তির মা ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানাতেই ঝিল্লির মা রাহুলের দিকে তাকিয়ে বললো,"পঁচিশ বছরের ধেঁড়ে ছেলের জন্মদিন। বাপের পয়সা ভালই ওড়াচ্ছে।" ঠিক তখনই ঝিল্লি তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে বেরিয়ে এসে নিজের মাকে বললো,"তোমার ধেঁড়ে মেয়ের জন্মদিনও তো পালন করো মা।" ঝিল্লির মা বলে উঠলো,"সেটা বাড়ির মধ্যে করি। পাভে গিয়ে নয়।" ঝিল্লি রাহুলের দিকে তাকিয়ে বললো,"দশ মিনিট বস। আমি রেডি হয়ে আসছি।" রাহুল ঝিল্লির দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললো,"তোর সব কিছুতেই দেরী।" ঝিল্লি তোয়ালেটা সরালো মাথা থেকে। বললো,"ডাবল্ মিনিং কথা বলে লাভ নেই ব্রো। তুই যেটা চাইছিস সেটা কোনোদিনই পাবিনা।" বলেই ঢুকে গেলো নিজের রুমে। থতমত খাওয়া রাহুলের মুখের দিকে ভ্রু কুচকে তাকালো ঝিল্লির মা।
💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️
অলিভার পাভের সামনে রাহুল বাইকটা দাঁড় করাতেই পিছনে বসা ঝিল্লি নেমে দাঁড়ালো। রাহুল বাইকটা পার্কিং জোনে রেখে এসেই ঝিল্লিকে বললো,"আজ একটা সারপ্রাইজ আছে তোর জন্য। চল ভিতরে।" ঝিল্লি আর রাহুল পাভের ভিতরে ঢুকতেই ওদেরকে দেখে দৌড়ে এলো ঝিল্লির বেস্টফ্রেন্ড পম। ঝিল্লিকে জড়িয়ে ধরে বললো,"তোরই অপেক্ষা করছিলাম আমি, সঞ্জু, টিনা, বাবিন আর.."। ঝিল্লি বললো,"আর?"। পম খিলখিলিয়ে হেসে বললো,"আর তোর দিওয়ানা। ওই দেখ বসে আছে।" বলেই একটু দূরের চেয়ারে গিটার নিয়ে বসা ছেলেটার দিকে দেখালো পম। সঙ্গে সঙ্গে রাহুল বলে উঠলো,"বাস্টার্ডটা এখানেও এসে গেছে? ব্লাডি স্টকার।" ততক্ষণে ওদের তিনজনের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে টিনা, সঞ্জু আর বার্থডে বয় বাবিন। পম রাহুলকে বললো,"চিল্ ম্যান্। পাভে যে কেউ আসতে পারে। তার জন্য আমরা মজা নষ্ট করবো কেন? চল, লেটস্ সেলিব্রেট।" ওরা ছজনই আগে থেকে বুকিং করা সোফায় গিয়ে বসলো। ঝিল্লির বারবার চোখ চলে যাচ্ছে গিটার নিয়ে বসা ছেলেটার দিকে। ছেলেটা একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে ঝিল্লির দিকে। আজ প্রথমবার ওর হাতে গিটার দেখলো ঝিল্লি। ছেলেটার চোখ যেন চুম্বকের মতোন আকর্ষন করছে ঝিল্লিকে। গত কয়েক মাস ধরে ঝিল্লিকে ফলো করছে ছেলেটা। কখনও ইউনিভার্সিটিতে, কখনও বাসস্ট্যান্ডে, কখনও শপিং মলে, বিভিন্ন জায়গায়। আর অদ্ভুত ব্যাপার, ঝিল্লির ভাল লাগছে সেটা। যেন ঝিল্লির মন চাইছে ছেলেটা এসে কিছু বলুক। জানাক তার মনের কথা। ইতিমধ্যে বার্থডে বয় বাবিন কেকটা কেটে ফেলেছে। ওরা বাবিনকে হ্যাপি বার্থডে উইশ্ করতেই রাহুল বললো,"আমার কিছু বলার আছে। সবাই শোনো। আই অ্যাম্ ইন্ লাভ্।" বলেই হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়লো সোফায় বসা ঝিল্লির সামনে। তারপর পকেট থেকে একটা হীরের আংটি বের করে রাহুল দুহাতে সেটা ঝিল্লির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো,"আই লাভ্ ইউ ঝিল্লি। উইল্ ইউ ম্যারী মি?"। রাহুলের কথা শেষ না হতেই দূরে গিটার নিয়ে বসা ছেলেটা একটা টান দিলো গিটারের তারে। তারপর গেয়ে উঠলো রূপম ইসলামের গান। এই প্রথম শুনলো ঝিল্লি ছেলেটার গলা। ছেলেটার চোখের মতোই গলাতেও যেন জাদু আছে। আর নিজেকে আটকাতে পারলো না ঝিল্লি। রাহুলের প্রোপোজাল্ আর হীরের আংটিকে অবজ্ঞা করে সোফা থেকে উঠে এগিয়ে গেলো ছেলেটার দিকে। ছেলেটা গেয়ে চলেছে,
"আমি তোমার চোখের কালো চাই,
তাই তোমার দিকে তাকাই..
তুমি তাকাওনি আমার দিকে, তাই ধূসর বিকেল।
কালো রাস্তাও রঙ হারায়,
ধূসর ধোঁয়ায়..।।"
💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️
"ওয়ে দাঁড়া।", রাহুল বলতেই দাঁড়িয়ে পড়লো ছেলেটা। রাত এগারোটার ফাঁকা রাস্তায় ছেলেটাকে ঘিরে তিনজন দাঁড়িয়ে। রাহুল, সঞ্জু আর বাবিন। রাহুল জিজ্ঞেস করলো,"তোর নাম?"। ছেলেটা অস্ফুটে উত্তর দিলো,"গোগোল।" বলতেই গোগোলের দিকে এগিয়ে এসে দাঁড়ালো রাহুল। বললো,"শোন গোগোল, আজকের পর আর কোনোদিন যেন ঝিল্লির ধারেকাছে না দেখি তোকে। নাহলে..", এতটা বলেই হাতে ধরা সাইকেলের চেনটা গুটিয়ে মুঠো করলো হাতে। হেসে ফেললো গোগোল। "হাসছিস, দেখবি?", বলেই এক ঘুষি মারলো গোগোলের নাকে। রাস্তায় ছিটকে পড়লো গোগোলের হাত থেকে গিটারটা। নাক দিয়ে গলগল করে রক্ত ঝরে পড়ছে গোগোলের। রাহুলের পেটে এক লাথি চালালো গোগোল। ছিটকে পড়লো রাহুল। সঙ্গে সঙ্গে সঞ্জু আর বাবিন শক্ত করে চেপে ধরলো গোগোলকে। রাহুল উঠে এসে আবার একটা সজোরে ঘুষি চালালো গোগোলের মুখে। নাক মুখ ফেটে রক্তাক্ত গোগোলকে মাটিতে ফেলে পা দিয়ে লাথি মারতে শুরু করলো সঞ্জু। বাবিনও গোগোলের গিটারটা তুলে সেটা দিয়ে মারতে লাগলো গোগোলকে। কিছুক্ষণ এভাবে মারার পর যখন ওরা থামলো তখন প্রায় আধমড়া অবস্থায় রাস্তায় পড়ে গোগোল। রাহুল এগিয়ে এসে গোগোলের চুলের মুঠি ধরে মুখটা তুলিয়ে বললো,"আশা করি মনে থাকবে এটা?"। খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো গোগোল। অস্ফুটে বললো,"শেষ করে দিয়ে যা, নাহলে শেষ হয়ে যাবি।" শুনেই রাহুল পায়ের বুট দিয়ে গোগোলের মুখে সপাটে এক লাথি চালাতেই অচৈতন্য হয়ে পড়লো গোগোল। "অনেক হয়েছে, চল।", সঞ্জু বলতেই রাহুল গিয়ে বাইকটা স্টার্ট দিলো। পিছনে উঠে বসলো সঞ্জু আর বাবিন। অচেতন গোগোলের পাশে পড়ে থাকলো গিটারটা।
💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️
রাত তিনটে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি নেমেছে কলকাতার বুকে। বাড়ির দোতলায় নিজের রুমে ঘুম ভেঙে উঠে বসলো ঝিল্লি। ব্যালকনির কাঁচের দরজায় কারোর একটা ছায়া। ঠকঠক করে টোকা মারছে কাঁচে। ঝিল্লি উঠে গিয়ে পর্দাটা সরিয়েই দেখলো গোগোল দাঁড়িয়ে কালো পুলওভার পরে। নাক আর ঠোঁট ফেটে রক্ত পড়ছে গোগোলের। সঙ্গে সঙ্গে কাঁচের দরজাটা খুলে দিলো ঝিল্লি। গোগোল রুমে ঢুকে এসে বিছানায় বসতেই ঝিল্লি বললো,"এত সাহস তোমার? আমি যদি চেঁচিয়ে লোক ডাকি?"। মৃদু হাসলো গোগোল। বললো,"সেটা করার হলে তুমি দরজাটা থোড়াই খুলতে?"। হেসে ফেললো ঝিল্লি। তারপর বললো,"নাক মুখ ফাটলো কি করে?"। এ কথার উত্তর না দিয়ে ঝিল্লির দুহাত নিজের হাতে নিয়ে বললো,"আমি ত তোমায় ফলো করতাম তোমায় ভাল লেগে গেছে বলে। তুমি আজ কেন রাহুলের হীরের আংটি অ্যাভয়েড করে আমার সাথে কথা বলতে এলে?"। ঝিল্লি বললো,"পুরো ভিজে গেছো। পুলওভারটা খোলো।" বলেই আলমারী খুলে কিছুটা তুলো বার করে গোগোলের সামনে এসে দাঁড়ালো ঝিল্লি। তারপর মিউজিক সিস্টেমে রূপম ইসলামের গান স্লো ভলিউমে চালিয়ে গোগোলের নাকমুখের রক্ত পরিস্কার করতে করতে বললো,"তোমার চাহনীতে আমি লোভ নয়, প্রেম দেখতে পেয়েছি। তোমার দুচোখের কালোমণির মধ্যে চুম্বকের মতো অমোঘ আকর্ষন আছে যা টানে আমায়। তোমার এগিয়ে এসে কথা বলার অপেক্ষায় ছিলাম আমি। কিন্তু আজ তোমার গলা আমায় পাগল করে দিয়েছে। ভালবেসে ফেলেছি তোমায়।" খালি গায়ে বসে থাকা গোগোল তাকিয়ে রইলো ঝিল্লির দিকে। ঝিল্লি বলে চললো,"তোমায় দেখে মনে হয় তোমার অপেক্ষাতেই আছে আমার মনপ্রাণ। যেন বহুজন্মের সাথী আমরা।" এতটা বলতেই গোগোল ঝিল্লির দুহাত ধরে টেনে নিলো নিজের বুকে। ঠোঁটে ঠোঁট ছোয়াতেই সারা শরীর কেঁপে উঠলো ঝিল্লির। গোগোলের গালে হাতের আঙুলের নখ বোলাতে বোলাতে বললো,"সম্পর্ক সবসময় সত্যি দিয়ে শুরু করা উচিৎ। আমি দত্তক নেওয়া সন্তান আমার বাবা মায়ের। আমার মতো অনাথকে নিজের মেয়ের মতোই স্নেহ করে আমার মা। বাবা বেশির ভাগ সময় চাকরী সূত্রে বাইরে থাকে তো। আমার বাবা কিন্তু পুলিশ। এখন আমেদাবাদে পোস্টিং। তিন বছর পর পরশু ফিরছে। তারপর তোমার সাথে আলাপ করাবো।" গোগোলের চোখ ছলছল করছে দেখে থামলো ঝিল্লি। এবার গোগোল বললো,"এতদিন ভাল লাগতো। আজ বুঝতে পারছি ভালবেসে ফেলেছি।" বলেই ঝিল্লির ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো গোগোল। নরম বিছানায় পরস্পরের শরীর মিশতে লাগলো। বাইরে ঝেঁপে বৃষ্টি পড়ছে। গোগোল ঝিল্লির কপাল, চোখ, ঠোঁট, গলা, সারা নগ্ন শরীরে চুম্বন করতে করতে নেমে আসলো ঝিল্লির তলপেটে। চরম প্রশান্তি ঝিল্লির মুখে। দুপা ফাঁক করে গোগোলের মুখটা ঝিল্লি চেপে ধরলো নিজের যোনীদ্বারে। ঝিল্লির শিৎকার মিশলো মিউজিক সিস্টেমে চলা রূপমের গানের সাথে।
"কিছু শরীর কথা বলে যায়,
কোনো গভীর রাতের ইশারায়..
আমি একলা জেগে শয্যায়,
শরশয্যায়.."
💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️
সকালে উঠে ব্রাশ করে ফ্রেশ হয়ে বেরোতে বেরোতেই ফোন বেজে উঠলো ঝিল্লির। পম ফোন করছে। ঝিল্লি ফোনটা রিসিভ করতেই ভেসে এলো পমের কান্নামিশ্রিত গলা,"গতকাল রাত সাড়ে বারোটায় নিজের বাড়ির সামনে পাওয়া গেছে বাবিনের লাশ। সঞ্জু বলছে রাহুল ওকে বাড়িতে ড্রপ করার পর বাইকে করে বাবিনকে বাড়ি ছাড়তে গেছিলো। ছেনি দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বাবিনকে। প্লিজ্, তুই সিগ্গির আয়।" ফোনটা কাটার পরই জিন্সের প্যান্ট আর টি-শার্ট পরে বাড়ি থেকে দৌড়ে বেরিয়ে যায় ঝিল্লি। একটা ট্যাক্সি ধরে ফোন করে টিনাকে।
"তোদের কি মনে হচ্ছে, আমি বাবিনকে মেরেছি? বাবিন আমার বেস্টফ্রেন্ড ছিল ইয়ার।", রাহুল বলতেই সঞ্জু বলে ওঠে,"কিন্তু তুই ওকে ছাড়তে গেছিলি।" রাহুল কিছু বলার আগেই ঝিল্লি বলে ওঠে,"নিজেদের মধ্যে ঝামেলা করে লাভ নেই। আর কাউকে কিছু বলারও দরকার নেই। পুলিশ তদন্ত করুক। আমাদের এখন চুপ থাকাই ভাল।" বলে পমকে জড়িয়ে ধরে ঝিল্লি। পম ঝিল্লির বুকে মাথা রেখে হাউহাউ করে কেঁদে ওঠে,"আমার বাবিন আর রইলো না রে.."।
💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️
"বাবা, এরা আমার ইউনিভার্সিটির বন্ধু।", বলে প্রিন্সেপঘাটের স্কুপ নামে আইসক্রিম পার্লারটায় বসে পম, রাহুল, টিনার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় ঝিল্লি। তারপর সঞ্জুকে দেখিয়ে বলে,"আর এ টিনার বয়ফ্রেন্ড আর গোগোল আমার।" রনজয় মুখার্জী রাহুলের দিকে তাকিয়ে বলেন,"তোমার চোখের মণির লাল রঙ একজনের কথা মনে পড়িয়ে দেয় আমায়। তুমি কি লেন্স ব্যবহার করো?"। ঘাবড়ে যায় রাহুল। তারপর বলে,"হ্যাঁ, দুচোখেই।" রনজয় মুখার্জী বলে ওঠেন,"আই সি.."। উঠে দাঁড়ায় রাহুল। বলে,"আমায় বেরোতে হবে।" গোগোল বলে ওঠে,"দূগ্গা দূগ্গা!" নিজের মুখ টিপে হাসি চাপা দেয় ঝিল্লি। রাহুল গোগোলের দিকে কটমট করে তাকায়। তারপর "বাই" বলে গটগট করে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। ঝিল্লি বলে,"বাবা, পাঁচদিন আগে রাতে আমাদের এক বন্ধু খুন হয়। সে জন্যই হয়তো রাহুল আপসেট আছে।" রনজয় মুখার্জী "হুম" বলে গোগোলের দিকে তাকায়। তারপর বলেন,"তোমায় যেন কোথায় দেখেছি আগে।" এবার ঝিল্লির মা বলে ওঠেন,"উফ্, তুমি তোমার পুলিশগিরিটা থামাবে? সবাইকে সন্দেহ করা তোমার অভ্যেস হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসহ্য!" সঙ্গে সঙ্গে গোগোল বলে ওঠে,"না না কাকিমা। কাকুর এরম মনে হতেই পারে। লোকে বলে শাহরুখ খানের সাথে মুখের মিল আছে আমার।" শুনে রনজয় মুখার্জী আর সঞ্জু বাদে বাকি সবাই অট্টহাসি হেসে ওঠে। সবার আইসক্রিম খাওয়া শেষ হলে ঝিল্লি বলে,"এবার মা বাবার সাথে দক্ষিনেশ্বরে যেতে হবে আমায়। টাটা এভরিওয়ান।" রনজয় মুখার্জী ঝিল্লিকে বলেন,"আমার বাড়িতে কিছু দরকারী কাজ আছে। তুই আর তোর মা যা।" টেবিল ছেড়ে উঠে পড়ে সবাই।
💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️
"সত্যি করে বলো পুরো ঘটনাটা।", ইনস্পেক্টর রানা বলতেই কপাল ফেটে রক্তক্ষরন হওয়া শান্তির মা কাঁদতে কাঁদতে ঝিল্লি, ঝিল্লির মা, গোগোল, পম, সঞ্জু, টিনা আর রাহুলের দিকে তাকায়। অঝোরে কাঁদছে ঝিল্লি আর ওর মা। শান্তির মাকে আবার ধমক লাগায় ইনস্পেক্টর রানা,"বলবে?"। শান্তির মা বলতে শুরু করে,"ঝিল্লি দিদিমনি মায়ের সাথে দক্ষিনেশ্বর গেছিলো। বড়বাবুরও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বড়বাবু একা বাড়িতে ফিরেই সোজা নিজের রুমে বসে পড়ে কম্পিউটারের সামনে। আমি চা করে দিই বড়বাবুকে। বড়বাবু সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে খুব মন দিয়ে কম্পিউটারে একটা বাচ্চা ছেলের ছবি দেখছিল যার একটা চোখের মণি লাল, আরকেটা কালো। আমি চা দিয়ে বেরিয়ে আসার কিছুক্ষণ পর কলিংবেল বেজে উঠতেই আমি দরজার সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করি 'কে?'।" এতটা বলে থামে শান্তির মা। তারপর ঢোক গিলে রাহুলের দিকে তাকিয়ে বলে,"দরজার ওপাশ থেকে এই রাহুল দাদাবাবুর গলার আওয়াজ আসে 'রাহুল, নাম তো সুনাহি হোগা'।" শুনেই ঝিল্লি আর ঝিল্লির মা অবাক দৃষ্টিতে তাকায় রাহুলের দিকে। রাহুল শান্তির মায়ের দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে,"আমি?? হোয়াট্ দ্য হেল??"। ইনস্পেক্টর রানা রাহুলের দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় ধমক লাগায়,"শ্যাটাপ..!" শান্তির মা বলে চলে,"আমি চেনা গলা শুনে দরজাটা খুলতেই আমার মাথায় প্রচন্ড জোর আঘাত করে রাহুল দাদা বাবু। আর কিছু মনে নেই আমার। শুধু এটুকু মনে আছে যে মুখোশ পরেছিল।" এবার ইনস্পেক্টর রানা বলে,"বাকিটা আমি বলছি। রাহুল বাড়িতে ঢোকে। রনজয় স্যারের রুমে যায়। তারপর রনজয় স্যারকে কোনো ধারালো জিনিস দিয়ে কুপিয়ে খুন করে কম্পিউটারটা ভেঙে পালায়। ডেডবডির পাশে এটা পাওয়া গেছে।" বলেই একটা স্বচ্ছ প্লাস্টিকের মধ্যে থাকা একটা হীরের আংটি তুলে ধরে সকলের সামনে। চেঁচিয়ে ওঠে ঝিল্লি,"এই আংটিটা তো রাহুল আমাকে দিতে গেছিলো প্রপোজ করার সময়। আমি অ্যাকসেপ্টও করিনি, নিইওনি।" সঞ্জু বলে ওঠে,"আমি সেদিনই বুঝেছিলাম। বাবিনকেও এই শয়তানটাই মেরেছে।" চেঁচিয়ে ওঠে রাহুল,"আমি কিছু করিনি। বিশ্বাস করো আমায়।" ঝিল্লি ঘেন্নায় থুঃ করে ফেলে রাহুলের মুখে। ইনস্পেক্টর রানা কনস্টেবলদের নির্দেশ দেয় রাহুলকে পুলিশ ভ্যানে তুলতে। কান্নায় ভেঙে পড়া ঝিল্লিকের মাথা বুকের মধ্যে সযত্নে চেপে ধরে গোগোল।
💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️
ফোনটা বেজে উঠতেই ঝিল্লি দেখলো 'গোগোল কলিং'। ফোন রিসিভ করতেই গোগোলের গলা এলো,"আর্ ইউ হ্যাপি?"। ঝিল্লি একগাল হেসে বললো,"ইয়েস।" গোগোল বললো,"গতকাল হাইকোর্ট রাহুলের ফাঁসির সাজা হতেই মনটা খুশিতে মেতে উঠেছিল। কেন জানো?"। ঝিল্লি জিজ্ঞেস করলো,"কেন?"। গোগোল বললো,"তিন মাস পর তোমার চোখে মুখে শান্তির ছাপ দেখতে পেলাম কাল। চলো, আজ সেলিব্রেটের দিন। আমি আর তুমি আজ ডিস্কো যাবো। ঠিক সন্ধ্যে ছটায় আমি নিতে আসবো তোমায়।" ঝিল্লি মিষ্টি হেসে বললো,"আচ্ছা।"
প্যানথারাস ডিস্কোবারে গোগোল আর ঝিল্লি ঢুকে আগে থেকে বুক্ করা টেবিলে বসে দু পেগ ভদকা অর্ডার করলো। ভদকার গ্লাসে এক চুমুক দিয়ে গোগোল পকেট থেকে একটা আংটি বার করে ঝিল্লির সামনে হাঁটুগেঁড়ে বসে বললো,"এ আংটি হীরের নয়, তবে যে আঙুলে এটা ঢুকবে সেই আঙুলের অধিকারিনী আমার কাছে সবচেয়ে দামী। বলো তুমি কি আমার হবে? উইল্ ইউ ম্যারী মি?"। লজ্জায় গোলাপী হয়ে গেলো ঝিল্লির গাল। বললো,"আমি জন্ম জন্মান্তর ধরে তোমারই গোগোল।" ঝিল্লির আঙুলে আংটিটা পরিয়ে দিতেই মিউজিক বেজে উঠলো। গোগোল ঝিল্লির হাত ধরে টেনে আনলো ডান্সফ্লোরে। শুরু হলো গান আর তার সাথে নাচ।
"এ, ডু ইউ নো?
বেবি তেরে লিয়ে রাক্ষা পল্লু স্যম্ভালে..
"এ, ডু ইউ নো?
তু যো চাহে য়ো করদু ম্যায় তেরে হাওয়ালে..
ওড়নি উড়ে উড়ে রে, আঁখিয়া মুড়ে মুড়ে রে..
ওড়নি উড়ে উড়ে রে, আঁখিয়া মুড়ে মুড়ে রে..
মেরে সিনে মে কুছ্ কুছ্ হায়..
কে ওড়নি ওড়ু য়ো রুপে উড়ি যায়,
ওড়নি ওড়ু য়ো রুপে উড়ি যায়.."
💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️
"তোর সাথে দুজন দেখা করতে এসছে।", জেলের জালের ওপাড়ে দাঁড়ানো রাহুলকে বলেই সেখান থেকে বেরিয়ে গেলো কনস্টেবল। কয়েদীর পোশাক পরা রাহুল দেখলো জালের ওপাশে এসে দাঁড়ালো গোগোল। মুখে মৃদু হাসি। চোয়াল রাগে শক্ত হয়ে গেলো রাহুলের। সেই দেখে গোগোল ফিসফিস করে বললো,"কন্ট্রোল ইয়ার্। নিজে ত বাঁচবি না, রাগটা আর কিছুক্ষণ বাঁচিয়ে রাখ। আমি তোকে একটা গল্প বলতে এসছি। গল্প হলেও সত্যি।" বলে থামলো গোগোল। তারপর বলতে শুরু করলো,"শিলিগুড়িতে থাকতো আমার মা। আমার যখন দু বছর বয়স তখন আত্মহত্যা করে নিয়েছিল। বেচারী অবিবাহিত ছিল ত। আমার আসল বাবা আমার দায়িত্ব নেয়। কিন্তু সে তখন বিবাহিত। তাও সব ঠিকঠাক চলছিল। আমার যখন এগারো বছর বয়স তখন একদিন গিটারের ক্লাস থেকে বাড়ি ফিরে দেখি আমার বাপের সাত বছরের বৈধ ছেলে সানি তার বন্ধুকে ছাদ থেকে ঠেলে ফেলে দিয়েছে। আমি ত অবৈধ, তাই আমার বাবা তার পুলিশ বন্ধুর সাথে শলাপরামর্শ করে সেই খুনের দায় আমার ঘাড়ে চাপাতে চায়। আমি নিই খুনের দায় নিজের ঘাড়ে। তবে একটা নয়, চারটে খুনের। চোদ্দো বছরের জেল হয় আমার। আমার মৃত বাবার পুলিশ বন্ধুটা রোজ বেধরক মারতো আমায়। তার দুবছর পর সে বদলি হয়ে আহমেদাবাদ চলে যায়। ঝিল্লির বাবা। রনজয় মুখার্জী। জেলেই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম এই মারের বদলা নেবোই। নাহলে আমার নাম.." থামে গোগোল। তারপর মুখে নিষ্ঠুর হাসি ফোটে গোগোলের। বলে,"জেলে আমায় সবাই কি বলে ডাকতো জানিস? জেলে আমার প্রিয়বন্ধুর মুখ থেকেই জান।" বলেই গোগোল বেরিয়ে যায় ওখান থেকে।
রাহুল একটা পরিচিত গলা শুনতে পায়,"বখাটে।" জালের ওপাড়ে এসে দাঁড়ায় সঞ্জু। একগাল হেসে বলে,"ভাল আছিস ভাই?"। অবাক হয়ে যায় রাহুল। সঞ্জু বলে,"আমিই গোগোলের প্রিয়বন্ধু। ওর তিনবছর আগে ছাড়া পাই জেল থেকে। মাস্টার প্ল্যানার বখাটেটা।" বলেই দাঁত দিয়ে জিভ কেটে বলে,"উপস্, সরি। বখাটে মানে গোগোল। আমি বেরোনোর পর ওকে রনজয় মুখার্জীর সব খবর দিতাম এভাবেই দেখা করতে এসে। আর ও জেলে বসেই প্ল্যান করতো কিভাবে তোদের মানে ঝিল্লির বন্ধুর গ্রুপে ঢোকা যায়। প্ল্যানমাফিক টিনাকে পটিয়ে ওর বয়ফ্রেন্ড হিসেবে তোদের গ্রুপে ঢুকি। কাজ আরও সহজ হয়ে যায়। গোগোল জেল খেটে বেরোনোর পর ওকে সব তথ্য দিতে থাকি। সবই প্ল্যানমাফিক চলছিল। প্ল্যান ছিল ঝিল্লিকে মার্ডার করার। কিন্তু যেদিনই গোগোল জানতে পারে ঝিল্লি অনাথ, রনজয়ের পালিত মেয়ে, সেদিন থেকেই ঝিল্লিকে ভালবেসে ফেলে বখাটেটা। মনে আছে গোগোলের এক লাথিতে তুই ছিটকে পড়েছিলি? তখনই তোর পকেট থেকে পড়ে যায় হীরের আংটিটা। তবে ট্রাস্ট মি, বাবিনকে আমি মারিনি। বখাটেটাই মেরে ছিল। আর তোর ওই 'রাহুল, নাম তো সুনাহি হোগা' ডায়লগটা রেকর্ড করেছিলাম আমি। গোগোল ওটা শুনিয়েই দরজা খোলায় শান্তির মাকে দিয়ে। তারপর রনজয় মুখার্জীকে..", এতটা বলেই খিঁক্ খিঁক্ করে হেসে ওঠে সঞ্জু। বলে, "শান্তিতে মরিস। গুডবাই।"
💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️ 💍⛏️
মধ্যরাত্রি। প্রিন্সেপঘাটে পাশাপাশি দুই বন্ধু গঙ্গা পাড়ের রেলিংয়ে গঙ্গার দিকে পা ঝুলিয়ে বসে। বাণ এসছে গঙ্গায়। গোগোল বিয়ারের বোতলে এক চুমুক দিয়ে বললো,"সাঁতরে এই সময় গঙ্গার ওপাড়ে যেতে পারবি?"। সঞ্জু হেসে বললো,"পারতাম, যদি সাঁতার জানতাম।" হা হা হা হা করে হেসে উঠলো গোগোল। তারপর বললো,"রনজয় মুখার্জীকে খুন করতাম না ভাই। মাফ করে দিতাম। কারন জীবনে সত্যিই ভালবাসা পেয়েছি ঝিল্লির কাছে। কিন্তু সেদিন আইসক্রিম পার্লারে আমার মুখ ও কোথায় দেখেছিল সেটা মনে করছিল। জানতাম ও বাড়ি ফিরে কম্পিউটারে সব তথ্য খুঁজবেই। আর আমিই যে সেই বখাটে এটা ঝিল্লিকে জানিয়ে দিলে আমি ভালবাসার মানুষটাকে সারা লাইফের মতো হারিয়ে ফেলতাম। ঝিল্লিকে হারাতে চাইনা আমি।" সঞ্জু নিজের হাতের বিয়ারের বোতলে চুমুক মেরে বললো,"বাদ দে। ওসব এখন অতীত।" হাসলো গোগোল। তারপর সঞ্জুর দিকে তাকিয়ে বললো,"বখাটে দুচোখে লেন্স পরে না। একচোখে পরে। রাহুলকে ওয়ার্নিং দিয়েছিলাম যে শেষ করে দিয়ে যা, নাহলে শেষ হয়ে যাবি। রাহুলের ফাঁসি আজ ভোরে কথাটা মিলিয়ে দিলো ভাই। বখাটেরা কথা রাখে।" সঞ্জু হাসিমুখে তাকালো গোগোলের মুখের দিকে। গোগোলের লেন্সবিহীন চোখ দুটোয় লালমণি আর কালোমণি চকচক করছে। সঞ্জু বললো,"এবার তাহলে ঝিল্লিকে বিয়ে করে সংসার বাঁধবি?"। গোগোল সঞ্জুর কাঁধে হাত রেখে মৃদু হাসি মুখে বললো,"একদম। তবে তার আগে একটা কাজ বাকি আছে।" সঞ্জু বললো,"আবার কি কাজ?"। গোগোল শান্ত গলায় বললো,"শেষ সাক্ষ্য প্রমান লোপাট করা। সরি ভাই।" বলেই হাত দিয়ে সজোরে ধাক্কা মারলো সঞ্জুর পিঠে। গঙ্গা উত্তাল করা রাক্ষুসে বাণ যেন গিলে নিলো সঞ্জুকে। গোগোল কানে হেডফোনটা গুঁজে গান চালিয়ে নির্বিকার চিত্তে সেদিকে তাকিয়ে বিয়ারের বোতলে চুমুক দিতে লাগলো। গানটা হয়ে চললো,
"পানসা জলে ছাই ভাসাইয়ে সাগরেরও বাণে,
আমি জীবনের ভেলা ভাসাইলাম,
কেউ না তা জানে রে..
অকূল দরিয়ায় বুঝি কূল নাই রে।"
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments