সেই_রাত Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
#সেই_রাত
অন্ধকারকে বড়ো বেশী ভয় পায় বিলু। দিনের বেলায় সবকিছু ঠিকঠাক, কিন্তু রাতের বেলায় সমস্ত কিছুই কেমন যেন অচেনা হয়ে যায়। তার উপর নতুন শহরে চাকরি পেয়ে এসেছে। শহরের রাস্তাঘাট - মানুষজন সমস্তই অজানা। মা বলেছিলো,
" তুই যা ভীতু ছেলে, একা একা থাকতে পারবি?" রীতিমতো পৌরুষে লেগেছিলো বিলুর। বলেছিলো," কি যে বলো না মা!" কিন্তু, মায়ের থেকে ওকে বেশী চেনে কে?" এখন সেটা হাড়ে হাড়ে বুঝেছে বিলু। ছোট্ট পাহাড়ি শহর। শহরের সীমানা ছাড়িয়ে গেলেই অনেক দূরে দূরে এক একটা গ্রাম। সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে বসে আছে প্রকৃতি। অনেক রকমের ফুল ফোটে এখানে। চোখ জুড়িয়ে যায়। অনেকদিন ভোর বেলায় সূর্য ওঠেই না। কুয়াশায় ছেয়ে যায় চার দিক। প্রথম প্রথম বিলু হাঁ করে তাকিয়ে থাকতো যখন মেঘ ওর ঘরের জানলা দিয়ে ভিতরে ঢুকে আসতো। ভালো ঘর পেয়েছে ও। এক নেপালী মহিলা একাই থাকে। স্বামী সেনাবাহিনীতে চাকরি করতো। মারা গিয়েছে। দোতলার ঘর ভাড়া দিয়েই সংসার চলে মহিলার। রান্নার হাতও সুন্দর। খাওয়ার জন্য একটা চুক্তিও হয়েছে মহিলার সঙ্গে। প্রৌঢ়া এই ভদ্রমহিলার নাম ললিতা। সন্ধে হলেই পথঘাট ফাঁকা হয়ে যায়। সবাই তাড়াতাড়ি ঘরে ঢুকে যায়। তাই, অফিস থেকে ফিরে সময় আর কাটতে চায় না বিলুর। রাতে একা শুয়ে ভয়ও পায়। সহজে ঘুম আসতে চায় না। শেষরাতে অবশ্য চোখ বুজে আসে ওর।
সেদিন সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। ঝিরঝির করে বৃষ্টি হচ্ছিলো। দুপুর থেকে নামলো প্রবল বৃষ্টি। সে বৃষ্টি থামার আর লক্ষণ নেই। তাই একটু তাড়াতাড়িই অফিস থেকে বেরোলো বিলু। তখন অবশ্য বৃষ্টি একটু কমই ছিলো। কিন্তু, একটু এগোতেই আবার প্রবল বৃষ্টি। গাড়িও রাস্তায় নেই৷ ছাতাতেও বৃষ্টি আটকাচ্ছে না। ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে সামনের দিকে এগোয় বিলু। কিন্তু, যেটুকু আলো ছিলো তাও ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে। অন্ধকারের হাঁ করা মুখের মধ্যে যেন ঢুকে যাচ্ছে গোটা শহরটা। আর এগোনোও যাচ্ছে না। কি করবে বুঝতে পারে না বিলু। বড়ো অসহায় লাগে ওর নিজেকে। এই দিকটা খুব নির্জন। অফিস,ব্যাঙ্ক, হাসপাতাল,পোস্ট অফিস,হোটেল, দোকান,বাজার সব ছাড়িয়ে যেখানে চলে এসেছে বিলু সেখানে কোনো ঘরবাড়িও চোখে পড়ছে না। আসলে এতখানি কোনদিন হেঁটে আসে নি বিলু। কিন্তু, আজকে তো আর উপায় ছিলো না। মুশকিল হলো, অন্ধকারে কিছু দেখাও যাচ্ছে না। পাশেই গভীর খাদ। পা পিছলোলেই সব শেষ। এবার একটু ভয়ই পায় বিলু। রাস্তার মোড়টা ঘুরতেই অবশ্য স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ও। এই নির্জন রাস্তাতে হঠাৎ একটা বাড়ির দর্শন পাওয়ার কথা ভাবতেই পারে নি ও। দরজায় ধাক্কা দিতেই ভিতর থেকে একটা গলার আওয়াজ ভেসে আসে- নারীকণ্ঠ।
দরজা খুলে দাঁড়ায় যে মেয়েটা, তার দিকে তাকিয়ে যেন চোখ ঝলসে যায় বিলুর।এরকম সুন্দরী ও আজ পর্যন্ত দেখে নি। মেয়েটা ওকে ভিতরে ঢুকতে বলে। বসার ঘরে ঢুকে দেখে এক বুড়ো আরামকেদারায় আধশোয়া হয়ে চুরুট টানছে। ওকে দেখেই মুখে হাসি ফুটে ওঠে বুড়োর। ইংরেজি আর হিন্দি মিশিয়ে বলে, " এসো, এসো, ইয়ংম্যান। কতদিন পরে একটা জ্যান্ত মানুষ দেখলাম।" তারপরে নিজের রসিকতাতে নিজেই হেসে ওঠে। বুড়োর উল্টোদিকে বসে এক বুড়ি সোয়েটার বুনছিলো। দেখেই বোঝা যাচ্ছে এরা স্বামী স্ত্রী। বুড়ো যে সাহেব তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু, বুড়ি ভারতীয়। বুড়ি বুড়োর দিকে কড়া চোখে তাকাতে বুড়ো চুপ করে যায়। এক মাঝবয়সী লোক দোতলা থেকে নেমে ওকে দেখে বিস্মিত হয়ে মেয়েটিকে বলে দোতলায় নিয়ে যেতে। এরা সবাই হিন্দি আর ইংরেজি মিশিয়ে কথা বলে। দোতলার একটা ঘরে মেয়েটা ওকে নিয়ে যায়। ওর হাতে একটা নাইটগাউন তুলে দেয়। ইশারায় বাথরুম দেখিয়ে দেয়। নাইটগাউন ও কোনদিন পরে নি। কিন্তু, উপায় নেই। বাথরুমে ঢুকে পোশাক বদলে আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে ও নিজেকে চিনতেই পারে না। ভেবে লাভ নেই। বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখে মেয়েটা ওরই জন্য দাঁড়িয়ে আছে। অস্বস্তি নিয়ে নীচে নামে বিলু। বুড়ো ওকে দেখে আবার হাসে। তবে এ হাসিতে বেশ একটা আশকারা দেওয়ার ভাব রয়েছে। বুড়ো ওকে পাশের চেয়ারে বসতে বলে। তারপর গুনগুন করে একটা গানের সুর ভাঁজতে ভাঁজতে ওপরে উঠে যায়। ফিরে যখন আসে, তখন হাতে একটা বোতল। বলে," কি গান গাইছি বলো তো।" বিলু মাথা নাড়ে। ও জানে না। " সে কি এই গান শোনো নি? ন্যাট কিংকোলের মোনালিসা। কি রোম্যান্টিক তাই না? " বুড়োর গলায় অবশ্য তেমন রোম্যান্টিকতা খুঁজে পায় নি বিলু। মেয়েটা খিলখিল করে হেসে ওঠে। বুড়োর ইশারায় মেয়েটা রেকর্ড প্লেয়ারে রেকর্ড দিয়ে চালিয়ে দেয়। এখনো কেউ রেকর্ড প্লেয়ার ব্যবহার যে করে তা জানতো না বিলু। শুরু হয় মোনালিসা। সত্যিই বড়ো সুন্দর ন্যাট কিংকোলের গলা। গানের মধ্যে যেন তলিয়ে যায় বিলু। সম্বিত ফেরে বুড়ো যখন ওর সামনে একটা গ্লাস বসিয়ে বোতল থেকে সোনালি তরল ঢালে। বিলু বলতে পারে না যে ও খায় না। অস্বস্তি লাগে। সবার হাতেই যে গ্লাসভর্তি পানীয়। বোতলের গায়ে লেখা রেড লেবেল। বুড়ি বরফ এনে ঢেলে দেয় সবার গ্লাসে। নাক বন্ধ করে চুমুক দেয় বিলু। গলা যেন জ্বলে যায়। বুড়ো বলে," বুঝলে ইয়ংম্যান এই রেড লেবেলের ইজ্জত নেই। আসল হলো ব্লু লেবেল বুঝলে?"
বিলুর কেমন যেন ঘোর লেগে যাচ্ছে। নাইট গাউন, পায়ের তলায় নরম কার্পেট, হাত স্কচের বোতল, অসামান্য সুন্দরী একটি মেয়ে, দানাদানা গলায় ন্যাট কিংকোলের গান। একটা মিশকালো কুকুর ওপর থেকে নীচে নেমে এলো। বুড়োর পায়ের তলায় বসে ওর দিকেই তাকাচ্ছে যে! কুকুরটার চোখের দিকে তাকিয়ে ভয় পেয়ে গেলো বিলু। কামড়ে দেবে না তো? মেয়েটা ওর ভয় দেখে হাসতে লাগলো। বুড়ো এবার একটু অদ্ভুত ভাবে ওর দিকে তাকিয়ে বলে," এখানে যখন একবার এসেছো, তখন এখানেই থেকে যেও। কেমন?" ঠিক বুঝতে পারে না বিলু। মাথা নেড়ে সায় দেয়। ঘরশুদ্ধু সবাই হেসে ওঠে। তবে এই হাসিটা খুব একটা মধুর নয়। সঙ্গে সঙ্গে কুকুরটাও ডেকে ওঠে বীভৎস শব্দে। আঁতকে ওঠে বিলু। না, আর এখানে থাকা উচিত হবে না। টলমলে পায়ে উঠে দাঁড়ায় বিলু। বুড়ো উঠে গিয়ে ফিরে আসে। হাতে একটা বন্দুক। " আমার হাতের টিপ সাংঘাতিক। একবার একটা পাহাড়ি চিতা মেরেছিলাম বুঝলে। সেবার সবাই মিলে আমায় ব্লু লেবেল খাইয়েছিলো। " বিলু আবার বসে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে সবাই হেসে ওঠে। এ হাসি আরো ভয়ঙ্কর। রেকর্ডটা একজায়গায় আটকে গিয়েছে। একটাই লাইন পাগলের মতো বেজে চলেছে, "মেনি টিয়ারস হ্যাভ টু ফল।" বুড়ো হাসতে হাসতে পরের লাইনটা পূরণ করে দেয়," বাট ইটস অল ইন দা গেম।" তারপর বিলুর দিকে তাকিয়ে বলে," ইয়ং ম্যান, তুমি আমার নাতনি মলির প্রেমে পড়ে গিয়েছো তাই না? তাই তো তোমায় এখানেই থাকতে হবে। " স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বিলু। এই ব্যাপার। এবার বুড়ো বোতলের বাকি মদটুকু মুখে ঢেলে নেয়। তারপর বলে," একবার মলির এক প্রেমিক বাইরের দেবদারু গাছ বেয়ে জানলার ফাঁক দিয়ে ঢুকে যায় বাড়িতে। জিমি ওর গলার টুঁটি কামড়ে ধরে।" শেষের দিকে বুড়ো কিরকম সাপের মতো হিস হিস করে বলে। বিলুর মেরুদন্ড দিয়ে বরফের স্রোত বইছে। সবাই ওর দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। চোখগুলো মরা মাছের মতো। মলি উঠে এসে বিলুকে জড়িয়ে ধরে দু হাত দিয়ে, " কিন্তু, তুমি তো জনের মতো লম্পট নও। তোমাকে জিমি কিছু বলবে না। " নরম পেলব দুটো হাতের ছোঁয়ায় যেন চোখ বুজে আসছে বিলুর। ' তাইতো তোমায় আমরা যেতে দিতে পারি না। " এ কি! বুড়ো যে ওর দিকে বন্দুক তাক করেছে। জিমিও ওর দিকে ভয়ঙ্কর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে। এবার ভয়েই চোখ বুজে ফেলে বিলু। কিন্তু সাঁড়াশির মতো কিছু একটা দিয়ে ওর গলা চেপে ধরেছে। নিঃশ্বাস নিতে পারছে না বিলু। তাকিয়ে দেখে সুন্দরী মেয়েটা একটা কঙ্কাল হয়ে গিয়েছে। দু হাতে ওর গলা টিপে রয়েছে। ঘরের বাকি সবাইও কঙ্কাল। ভয়ে শিউরে উঠলো বিলু। বাইরে বিদ্যুৎ চমকে উঠলো। প্রচন্ড শব্দ করে বাজ পড়লো একটা। ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বিলু প্রাণপণে কঙ্কালটার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে আসে। পিছনে একটা হইচই আর বীভৎস হাসির শব্দ ভেসে আসছে। কুকুরের ভয়ঙ্কর ডাকও শুনতে পাচ্ছে কাছেই। যে কোনো মুহূর্তেই কুকুরটা বোধহয় ওর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে গলা টিপে ধরবে। দৌড়াতে থাকে বিলু। আর ঠিক তক্ষুনি একটা গাড়ি ওর সামনে এসে ব্রেক কষে। আর একটু হলেই গাড়ির তলায় চাপা পড়তো বিলু। গাড়ি থেকে নেমে আসছে ওর বস। " কি হলো বিলু। পাগলের মতো দৌড়াচ্ছো কেন? " হাঁপাতে হাঁপাতে বিলু পিছনে ফিরে বাড়িটার দিকে হাত দেখাতে গিয়ে চমকে যায়। " কোথায় বাড়ি? কিছুই তো নেই! " আরে বিলু, এটা তো একটা কবরখানা। এখানে কিছুই নেই গাড়িতে উঠে বসো।" বিলু আর কিছু ভাবতে পারে না। গাড়িতে উঠে বসে। বসের বাড়ির সামনে গাড়ি থামে। " আজ আমার বাড়িতেই থেকে যাও। তোমার বাড়িওয়ালিকে বলে এসেছি আমি তোমায় খুঁজে বের করে আমার বাড়িতে নিয়ে যাবো। শহরটা খুব ছোটো, বুঝলে তো? এখানে হারানো কঠিন। "
বসের বাড়ির বসার ঘরে একটা বুড়ো বসে আছে। বস বললো," বাবা, আমার কলিগকে এনেছি।" বুড়ো ওর দিকে তাকিয়ে হাসে। বস চেঁচিয়ে ওঠে, " মলি, বিলাসকে বাথরুমটা দেখিয়ে দাও। " নাম শুনে বিলু চমকে যায়। একটি মেয়ে এসে ওর হাতে পায়জামা পাঞ্জাবি ধরিয়ে দেয়। মেয়েটার দিকে না তাকিয়েই বিলু সেগুলো নিয়ে বাথরুমে ঢুকে যায়। একটা কুকুর ডাকছে। বসের গলা শুনতে পেলো বিলু, " জিমি, জিমি, অতিথি এসেছে চেঁচিও না। " একটা নারীকণ্ঠের হাসি ভেসে আসে," বাবা,জিমি তো অতিথি এলেই চেঁচায়।" বুড়োর গলা শুনতে পায় বিলু, " খোকা, ভালো করেছিস ওকে যেতে দিস নি। আমার নাতনির সঙ্গে ওকে মানাবে ভালো।" বস কি উত্তর দেয় শোনা যায় না। নিঃশ্বাস বন্ধ করে ওদের কথা শোনে বিলু। বুড়ো আবার বলে," রেড লেবেলটা বের করো তো। সবাই মিলে খাওয়া যাবে। তবে আসল ইজ্জত হলো ব্লু লেবেলে। আমি যখন রাইফেল শ্যুটিংয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম তখন বন্ধুরা সবাই মিলে আমায় ব্লু লেবেল খাইয়েছিলো। পাজামার গিঁট বাঁধতে পারে না বিলু। ওর হাত কাঁপছে থরথর করে। হঠাৎ গান ভেসে আসে, " মোনালিসা"। বসের গলা শোনা যায়," বিলাস এতো দেরি হচ্ছে কেন? বেরিয়ে এসো। আজ আমরা তোমার আসা সেলিব্রেট করবো।" বাইরে তখনো প্রবল বৃষ্টি ঝরছে। বস ডেকেই যাচ্ছে।
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments