Header Ads Widget

দৃষ্টি

দৃষ্টি Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)





#দৃষ্টি
#বিশেষভাবে_প্রাপ্তমনস্কদের_জন্য

সময় এক বড়ই বিচিত্র জিনিস। সময় যতই অগ্রসর হয় তত বদলে যায় আমাদের চারিপাশে, আমাদের স্বভাব আচরণ, আচার-ব্যবহার, সবকিছুই। এখনো পর্যন্ত সময় যত অগ্রসর হয়েছে আমরা উন্নত থেকে উন্নততরে পা বাড়িয়েছি, অনেক নয় কে হয় এবং অযৌক্তিক ভীতির যুক্তি খুঁজতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু কি জানো আজও হয়তো কিছু এমন জিনিস আছে যার যুক্তি মেলা ভার যা চিরকাল থেকে যাবে অজানার অন্ধকার ছায়ায়।
কথাগুলো আমি বলতে পারছি কারণ এই সংক্রান্ত এক অভাবনীয় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আমি স্বয়ং নিজে।
আমার প্রথম জীবন অর্থাৎ বাল্য বয়সে কেটেছে মুর্শিদাবাদের কাশিমবাজারে মামার বাড়িতে। সেখানে স্কুল কলেজ শেষ করে চাকরি নিয়ে চলে আসি ভদ্রেশ্বরে।
কাশিমবাজারের যে অঞ্চলে আমার মামার বাড়ি ছিল তার নাম মনিন্দ্রনগর। বেশ সুন্দর জায়গাটা শহর না হলেও একেবারে এঁদো গ্রাম তাও নয়। গাছগাছালি মাঠ ঘাট নদী পুকুর সবমিলিয়ে ভারী মনোরম জায়গাটা। বড় বড় ফ্ল্যাট মাল্টিপ্লেক্সের করাল গ্রাস তখন সেখানে পড়েনি, তাই হয়তো জায়গাটার সৌন্দর্য এখনো টিকে রয়েছে। সেই সময় মনিন্দ্রনগর চত্বরে বাস করতেন একজন প্রবাদপ্রতিম ব্যবসায়ী কালীকিংকর রায়। চারটি বড় বড় চালের আরত, একটি তেল কল এবং বিঘে চার পাঁচেক জমির মালিক ছিলেন তিনি। বাড়িঘর সবই ছিল পেল্লাই যাকে বলে রাজ প্রাসাদের মতো। হঠাৎ করেই এই কালীকিংকর রায়ের কথা বলার একটা কারণ আছে। এই কালীকিঙ্কর রায়ের একমাত্র ছেলে তিমির বরণ রায় ছিল আমার সহপাঠী এবং অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। প্রতিবছর তাদের বাড়িতে বিপুল আড়ম্বরে মা কালীর পূজা করা হতো, সেই পূজার প্রীতিভোজে সকলেরই নিমন্ত্রণ থাকতো। তিমিরের বন্ধু হওয়ার সুবাদে আমারও নিমন্ত্রণ থাকতো। আমি চাকরি নিয়ে সেখান থেকে চলে আসার পর কেটে গেছে দীর্ঘ 10 বছর, আজও কালী পূজার সেই প্রীতিভোজে নিমন্ত্রণ বন্ধ হয়নি। তবে এখন পূজা পরিচালনা করে কালীকিংকর বাবুর ছেলে আমার বন্ধু তিমির। কালীকিংকর বাবু গত হয়েছেন প্রায় 3 বছর হলো। তিমির এখন সংসারী হয়েছে, একটি বছর পাঁচেকের ছোট্ট ছেলে আছে তার নাম শশাঙ্কমোহন। এই বছর তিমিরদের বাড়ির কালী পুজোর নিমন্ত্রণ আমার কাছে এখনো এসে পৌঁছায়নি। সাধারনত তিমির পুজোর সপ্তাহ দুই তিনেক আগেই আমাকে নিমন্ত্রণ করে। তবে গতবার যখন তিমির কে আমি বলি,
- " কিছু মনে করিস না রে ভাই একটা খুব দরকারি কাজ পড়ে গেছে আমি হয়তো ওই সময়ে আউট অফ স্টেট থাকবো"।
কথাটা শোনার পর তিমির একপ্রকার প্রায় রেগে গিয়ে আমায় বলেছিল,
- " ধুর ধুর..... প্রতিবছরই তোর কিছু না কিছু অজুহাত, তোকে আসতে হবে না ছেড়ে দে আমি আর পরের বছর থেকে তোকে.......", কথাটা শেষ না করেই ফোন কেটে দেয় তিমির।
সত্যি তার রাগের যথেষ্ট কারণ আছে তার ছেলের অন্নপ্রাশনের সময় আমার শেষ ওদের বাড়ি যাওয়া, তাও প্রায় বছর চার-পাঁচেক আগের কথা। অবশ্য এই কাজটা একেবারেই আমার ইচ্ছাকৃত নয় চাকরি পার্মানেন্ট করার জন্য বসকে একটু তেল মারা এই যা। ভাবলাম সত্যিই বুঝি এবার হয়তো তিমির রাগ করেই আমায় নিমন্ত্রণ করেনি। আমার মাথাতেও একটা জবরদস্ত বুদ্ধি এসে গেল কালীপুজোর এক সপ্তাহ আগেই ওর বাড়ি গিয়ে হাজির হব, ব্যাগপত্র নিয়ে হাজির হয়ে বলবো,
- " কিরে ব্যাটা এতদিন না বলছিলি আসিনা আসিনা নে এক সপ্তাহ আগেই চলে এলাম"।
এই ফাঁকে মামা বাড়িতেও একটু ঘোরা হয়ে যাবে বহুদিন যাই না সেখানে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। এক সপ্তাহের ছুটি নিয়ে রওনা দিলাম গন্তব্য কাশিমবাজার। স্টেশনে নেমে সাইকেল রিক্সা ডেকে বললাম,
- "ও ভাই!!! মনিন্দ্রনগর যাবে নাকি?" রিকশাওয়ালাকে তিমিরের বাড়ি কথা বললাম তাদের কে এ অঞ্চলের সবাই চেনে,বললে একেবারে বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে। কিন্তু এখানে একটা ভারী অদ্ভুত ঘটনা ঘটলো। রিকশাওয়ালাকে তিমিদের কথা বলা মাত্র অদ্ভুত এক ভঙ্গিতে আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল,
-" আজ্ঞে বাবু কিছু মনে করবেন না কিন্তু রায় দের বাড়িতে আপনার কিসের দরকার না মানে এখন সে জায়গায় না গেলেই ভালো করতেন"।
লোকটার এই অস্বাভাবিক কথাবার্তায় বরই বিরক্ত হলাম আজব লোক তো আমি আমার বন্ধুর বাড়ি যাবো তাতে আবার সময় অসময়ের কি? কোনক্রমে নিজের রাগ কে সামলে বললাম,
-" তোমাকে অত ভাবতে হবেনা তুমি যাবে কিনা বল?"
রিক্সাওয়ালা একটু হেসে বলল,
- "আজ্ঞে বাবু রাগ করছেন কেন আমার না যাওয়ার কি আছে এটাই তো আমার পেশা...উঠুন"।
রিক্সা গিয়ে থামল তিমির দের বাড়ির মেন গেটে। বাড়িটার দিকে তাকিয়ে আমার কেমন একটা জানি হলো, কিসের যেন একটা অভাব বাড়ির মধ্যে। বাড়ির ফুল গাছে ফুল ধরে নেই গাছ প্রায় ঝিমিয়ে গেছে বাগানের অন্যান্য বড় আম জাম গাছ গুলো কেমন যেন শুকিয়ে গেছে। এটা হয়তো স্বাভাবিক কোন কারণ হতে পারে আমি হয়তো এতদিন পর আসছি বলেই এটা কেমন তর ঠেকছে। গেট ঠেলে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করা মাত্রই দেখলাম তিমির তাদের বাড়ির চাকর কে সঙ্গে নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে কোথায় যেন বেরোচ্ছে। আমায় দেখে সেখানে চমকে উঠে বললো
- "কি রে তুই"?
আমিও খানিক রসিকতা করে বললাম ,
-"হ্যাঁ মানে চলে এলাম তা হ‍্যাঁ রে অসময় এলাম বলে কি ঘর দিবিনা?"
মুচকি একটু হেসে তিমির বলল,
- "তোর রসিকতা করার স্বভাবটা গেল না আয় ভেতরে আয়"।
বাড়ীর ভেতর ঢুকে হাত মুখ ধুয়ে জামা কাপড় ছেড়ে ফ্রেস হয়ে নিলাম। ইতিমধ্যে বৌঠান অর্থাৎ তিমিরের বউ লুচি আলুর দম মিষ্টি ইত্যাদি নিয়ে হাজির। আমি বৌঠানকে বললাম
-"করেছো কি বৌঠান এত খাবার কে খাবে?" বৌঠান আঁচলে মুখ চেপে হাসতে হাসতে বলে,
- "এই টুকু খাবার পুরোটাই খাবে"।
খাবার খেতে খেতে হঠাৎ মনে পড়ল তিমিরের সেই ছোট্ট ছেলেটার কথা বৌঠান কে জিজ্ঞাসা করলাম,
- "তা বৌঠান আমাদের শশাঙ্ক কোথায়....স্কুলে না বন্ধুদের সাথে খেলা করছে"।
প্রশ্নটা করা মাত্রই বৌঠান এর মুখটা কেমন বিবর্ণ হয়ে উঠলো সবটুকু হাসি যেন মুহূর্তের মধ্যে কর্পূরের মত উবে গেল। তিমির সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিল প্রসঙ্গ টা সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে সে আমায় জিজ্ঞাসা করল ,
-"হ্যাঁ রে তুই মামার বাড়ি গিয়েছিস মানে মামারা জানে তুই আসবি"?
বললাম ,
-"না না স্টেশন থেকে ডিরেক্ট তোর বাড়িতে গেলাম এবার যাবো দেখা করতে"।
খাওয়া শেষ করে বেরিয়ে পড়লাম মামা বাড়ির উদ্দেশ্যে। তিমিরের বাড়ি থেকে মামার বাড়ির দূরত্ব ওই মিনিট পাঁচেকের। হাঁটতে হাঁটতে চারিপাশের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে মামার বাড়ি পৌছালাম। মামা বাড়ি নেই কাছে সূত্রে একটু বাইরে গেছে মামিকে আমার আসার কারণটা বললাম। সবটা শুনে স্টেশনের রিক্সাওয়ালার মত মামিও একই রকম কথা বলল। এইবার নিজের কৌতুহল টা আমি আর দমিয়ে রাখতে পারলাম না বলে বসলাম ,
-" ব্যাপারটা কি বলতো মামি? কি হয়েছে তিমির দের বাড়ি?"
মামি কিছু বলতে পারলো না মাথা নামিয়ে বসে রইল।
- "আমি তোমায় সব বলছি দাদা...." ঘরে ঢুকতে ঢুকতে ঈশান অর্থাৎ আমার মামাতো ভাই বলল।
এক ঢোক জল খেয়ে আমার সামনে একটা চেয়ার নিয়ে বসে ঈশান বলতে লাগলো,
- " আসলে সমস্যাটা তিমির দাদার বাড়ি সংক্রান্ত নয়, সমস্যাটা তিমির দার ছেলেকে নিয়ে। সবই ঠিকঠাক ছিল এই সমস্যার উৎপত্তি হয় মাস দুই তিনেক।
-" কিন্তু সমস্যাটা কি?" আমি বললাম‌।
একটা ঢোক গিলে ঈশান বলতে লাগলো,
- " জানো তো দাদা ছেলেটা একদম ঠিক ঠাক ই ছিল কিন্তু হঠাৎ করেই এক অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা যায় এর মধ্যে, থেকে থেকেই কেমন পাগলের মত হেসে, ওঠে কি বিকট সে হাসি। মাঝে মাঝে চোখটা অস্বাভাবিক লাল হয়ে ওঠে। খাওয়ার দাওয়ার ও ঠিকমত খায়না। এর আগে একবার ওদের বাড়ির চাকর দিনু কাকা ওকে রান্নাঘর থেকে কাঁচা মাংস খেতে দেখে। রাতের বেলা হঠাৎ হঠাৎ ঘর থেকে বেরিয়ে যায় বাগানের মধ্যে ঘুরঘুর করে। ছেলেটার উপর বোধহয় কোন অপদেবতা ভর... কে জানে ছেলেটার কি হবে আজ নাকি এক তান্ত্রিকের আসার কথা ওদের বাড়িতে।"
এতক্ষণ ধরে চুপচাপ সব শুনছিলাম এবার আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলাম না গলা খাখারি দিয়ে বলে উঠলাম
-"হোয়াট ননসেন্স.... কি বলছিস কি এসব তোদের পাড়াগাঁয়ের লোকের এই এক সমস্যা চিরটা কাল অন্ধ বিশ্বাসের অন্ধকূপে পড়ে রইলি।"
মামি অতি সংক্ষেপে বললো,
- "সে তুমি যাই বলো ঘটনাটা সম্পূর্ণ সত্যি"। একপ্রকার প্রায় রেগেমেগে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে এলাম মামা বাড়ি থেকে। তিমির দের বাড়িতে গিয়ে সবকথা সবিস্তারে তিমির কে জিজ্ঞেস করলাম। তিমির কাঁদো কাঁদো গলায় বলল ,
-"তুই সব ঠিকই শুনেছিস রে জানিনা কোথা থেকে আমার ছেলেটার কি হয়ে গেল কত যে ডাক্তার বদ‍্যি দেখিয়েছি তার ঠিক নেই উপায় না পেয়ে অবশেষে......, দেখি আজকে রাতে তান্ত্রিক বাবা কি উপায়ে করতে পারেন"।
তিমিরের এহেন মন্তব্যের বিরক্ত হলাম বললাম,
- "দেখ তিমির এসবে কোনদিনই আমার বিশ্বাস ছিল না তাও তুই বাবা হয়ে যখন এসব করছিস আমি মানা করবো না কিন্তু তোর ছেলেটার কথা একবার ভাব এটা হয়তো কোনরকম মানসিক রোগ তার কারণেই এসব ।আমি তোকে বলে রাখছি যদি ওই তান্ত্রিক আজকে কোন উপায় না করতে পারে তবে তুই তিমির কে নিয়ে আমার সঙ্গে কলকাতায় যাবি"।
কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে বলে একটু দম নিলাম, এর উত্তরে অবশ্য তিমির শুধু ঘাড় নাড়লো। এরপর রাত হলে সেই তান্ত্রিক এসে হাজির। ভারী অদ্ভুত চেহারা তার। কাঁচাপাকা লম্বা এক গাল দাড়ি, গলায় রুদ্রাক্ষ সহ আরো কি সব রংবেরঙের মালা, পরনে লাল ধুতি। তিনি উঠোনের মধ্যে একে একে তার উপকরণ সাজাতে আরম্ভ করলেন তারপর একটা জায়গায় কি সব বৃত্ত ত্রিভুজ তৈরি করে তার চারধারে চারটি লেবুতে সিঁদুর মাখিয়ে রাখলেন। এরপর বৌঠানকে একটা ঘটি দিয়ে বললেন,
-" এটা সারাবাড়ি ছড়িয়ে দিবি বিশেষ করে যেই ঘরে তোর ছেলেকে আটকে রেখেছে তার সামনে"।
এইভাবে একটা ছোট বাচ্চাকে এসব অন্ধ বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটা ঘরের মধ্যে বন্ধ করে রেখেছে ব্যাপারটা শুনে মাথায় আগুন জ্বলে গেল আবার কিন্তু চুপচাপ সব রাগটা হজম করে নিলাম। বৌঠান সারা বাড়ি ঘুরে এসে ঘটিটা সাধু কে ফেরত দেওয়া মাত্র তিনি বারংবার করে একটি মন্ত্র উচ্চারণ করতে
-"দর্শায় দর্শায় হু"।
এর কিছুক্ষণ পরেই একটা প্রবল শব্দ হতে লাগলো ভীষণ জোরে দরজা ধাক্কার শব্দ। সে শব্দ এতটাই তীব্র যে মনে হয় যেন দরজা টা ভেঙে পড়বে। কিন্তু এরপর যা ঘটলো তার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না আমি। এক অদ্ভুত হাড় হিম হয়ে যাওয়া নরকীয় চিৎকারে সারাবাড়ি যেন কেঁপে উঠলো। বৌঠান তিমির কে জড়িয়ে গুমড়ে কেঁদে উঠলো আমি জিজ্ঞাসা করলাম,
- "কোথা থেকে এলো এই চিৎকার?"
কাঁপা কাঁপা গলায় তিমির বলল,
- "শশাঙ্কর ঘর থেকে"!!
এরপর সেই তান্ত্রিক বিড়বিড় করে আবার ও কীসব মন্ত্রোচ্চারণ করতে লাগলো তারপরেই সব আবার শান্ত। তান্ত্রিক উঠে দাঁড়াতেই তিমির তার পায়ে লুটিয়ে পড়ে প্রশ্ন করল,
-"কি হয়েছে বাবা আমার ছেলেটার কিছু অন্তত বলুন?"
তিমির কে আটকানোর কোনো যুক্তি আমি নিজেও খুঁজে পেলাম না কারণ আমি নিজেই তখন হতবাক। তিমির কে দুহাত তুলে তান্ত্রিক বললেন,
- "শান্ত হ.... তোর ছেলের ওপর এক পিশাচ দৃষ্টি পড়েছে সে চায় তোর ছেলের মধ্যে কার সম্পূর্ণ প্রাণশক্তি ক্রমে ক্রমে শুষে নিয়ে নিজের শক্তি এবং আয়ু বৃদ্ধি করতে"।
তিমির আর কিছু বলে করতে পারলো না হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল বাবা হিসেবে এহেন কথা শোনার পর এই প্রতিক্রিয়া খুবই স্বাভাবিক। তান্ত্রিক তিমির কে শান্তনা দিয়ে বললেন ,
-"কান্না থামা...ভয় নেই আমি তো আছি, আগামী শনিবার আমাবস্যায় কালী পূজার দিন আমি তোদের ওই বাঁশবনে তোর ছেলের জন্য এক যজ্ঞ করব সব ঠিক হয়ে যাবে"।
কান্না মাখা গলায় তিমির শুধু বললে,
- "আপনার যা করতে হয় করুন বাবা শুধু দয়া করে আমার ছেলেটাকে সুস্থ করে দিন"।
এইবার সেই তান্ত্রিক বলল ,
-"শোন যজ্ঞের জন্য আমার কয়েকটা উপাচার লাগবে অবশ্য সব উপাচার জোগাড় করতে পারবি না তোরা,সেগুলো আমি জোগাড় করে নেব তোরা আমায় এক থালা ভোগে জোগাড় করে দিবি, দেখবি যেন সুস্বাদু এবং সুগন্ধিযুক্ত হয় আর আমি যেভাবে বলে যাব সেভাবেই যেন ভোগ রাধা হয় কোন ত্রুটি যেন না হয়"।
তান্ত্রিকের কথায় ঘাড় নেড়ে বৌঠান সম্মতি প্রকাশ করলেন। পোটলা পুটলি গুছিয়ে তান্ত্রিক তিমিরের বাড়ি থেকে বেরোতে বেরোতে ঘুরে দাঁড়িয়ে বললেন ,
-"ও হ্যাঁ তোর ছেলের পড়া একটা জামা আমাকে দিয়ে যাবি যজ্ঞ শুরুর আগে"।
তিমির কোন প্রশ্ন না করলেও বৌঠান হঠাৎ জিজ্ঞেস করে বসলেন ,
-"আপনি জামা দিয়ে কি করবেন বাবা"?
ওই তান্ত্রিক কে দেখে তো আমার ক্ষ্যাপা বলেই মনে হচ্ছিল এইবার সেরা দৃঢ় বিশ্বাসে পরিণত হলো । কারন সে জবাব দিল,
- " আমি পড়বো রে হতভাগা.... জামা প্যান্ট পড়ে ভদ্রলোক সাজবো...... বড্ড প্রশ্ন করিস তোরা এত প্রশ্ন কিসের যেটা বলছি সেটা খালি কর"।
এরপর তান্ত্রিক চলে গেল। তিমির আর বৌঠানকে কোনমতে শান্তনা দিয়ে ঘরে এলাম ,যদিও আমার নিজের সব হিসেব ওলট পালট হয়ে গেল। এক একটা দিন যেন একেকটা বছরের মত কাটতে লাগলো আমাদের।তিমির ,বৌঠান আমার, আমাদের সকলেরই নাওয়া-খাওয়া মাথায় উঠলো চোখে ঘুম নেই মনে শান্তি নেই। এর পর এলো কালীপুজোর অমাবস্যার রাত। তান্ত্রিক বিশেষ যজ্ঞে বসবে তিমির তার প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ তাকে জোগাড় করে এনে দিল। সঙ্গে তাঁর আদেশ অনুসারে শশাঙ্কর একটা জামা দিল। সেই তান্ত্রিক যজ্ঞ শুরুর আগে তিমির কে ভালো করে বলে দিলেন
- "আমি একটু পরেই যজ্ঞে বসবো এই বাঁশ বাগানের ত্রিসীমানায় যেন কেউ না আসে.... বাড়ি গিয়ে মা কালীর পুজো শুরু কর আমি ও আমার যজ্ঞে বসবো এখন যা এখান থেকে আমার কাজ হয়ে গেলে আমি তোর বাড়ি যাবো"।
তান্ত্রিকের কথা মতোই কাজ হল তিমির বাড়ি এসে মা কালীর পুজো শুরু করল। অন্যদিকে সেই তান্ত্রিক যজ্ঞকুণ্ড অগ্নিসংযোগ করে তার পূজা শুরু করলো একনাগাড়ে একটা মন্ত্র পড়ে যাচ্ছে আর থেকে থেকে এক খাবলা করে ধুনো ফেলে দিচ্ছে যজ্ঞকুণ্ড এর মধ্যে।
বাড়ির এই অবস্থার ভয়ে বিশেষ কেউ ই আসেনি। শুধু কয়েকজন কাঙ্গালী ভোজের লোভে উঠোনে বসে আছে। বৌঠান পুজোর উপকরণ তৈরি করছেন মাঝে মাঝে তার চোখ জলে পরিপূর্ণ হয়ে উঠছে ।কতদিন সে ছেলেকে কাছে পায়নি, বুকে জড়িয়ে আদর করতে পারেনি ,একবার মায়ের দিকে এক মনে তাকিয়ে কি সব বলে যাচ্ছেন। আস্তে আস্তে পুজো শুরু হল একে একে কর ঘট প্রতিস্থাপন দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পুজো এগিয়ে চলল।
এরপর রাত্রি দ্বিপ্রহরে পুজো যখন প্রায় শেষের মুখে তখন এমন এক ঘটনা ঘটলো যা আমার বিশ্বাস অবিশ্বাসের আগাগোড়া হিসেব এলোমেলো করে দিল। তিমির অঞ্জলি ফুল অর্পণ করবে এমন সময় আচমকা এক ঝড়ে সারা বাড়ি তছনছ করে দিতে লাগলো আশেপাশে চারিদিক শান্ত অথচ ঝড় বইছে এই ঘরের মধ্যে আর তার সঙ্গে সেই সজোরে দরজা ধাক্কানো শব্দ আবারো সেই নারকীয় আর্তনাদ সেই হাড় হিম করা ভয়ঙ্কর কণ্ঠ। সমগ্র বাড়ি ঘিরে ফেলল এক বিকট দুর্গন্ধে।
অন্যদিকে বাঁশবনে সেই তান্ত্রিকের যজ্ঞ তখন শেষ।শেষ প্রহরে শেষবারের মতো কি একটা মন্ত্র আওড়াতে-আওড়াতে আবার এক মুঠো ধুনো সে ফেলে দিল যজ্ঞকুণ্ডতে ,তারপর প্রণাম করে উঠে পড়ল। তিমির দের বাড়ি থেকে নিয়ে আসা তার আদেশ মতে তৈরি করা ভোগের থালা তুলে নিয়ে বাঁশবনের গভীর অন্ধকার ভেদ করে ঢুকে পড়ল সে, ভোগের থালা একটা জায়গায় রেখে সে বলতে লাগল ,
-" আয় মা....আয়....ভোগ গ্রহণ কর মা....ভোগ গ্রহণ কর....ওই নিরীহ সন্তানটাকে তুই রক্ষা কর.....জয় মা....জয় মা.....জয় মা......"
এই বলতে বলতে সে ওই জায়গা ছেড়ে আবার যজ্ঞকুণ্ড দিকে যেতে লাগলো। যজ্ঞকুণ্ড এর কাছে পৌঁছে সেটা কে প্রণাম করে তারমধ্যে শশাঙ্কর তেল সিঁদুর মাখানো জামাটা কি একটা মন্ত্র উচ্চারণ করতে করতে ফেলে দিল সে। বিকট দুর্গন্ধে জামাটা পুড়ে ছাই হয়ে গেল তার সাথে সাথে নিভে গেল সেই যজ্ঞাগ্নি। তিমির দের বাড়িতে সেই হাড় হিম করা ঘটনা চলল বেশ কিছুক্ষন ধরে। তারপর আচমকা আবার সব শান্ত নিস্তব্ধ। তিমির ভয়ে পুজো ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এসেছে, বৌঠান ঠকঠক করে কাঁপছে যে কজন কাঙ্গালী ভোজের লোভে উঠোনে বসে ছিল তারা ভয়ে পালিয়ে গেছে, আর আমার কথা তো বাদই দিলাম সম্পূর্ণ পাথরের মত দাঁড়িয়ে আছি ।কোন প্রতিক্রিয়া দেওয়ার মতন অবস্থা আমার ছিলনা তখন। কান্না মাখা কাঁপা কাঁপা গলায় বৌঠান বলে উঠলেন ,
-"কি হলো গো"?
তিমির কোনো প্রতি উত্তর দিতে পারল না। এরপর সেই তান্ত্রিক হাতে একটা সরাতে করে কিছু একটা নিয়ে হাসতে হাসতে বাড়ির সদর দরজা দিয়ে উঠনে প্রবেশ করে তিমির কে বলল,
- "আর কোন চিন্তা নেই রে সব বিপদ কেটে গেছে এইনে মায়ের প্রসাদ তোর ছেলেকে খাওয়াস"।
এতক্ষণে বলা ভালো এতদিনে বৌঠান আর তিমিরের মুখে এক চিলতে হাসির রেখা দেখা দিল। তান্ত্রিক যাওয়ার আগে একটা তাবিজ দিয়ে তিমির কে বলেছিল ,
-"যে পিশাচের দৃষ্টি তোর ছেলের উপর পড়েছিল তাকে আমি তাড়িয়ে দিয়েছি, এই তাবিজটা মায়ের পায়ের ফুল দিয়ে তোর ছেলেকে পরিয়ে দিবি আর কোন বিপদ তোর ছেলেকে ছুঁতে পারবে না।"
তান্ত্রিকের কথা যথার্থ ছিল তারপর থেকে শশাঙ্কর মধ্যে আর কোনরকম অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা যায়নি আর কোন বিপদ বিশেষ ওর ধারে কাছে ঘেষতে পারেনি বহুবার নানা বিপদ হতে হতে তার হাত থেকে নিস্তার পেতে শশাঙ্ক। সত্যিই আজও অযুক্তির আঁধারে কত ঘটনায় রয়ে যায়।যা আমাদের যুক্তিবাদী মন বিশ্বাস না করতে চাইলেও অবিশ্বাস করতে পারে না।

#সমাপ্ত











website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments