তেনাদের_ডাকে Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
#তেনাদের_ডাকে
মিনু মাসির ছেলে সন্তু, এই বছর বি এ পড়ছে । তাদের বাড়িটা স্টেশন থেকে মাত্র 1মিনিট হাঁটা পথ।
সেদিন বিকালে রোজ কার মতন সন্তু ও তার পাড়ার বন্ধুরা আড্ডা দিচ্ছিল স্টেশন লাগোয়া চায়ের দোকানে। তারা সবাই এক কলেজ ও এক ক্লাসে পড়ে।
স্টেশন রোডে হেঁটে আসে চায়ের দোকানের দিকে একই সাথে দুই ব্যাক্তি। পাশের পাড়ার রঘু দা আর পাঁচু দা, দুজন কথা বলতে বলতে এগিয়ে আসল ।
চায়ের দোকানে চেয়ারে বসে চায়ের অর্ডার টা দিয়ে হঠাৎ রঘু দা বলল পাঁচু দা কে " তুমি ভাই এখানে বাড়ি করেছ এই এক বছর তুমি এই নিয়ে হেলা তর্ক কোরো না তো " ।
এই শুনে সন্তুর বন্ধু রবি বলে উঠল " আরে কি হয়েছে রঘু দা, পাঁচু দার সাথে তর্ক করছ কেন ❓
রঘু দা চায়ের অর্ডার করে বলল " আরে রবি কী আর বলি গতকাল রাতে ঐ সামনের স্টেশনের ক্রসিং-এ আবার একজন কাটা পড়েছে "
রবি বলল " এ নতুন কী, রাতে অসাবধানতাবশত পার হচ্ছিল তাই হয়েছে " ।
এবার পাঁচু দার হাতের গরম চায়ে চুমুক দিয়ে বলল " আচ্ছা রবি বা তোমারা এতজন তো আছো, আর এখানের পুরাতন । বলত ঐ ক্রসিং- এ নাকি কেউ বাজি ধরে গেলে তার মৃত্যু হয়, এটা বলছে আর আমাকে তা নাকি মানতে হবে " ।
সন্তু বলল " আরে এসব নিয়ে তর্ক করা ঠিক নয় "। কিন্তু তাল বাঁধল রবি কে নিয়ে, সে রঘু দা কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলল " আমি বাজি ধরতে রাজি দেখি কী হয়, বলো রঘু দা যদি বেঁচে থাকি তবে সারা মাসের চায়ের বিল তোমার " ।
রঘু দা বলল " এভাবে চ্যালেঞ্জ করছিস, কাজ টা ভালো করলি না এসব বাদ দে রবি " ।
সন্তু ও বাকি বন্ধুরা রবিকে বললাম চল তো এখান থেকে যত সব ফালতু গল্প।
কেউ তখন আমল করেনি, সমস্যা টা শুরু হল সেদিন রাত থেকে। কদিন কলেজের সেমিস্টার তাই কলেজে ব্যাস্ত ছিল সন্তু।
শেষ সেমিস্টার সেরে বিকালে বাড়ি ফিরছে সন্তু। হঠাৎ দেখল তাদের পাড়ার আড্ডা গ্যাং এর এক বন্ধুর। ফোনে সেই বন্ধু জানাল যে " রবি নাকি ডাক্তারের কাছে গেছে আর পাঁচু দা ঐ ক্রসিংএ কাটা পড়েছে "।
ফোনে চেম্বারের ঠিকানা জেনে নিয়েছিল, তাই সোজা হাজির হল ডাক্তার খানায়। সেখানে গিয়ে রবির বাড়ির লোকের মুখে যা শুনতে পেল, আজ কাল রাতে ঘুম ঘোরে বাইরের দিকে যেতে চায় ।
সন্তু তো এর মাথা মুন্ডু কিছু বুঝল না। সেদিন বাড়ি ফিরে রাতে কনফারেন্সে সব বন্ধুরা মিলে একটা কাছের মন্দিরে পূজো দেবো বলে ঠিক করল।
কথা মত কিছুদিন পর সব বন্ধু মিলে সকালে মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা হল। মন্দিরের পূজো সেরে বাইরের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে জুতো পরছে সবাই । হঠাৎ একজন অপরিচিত ব্যক্তি তাদের কাছে এসে বললেন ঐ যে বটতলায় সাধুবাবা আছেন উনি আপনাদেরকে ডাকছে।
সন্তু ও বন্ধুরা কাছে যেতে সাধুবাবা বললেন, " পূজো দিতে এসেছিলে বুঝি "
সকলে উত্তরে মাথা নেড়ে হ্যাঁ সম্মতি জানাল।
সাধুবাবা বললেন " আমি জানি না তোমরা মানবে কী না তবে একটা কথা বলি "... " তোমাদের মধ্যে একজনকে তো ডাকছে তেনারা খুব সাবধান " ।
সন্তু বলল " ঠিক বুঝলাম না একটু খুলে বলবেন কাকে কারা ডাকছে " ।
শুনে সাধুবাবা জবাব দিলেন " কোন তর্ক হয়েছিল তোমাদের সাথে কারো " ❓
রবি বলল " হম হয়েছিল কেন বলুন তো "❓
সাধু বাবা বলল তখন " ঐ তর্ক ই হয়েছে কাল, ডেকে নিয়ে এসেছে নিজেদের জীবণে। যদি সামনের অমবস্যার মধ্যে ফাঁড়া না কাটে জানবে কপালে দুঃখ আছে। আর হম অমবস্যা না যাওয়া পর্যন্ত কেউই কোথাও যাবে না বাড়িতে দরজাতে তালা লাগিয়ে সাথে কাউকে নিয়ে ঘুমাতে " ।
সব বন্ধুরা চলে এল এই শুনে সবাই ভয়ে ভয়ে আছে। কিন্তু রবি যে কথাগুলো কানেই তোলেনি কেউ জানে না। কটা দিন বেশ ভালো কাটল। সকলে রবির খবর নেয়।
বন্ধুদের মধ্যে নিখিল নামে একজনের বার্থডে পার্টি ওর বাড়িতে সকলে এল বিকালে, আর সেদিন সবাই খাওয়া করে ছাদে শুল। নেশার ঘোরে ভুলে গেল ছাদে থেকে সিড়ি দিয়ে নেমে মেইন গেট টপকাতে পারলেই রাস্তা।
অঘটন টা আজ রাতেই ঘটল। এক বন্ধু রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ বাথরুমে উঠে রবিকে খুঁজে না পেয়ে ডাকাডাকি শুরু করে।
সকলে বাড়ির আশে পাশে চর্চ হাতে খুঁজতে থাকে। কিন্তু সবাই হতাশ হয়ে পড়ে, ওর বাড়িতে ফোন করে জানাতে জানাতে রাস্তার দিকে খুঁজতে থাকে।
তখন আর এক বন্ধু বলে ওঠে এই কাছেই তো সেই ক্রসিং চল ওদিকে যাই। সবাই দৌড় দেয় ক্রসিং এর দিকে, কিন্তু গিয়ে দেখল চারিদিকে অন্ধকার। ঝিঝি পোকার ডাক কেউ কোথাও নেই।
থানায় গিয়ে ডাইরি করে । পরদিন সকালে খবরটা আসে তখনও কেউ বাড়ি ফেরেনি, কারো চোখে ঘুম নেই।
রেল পুলিশ একটা স্টেশন পরে যে ক্রসিং আছে সেখানে একটা দেহ উদ্ধার করেছে। সকলে গিয়ে দেহ সনাক্ত করল সেটা রবির দেহ।
কিন্তু আজও এই বিষয় টা এখনও পরিষ্কার নয় যে এই ক্রসিং আরও একটা স্টেশন পেরহয়ে কীভাবে সম্ভব। সেদিন সবার মন খারাপ।
কিছুদিন পর সন্তু গিয়েছিল সেই সাধুবাবার কাছে, তার মুখ থেকে যা শুনেছিল সেদিন।
" আরে তুই একা আর সবাই আসেনি, ভেবেছিলাম সবাই আসবি । সকলে ঠিক আছিস তো "❓
সন্তু বলল " রবি বলে যে ছেলেটা তর্ক করেছিল সে আর নেই ক্রসিং এ কাটা পড়েছে রাতে "।
সাধুবাবা একটু রাগ দেখিয়ে বলল " বলেছিলাম এই দশ বারো দিন রাতে কোথাও যাবি না তোরা, কালকেই অমবস্যা ছিল আর ফাঁকা জায়গা পেয়ে নিশিতে টেনে নিয়ে গিয়েছে " ।
" কোনদিন এই সব বিষয়ে তর্ক করবি না, ওরা আছে। ওদের নিয়ে যে তর্ক করে তাকেই ওদের সঙ্গী করে। তোদের বন্ধু ও তোদের তার কাছে টানার চেষ্টা করবে তাই ঘরের দরজায় পঞ্চমুখি হনুমানের ছবি রাখবি, ভগবত গীতা সাথে রাখবি আর এই মন্ত্র পুতঃ কিছু সরিষা আছে ছড়িয়ে দিবি ঘরের চতুর্দিকে সব বন্ধুদের । ভয় পেলে হনুমান চালিশা পাঠ করিস।
ঐ বন্ধুর পনেরো দিনের কাজ মিঠলে সবাই আসিস। একটা করে কবচ দিয়ে দেবো সব ঠিক হয়ে যাবে। আর ধ্যান থাকে যেন রাতে কেউ বাইরে বের হবি না আর এক ডাকে সাড়া দিবিনা ।
কথা মত সন্তুর সব বন্ধুরা তাই করেছিল, তবে রবি কাউকে ডাকেনি আর ভয় ও দেখায় নি তবুও সবাই ঐ সাধুবাবার কবজ হাতে পরেছিল।
অযথা তেনাদের নিয়ে কেউ তর্কে যাবেন না।
website : BhutGolpo
website link : https://www.bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments