Header Ads Widget

সেইছেলেটা

সেইছেলেটা Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)






#সেইছেলেটা



চেম্বার থেকে বেরিয়েই দেখি, আবহাওয়ার বেহাল অবস্থা l কৃষ্ণমেঘের চাদরে পুরো আকাশটা ঢেকে গেছে l বুঝলাম, কপালে দুর্ভোগ আছে l মনে মনে, খুব রাগ হল, আজকেই আমার প্রাইভেট কারটাকে খারাপ হতে হল l চেম্বারে আসার সময় একটা আন্দাজ করেছিলাম , প্রকৃতির মেজাজ ক্ষিপ্ত আছে, কিন্তু এতটাও খারাপ হবে, ভাবিনি l যাই হোক, এখন আমাকে বিষ্ণুপুর থেকে যেতে হবে চাকদহ স্টেশনে, সেখান থেকে কল্যাণী l বাসে উঠেই জানলার ধারে সিট পেয়ে গেলাম l বেশ লাগছিলো, ঠান্ডা হওয়ার স্পর্শ সারাদিনের ক্লান্তি ঘুচিয়ে দিলো, বহুদিন এমন শান্তি পাইনি,এমন শান্তি শুধু মায়ের কোলেই পাওয়া যায় l

 চাকদহ বাসস্ট্যান্ডে বাস থামলো l নেমে দেখলাম, আকাশের আরও অবনতি ঘটেছে l ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়েছে l এখন আর সেই সাময়িক আরাম, আমার মনে শান্তি দিচ্ছেনা, বরং চিন্তা হতে লাগলো যে, কী করে বাড়ি পৌঁছবো l ভাবতে ভাবতে স্টেশনে চলে এলাম l স্টেশনে পৌঁছে দেখলাম, স্টেশনে লোক সংখ্যা হাতে গুনে বলা যাবে l স্টেশনের উপরে সব দোকানও বন্ধ হয়ে গেছে l হবেই তো, অনেক রাত যে হলো l শুধু সুবলদার চায়ের দোকানটা খোলা ছিল l সুবলদার সঙ্গে আমার বহুদিনের আলাপ l আমি যখন প্রথম প্রথম চাকদায় আসতাম, ট্রেনেই আসতাম, তখন ওনার দোকানের চা খেতাম l ভারী ভালো মানুষ, সরল মানুষ l সুবলদাও দোকানের ঝাঁপি নামিয়ে আমায় দেখে হাসি মুখে এগিয়ে এলেন : আরে! ডাক্তার বাবু! অনেকদিন পর! তা হঠাৎ স্টেশনে! কী ব্যাপার?'

আমি : ' আর বলবেননা দাদা! আমার প্রাইভেট কার খারাপ হয়ে গেছে l তাই ট্রেনে করে কল্যাণী যাব l কখন ট্রেন আছে দাদা?'

সুবলদা : 'আরে ডাক্তারবাবু, আজ রাতে এদিকের সব ট্রেন বাতিল l কদিন ধরে যা বৃষ্টি হয়েছে,এদিকের লাইনে জল জমে গেছে l কাল ভোর ৫টার আগে ট্রেন নেই l আপনি বরং আজকের রাতটা ওয়েটিং রুমে কাটিয়ে দিন l একটু সামনে এগিয়ে যান, একটা তরকা রুটির দোকান এখনও খোলা পাবেন l খেয়ে নেবেন l ওয়েটিং রুমে আপনার আশা করি অসুবিধা হবেনা l একটা রাত একটু কষ্ট করুন l ভোর ৫টায় ট্রেন পেয়ে যাবেন l'

সুবল দা ছাতা মাথায় দিয়ে এগিয়ে গেলেন l যা ভেবেছিলাম তাই হলো, দুর্ভোগের সূচনা হয়ে গেল l সামনের দোকান থেকে রুটি আর তরকা কিনে খেয়ে, ওয়েটিং রুমে গিয়ে বসলাম l হঠাৎ দেখি আমার ফোনটা বেজে উঠলো l ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠলো 'জয়দীপ ইস কলিং ' l জয়দীপ, আমার ছোটবেলার বন্ধু, পেশায় উকিল, ওই আমার কেসটা নেবে l ফোনটা রিসিভ করেই বললাম : ' বল জয়দীপ l'
ফোনের ওপাশ থেকে জয়দীপের গম্ভীর কণ্ঠস্বর : ' শোন মৃদুল, এই রবিবার তু্ই কিন্তু আমার বাড়িতে আসিস l আমি বাড়িতে থাকবো l'

আমি : ' হ্যাঁ অবশ্যই যাব l তোর সাথে অনেক কথাও আছে l'

জয়দীপ : 'তু্ই কী সিরিয়াস? আমি আবার বলছি, কোনো ডিসিশন নেওয়ার আগে বারবার ভেবে দেখ l'

আমার গলা ভারী হয়ে এলো l আমি মনে শক্তি সঞ্চয় করেই বললাম : 'ইয়েস, আই অ্যাম সিরিয়াস l এছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই l শোন আমি রাস্তায় l তোকে বাড়ি পৌঁছে ফোন করছি l'

ফোনটা রাখার পর, মনের মধ্যে হাজার হাজার স্মৃতি ভিড় করলো l মল্লিকার সাথে আমার প্রথম দেখা, এক সাথে কত স্বপ্নের মায়াজাল বোনা, কতো কমিটমেন্ট, কতো সুন্দর মুহূর্ত, কখনো ভাবিনি, এমন দিন আসবে l কিন্তু সুখস্মৃতির পর্দা নিমেষে ছিঁড়ে পরক্ষনেই উপচে পড়ল, তিক্ত স্মৃতির বিষক্রিয়া l একে অপরের প্রতি শুধু অভিযোগ, দোষারোপ l না ও আমায় বুঝেছে, না আমি ওকে l শুধু না পাওয়া, অভিমান, অভিযোগের পাহাড়ে অশান্তি আর অশান্তি l অসহ্য, তার থেকে দুজনে দুজনের মতো শান্তিতে থাকাই শ্রেয় l চিন্তা করতে করতে আমার মাথায় প্রচন্ড যন্ত্রনা হতে লাগলো, আমি চোখ বুজে ফেললাম l চোখের সামনে ভেসে এলো আমার ছেলে ঈশানের নিষ্পাপ মুখ l এমন সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকানোর শব্দে আমি সম্বিৎ ফিরে পেলাম l ঘড়িতে তখন রাত সাড়ে বারোটা, আমি একাই ওয়েটিং রুমে বসে l ওয়েটিং রুম থেকে দেখছি আকাশ ছিন্ন করে জলধর তার সর্বশেষ জলবিন্দু দিয়ে হলেও নির্জন শহরকে ধুয়ে , যেন তার সমস্ত কালিমা মুছে দিচ্ছে l গোটা শহর আজ স্নাত, পরিশুদ্ধ l

আমার চোখটা বুজে এলো l আবার ঈশানের মুখ ভেসে উঠলো l আচ্ছা, নিশ্চয়ই মল্লিকাই ওর কাস্টডি পাবে, মা বলে কথা l তখন ঈশানকে ও আমার কাছে আসতে দেবে? খুব মিস করবো ঈশানকে l আমি যে ওকে খুব ভালোবাসি l ভাবতে ভাবতে, কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম l হঠাৎ শুনতে পেলাম :
'কাকু! ও কাকু!'
আচমকা, আমার ঘুম ভেঙে গেল l চোখ খুলে দেখলাম, আমার সামনে একটা তেরো - চৌদ্দ বছরের ছেলে দাঁড়িয়ে l পরনে একটা টি শার্ট আর হাফ প্যান্ট l দেখে ভদ্র ঘরের ছেলেই মনে হচ্ছে l আমি অবাক হলাম, এতো রাতে একা একটা বাচ্চা ছেলে,এখানে কী করছে?

ছেলেটি আবার বলল : 'কাকু! ট্রেন কখন আসবে?'

আমি : 'ভোর ৫টার আগে ট্রেন নেই l তুমি কোথায় যাবে?'

ছেলেটি : ' ব্যারাকপুর l'

আমার যতদূর পর্যন্ত দৃষ্টি গেলো, আমি আর এই ছেলেটি ছাড়া, আর কেউ চোখে পড়লোনা l এমনকি স্টেশনে একটা কুকুর পর্যন্ত নেই l আমি একটু অবাক হয়েই জিজ্ঞাসা করলাম : ' তোমার সাথে কে আছেন?'

ছেলেটি : 'কে থাকবে? কেউ নেই l আমি একাই যাবো l'

আমি আরও অবাক হলাম : 'এতো রাতে একা?'

ছেলেটি : ' তো কী হয়েছে? আমি এখন বড়ো হয়ে গেছি l একাই যেতে পারবো l'

আমি বুঝলাম, ডেপো ছেলে l সবে গোঁফের রেখা উঠেছে তো , তাই নিজেকে হিরো দেব ভাবছে l হয় হয়, এই বয়সে এমন হয় lমনে হয়, বাড়ি থেকে পালিয়েছে l সকাল হলেই, জি. আর. পি. এফ এর কাছে দিয়ে আসবো l কোন বাড়ির ছেলে, কে জানে l আমি এবারে জিজ্ঞাসা করলাম : 'তোমার নাম কী? ব্যারাকপুরে কারোর বাড়ি যাচ্ছো?'

ছেলেটি : 'আমার নাম ঋদ্ধি l আমি ব্যারাকপুরে আমার দিদির বাড়ি যাচ্ছি l'

আমি কৌতূহলী হয়েই জিজ্ঞাসা করলাম : ' কেন জানতে পারি? '

ঋদ্ধি মুখ বেকিয়েই বলল : 'আর বলোনা কাকু! মা বাবা শুধু ঝগড়া করে l আমার একদম ভালো লাগেনা l তাই আমি দিদির কাছে চলে যাবো l'

আমি : 'মা বাবা ঝগড়া করলে বুঝি এভাবে চলে যেতে হয়? তুমি মা বাবাকে বোঝাও, যাতে তারা ঝগড়া না করেন l'

ঋদ্ধি : 'ওরা বুঝবেনা l ওরা শুধু ঝগড়া করবে l চিৎকার করবে l আর আমি দরজা বন্ধ করে কান চেপে রাখি l আমার মাথায় যন্ত্রনা করে, আমি ওদের চিৎকার সহ্য করতে পারিনা l আমি পড়াশোনা করতে পারিনা l'

আমার মনে আবার ঈশানের মুখ ভেসে এলো l আমার আর মল্লিকার যখন ঝগড়া হয়, তখনও হয়তো ঈশান এইভাবেই ভয়ে কুঁকড়ে থাকে l কিংবা হয়তো ওরও খুব কষ্ট হয় l

ঋদ্ধি বলতেই লাগলো : 'জানোতো কাকু, মা বাবা আগে খুব ভালো ছিল l আমরা তিনজনে মিলে পুরী বেড়াতে গিয়েছিলাম l কতো মজা করেছি l ওরা যখন ঝগড়া করে, আমি পুরীর সেই ছবিগুলো দেখি l মনে হয় আবার এমন দিন কবে আসবে l বাবাকে যখন বলি বাবা পুরী যাবো l বাবা বলে, সামার ভ্যাকেশনে যাবো l সামার ভ্যাকেশন এলে বলে পুজোর ছুটিতে যাবো l আসলে আমি জানি, বাবা আমাদের আর পুরীতে নিয়ে যাবেনা l '

আমার আবার ঈশানের কথাই মনে পড়ল l ঈশানও তো ভূগোল বইতে কাঞ্চনজঙ্ঘা সম্পর্কে পড়ে, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে চেয়েছিলো l বলেছিল পুজোর ছুটিতে নিয়ে যেতে l আমিও ওকে কথা দিয়েছিলাম যে, নিয়ে যাবো l

ঋদ্ধি আরও বলতে লাগলো : 'জানোতো কাকু, আগে দুর্গাপুজোর সময় আমি, মা বাবা দুজনের সাথে ঠাকুর দেখতে যেতাম, কতো মজা হতো l এখন হয় মা আমায় ঠাকুর দেখাতে নিয়ে যায়, নয় বাবা আমায় ঠাকুর দেখাতে নিয়ে যায় l আমি মা বাবা একসাথে কোথাও যাইনি, একসাথে খাইনি, একসাথে গল্প করিনি - কতদিন হয়ে গেলো l ওরা খুব ঝগড়া করে l বলছে আলাদা আলাদা থাকবে l আমি শুনেছি l কিন্তু আমার খুব কষ্ট হবেl আমি তো দুজনের সাথেই থাকতে চাই l আমার আর ভালো লাগছেনা l তাই আমি দিদির কাছে যাবো l'

আমার কাছে তো ঋদ্ধি, ঈশানের মতোই l ঈশানেরও হয়তো এমনটা মনে হয় l এতোদিন এতো অশান্তি, জ্বালা যন্ত্রণার মধ্যে আমি আর মল্লিকা কেউই ঈশানকে নিয়ে তো একবারও ভাবিনি, যে ও কী চায় l আমি আবার চিন্তায় মগ্ন হয়ে গেলাম l কানে এলো- 

'ডাক্তারবাবু, কাল রাত কেমন কাটল? আপনার ট্রেন আসার সময় তো হয়ে এলো l'

সামনে তাকাতে দেখতে পেলাম সুবলদা দোকানের ঝাঁপি তুলছেন l রাতের কালিমা কেটে সূর্যদেব সহাস্যে জাগ্রত হয়েছেন l কিন্তু,পাশে তাকাতেই বুকটা ছ্যাক করে উঠলো - একি! ছেলেটা কোথায়? কোথায় গেলো? আমি দৌড়ে ওয়েটিং রুম থেকে বাইরে বেরিয়ে দেখি,কোত্থাও ছেলেটি নেই l

আমি প্রায় হন্তদন্ত হয়ে সুবলদাকে জিজ্ঞাসা করলাম :'দাদা একটা বাচ্চা ছেলেকে কী আপনি দেখেছেন? তেরো চৌদ্দ বছর হবে l হাফ প্যান্ট আর টি শার্ট পড়া l'

সুবলদা বিস্মিত হয়েই বললেন : ' না তো ডাক্তাবাবু! কাউকে দেখিনি l তবে দিন সাতেক আগে একটা তেরো চৌদ্দ বছরের ছেলে ট্রেনে কাটা পড়েছিল l সে নাকি তাড়াতাড়ি দৌড়ে লাইন পার হতে গিয়েছিল l আর ওই সময় ট্রেন দিয়েছে ধাক্কা l'

আমি শুনে স্তব্ধ, বাক্যহারা l নিজের চোখ, কান, পঞ্চইন্দ্রিয়কে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না l একটা জ্বলজ্যান্ত ছেলে এভাবে নিমেষে উধাও হয়ে গেল l আবার আমার ফোনটা বেজে উঠলো l ফোনটা বের করতেই দেখলাম, স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে - ' মল্লিকা ইস কলিং l' ফোনটা কানে দিয়ে বললাম : 'হ্যাঁ, বলো 'l

ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে এলো মল্লিকার কাতর কণ্ঠস্বর : ' শোনো, বলছি,তুমি কী আজকে আমার বাড়িতে আসতে পারবে? ঈশানের খুব জ্বর l কাল রাতে কাঁদতে কাঁদতে ওর জ্বর এসে গেছে l ও মনে হয় আমাদের ব্যাপারটা বুঝে গেছে আর আপসেট হয়ে পড়েছে l সবকিছু ভুলে নতুন করে কী আবার শুরু করা যায়না? অন্তত ঈশানের জন্য?'

আমার মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে গেলো l আমি বললাম : 'এই ব্যাপারে তোমার সাথে আমিও কথা বলবো মল্লিকা l আমি যাবো l ঈশানকে দেখে রেখো l'

ভুল তো মানুষ মাত্রই করে l আবার ভুল থেকেই 
 তো মানুষের শিক্ষা হয় l আমরাও ভুল করেছিলাম l এখন সেই ভুলগুলোকে শুধরে অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে হবে, ঈশানের জন্য, আমাদের নিজেদের জন্য l গতকাল রাতের বারিধারা শহরের কালিমার সাথে সাথে, আমার মনের কালিমা, আর ভুলগুলোকে যেন ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছে l আজকের সকালটা যেন আমার নবজীবনের নবসকাল l

ইতিমধ্যে ট্রেন চলে এসেছে l ভোরের ট্রেন তো, বেশ ফাঁকা l ভোরের মিঠে আলোতে ট্রেনের কামরার ভিতরটাও সোনালী আভায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে lমনটাও বেশ হালকা লাগছে l মনে হচ্ছে, এতদিনের বহন করা কতো বোঝা, কতো ভার ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে এসেছি l তবে,একটা প্রশ্ন মনে বারবার আসছে,হয়তো এই প্রশ্ন আমার মনে সারাজীবন থেকেও যাবে - মাঝরাতে আসা যে ছেলেটি এতক্ষন ধরে আমার সাথে এতো কথা বলল - সে কী আদৌ মানুষ? নাকি কোনো দেবদূত? নাকি ট্রেনে কাটা পড়া সেই ছেলেটির..............????














website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments