Header Ads Widget

স্যুট বানানো

স্যুট বানানো Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)






এই ঘটনাটা অনেকেই আপনারা শুনেছেন। কিন্তু এটা অন্য অনেক ঘটনার সাথেই মিলবে না। এই ঘটনাটার দুটো দিক আছে, এই দুটো দিক মিলিয়েই আমি আপনাদের ঘটনাটা বলব।
আশির দশকে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। বলতে গেলে বেশিরভাগই গরীবই ছিল। কিন্তু উঠতি তরুণ বয়সের ছেলেদের মধ্যে বেশ কিছু শখ থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। শখের মধ্যে যেমন - একটা স্যুট বানানো। তখনও ইংরাজী সিনেমা কলকাতার অনেকগুলো হলেই চলত। সেখানে নায়কদের স্যুট দেখে নিজেরও পরবার ইচ্ছা অনেকের মধ্যেই হত। অথচ যথেষ্ট পয়সা না থাকার দরুন পরা হত না। তাই অনেকেই ধর্মতলা থেকে পুরানো জামা কাপড় কিনে পরত। সেইরকমই মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে আদিত্য ধর্মতলায় গিয়ে পুরানো জামা কাপড়ের মধ্যে থেকে বেছে বেছে একটা সেকেন্ড হ্যান্ড ব্লেজার পছন্দ করে কিনে ফেলল। সেটা কিনেই যে গায়ে দেওয়া যাবে না এটা সে জানতো। তার একটা অভ্যাস ছিল যে ড্রাই ওয়াশে দেবার আগে জামার পকেটগুলো একবার চেক করে নেওয়া। অবশ্য পুরানো কাপড়ের নানা জায়াগায় হাতিয়ে দেখার মধ্যে একটা কৌতুহলও কাজ করে। ব্লেজারের ভেতরের পকেটে হাত দিয়ে সে দু'টো জিনিস পেল। একটা গলায় ঝোলানোর চেন, যেটা তামা জাতীয় কোনো ধাতু দিয়ে তৈরী আর সেই চেনের সঙ্গে রয়েছে একটা লকেট, যেটা দুই ভাগ করে খোলা যায়। আদিত্য ভেবেছিল, ইওরোপের কোনো দেশ থেকে যেহেতু এসেছে, এই লকেটের ভেতর কোনো 'ক্রুশ' চিহ্ন খোদাই করা থাকবে। লকেটের ভেতরটা সে ভালো করে লক্ষ্য করে দেখল সেখানে একটা পেন্টাগ্রাম (পঞ্চভূজ) খোদাই করা আছে। আর পেন্টাগনের ভেতরে অস্পষ্ট হিরোগ্লিফের মত দুর্বোধ্য কিছু চিহ্ন। যাইহোক, লকেট সহ চেনটা বের করে সে ড্রয়ারে রেখে দিল। এবার তার নজর গেল অন্য পকেটের দিকে। সেখানেও খুঁজতে গিয়ে সে একটা দশ ডলারের নোট পেল। আদিত্য খুব একটা মাথা না ঘামিয়ে নোটটাও ড্রয়ারে রেখে দিল। তবে খেয়াল করলো নোটের একেবারে কোনার দিকে বেশ কিছুটা জায়গা জুড়ে বাদামী রঙের একটা ছোপ লেগে রয়েছে।
ব্লেজারটা ড্রাই ওয়াশে দিয়ে এসে আদিত্য একটা জিনিস লক্ষ্য করল যে ডলারের নোটটা ব্যবহৃত নোট। ব্যাংক থেকে সদ্য বেরিয়েছে এমন নয়। কিন্তু তার অত তলিয়ে ভাবার সময় ছিল না কারণ তার পরীক্ষার দিন এগিয়ে আসছিল। মেডিকেল কলেজে পরপর সেমিস্টারের পরীক্ষা আসতেই থাকে। ঘটনাচক্রে ঐ সময় হোস্টেলে তার ঘরে অন্যান্য ছাত্ররা উপস্থিত ছিল না। সেই সময় তাদের হোস্টেলে তিনজন করে একসাথে থাকত। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন যে মেডিকেল কলেজের ছেলেরা প্রায় সারা রাত্রিই পড়াশোনা করে। সেই সময় বর্ষা চলছিল। আর রুমটা ছিল হোস্টেলের তিন তলার ওপরে। নীচ থেকে বর্ষার সময় ব্যাঙের আওয়াজ ভেসে আসছে। রাত প্রায় আড়াই টা বাজে। আদিত্য দরজা বন্ধ করে জানলা খুলে ফ্যান চালিয়ে এসে পড়ছে আর বাইরে অনবরত বৃষ্টি হচ্ছে। হঠাৎ তার অদ্ভুত একটা জিনিষ মনে হল যেন ঘরের মধ্যে একজন আছে এবং তাকে সে দেখতে পারছেনা কিন্তু অনুভব ঠিকই করতে পারছে। আর তখনই বাজ পড়ল একেবারে ট্রান্সফরমারের ওপর, সুতরাং আর বিদ্যুৎ আসবেনা। তার কাছে ড্রয়ারে মোমবাতি, দেশলাই ছিল আর একটা ছোট টর্চ। সে মোমবাতি আর দেশলাই আনার জন্য চেয়ার ছেড়ে উঠতে চাইল কারণ সেগুলো অন্য টেবিলে রাখা ছিল। ঠিক সেই সময় তার খুব কাছ থেকে কেউ যেন বলল "Don't move"। আদিত্য বাস্তববাদী ছেলে। সে ভাবল দরজা লাগাতে ভুলে গেছে বলে পাশের ঘরের ছেলেরা ফাজলামি করছে। আদিত্য চেয়ারটা পেছনে থেকে সরিয়ে উঠতে গেল কিন্তু চেয়ারটা এক বিন্দুও নড়ল না। সে উঠতে পারছে না। 
হঠাৎ করে সে রেগে গিয়ে বলল - "Who are you ?" 
তখন কণ্ঠস্বর টা আবার তাকে বলল - "Did you get something?"
আদিত্য জিজ্ঞেস করলো - "What do you want to say ?" 
এইবার সে মরিয়া হয়ে সরাসরি যোগাযোগ করার চেষ্টা করলো। ততক্ষণে সে বুঝে গেছে যে সে তার কোনো বন্ধু না এবং সেটা 'প্রেত' জাতীয় কিছু একটা হবে। তারপর সেই প্রেত বলল - "You got something from my pocket." 
সে ভাবল হ্যাঁ, কথাটা তো ঠিক। সত্যিই তো সে দুটো জিনিস পেয়েছে! এরপর তাদের মধ্যে বেশ কিছু কথাবার্তা হলো। যার সারমর্ম করলে দাঁড়ায় : আদিত্য যে জিনিস গুলো পেয়েছে সেটা আচমকাই তার হাতে গিয়ে পড়েছে। এখন সে যদি এই দুটো জিনিসকে ঠিকভাবে যত্ন করতে পারে, তবে এর থেকে সে অনেক উপকার পাবে। আর যদি সে অমর্যাদা করে তাহলে তার জন্য তাকে অনেক বড় শাস্তি পেতে হবে। তখন কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে আদিত্য জিজ্ঞেস করলো, ওই ডলারের নোট টা কিভাবে এসেছে ? উত্তরে সেই অশরীরীটি বলে যে, বারে মদ্যপানরত অবস্থায় একজনের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে তাঁর গায়ে পিস্তলের গুলি লাগে। আর ডলারের নোটে যে দাগটা দেখা যাচ্ছে সেটা তারই রক্তের দাগ। এরপর ক্রমশঃ তার শরীর অবশ হয়ে আসে আর জ্ঞান হারায়। 
পরদিন যখন আদিত্যর ঘুম ভাঙ্গে, দেখে যে সে টেবিলে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। রাতের ঘটনাটা তার কাছে মনে হলো একটা দুঃস্বপ্ন। সে এটার কোন গুরুত্ব দিল না। সকালবেলা উঠে তার মত ব্রেকফাস্ট করল। আর দুদিন পর পরীক্ষা শেষ হবে, এই ভেবে সে নিজের মত পড়তে বসে গেল। এইভাবে তার পরীক্ষা শেষ হলো। এর মাঝখানে সেরকম কোন ঘটনা ঘটল না। 
জুডিস পোর ডেস অর্থাৎ যে বিষয়ে চিকিত্সা সম্পর্কিত আইন, সাক্ষ্য ইত্যাদি এমন কি ময়নাতদন্তের কিছুটা জড়িয়ে থাকে সেই বিষয়ের ওপরেই তার পরীক্ষা ছিল। যে কোনো মেডিকেল কলেজে মৃত ব্যক্তিদের ভিসেরা রাখা থাকে। পোস্টমর্টেম করার সময় ডোমেরা মৃতদেহ থেকে বিশেষ বিশেষ কিছু অংশ বের করে নেয় রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য। সেগুলোর বেশ কিছু অংশ সেখানে সংগ্রহ করে রাখা হয় ছাত্রদের পরীক্ষা ও গবেষনার জন্য। মৌখিক পরীক্ষার সময় ওই ভিসেরা দেখিয়ে অনেক প্রশ্ন করা হয়। এখানেই আদিত্যর পরীক্ষা চলছিল। যে প্রশ্নই করা হচ্ছে সে তার ঠিকঠাক উত্তর দিচ্ছে। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, পরীক্ষকেরা তার পরীক্ষা দেওয়ার পদ্ধতি দেখে অবাক হয়ে গেলেন। লিখিত পরীক্ষা তো তার দু'দিন আগেই হয়ে গেছে। এই লিখিত পরীক্ষার খাতা কিন্তু পরীক্ষকেরা আগেই মূল্যায়ন করে ফেলেন। এবং মৌখিক পরীক্ষার সময় মোটামুটিভাবে ওই সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোই ধরেন। যারা পরীক্ষা নিচ্ছিলেন তাঁরা তাকে একেবারে সাধারণ এবং কিছুটা ফাঁকিবাজ ছাত্র হিসাবেই জানতেন। কিন্তু প্রত্যেকটা প্রশ্নের সে একেবারে হুবহু সঠিক উত্তর দিয়ে গেল। এবং যে ভাষায় সে উত্তর দিল সেই ভাষাটা হলো একেবারে নির্ভুল বই-এর ভাষা যেভাবে আছে। যাইহোক, আদিত্য সবাইকে অবাক করে দিয়ে ভালোভাবেই পাশ করে গেল। 
এরপর তার সাথে শুরু হলো এক অদ্ভুত বিষয়। এবার আর পড়ার টেবিলে না। ঘুমের ভেতর স্বপ্নে একজন ইওরোপিয়ান ভদ্রলোককে সে দেখতে লাগলো। ততদিনে বর্ষার ঝড়বৃষ্টি কমে এসেছে। একদিন রাতে শোবার কিছুক্ষণ পরেই দরজায় টোকা দেওয়ার আওয়াজ শুনতে পেল। দরজা খুলে দেখলো কেউ নেই। দরজা বন্ধ করে ঘরে ঢুকেই সে খেয়াল করলো, তার বিছানার উল্টোদিকে কেউ একজন বসে আছে। কিন্তু ভদ্রলোক তার দিকে পেছন করে বসে আছেন। তার গায়ে একটা ব্লেজার বা কোট পরা আর মাথায় লম্বা চুল। আদিত্য বেশ ভয় পেল। অবাকও হলো। সে বাংলাতেই জিজ্ঞেস করলো - "তুমি কে ?" এবার আগের মতই তার সাথে কথোপকথন শুরু হলো। 
সেই অশরীরী তাকে বলল - "তোমার সাথে আগেও আমি কথা বলেছিলাম, তুমি কি ভুলে গেছ ? তোমার যে শেষ পরীক্ষা ছিল সেটা কিন্তু তুমি ভালোভাবেই পাশ করেছ। তুমি সব পর্যায়েই এইভাবে আমার সাহায্য পাবে। কিন্তু তোমাকে একটা কাজ করতে হবে। এই যে লকেট তোমার কাছে আছে, এটা আসলে বিশেষ ক্ষমতাযুক্ত এক অপদেবতার। এর মূল্যবাবদ তাঁর উদ্দেশ্যে তোমাকে কিছু বলি দিতে হবে। তুমি যদি আমার কথামত এই পদ্ধতি অনুসরণ কর তাহলে তুমি পদমর্যাদায় অনেক ওপরে উঠে যাবে। আর যদি না কর, তাহলে তোমার পরিবারের বিরাট একটা ক্ষতি হবে।" 
এই কথা শোনার কয়েক মিনিট পরেই আবার সে অচেতন হয়ে পড়লো। 
পরের দিন আদিত্য দেখে সে বিছানার নিচে মেঝেতে শুয়ে আছে। গায়ে কোনো ব্যথা বেদনা নেই। এবার তার টনক নড়ল। ব্যাপারটা নিয়ে সে চিন্তায় পড়ে গেল। কিন্তু কাউকে জানালো না। ব্লেজার, লকেট এবং ডলারের নোটটা নিয়ে সে গ্রামের বাড়িতে চলে এলো। সেখানে এক নামজাদা নির্লোভ তান্ত্রিক থাকতেন। সে তাঁর সঙ্গে দেখা করবে বলে ঠিক করলো।
সন্ধ্যের পর সে জামার পকেটে লকেট আর ডলারের নোটটা নিয়ে বিখ্যাত তান্ত্রিক নরেন্দ্রনাথের কাছে গেল। তান্ত্রিককে বলল, "কাকাবাবু আপনার সঙ্গে আমার একটু গোপন কথা আছে।" তান্ত্রিক নরেন্দ্রনাথ আদিত্যকে অনেকদিন ধরেই চিনতেন। জানতেন যে আদিত্য একজন ডাক্তারির ছাত্র। তিনি অবাক হয়ে ভাবলেন, আমার সঙ্গে তার কি কথা থাকতে পারে ! তবুও নরেন্দ্রনাথ তাকে নিয়ে ভেতরের ঘরে বসালেন। জিজ্ঞেস করলেন, " বল বাবা তোমার কি হয়েছে ?" তখন সে তান্ত্রিক নরেদ্রনাথকে সম্পূর্ণ কাহিনী খুলে বলল। তান্ত্রিক সম্পূর্ণ ঘটনা শুনে বললেন, "তোমাকে আমি এখনই কোনো পরামর্শ দেব না। তবে তুমি এই দু'দিন ঘর থেকে কোথাও বের হবে না। এবং গ্রামের যে সব জায়গার কুখ্যাতি আছে সেখানে দিনের বেলাতেও পা বাড়াবে না।" তিনি আরো বললেন, "তুমি যেভাবে ঘটনার বর্ণনা করলে তাতে আমি বুঝলাম, কোনো এক অপদেবতা তোমার পেছনে পড়েছে। তুমি ঠিক দু'দিন পরে ব্লেজার, লকেট আর নোটটা নিয়ে আমার কাছে আসবে এবং সেটা দিনের বেলায়.... রাতে নয়।" তিনি আবার বললেন "তুমি গভীর বিপদেই আছ। একে সহজে ছাড়ানো সম্ভব হবে না কারণ ইতিমধ্যেই তুমি একটা পরিষেবা তাঁর থেকে নিয়ে নিয়েছ। এই মুহুর্তে কিছু করতে গেলে এটা তোমার জন্য হিতে বিপরীত হবে।" আদিত্য নরেন্দ্রনাথের সঙ্গে কথা বলে বাড়িতে চলে এলো। কাউকে কিছু না জানাতে চাইলেও চেহারা আর আচরণ দেখে তার বাবা, মা কিন্তু কিছু একটা আঁচ করে ফেললেন। 
দুদিন পরে জিনিসগুলো নিয়ে সে তান্ত্রিকের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। জিনিসগুলো নেওয়ার সময় দিনের বেলাতেই সে অনুভব করলো, কেউ যেন তার দুই কাঁধে একবার চাপ দিয়ে আটকাবার চেষ্টা করছে। সেটা পাত্তা না দিয়ে রওনা হয়ে সে কিছুক্ষণের মধ্যেই তান্ত্রিক নরেন্দ্রনাথের কাছে পৌঁছে গেল। নরেন্দ্রনাথ কোনকিছুই হাত দিয়ে স্পর্শ করলেন না। বললেন "তুমি বের করে দেখাও।" ব্লেজারটা দেখানোর পর তিনি বললেন যে "এটা সুন্দর একটা জিনিস, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তুমি নিজেই জানো যে এই ব্লেজারের সাথে একটা খুনের ইতিহাস জড়িয়ে আছে। সে এখন এই জিনিসগুলো এবং তোমার পরীক্ষায় সাহায্য করার ছুতো ধরে তোমাকে বশ করে কিছু খারাপ কাজ করিয়ে নিতে চায়। এখন এগুলো যদি তুমি করতে না চাও তাহলে তোমার ক্ষতি হবে আর করলেও তোমার এটা থেকে নিস্তার নেই। তুমি একটা জটিল ফাঁদে পড়ে গেছ। ঘটনার শুরুতেই যদি তুমি জিনিসগুলো নিজের কাছে না রেখে কোনো নদী বা সরোবরে ফেলে দিয়ে আসতে, তাহলে আজ তোমাকে এই অবস্থায় পড়তে হতো না। যখন তুমি দেখলে যে ব্লেজারের ভেতরের পকেটে একটা ডলারের নোট পাওয়া গেছে এবং তাতে বাদামী রঙের একটা ছোপ লেগে রয়েছে, ডাক্তারির ছাত্র হিসাবে যা দেখে তুমি নিজেই বুঝে গেছিলে যে এটা রক্তের দাগ তখন তোমার উচিত হয়নি এগুলো নিজের কাছে রাখা। তোমার উচিত ছিল জলে ভাসিয়ে বা আগুনে পুড়িয়ে সব নষ্ট করার পর গঙ্গাস্নান করে ফিরে আসা। এখন আমার কাছে মাত্র একটাই উপায় আছে। সেই অশরীরীকে তোমার শরীরে এনে হাজির করা। অর্থাৎ তোমাকে মাধ্যম করে তোমার ওপরেই এই কাজ করতে হবে। অন্যকে মাধ্যম করে এটা সম্ভব না। সামনের শনিবার তুমি আসবে এবং অবশ্যই তোমার বাবাকে নিয়ে আসবে। তোমার বাবার অনুমতি ছাড়া এই কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব না কারণ এইকাজে অনেক বিপদ আছে।"
নরেন্দ্রনাথ বলে দিয়েছিলেন কোনো প্রতিবেশীকে ঘুনাক্ষরেও কিছু জানাবে না। যদিও আদিত্য তার বাবাকে জানাতে একেবারেই রাজী ছিল না। কিন্তু তান্ত্রিক নরেন্দ্রনাথ গোপনে তাঁর একান্ত অনুগত শিষ্যের মাধ্যমে তার বাবাকে নিজের কাছে ডেকে এনে সম্পূর্ণ ঘটনাটা বুঝিয়ে বলেন। এতে তার বাবা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে পড়েন এবং পরে তাঁর স্ত্রী'র সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন যে নরেন্দ্রনাথের কাছে আদিত্যকে নিয়ে যেতেই হবে। 
এদিকে আদিত্য বুদ্ধি করে ব্লেজার সহ অন্যন্য জিনিসগুলো নরেন্দ্রনাথের সাধনমন্দিরের এক গোপন জায়াগায়, লোকচক্ষুর আড়ালে লুকিয়ে রেখে এসেছিল। সেগুলো সে আর বাড়িতে নিয়ে আসার ঝুঁকি নেয়নি। তান্ত্রিকের কাছে হাজিরার দিন রহস্যজনকভাবে সেই শনিবার দিনটায় অমাবস্যাও পড়েছিল। রাত্রিতে যখন তাঁরা নরেন্দ্রনাথের সাধনপীঠে গেল তখন তাদের সবাইকে বিশেষভাবে মত্রপূতঃ গঙ্গা থেকে তুলে আনা জোয়ার-ভাটার জল ছিটিয়ে, নিজের শরীর বন্ধন করে আসনে বসলেন। কিন্তু আদিত্যর ওপর কোনো জল ছিটানো হলো না বা তার শরীরও বন্ধন করা হলো না। কারণ যদি মন্ত্রপূতঃ জল দ্বারা তার শরীরের পবিত্রতা বাড়ানো হয় তাহলে সেই অশুভ শক্তিকে তার শরীরে হাজির করানো যাবে না। এবার আদিত্যকে নিজের হাতে ব্লেজার, লকেট আর ডলারের নোট, এই তিনটে জিনিস নিয়ে আসতে বলা হলো। কাজ শুরু করা হলো তান্ত্রিকেরই সাধনপীঠের উঠানে। তখন প্রায় রাত নিশুতি হয়ে গেছে। প্রায় রাত ১ টা। তান্ত্রিকমতে যেভাবে অতৃপ্ত আত্মাকে ডাকা হয় সেইভাবে ডাকার চেষ্টা শুরু হলো। কিন্তু সেই অশুভ শক্তি কিছুতেই আসছিল না। তখন নরেন্দ্রনাথ পাঁচটা প্রদীপ জ্বালালেন। যদিও আশেপাশের ক্ষীণ আলোয় কিছুটা দেখা যাচ্ছিল। এরপর চেন সহ পেন্টাগন আঁকা লকেটটা প্রদীপের শিখায় যেই একবার স্পর্শ করালেন তখন হঠাৎ আদিত্য 'উফ' করে আর্তনাদ করে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গেই উনি লকেটটা আগুন থেকে সরিয়ে নিলেন। ততক্ষণে উনি কিন্তু বুঝে গেছেন যে সেই অশুভ আত্মা আদিত্যর ওপর হাজির হয়ে গেছে। তখন তার সামনে ব্লেজার, লকেট আর চেনটা রাখা ছিল। তান্ত্রিক তাঁকে প্রশ্ন করলেন "তুই কে ?" প্রশ্নের উত্তরে অস্পস্ট স্বরে কিছু একটা উত্তর এলো আদিত্যর মুখ থেকে। এরপর কথা বন্ধ হয়ে গেল। নরেন্দ্রনাথ সেই অশুভ শক্তির উদ্দেশ্যে বললেন, "দ্যাখ, এই ছেলেটা যে অন্যায় কাজ করেছে, সেটা না জেনেই করে ফেলেছে। অন্যায় বলছি এ কারণে যে, সে তোর থেকে একটা অবৈধ সাহায্য নিয়েছে। যদি সে না নিত তাহলে এই মুহুর্তে আমি তোকে কব্জা করে ফেলতাম। কিন্তু যেহেতু আধ্যাত্মিকমতে সবকিছুরই নিয়ম-নীতি আছে তাই তোকে আমি জোরালো আঘাত বা শাস্তি দিচ্ছি না। কিন্তু আমার কথা না শুনলে তোকে বন্দী করতে বাধ্য হব।" তখন আদিত্যর মুখ দিয়ে সেই অশুভ আত্মা বলতে শুরু করলো, "দেখো আমি যে শহর থেকে এসেছি সেই শহরে মদ্যপানরত অবস্থায় আমার প্রতিপক্ষের একজন আমাকে গুলি করে হত্যা করে। তখন আমার গায়ে এই ব্লেজার আর লকেটটা ছিল এবং আমার ভেতরের পকেটে এই দশ ডলারের নোটটাও ছিল। এই নোটটা আমার কাছে শুভফলদায়ক ছিল বলে কোনদিন খরচ করিনি। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় একজন এই চেনটা খুলে আমার ব্লেজারের পকেটে রেখে দেয়। কারণ সে বুঝতে পেরেছিল এই লকেটটা একটা অপদেবতার প্রতীক। এই লকেটের মাধ্যমে সেই দেবতাকে ডাকা যায়। জিনিসটার ক্ষতিকারক দিকগুলির কথা বিবেচনা করেই তাঁরা এই কাজটা করেছিল এবং ঘটনাচক্রে এই জিনিসটা এসে পড়েছে এই ছেলের হাতে। তার সাথে আমার কথাবার্তা হয়েছে এবং সে আমার একটা সাহায্যও গ্রহণ করেছে। সুতরাং তাকে এর প্রতিদান দিতেই হবে।" 
নরেন্দ্রনাথ জিজ্ঞেস করলেন, "প্রতিদান বলতে তুমি কি চাও ?" 
সেই অশুভ আত্মার উত্তর, "তাকে আমার গোলাম হতে হবে। তার কাঙ্খিত সব জিনিসই সে পাবে কিন্তু আমার হুকুমের বাইরে তার কিছু করা চলবে না। " 
তান্ত্রিক সেই মুহুর্তে বাধা দিয়ে বললেন "এটা কোনদিন সম্ভব না।"
এই ঘটনা দেখে আদিত্যর বাবা প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন। কিন্তু নরেন্দ্রনাথ তার বাবাকে কোনো সাহায্য করতে পারলেন না। কারণ মন্ত্রপূতঃ এক চিমটার সাহায্যে অদৃশ্য বৃত্তাকারে তিনি নিজের জায়গাটা বন্ধন করে রেখেছিলেন। সেই বৃত্তের বাইরে যাওয়া তার পক্ষে তখন সম্ভব ছিল না। এরপর তান্ত্রিক সেই আত্মার উদ্দেশ্যে বললেন, "তোর মত বেশ কয়েকজনকে আমি জায়গামত পাঠিয়েছি। আর এই জিনিসটা নিয়ে আমি তোর সঙ্গে বাড়াবাড়ি করতে চাইনা। তবে হ্যাঁ, সে তোর থেকে যে সাহায্যটা নিয়েছে তার জন্য তাকে একটা মূল্য দিতে হবে। এবার বল, তুই কি চাস ?" সুযোগ পেয়ে সেই অশরীরী অনেক কিছুই চাইল, যা তাদের পক্ষে দেওয়া বেশ খরচসাপেক্ষ। নরেন্দ্রনাথ তখন বললেন, "না এত কিছু দেওয়া যাবে না। তোকে স্রেফ একটা মুরগী দেওয়া হবে। এর বেশি কিছু পাবি না।" কিন্তু সেই অশরীরীও মানতে রাজী না। তখন তান্ত্রিক বেশ কঠোর হয়ে গেলেন। বললেন, "তাহলে তোর সর্বনাশ অনিবার্য। আমি তোকে বন্দী করবো।" বিপদগ্রস্ত হয়ে তখন সেই অশরীরী বলল যে "আচ্ছা, ঠিক আছে তোমার কথা আমি মেনে নিলাম। এখন আমি যেভাবে এসেছি সেইভাবে আর ফেরৎ যেতে পারব না। এখন আমার জন্য তোমরা অন্য একটা কাজ করতে পারো। সেটা হলো এই যে লকেট, ডলারের নোট এবং ব্লেজারের সুতো - এই তিনটে জিনিস কোনো কিছুর সাথে বেঁধে বিশেষ উপায়ে আমার কবরে পাঠাতে হবে।"
এইরকম কথা শুনে তান্ত্রিক আর আদিত্যর বাবা কিছুই বুঝতে পারলেন না। আদিত্যর মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে ঠিকই কিন্তু সেই কথা যেন অন্য আরেকজন বলছে। কন্ঠস্বর ও বাচনভঙ্গী সম্পূর্ণ ভিন্ন। এমনকি তার চেহারাতেও কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল।
এবার অশরীরী বলল, "এক দামে একটা মোরগ কিনতে হবে এবং তার রক্তে আমার কাঙ্খিত জিনিসগুলো ভিজিয়ে শীতের দেশ থেকে আসা পরিযায়ী পাখির পায়ে বেঁধে দিতে হবে। একমাত্র এভাবেই আমি একে ছেড়ে যেতে পারি। আর যদি এটা না করা হয় অথবা পাখিটা তার দীর্ঘ পথ পরিক্রমণকালে যদি মারা যায়, তাহলে আমি আবার ফেরৎ আসবো।"
এই শর্তে তান্ত্রিক নরেন্দ্রনাথ রাজী হয়ে গেলেন। মন্ত্রপূতঃ জল ছিটিয়ে অচেতন আদিত্যর জ্ঞান ফিরিয়ে আনলেন। এবার তান্ত্রিক ও আদিত্যর বাবা আলোচনায় বসলেন। তান্ত্রিক বুঝিয়ে বললেন যে এটা ছাড়া কোনো রাস্তা এখন আর খোলা নেই। যদিও সেই প্রেতকে কতটা বিশ্বাস করা যায় তাঁর সন্দেহ আছে। 
এখন উপায় কি ?
তাঁরা অনেক ভেবে একটাই উপায় পেলেন। ঠিক হলো বিশু নামে একজন শিকারীর সহায্য নেওয়া হবে। যে ফাঁদ পেতে বালিহাঁস ও অন্যান্য পাখি ধরেন। শীতকালে ওই সময় স্থানীয় ঝিলে প্রচুর পরিযায়ী পাখি আসতো। সেখান থেকে বিশুর সাহায্যে একটা পরিযায়ী হাঁস জাতীয় পাখিকে ধরে নিয়ে আসা হলো। এরপর যা ক্রিয়াকর্ম করতে হবে সেটা আদিত্যকে নিজের হাতেই করতে হবে। আর সেটা নির্দিষ্ট দিনে। এবার সেই নির্দিষ্ট দিনে তিনটে জিনিসকে যত্ন করে পাখির পা এর সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হলো। এমনভাবে বাঁধা হলো যাতে দীর্ঘ পথ পরিভ্রমণকালে জিনিসগুলো খুলে না যায় আবার পাখির কষ্টও কম হয়। আদিত্যকে সম্পূর্ণ একা এই কাজটা করতে হলো।
এই ক্রিয়া করার পর থেকে অনেকদিন পর্যন্ত আদিত্যর আর কোনো অসুবিধা হয়নি। 
ডাক্তারি পাশ করার পর সে কোথায় সে ছিল, সেটা কেউই প্রায় জানতো না। খোঁজখবর করার পর শোনা গেছিল সে ইওরোপের কোনো দেশে আছে। বিদেশে গিয়ে সুনামও হয়েছিল। কিন্তু এরও প্রায় বেশ কয়েকবছর বাদে শোনা গেল আদিত্য বদ্ধ উন্মাদ হয়ে তার গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসেছে। এমন কি তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হত। সে মেধাবী ছাত্র না হয়েও তখনকার দিনে ইওরোপে পৌঁছে গেছিল। যেটা মোটেই তখন সহজ ছিল না। তার ইওরোপ যাত্রায় অন্যন্য বন্ধুরাও খুব অবাক হয়েছিল। যেটা ধারণা করা হয়, অশরীরীর নির্দেশ অনুযায়ী সে যে ক্রিয়া করেছিল সেটা কার্যকর হয়নি। অর্থাৎ সেই পরিযায়ী হাঁসটা শীতের দেশে সেই অশরীরীর কবর পর্যন্ত পৌঁছাতে সমর্থ হয়নি। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই মারা যায়।












website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments