Header Ads Widget

গল্প হলেও সত্যি

গল্প হলেও সত্যি  Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)






#গল্প হলেও সত্যি


এতদিন আপনাদের গল্প শুনিয়েছি অনেক। কিন্তু আজ যেটা বলবো; একদম খাঁটি সত্যি ঘটনা। এবং যাদের সাথে ঘটেছিলো তাদের সাথে এতটাই ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিলো আমার যে আজ লিখতে বসেও গায়ের রোম খাড়া হয়ে যাচ্ছে। সঙ্গত কারণেই নাম চেঞ্জ করে লিখতে হচ্ছে কারণ সেই বন্ধু পারমিশন দিলেও নামটা দেওয়া সম্ভব নয়। 

যার কথা বলতে বসেছি সে আমার স্কুলের বন্ধু শ্যামল। আমার বাড়ির পাশেই ওর বাড়ি; ফলে দুজনে খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুই ছিলাম। একসাথে পড়াশোনা,খেলাধুলো চলতো। মাঠে যখন দেদার ব্যাটবল ঠ্যাঙ্গাতাম; তখন ওর ভাই চিনুও আমাদের সাথে খেলতে আসতো। লম্বা রোগা চেহারা চিনুর: ওর দাদার মতোই; কিন্তু প্রচন্ড জোরে বল করতো আর তাড়ু ব্যাটিং করে আমাদের বেশ কয়েকটা ম্যাচ জিতিয়েওছে। পরবর্তীকালে যখন আমরা গ্রুপ থিয়েটার করতাম তখনো চিনু আমাদের সাথেই ছিলো। হঠাৎ করে কী যে হয়ে গেলো; হাশিখুশি প্রাণোচ্ছল ছেলেটা পুরোপুরি পালটে গেলো। তার শোচনীয় পরিণতির কথা ভেবে আজও চোখে জল আসে।

ছোটবেলা থেকেই একটু খ্যাপা টাইপের চিনু উচ্চমাধ্যমিক পড়তে পড়তেই কেমন বদ্ধপাগলের মতন আচরণ শুরু করলো। ওদের জয়েন্ট ফ্যামিলি ছিলো; পারিবারিক কিছু সমস্যার জন্য ও কাকাদের প্রতি শুরু করলো হিংসাত্মক আচরণ। কখনো তাদের ছেলেকে দুমদাম মেরে আসে; কখনো তাদের পোষা বিড়ালকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়; একদিন তো কাকার গায়েই হাত তুলে বসলো। বাড়ির লোক,পাড়ার লোক চরম বিরক্ত হয়ে উঠলো; শ্যামল বেচারা নিরীহ ছেলে; ওর অবস্থা তো কহতব্য নয়। 

চিনুর চিকিৎসা চলছিলো; ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ খেয়ে ও ঘুমোতো বেলা বারোটা অবধি; তারপরেই শুরু হতো পাগলামি। মেন্টাল 
অ্যাসাইলামে দেওয়ার কথা চলছিলো; কিন্তু ওর মায়ের কান্নাভেজা আকুতির সামনে বারবার ওদের হার মানতে হয়। আমি আগে যে চিনুর সাথে কত খেলেছি; গল্প করেছি; তার সাথে একে মেলাতে পারতাম না। ঘোলাটে চোখের দৃষ্টি; ঘড়ঘড়ে গলার স্বর; কথা বলতে বলতে অনবরত তোতলাতো; সব মিলিয়ে কেমন অস্বস্তি লাগতো; অল্প অল্প ভয়ও করতো। একদিন হুট করে আমার বাড়িতে হাজির। এসে ফস করে মায়ের সামনেই সিগারেট ধরিয়ে বসলো। আমি তো হাঁ। সম্বিত ফিরে পেয়ে ওকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে কোনমতে বাড়ি পাঠালাম; তখনো ও গজগজ করে চলেছে -"তুমি তো আমাদের বাড়িতে আসো; আমি কি তখন কিছু বলি তোমায়।"

এহেন চিনু বাড়ি থেকে পালানোয় পারদর্শী ছিলো। মাঝে মাঝেই বাড়ি থেকে টাকাপয়সা চুরি করে পালাতো; দু তিনদিন পরে হাজির হতো। শ্যামলের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরে ওর মানসিক অবস্থার আরো অবনতি হলো। দাদার বিয়ে হয়েছে; আমার কেন হবেনা; এই কথা নিয়ে মাথা খারাপ করে ফেললো সে। কিন্তু কে জেনেশুনে অমন ছেলের হাতে মেয়েকে দেবে; বলুন তো। একবার দুদিন বাইরে থেকে একটা মেয়েকে নিয়ে হাজির; সেও বাড়ি থেকে পালিয়েছে। এবারে চিনুর দাবি ও মেয়েটাকে বিয়ে করবে। কার না কার বাড়ির মেয়ে ভেবে ওর দাদা থানায় যেতে আরেক গন্ডগোল। মেয়েটার বাবা এসে অম্লানবদনে যাবতীয় অভিযোগ ওদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়; শ্যামল আর ওর বাবাকে গারদে ঢুকিয়ে দেয়; এরকম অবস্থা। শেষে আমাদের এক উকিলবন্ধুর মধ্যস্থতায় সব মিটমাট হয়।

কিন্তু চিনুর সমস্যা মিটলো না। একবার যথারীতি বাড়ি থেকে পালিয়েছে; টনক নড়লো সাতদিন কেটে গেলো; অথচ ছেলে যখন ঘরে ফিরলোনা। থানায় মিসিং ডায়েরি হলো; কিন্তু কোন পাত্তা নেই। দিনের পর দিন কেটে যেতে লাগলো; অথচ কোন খবর নেই। চিনুর মা কেঁদে কেঁদে শয্যা নিলো; বাড়ির লোকেরা এদিক ওদিক আত্মীয়বাড়ি সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও কোন সুরাহা হলোনা। বাকিটুকু আমি আমার বন্ধু শ্যামলের জবানিতে বলছি; যেভাবে শুনেছিলাম ওর থেকে।

-"চিনুর নিখোঁজ হবার পর মাসখানেক কেটে গেছে ততদিনে। আমরা হাল ছেড়ে দিয়েছি একরকম; বেহালা থানায় মাঝেমধ্যে খোঁজখবর করি; কিন্তু প্রত্যেকবার ব্যর্থমনোরথে ফিরি। তখনই ঘটলো ঘটনাটা।
 সেরাতে খুব গরম পড়েছিলো। রাতে ফ্যানের হাওয়াও যেন আগুন ঝরাচ্ছে। এআশ ওপাশ করতে করতে ভাবলাম উঠে একটু ঘাড়ে মুখে ঠান্ডা জল চাপড়াই; আরাম পাবো। টিউবওয়েল পাম্প করে মুখে জল দিচ্ছি; হঠাৎ যেন শুনতে পেলাম একটা অস্ফুট আওয়াজ
-"দাআআআ দা।"
চমকে এদিক ওদিক তাকিয়েও কাউকে দেখতে পেলাম না। ভাবলাম গরমে মাথাটা গেছে; আবার জল দিচ্ছি মুখে; এমনসময় আবার।

এবারে স্পষ্ট শুনলাম সেই আওয়াজ
-"দাআআ দা।"
নাহ; এ তো চিনুর গলা। ও কী ফিরে এলো অবশেষে! দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে চারিদিকে তাকালাম; নাঃ কেউ তো নেই। কতকগুলো নেড়ি কুকুর ছাড়া রাস্তা একদম জনশূন্য। অথচ আমি স্পষ্ট শুনেছি কানের কাছে সেই ডাক; এ তো আমার ছোট ভাইয়ের গলা। হতবাক হয়ে ফিরে এলাম; বাকিরাত আর ঘুম এলোনা চোখে।

পরেরদিন দিনের আলোয় ভাবতে মনে হলো মনে হয় চিনুর বিষয়ে বড্ড ভাবছি বলেই হয়তো নিশুতি রাতে তার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। এ মনের ভুল না হয়ে যায় না। হায়রে; কী ভুল যে ভেবেছিলাম।

পরেরদিন রাতে একটু বৃষ্টি হওয়াতে আরামে ঘুমিয়েই পড়েছিলাম। হঠাৎ ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো। কিছুক্ষণ এটা বুঝতেই পারলাম না যে ঘুমটা কেন ভাঙ্গলো; তারপর অনুভব করলাম বাইরে কিসের একটা যেন আওয়াজ আসছে। উঠে বাইরে যেতেই আওয়াজটা পরিষ্কার হলো। এ তো পরিষ্কার কেউ কিছু দিয়ে বাইরের লোহার গেটটাকে ঠুকছে। কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম যে গেটের ধারেকাছেও কেউ নেই। নিশুতি রাত; একটামাত্র বাল্ব জ্বলছে বাইরে; চারিদিকে কারোর সাড়াশব্দ নেই; তার মধ্যে ওই আওয়াজ যেন বুক কাঁপিয়ে দিচ্ছে। হঠাৎ বিদ্যুৎচমকের মত মনে পড়ে গেলো; আরে; চিনু তো এইভাবেই গেটে ঠুকতো যখন ওকে বাইরে যেতে দেওয়া হতোনা। সেই একইরকম আওয়াজ; কোন ভুল নেই।

বুকটা কেমন হিম হয়ে এলো। অনুভব করলাম ভয় আমাকে ক্রমশ চেপে ধরছে। আমার নিজের ছোটভাই; যার সাথে আমি ছোটবেলা থেকে খেলেছি,একসাথে বড় হয়েছি,যার সাথে আমার জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত; তার এক অপার্থিব উপস্থিতি যেন বারবার আমাকে কি যেন অমঙ্গলের বিষয়ে সতর্ক করছে।

হঠাৎ আওয়াজটা থেমে গেলো। আমিও যেন একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম এতক্ষণ; এইবার জেগে উঠলাম। সন্ত্রস্তভাবে ঘরে ফিরতে যাবো; কানের পাশে পরিষ্কার চিনুর গলা
-"দাআআ দারে মুক্তি দেএএএ।"

চমকে পিছনে তাকিয়েই দেখি কোত্থাও কেউ নেই। ফাঁকা উঠোনে একলা দাঁড়িয়ে আছি। আর কিছু ভাবতে পারলামনা; কাঁপতে কাঁপতে ঘরে এসে দরজা লাগিয়ে দিলাম। চোখদুটো জলে ভরে এলো; নিজের ছোটভাইকে আমি কিনা ভয় পাচ্ছি। এ কী দুর্ভাগ্য; ভগবান।

-"দুম দুম" করে দরজা ধাক্কানোর আওয়াজে কেঁপে উঠলাম। এ কে দরজা ধাক্কায়। আওয়াজটা বাড়তে উঠে গিয়ে দরজা খুলতে গিয়েও হাত সরিয়ে নিলাম। দরজার বাইরে যে হয়তো দাঁড়িয়ে রয়েছে: সে আর যেই হোক আমার জীবন্ত ভাই হতে পারেনা। তার অশরীরী উপস্থিতি আমার মনকে দুঃখ নয়; আতঙ্কে পরিপূর্ণ করে তুলছে। আমার মেয়েটা ঘুমের মধ্যেই ককিয়ে উঠলো; গিন্নি দেখলাম ঘুমভাঙ্গা ভীত চোখে তাকিয়ে রয়েছে।

আওয়াজটা যেমন শুরু হয়েছিলো;তেমনি হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেলো। বাকি রাত আর আমরা কেউ শুতে পারিনি; ভোরের আলো ফোটার প্রতীক্ষায় বসে ছিলাম।
সকালে ঠিক করলাম অনেক হয়েছে; এবার অন্য ব্যবস্থা নিতেই হবে। আমার বন্ধু সুমঙ্গলকে ফোন করলাম; ভাগ্যবশত সেদিন ওর ছুটি ছিলো। দুজনে মিলে লালবাজারে গিয়ে থানার মিসিং ডায়েরির কপি জমা দিলাম। ওখান থেকে আশ্বাস দিলো খবর থাকলেই জানানো হবে।

কেন যে লালবাজারে আগে যাইনি; এই নিয়ে পরে অনুতাপ করেছিলাম। দুদিনের মধ্যেই ফোন এলো; ডায়মন্ড হারবার মর্গে একটা বেওয়ারিশ লাশ প্রায় মাসখানেক ধরে পড়ে আছে। বাড়িতে কাউকে কিছু না জানিয়েই কাঁপতে কাঁপতে ছুটলাম সেখানে।

যারা মর্গে গেছেন তারা জানেন হয়তো; বেওয়ারিশ লাশগুলো অত্যন্ত অযত্নের সাথে সেখানে পড়ে থাকে। পচা গন্ধে বমি আসার উপক্রম; চারিদিকে লাশ ভর্তি সেখানে। একটা লাশ দেখিয়ে মর্গের ছেলেটা চলে গেলো; এতটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছে সেটা যে দেখে চেনার উপায় নেই। কিন্তু ছেলেটা ফিরে এলো একটা আংটি হাতে; দেখেই চিনলাম ওটা চিনুর।

শোকে কাতর হয়ে পড়লেও এটাই প্রত্যাশা ছিলো; তাই ছেলেটার কাছে মৃত্যুর কারণ জানতে চাইতে সে যা বললো তার থেকে বুঝলাম নদীতে লাশটা পাওয়া যায়। মাছে নাকি খুবলে খেয়ে নিয়েছিলো শরীরের অনেকটা; কান দুটো ছিলোনা। কিন্তু মৃত্যুর কারণ গলায় ধারালো অস্ত্রের ক্ষতচিহ্ন। সম্পূর্ণ উলঙ্গ অবস্থায় ভাসছিলো লাশটা; কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে আঙ্গুলে আংটিটা ছিলো। এবার কানদুটো মাছে খেয়েছে নাকি কেউ কেটে নিয়েছে তাও জানা যায়নি।

থানাতে গিয়ে জানা গেলো নদীতে নৌকায় যৌন ব্যবসা চলে; চিনুও বোধহয় সেখানেই গিয়েছিলো। তারপরে মাঝনদীতে কোন কারণে ঝগড়া হয় আর সেখানেই ওকে খুন করে লাশটা নদীর জলে ফেলে দেয়। পুলিশ এই ব্যাখ্যাই দেয় আমাকে; মানা ছাড়া কোন উপায়ও ছিলোনা আমার।

চিনুর দেহের অবশিষ্টাংশের কোনমতে সৎকার করে ফিরে আসি যখন তখন মায়ের কথা ভেবেই মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু মনে মনে বুঝছিলাম যে সেই রাতগুলোতে আর কেউ নয়; চিনুই এসেছিলো আমার কাছে; নিজের মুক্তির জন্য।"

এই ছিলো আমার বন্ধুর জবানি। আমি চিনুকে চিনতাম,জানতাম,তার সাথে প্রচুর খেলেছি। কিন্তু এই বিষয়টা কি আদৌ সত্যি নাকি পুরোটাই আমার বন্ধুর দেখার ভুল তা নিয়ে আজো কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারিনি।

(শেষ)












website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments