মিষ্টি Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
রবিবারের দুপুর সুন্দর মাংস ভাত খেয়ে একটা ভাতঘুম দেওয়ার আয়োজন করছি ফুলকাকিমার ফোন। রীতিমতো মুখ ভেটকে ফোনটা ধরলাম।ওপার থেকে হাউহাউ করে কান্নার শব্দ! ফুলকাকিমা কাঁদছে।কোন দুঃসংবাদ নাকি ভাবছি ওপার থেকে কাকিমা বলে উঠলো...
-সাবু আমার নাতনিটাকে বোধহয় বাঁচতে পারবোনা রে ।কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিনা ।
আমিও কি বলবো বুঝতে পারছিনা । যাইহোক তত্ক্ষণাত্ রওনা দিলাম ফুলকাকিমার বাড়ি। কয়েকবছর আগে কাকু মারা যাওয়ার পর পুরনো বাড়ি বিক্রি করে কয়েক মাস হলো কাকিমারা নতুন ফ্ল্যাটে শিফট করেছে। পরিবার বলতে এখন ফুলকাকিমা, ওনার ছেলে সৌম্য, সৌম্যদার স্ত্রী ইশা আর ওদের সাত বছরের মেয়ে তুয়া । কয়েক মাস আগেই ওদের গৃহপ্রবেশ এ এসেছিলাম সব তো ঠিকই ছিলো এখন আবার কি হলো ভাবতে ভাবতে ফ্ল্যাটের সামনে এসে পড়লাম। দোতলাতে ওদের ফ্ল্যাট। উঠে কলিংবেল বাজাতে ইশা দরজা খুললো, মুখ শুকিয়ে চোখের তলায় কালি।শুকনো হাসি দিয়ে ভিতরে ঢুকলাম ।ডাইনিংয়ের মাঝখানে তুয়া খেলছে ,দিব্বি সুস্থ,খালি একটু রোগা হয়ে গেছে । রান্নাবাটি খেলতে সে খুউউব ব্যস্ত।আমি সামনের সোফাতে বসলাম, আমাকে দেখে ফুলকাকিমা জোরে জোরে কাঁদতে শুরু করলো । এই জড়িয়ে কাঁদাটা যদিও খুব একটা আমার পছন্দ নয় তাও সামলে কাকিমাকে সামলে চুপ করাতে চেষ্টা করলাম। সান্তনা দিতে বললাম "তুয়া তো ঠিকই আছে তুমি কাঁদছ কেন শুধু শুধু "
-তুয়া ঠিক নেই শ্রাবণী ।
বলতে বলতে ইশা চা এনে সামনে রাখলো ..(শ্রাবণী আমার নাম ..ডাকনাম সাবু ) ।
-কি বলছো ঠিক নেই ?দিব্বি তো খেলছে, কি হয়েছে ওর ? ডক্টর কি বলছে ?
এদিকে ফুলকাকিমার কান্নার পারদ চরলো। আমি তো কাকে কি বলবো বুঝতে পারছিনা ।ইশা বলতে শুরু করলো ....
-এমনিতে ওকে স্বভাবিক লাগলেও ও সুস্থ নয় শ্রাবণী। ভালো করে দেখো ও খেলছে ।কিন্তু ও কি একাই খেলছে ? ও কি একবারও তোমার আমার দিকে দেখছে?
-মানে ? ও তো একাই খেলছে !
-না ও একা খেলছে না ।
-কি সব বলছো ??
- না ও একা খেলছেনা, ওর সাথে কেউ একটা আছে গো ।যাকে শুধু ও দেখতে পায়। জানি শুনতে আজব লাগছে কিন্ত সত্যি এটাই । প্রথম প্রথম যখন এখানে আসি দেখতাম তুয়া কার সাথে নিজের মনে কথা বলছে ,ভাবতাম ও বুঝি খেলছে , স্কুল থেকে ফিরে নিজের মনে বকছে স্কুলে কি হলো সবসময় কথা বলছে । কয়েকদিন আগে তোমার দাদা আমি ওকে নিয়ে বেড়াবো বলে ওকে রেডি করে বেরোতে যাবো ও বললো আমি যাবনা । ও বারণ করছে ! আমরা তো অবাক! কে বারণ করছে ? ও খালি দেয়ালের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বলছে "ও বারণ করছে "
- ডাক্তার দেখিয়েছো ? কম বয়স বলে মনোরোগ যে হতে পারেনা তা কিন্তু নয় ।
ফুলকাকিমা কাঁদতে কাঁদতেই বললো " ও পাগল ? না না । ভূত আছে এ বাড়ি তে । "
-কি সব বকছো ? ভূত ? ধুস ..
আমি ফুলকাকিমাকে পাশ কাটিয়ে ঈশাকে বললাম আমার পরিচিত একজন ডাক্তার আছেন । বলো তো আমি ফোন করে দিচ্ছি কালই একবার দেখিয়ে আনো ।
কথা শেষ হয়েছে কি একটা খেলনা গাড়ি সজোরে এসে পড়লো আমার হাতে ,লাগলো খুব জোরে।কিন্তু তুয়ার দিকে তাকিয়ে দেখি ও পিছন ফিরেই খেলে যচ্ছে ।
ঘটনার আকস্মিকতাতে ঈশা আর আমি বেশ হকচকিয়ে গেলেও ফুলকাকিমা কান্নার জোর আরো বাড়িয়ে দিলো।
ঈশা আমার হাতে জল দিয়ে দেবার পর ওই গাড়ি টা নিয়ে তুয়ার দিকে এগিয়ে গেলাম। এগিয়ে গিয়ে দেখি তুয়া কাঁদছে। আমি ঈশা কে ডেকে বললাম দেখো ঈশা তোমার মেয়ে কাঁদছে । ঈশা ছুটে এসে তুয়াকে কোলে নিতেই তুয়া কাঁদতে কাঁদতে বললো "একে চলে যেতে বলো। ও আমাকে বাড়ি থেকে বাইরে যেতে বলছে। ও পচা।ওকে চলে যেতে বলো ।" আমি উঠে পড়লাম। বেরোনোর সময় ঈশা বললো "কিছু মনে করোনা শ্রাবণী । সব কথা তো আর মায়ের সামনে বলতে পারিনা। উনি ভীষণ রিয়াক্ট করেন। তুয়াকে যখন ঘুম পাড়াই আমি বুঝতে পারি কেউ বিছনার চারপাশে ঘুরছে। সবসময় পাহারা দিচ্ছে তুয়াকে। মেয়েটা বাড়ির বাইরে বেরোতে চায়না। আমি জানি আজকালকারদিনে কেউ এসব বিশ্বাস করেনা। আমি তোমার দাদাকে বলেছি এই ফ্ল্যাটটা ছেড়ে দিতে। কিনতু তুয়া দিনদিন কেমনযেন হয়ে যচ্ছে গো। আমার মেয়েটাকে কি ফিরে পাবোনা ?"এই প্রথম ইশার চোখে জল দেখলাম। মনটা খারাপ হয়ে গেলো।
বাড়ি ফিরেও মনটা ঠিক হলোনা। চন্দনদাকে ফোন করে বললাম সব। চন্দনদা হলো আমার পরিচিত সেই ডক্টর যার কথা ফুলকাকিমাকে বলেছিলাম। সব শুনে চন্দনদা বলল "ওদের পুরোপরিবারকে কাল নিয়ে আয় আমার চেম্বারে।দেখ বিজ্ঞানে ভূত বলে কিছু নেই। আবার কিচ্ছু নেই আমি ব্যক্তিগত ভাবে সেটা মানিনা। তোর মুখে যতটুকু শুনলাম তাতে মেয়েটিকে বাড়ি থেকে বের করাটা দরকার। কাল নিয়ে আয় বুঝলি ।"
ঈশাকে বললাম কাল সবাই যেন রেডি থাকে। আমি কাল ওদের নিয়ে যাবো চন্দনদার চেম্বারে।
পরদিন সকালে যথাসময়ে পৌঁছে দেখি সবাই রেডি শুধু তুয়া এককোনে বসেআছে। সৌম্যদা সেদিন আর বেরোয়নি, আমি ঢুকতেই বললো "দেখনা সাবু কিছুতেই ওখান থেকে উঠছেনা বলছি বেড়াতে যাবো সবাইমিলে তবু উঠছেনা।" আমার মনে পড়লো চন্দনদার কথা, মেয়েটিকে বাড়ির বাইরে বের করতেই হবে। আমি বললাম "এমনই কোলে তুলে নিয়ে চলো দেরি হয়ে যাবে।" বলে দরজা খুলে পিছন ফিরে দেখি সৌম্যদা তুয়াকে তোলার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছেনা। ঈশা ছুটে গেলো সৌম্যদার দিকে, সেই মুহূর্তে আমি খেলাম এক বড়সড় ধাক্কা। এক ধাক্কায় ফ্ল্যাটের বাইরে পড়লাম ছিটকে, সাথে সাথে দরজা বন্ধ হয়ে গেলো। ভিতরে ফুলকাকিমা জোরে চিত্কার করছে। আমি তখনো মাটিতে পরে, শুনতে পাচ্ছি ঈশা ফুলকাকিমা সবাই চিত্কার করছে। সৌম্যদা বোধহয় দরজা খোলার চেষ্টা করছে। আমি ভালোই ভয় পেয়েছি, হাত পা কাঁপছে,লেগেছে পায়ে কোমরে বেশ জোরে, কোনমতে উঠে দাঁড়ালাম। তখন সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন ওপরের এক বাসিন্দা বেশ বয়স্ক ভদ্রলোক বোধয় বাজার করতে যাচ্ছিলেন। আমাকে একরকম ভীতসন্ত্রস্ত দেখে আর ভিতরের চিত্কার শুনে দাঁড়িয়ে গেলেন। আমি কি বলবো বুঝতে পড়ছিলামনা। উনি আমার দিকে আশ্বস্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে এগিয়ে গেলেন দরজার দিকে। দুটো টোকা দিয়ে বললেন "মিষ্টিমা দরজা খোলো, আমি তোমার সোনাজেঠু বাজারে যাচ্ছি লজেন্স আনবো ? দরজা খোল মা ।" হুট করে দেখি সৌম্যদা দরজা খুলে ফেললো। ঘেমে চান করে গেছে পুরো। ঈশা তখনো চিত্কার করছে তুয়াকে জড়িয়ে ধরে। ফুলকাকিমা বোধয় অজ্ঞান হয়ে গেছে। আমি ঢুকতে যাবো ভদ্রলোক বাধা দিলেন সৌম্যদা কে বললেন তোমার মাকে ভালোকরে শুইয়ে নীচে এসো কথা আছে।ভয় নেই কিছু হবেনা।" আমাকে নিয়ে নীচে এলেন ভদ্রলোক।ভদ্রলোকের নাম অমরনাথ মুখার্জী। এই বিল্ডিংয়ের টপফ্লোরে থাকেন। উনি জানেন ফুলকাকিমাদের ফ্ল্যাটটা তে সম্যসা আছে। উনি নাকি বলতে চেয়েছেন সৌম্যদাকে কিন্ত সৌম্যদার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও পরেননি ব্যস্ত সৌম্যদার সাথে কথা বলতে। আমি বললাম
-বাড়িতে এত লোক কাউকে বলতে পারতেন!
-ফ্ল্যাটের ভিতর তো মিষ্টি আছে। ও শুনলে আবার কি করবে কে জানে!
-মানে ?
-পায়ের ব্যথায় খুঁড়িয়ে হাঁটছ তবু মানে জিজ্ঞাসা করছো ?
ওই ফ্ল্যাটে তোমার কাকিমাদের আগেও দুটো ফ্যামিলি ছিলো। প্রথম যে ফ্যামিলি ছিলো ওদের মেয়ে ছিলো মিষ্টি। বাবা মা দুজনেই কর্মরত হওয়াতে মিষ্টি থাকতো কাজের মেয়ের দায়িত্বে। একাকিত্ব দিনদিন গ্রাস করছিলো বোধয় মিষ্টিকে! বয়স তখন আর কত ? সাত আট হবে। ঘর থেকে বেরোত না। স্কুলে যেতে চাইতনা। এই নিয়ে ওর বাবা মায়ের মধ্যে প্রায়েই অশান্তি হতো। একদিন শুনলাম মিষ্টি সুইসাইড করেছে। ওইটুকু মেয়ে ফিনাইল খেয়ে নিয়েছিলো। ও কি করে জেনেছিল ওটা খেলে মরে যায় আমি জানিনা। যদিও আমি মিষ্টির মৃত্যুর পর সব জেনেছি। যা বুঝেছি একাকীত্ব অবসাদ তৈরী করেছিলো মিষ্টির মনে। কিন্তু এই ফিনাইল এর ব্যপারটা আজও ভাবায় আমাকে জানো!
-আপনি কি বলতে চাইছেন ? তুয়া মিষ্টির সাথে খেলছে ? মিষ্টি তুয়াকে বেরোতে বারন করছে ? ওর বেরোতে দিচ্ছেনা ?
-যদি বলি হাঁ। যদি বলি মিষ্টির বাবা মা ওই ফ্ল্যাট বিক্রি করে চলে যাওয়ার পর মিষ্টি আরো একা হয়ে গেছে ও বন্ধু খোঁজে। তোমার কাকিমার আগে যে সিঙ্গেল মেয়েটি কিনেছিল সে রাতে বাচ্চার হাতের স্পর্শ পেতো বলে মাত্র 4 দিন ছিলো। সে পরে তোমাদের ফুলকাকিমাদের বিক্রি করে দেয়। কারনটা স্বভাবিক ভাবেই চেপে গেছিলো। কারণ অনেক টাকা দিয়ে সে ফ্ল্যাট কিনেছিল। তো বিক্রি করে দেওয়াই সহজ নিস্কৃতির উপায়।
-তো এখন আমরা কি করবো ? তুয়াকে ওর পরিবারকে তো ওই মিষ্টির কাছে রাখা যাবেনা।
-যাই করো ওই ফ্ল্যাটের ভিতর কিছু আলোচনা করোনা।মিষ্টি সব শুনতে পায়। তুমি মা ভেতরে যেওনা। মিষ্টি হয়তো পছন্দ করছেনা তোমাকে।
ইতিমধ্যে সৌম্যদা নীচে নেমে এলো। অমরনাথ বাবু সৌম্যদাকেও সব বললেন। সৌম্যদা অমরনাথবাবুর হাত ধরে প্রায় কেঁদে উঠলো" আমাদের বাঁচান কাকাবাবু! আমার মেয়েটা..."! অমরনাথবাবু বললেন "দেখো আমি কি করি বলতো ? আমি তো ভূত তাড়াতে পারিনা। তোমরা ফ্ল্যাটটা ছেড়ে দাও। আসলে মিষ্টির বাবা মা যদি থাকতো হয়তো কিছু করে শান্ত হতো মেয়েটা। তোমার তুয়া ওর একাকীত্ব কাটিয়ে বন্ধু হয়েছে । তাই ছাড়তে চাইছেনা।" বলে সৌম্যদার করুন মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন "দেখছি! তোমার নম্বর দাও। মেসেজ করবো। আর হ্যাঁ ফ্ল্যাটের ভিতর এসব নিয়ে আলোচনা করবেনা।আমি যে সাহয্য করবো বলেছি তাও বলোনা।মেসেজে কথা হবে।" বলে উনি হাঁটা দিলেন বাজারের উদ্দেশ্যে।
আমি চলে এলাম। কিন্ত কিছু ভুলতে পারছিনা। পায়ে কোমরে ব্যথাগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছে সকলের ঘটনা।দুদিনপর রাতে ঈশার মেসেজ "অমরনাথ বাবু বলেছেন ফ্ল্যাট থেকে চলে যেতে। ওনার পরিচিত এক তান্ত্রিকের থেকে উনি কাল তাবিজ এনেদেবেন ওটা সবাই পড়ে আর তুয়াকে পরিয়ে বেরিয়ে যেতে হবে। নিতান্তই প্রয়োজনীয় জিনিস সব ওরা বের করতে শুরু করেছে। একটা ফ্ল্যাট ভাড়াও জোগাড় হয়েছে ।" কিন্তু ওরা একা বেরোতে ভয় পাচ্ছে আমাকে যেতে বলছে। ইশার কথায় ওরা যদি বেরোতে গিয়ে মরেও যায় ওর তুয়াকে যেন আমি বাঁচাই। আমি নিজেই যথেষ্ট ভয়ে পেয়েছি বলার অপেক্ষা রাখেনা।কিন্তু কেন জানিনা গেলাম পরদিন। ঢুকবোনা ফ্ল্যাটে কিন্তু যদি সাহায্য করতেপারি!
গিয়ে দেখি সিঁড়িতে ফুলকাকিমা দাঁড়িয়ে। গলায় একটা সুতো জড়ানো তাবিজ। আমি গিয়ে বললাম "আমাকে ধরে নামো"। ফুলকাকিমা বললো তুই ওপরে যা বাবু বৌমা তাবিজ পরে নিয়েছে। জানিস তুয়া কালরাত থেকে ফিনাইল খুঁজছে। আমরা আগে থেকেই সব সরিয়ে বের করে দিয়েছি। অমরনাথ বলেছে বেরোনোর আগে তুয়াকে ওটা পরাতে। তুই ওপরে যা। আমার দিদিভাইকে নিয়ে আয়।" বলে ফুলকাকিমা একাই নামতে লাগলো।
আমি ওদের ফ্ল্যাটের সামনে দাঁড়িয়ে ভাবছি ঢুকবো কি না! অমরনাথবাবু ঢুকতে বারণ করেছিলেন। ভাবতে ভাবতেই কানে এলো বীভত্স্য শব্দ। ফ্ল্যাটের সবকটা কাঁচ একসাথে ফেটে গেলো বুঝি। সৌম্যদা আর ঈশা কোলে তুয়াকে নিয়ে বেরিয়েএলো। দুজনেরই গায়ে কাঁচ ফুটে রক্ত বেরোচ্ছে। সৌম্যদা তুয়াকে আমার কোলে দিয়ে চিত্কার করে বললো "সাবু তুয়াকে নিয়ে যত তাড়াতাড়ি পারিস বেরিয়ে যা।" আমিও দিলাম ছুট। তুয়াকে কোলে নিয়ে একছুটে বিল্ডিংয়ের বাইরে। ফুলকাকিমা ওখানেই দাঁড়িয়েছিল, ওর নাতনীকে কোলে তুলে দিলাম। মিনিট দশেক পর সৌম্যদা আর ঈশা এলো, বেশ রক্তাক্ত হয়ে। বললো "আর একমিনিটও নয় " । সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে উঠেপড়লাম। এগিয়ে চললো গাড়ি। ঠাম্মার কোলে বসে তুয়ারানী বাইরে গাড়ি লোকজন দেখে খুব খুশি। ওরা উঠে গেলো ভাড়ার ফ্ল্যাটে।
দু মাস কেটে গেছে ।তুয়া এখন সুস্থ, আসলে ও সেই দিন থেকেই সুস্থ যেদিন ওরা বেরিয়ে এলো। সৌম্যদা আর ঈশা এখন চন্দনদার থেকে নিয়মিত কনসাল্ট করাচ্ছে। সেদিনের অভিজ্ঞতা ওদের মনের মধ্যে ছাপ ফেলেছে। তুয়াকে তাবিজ পরাতেই নাকি ফ্ল্যাটের জানলা আর সব কাঁচের জিনিসের সব কাঁচ ফেটে যায় একসাথে, ওদের গায় ফুটে রক্তারক্তি। তুয়াকে নিয়ে বেরোনোর সময় দুজনেই শুনেছিল এক বাচ্চার বীভত্স্য চিত্কার। তুয়াকে নিয়ে আমি নেমে এলেও অমরনাথ বাবু বলেছিলেন চাবি দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিতে। দরজা বন্ধ করতে গিয়ে দরজার ভিতরে দুমদাম দরজা পেটানো অনুভব করেছে দুজনেই। তাবিজ পরেছিলো বলে স্পর্শ করতে পারেনি মিষ্টি ওদের। ওরা দুজনেই ওই অভিজ্ঞতা ভুলতে চেষ্টা করছে। এমনিতে সবাই ভালোই আছে। জানি এটা যারা পড়বেন হয়তো ভাববেন এই আধুনিক যুগে ভূত তাবিজ হয় নাকি ? অনেককিছুই হয় আবার অনেককিছুই হয়না। একটা গল্প ভেবেই পড়ুন।ওই ফ্ল্যাটটা নিয়ে ফুলকাকিমারা কিছু ভাবছেনা আরো কাউকে বিক্রি করলে যদি তারও কিছু হয় এই ভেবে। অমরনাথবাবু মারা গেছেন আগের মাসে, হঠাত্ হার্টফেল! বাজার করতে যাচ্ছিলেন, ফুলকাকিমাদের ওই ফ্ল্যাটে সামনে পড়ে মারা যান। মিষ্টির বাবা মাকে খোঁজার চেষ্টা করছে সৌম্যদা শুধু বলার জন্য ওদের মিষ্টি ওদের পুরনো ফ্ল্যাটেই আছে।
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments