Header Ads Widget

কবরখানার রাস্তা

কবরখানার রাস্তা Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)






#গল্প: কবরখানার রাস্তা 


"ঘোঁতনদা, শুনছেন অনেক রাত হল৷"
"উঃ কে রে?" 
"আমি ম্যানেজার৷" 
"কেন রে কি হল?" ঘোঁতন ফোঁস করে উঠল। 
"অনেক রাত হল, বার বন্ধ করতে হবে৷ "
"বা... তোর এতো সাহস,তুই আমাকে মদ খাওয়া বন্ধ করতে বলিস?" ঘোঁতন ম্যানেজারের কলার চেপে ধরল।
"দাদা রাত দুটো বাজে" করুণ স্বরে বলল ম্যানেজার ছেলেটা। 
"রাত দুটো!!" ঘোঁতন অবাক হল,
"হ্যাঁ, সব স্টাফ চলে গেছে অনেক ক্ষন৷"
"ঠিক আছে, ঠিক আছে, আরেক পেগ দে আগে৷"
আরেক পেগ খেয়ে ঘোঁতন টলতে টলতে বেড়িয়ে এল। এনফিল্ডে উঠে স্টার্ট দিল।
"ঘোঁতনদা আজ বাইক চালিয়ে যেও না, অনেক খেয়েছ আজ৷" ম্যানেজার ছেলেটা হেসে বলল।
"চোপ শালা, ভুলে গেছিস আমি কে! বাঘ সব সময়ই বাঘ থাকে বুঝলি৷ " ঘোঁতন ধমকে উঠল। 
ঘোঁতন এলাকার একসাথে বাহুবলি ও অর্থশালী লোক। ম্যানেজার ছেলেটা কথা না বাড়িয়ে জলদি পিঠটান দিল। 

ঘোঁতন রাতের রাস্তায় এনফিল্ডের আওয়াজে পাড়া কাঁপিয়ে চলতে লাগল। ঢুলুঢুলু চোখে চালাতে কষ্টই হচ্ছিল। কবরখানার কাছে এসে কি একটা গাড়ির সামনে দিয়ে চলে গেল। আচমকা ব্রেক কষল ঘোঁতন। টাল সামলাতে না পেরে গাড়ি নিয়ে পড়ে গেল। পায়ে বেশ জোরে লেগেছে ঘোঁতনের। গাড়িটা দাঁড় করিয়ে ঘোঁতন বলল "নাঃ আজ আর গাড়ি চালানো যাবে না। নেশা বেশী হয়ে গেছে৷ "
এনফিল্ডটা চাবি দিয়ে দিল। 
"ফিরব কি করে?" কয়েকটা চেলা কে ফোন করল। কেউ ফোন ধরছে না। 
ঘোঁতন বলল " সব শালা বৌ এর আঁচলে ঢুকে আছে৷"
ঘোঁতন চারদিকে তাকিয়ে দেখল কবরখানার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কবরখানা টা পরিত্যক্ত। ইংরেজ আমলের। ঘোঁতনের মনে পড়ল কবরখানার পাশের রাস্তা দিয়ে গেল অন্তত হাফ কিলোমিটার শর্ট কাট হয়। কিন্তু ঐ রাস্তা দিয়ে কেউ যায় না তাই খুব ঝোপ ঝাড় হয়ে রয়েছ। সাপ থাকতে পারে। ঘোঁতন ঠিক করল কবরখানার পাশ দিয়েই যাবে। 

ঘোঁতন বড় রাস্তা ছেড়ে কবরখানার রাস্তা দিয়ে হাঁটতে শুরু করল। পায়ে ব্যাথা করছে, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে লাগল। মিনিট দুই হাঁটার মনে পড়ল কেন এই রাস্তা দিয়ে কেউ যায় না। এই কবরখানায় তো ভূতের গুজব আছে। মনে মনে হাসল ঘোঁতন "শালা লোক এমন বোকা...... " আর একটু এগোতে খুব ঠান্ডা অনুভব হল ঘোঁতনের। ঘোরের মধ্যে ঠান্ডাতে আমেজ আসছিল।
"এই গরমে রাতে এত ঠান্ডা লাগতে পারে, আ:৷" ঘোঁতন দেখল শরীরের রোম খাড়া হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ চোখে পড়ল একটা লোক খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কবরখানা থেকে বেড়িয়ে আসছে। একবার মাথাটা ঝাকিয়ে ভালো করে আলো আঁধারিতে দেখল ,হ্যাঁ একটা লোক কবরখানা থেকে বেড়িয়ে রাস্তায় উঠে ওর দিকে আসছে। লোকটার হাতে লম্বা মতো কিছু। ঘোঁতন বিপদের গন্ধ পেল। বিপদে ওর মাথা দ্রুত কাজ করে। ঠিক করল ও ফিরে যাবে। এই রাস্তাই যাবে না। ওর শত্রুর অভাব নেই। মদের ঘোরের মধ্যে কোন ঝামেলাই জড়াতে চায় না। 
"ঐ তো বড় রাস্তার মোড়। রাস্তার লাইট দেখা যাচ্ছে। " মনে মনে বলল ঘোঁতন। ঐ দিকে দ্রুত যেতে চেষ্টা করল। ঘোঁতন বুঝতে পারল লোকটা ওর পিছনে আসছে এবং খুব তাড়াতাড়ি আসছে। পিছনে তাকাই নি ও। তারপর শুনল
"ও দাদা বেশ তো আসছিলেন আমার দিকে, আজকে হঠাৎ উল্টো দিকে কেন?"
আওয়াজ একদম ঘাড়ের পিছন থেকে শুনল। চমকে উঠল। "শালা বড্ড তাড়াতাড়ি হাঁটে। মতলব কি কে জানে? " ঘোঁতন ভাবল। অচেনা আবোল তাবোল লোকের সাথে কথা বলে না ঘোঁতন। পিছনে না তাকিয়ে আবার চলতে থাকল। 
" ওকি আবার ও দিকে যাচ্ছেন! মজা করছেন নাকি? কোথায় যাচ্ছেন? "
পিছনে না তাকিয়ে ঘোঁতন বলল "বাড়ি৷"
লোকটা হেসে বলল "না: সত্যিই মজা করছেন, আমরা তো বাড়ি যেতে পারি না। আমার মতো খুঁড়িয়ে চলছেন কেন? "
ঘোঁতন হাঁটা না থামিয়ে বলল " পায়ে লেগেছে তাই, তো বাপু বাড়ি যেতে পারবো না কেন? "
লোকটা অট্টহাস্য দিল আর বলল " নাঃ আপনি মজা করছেন। আমরা তো এই রাস্তা আর কবর খানার বাইরে যেতে পারি না। আর পায়ে তো আমার সেদিন লেগেছিল, আপনার নই। হাঃ হাঃ আমাদের তো আর কোন ব্যথা লাগে না৷"
ঘোঁতন চলতে চলতে বলল " তুমি কে বলো তো বাপু, বাজে বকো কেন? পাগল ছাগল নাকি ? "
" আরে দাদা অনেক হয়েছে মজা। চলুন আমরা আমাদের কাজ টা করি। আর ওদিকে যাবেন না, জানেন তো বড় রাস্তার মোড়ে আমি যেতে পারি না৷"
হাঁটা না থামিয়ে ঘোঁতন বলল " তুমি পার না তো আমার কি? তোমার মতো পাগলের সাথে আমার কি কাজ?"
একটা অদ্ভুত পচা গন্ধ পেল ঘোঁতন। লোকটা কানের কাছে এসে বলল " বললাম তো বড় রাস্তার মোড়ে আমি যেতে পারি না, আর যাবেন না৷" তারপর আবার বলল "কি হয়েছে বলুন তো আপনার? চলুন দেরী হয়ে যাচ্ছে৷" 
ঘোঁতনের মাথা গরম হল।বলল " ভাট বকছিস কেন? কে রে তুই? "
পিছন ফিরল। দেখল দুই ফুট দূরে লোকটা দাঁড়িয়ে আছে। হাতে একটা বড় কোদাল। মুখ থেকে কোমর অবধি শুধু ছায়া, কিছু দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। একটা ছায়ামূর্তি। শুধু পাগুলো দেখা যাচ্ছে। পুরনো আমলের প্যান্ট পরে আছে। রক্তে ভিজে গেছে পুরো প্যান্ট। 
ঘোঁতনের মত শক্ত ছেলেরও মায়া হল। " কি হয়েছে রে তোর পায়ে?"
ছায়ামূর্তি হেসে বলল " সেদিন আপনি ঠিক এই রকম করেছিলেন আমাকে দেখে, শুধু জায়গা টা ছিল ঠিক কবরখানার দরজায়, তবে আপনি এ রকম তুই তোকারি করছেন কেন? "
ঘোঁতন বলল " ব্যথাই তোর মাথা গেছে, খুব ব্যথা করছে তোর?"
" না: সেদিন করেছিল, সেদিনের পর থেকে আর করে না৷ " ছায়ামূর্তি বলল। 
" আবার বাজে বকবক করছিস, চ তোকে হাসপাতালে নিয়ে যাব৷"
" তুই তোকারি করছেন কেন?আপনি তো আমাকে সম্মান দিয়ে কথা বলতেন, এমন কি ঐ দিনের পর ও৷" তারপর আবার খুব ব্যাস্ত হয়ে বলল " অনেক দেরী হয়ে গেল, আমারা আবার আগের জায়গায় ফিরে যায়, তারপর.. "
ঘোঁতন বলল " তারপর কি করবি? "
" আমি আপনাকে খুন করব৷" ছায়ামূর্তি অকপটে বলল। ঘোঁতন এখন ছায়ামূর্তির মুখ দেখতে পায় নি। এই শালা বলে কি? ঘোঁতন কৌতুক মিশ্রিত গলায় বলল "খুন!!! কেনো বে?"
ছায়ামূর্তি বলল " হ্যাঁ, গত কুড়ি বছর ধরে তাই তো করছি৷"
" কি করছিস?"ঘোঁতন অবাক।
" আরে দাদা আজ আপনি সব ভুলে গেছেন দেখছি"
ঘোঁতন বলল " হ্যাঁ শালা, ভুলে গেছি৷ " 
দীর্ঘশ্বাস ফেলার মত একটা আওয়াজ হল। পচা গন্ধ পেল আবার। "শালা চান করে না" ঘোঁতন ভাবল।
ছায়ামূর্তি বলতে শুরু করল " তাহলে মনে করায় আপনাকে, আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর আগে ইংরেজ আমলের কিছু পুরনো দস্তাবেজ, চিঠি ঘেঁটে জানতে পারি এই পরিত্যক্ত কবরখানার কিছু কবরে মূল্যবান কিছু মুদ্রা আর দামি রত্ন আছে। তাই একদিন রাতে চলে এলাম। কিন্তু কবর গুলো ভাঙতে গিয়ে একটা কবরের পাথর পায়ে পড়ে এই অবস্থা হল। প্রচন্ড যন্ত্রণা হচ্ছিল। সাহায্য করার জন্য আপনি এলেন, এই আজ যেমন আসছিলেন, তবে সেদিন আমার দিকে ছুটে এসেছিলেন সাহায্য করতে, কিন্তু আজ উল্টো দিকে চলতে লাগলেন। আপনি কে বলুন তো? " শেষের কথাটা ফিসফিস করে কানে বলে গেল কেউ যেন। 
ঘোঁতন বলল " এমনি তেই নেশার দফারফা হয়ে গেছে, বেশী না হ্যাজিয়ে বল তারপর কি হল৷"
" না আপনার ব্যবহার পরিবর্তন হয়েছে, তবে আপনি ছাড়া কেইবা আসবে এখানে এত রাতে৷ "ছায়ামূর্তি বলল। " বাকিটা মনে পড়ল, নাকি নিজের মুখে নিজের অপকর্মের কথা বলব হাঃ হাঃ " হাসি শুনল ঘোঁতন।
"ধুর পাগল৷" বলে ঘোঁতন আবার হাঁটা শুরু করল বড় রাস্তার দিকে।
"ঐ আবার ও দিকে যাচ্ছেন, জানেন তো আমি ওদিকে যেতে পারি না৷"
" আমার যে দিকে ইচ্ছে যাব, তুই তোর গুল গপ্পো টা শেষ কর তো৷"
ছায়ামূর্তি পিছন পিছন আসতে লাগল, আর "বাকিটা বলছি" বলে শুরু করল আবার " তারপর আপনি আমাকে একটু সেবা করলেন আর বিনিময়ে সব জানলেন আমার কীর্তি।আপনি ও আমার সাথে যোগদান করলেন। আমরা একসাথে সব গুপ্তধন বের করলাম। লোভে আপনার চোখ চকচক করছিল। আপনি কিছু করার আগেই এই কোদাল দিয়ে ঐ কবরখানার গেটে আপনাকে শেষ করে দিই৷" হাতের কোদাল নাচিয়ে ছায়ামূর্তি কাছে এল। 
ঘোঁতন প্রমাদ গুনল। বলল " কোদালটা ফেলে দে, মারবি নাকি আমাকে? "
ছায়ামূর্তি ফিসফিসিয়ে বলল " হ্যাঁ তো, আবার একই ঘটনা ঘটবে। আমি কবরখানায় যাচ্ছি। আপনি আবার রাস্তা থেকে আসুন। এই কবর খানার দরজায় আমাদের দেখা হবে, তারপর গুপ্তধন। তবে বড় রাস্তার মোড়ে যাবেন না আমি যেতে পারি না৷ "
ততক্ষণে বড় রাস্তার মোড়ের কাছে চলে এসেছে ঘোঁতন। 
একটা কুকুর ঘুমোচ্ছে ওখানে। 
ঘোঁতন বলল " আমাকে মারার পরিকল্পনা, তোকে কে পাঠিয়েছে?"
" পাঠাবে কেন আমি তো এইখানেই থাকি, মারার কোন পরিকল্পনা ছিল না, আপনি হঠাৎ এসে পড়লেন, তাই তো এসব হয়েছিল৷ "
" হয়েছিল তোর স্বপ্নে শালা। গল্প টা যেমন বানালি তো শেষ কর। আমার খুনের পর তুই কি করলি গুপ্তধন নিয়ে এই কবরখানাতেই পরে থাকলি?"

ছায়ামূর্তি চুপ। 
"কিরে বাকি গল্পটা বানাস নি। আমাকে ভয় দেখানো ওতো সোজা নয় বুঝলি৷"
" কি যে বলছেন আপনার আর কিসের ভয়, আসলে কোনদিন আমাকে কেউ এটা জিগ্গেস করে নি। অবশ্য সেদিনের পর থেকে আপনি আমার একমাত্র সঙ্গী। আপনিও কোনদিন করেন নি, তাই একটু অবাক হয়ে ছিলাম, আপনাকে বলব কি হয়েছিল৷"
ছায়ামূর্তি বলতে থাকল " ঐ পটলা সব শেষ করে দিল৷"
ঘোঁতন বলল " এই পটলাটা আবার কে? 
"আমার শাগরেদ ছিল। পরিমল দত্ত৷ "
"পরিমল দত্ত?"
"চিনতেন নাকি আগে থেকে?"
ঘোঁতন বলল " হ্যাঁ, চিনি তো একজনকে, তা কি করল আপনার পটলা?"
" ঐ শালা তো আমাকে পিছন থেকে মাথায় মারল, একেই পায়ে লেগে ছিল, পালাতে পারলাম না৷" 
" তারপর?"
" তারপর ঐ বিশ্বাসঘাতকটা সব নিয়ে চলে গেল, তবে ভুল করেছিল জানেন তো৷"
ঘোঁতনের মনে পড়ল সত্যিই পরিমল দত্ত অনেক দিন আগে হঠাৎ বড়লোক হয়। এই পাগলটা কে? জানে নাকি আরো কিছু। মুখে উৎকন্ঠা চেপে বলল "গল্প আরো আছে তোর?"
" আরে শুনুন তো, ও জানতো না ডবল দামী জিনিস এই খানে আছে৷"
"তাই ,কোথায় আছে?"
" ফয়েড সাহেবের কবরে আছে ,ঐ দেখুন কবরটা৷"
গুপ্তধনের কথায় ঘোঁতন উৎসাহিত হলো, দেখতে পেল ফয়েড সাহেবের কবর।
" হ্যাঁ ঐখানে ডবল দামী জিনিস আছে, শয়তানটা জানতো না, আমার সাথে থাকলে এমনিই অনেক কিছু পেত৷" তারপরে ই বলে উঠল "দাঁড়ান আর যেতে পারবো না৷"
ঘোঁতন বলল " কেন?"
" এই খানে আমি মারা গিয়েছিলাম, তাই এই টাই আমার লিমিট, ঐ শয়তানটাকে পেলে না..." কোদাল উঁচিয়ে দেখাল লোকটা। 
ঘোঁতন বলল " পটলাকে আর দেখতে পেয়েছিলেন?"
" না:, শয়তানটাকে পেলে অবশ্য মুন্ডু ছিড়ে নিতাম, প্রতিশোধ নিতাম ওর বংশের কাউকে পেলেও৷" হিসহিসিয়ে বলল ছায়ামূর্তি। 
ছায়ামূর্তি আবার আরম্ভ করল বলতে " দাদা আর যাবেন না, জানেন তো ঐ রাস্তার মোড়ে আমি যেতে পারি না৷ "
ঘোঁতন দেখল বড় রাস্তার মোড় আর পাঁচ মিটারের মধ্যে। 
ঘোঁতন বলল " তাহলে আমি কবর খানার রাস্তা দিয়ে আসছি। তুই কবরখানার ভিতরে চলে যা। " 
ছায়ামূর্তি খুশি হয়ে বলল " এই তো সব মনে পড়েছে দেখছি, আমি যাচ্ছি কবরখানার ভিতরে৷" তারপর যেতে লাগলো কবরখানার দিকে। তারপর চলেও গেল কবর খানার ভিতর। 
ঘোঁতন দেখল এই সুযোগ পাগলটার থেকে দূরে পালানোর। ও দৌড়ে গেল বড় রাস্তার মোড়ের দিকে। 
মোড়ে পৌচ্ছে কবরখানার রাস্তার দিকে তাকালো, দেখল ছায়ামূর্তি নিমেষে কবরখানার ভিতর থেকে চলে এসেছে এক ই জায়গায় আর বলছে " বড় রাস্তার মোড়ে আমি যেতে পারি না, আপনি চলে গেলেন যে, কে বলুন তো আপনি? "

ঘোঁতন একসাথে ভয় ও আনন্দ পেল। লোকটার যাওয়া আসা দেখে মনে হচ্ছে মানুষ নয়। আর মানুষ না হলে পরিমল দত্তের গুজব সত্যি। আর ফয়েড সাহেবের কবরের গুপ্তধন ও থাকবে। 

ঘোঁতন বলল " ওসব ছাড়ুন তো, পটলা কি সত্যিই ভুল করেছিল, ফয়েড সাহেবের কবরের গুপ্তধন সত্যিই আছে?" একটু আপনি করে কথা বলল লোকটাকে খুশি করতে।
"আলবাত আছে, তাতে আর আমাদের লাভ কি বলুন?"ছায়ামূর্তি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে বলল। সম্ভবত এগোতে পারছে না। 
ঘোঁতন একটু একটু করে আরো দূরে যেতে যেতে বলল " আসুন না এদিকে,ঐ বট গাছের তলায় বসি একটু৷ "
ছায়ামূর্তি আবার বলল " আরে আমি যেতে পারি না ওখানে, আপনি কি করে যাচ্ছেন জানি না। আপনি কি তবে সে নন। আপনি কে? "
ঘোঁতন নিশ্চিন্ত হল। মালটার নাগাল থেকে দূরে এসে গেছি, এবার পরিচয় দেওয়া যায়। বলল " বাবার ভুল আমি করছি না, বাবা থেকে দু গুন বড় লোক হবার ব্যবস্থা করে দিলি৷"
ছায়ামূর্তি বলল " কে বাবা? আপনি কে?"
বড় রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে ঘোঁতন হেসে বলল " তবে শোন তোর পটলা মানে পরিমল দত্ত হল আমার বাবা। আমি বাবার ভুলটা শুধরে নেব, বাকি যা আছে সেটা কাল সকালে তুলে নেব। তুই তো রাত ছাড়া আসতে পারবি না বল?"
ছায়ামূর্তি নিশ্চুপ হয়ে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে।
ঘোঁতন পিছন ফিরে বাড়ির দিকে যেতে লাগলো। 

তারপর হঠাৎ আবার সেই পচা গন্ধটা পেল ঘোঁতন, কানের কাছে ফিসফিসিয়ে কে যেন বলল 
"প্রথম থেকেই মনে হয়েছিল, পরিচয় টা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ ৷" আর তারপরেই কাঁধে একটা শক্ত হাতের অমানুষিক চাপ অনুভব করল। রক্ত মাংস হীন একটা হাত! ঘোঁতন দেখল ছায়ামূর্তি পিছনেই দাঁড়িয়ে আছে আর বলছে " বড় রাস্তার মোড়ে আমি কিন্তু আসতে পারি . ..."
মোড়ের কুকুরটা করুন স্বরে কেঁদে উঠল।












website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments