Header Ads Widget

বিভীষিকা

বিভীষিকা Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)





#ইভেন্ট_অরণ্যের_অন্ধকারে
#গল্প-বিভীষিকা
------------------------------

এলিজাভেদ কুবের রস তার লিখিত গ্রন্থ 'ডেথ এন্ড ডাইং ' এবং রেমন্ড মুডির 'লাইফ আফটার ডেথ ' বইতে এভাবেই লেখা ছিলো-"আত্মহত্যার ঘটনা ব্যাতিত আর সব ঘটনাগুলি অতি মনোহর অভিজ্ঞতার বর্ণনা মাত্র। আমি ডক্টর রোলিংস ।
মৃত্যু পথ যাত্রী রুগীরা যখন বলতো নরক দর্শন করছে তখন আমি এক লহমায় তাদের পাগল বলে উপেক্ষা করতাম। অথচ আজ সেই ভয়ঙ্কর অবাস্তব কথার মধ্যে নিজের অস্তিত্বকে মিশিয়ে আমি খুঁজে চলেছি একটা অবস্থান ।

প্রায় দুবছর আগের ঘটনা । আমার এক জাপানিস বন্ধু হুইচিং আমাকে একটা উপন্যাস দেয় । উপন্যাসটি বহু পুরোনো । সেইতো মাসতুমতোর নামে এক জাপানি লেখকের লেখা 'কুরোয় কাইজু '। গল্প পড়ার নেশা আমার বরাবরের তাই বইটা হাতে পেতেই পড়তে শুরু করি । গল্পের শেষে প্রেমিক প্রেমিকা জুটি জাপানের আওকিগাহারা

অরণ্যে গিয়ে আত্মহত্যা করে । আর তারপর থেকে এই অরণ্য আত্মহত্যার মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠে । শোনা যায় ওই অরণ্য নাকি সবাই কে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় । আমার বন্ধুটির মুখে এসব শুনে আর পুরোনো সংবাদ মাধ্যমে খবর গুলো পড়ে জায়গার প্রতি এক অমোঘ আকর্ষণে ঠিক করলাম আওকিগেহারার অরণ্যে একবার ঘুরে আসবো ।

আমার বন্ধু হুইচিং কিছুতেই রাজি ছিলোনা ওকে একপ্রকার জোর করে নিয়ে গিয়েছিলাম আর ফল স্বরূপ আজ ও হারিয়ে গেছে জীবন থেকে ।

দিনটা ছিলো 2018এর 2রা নভেম্বর । বেড়ানো এক উপযুক্ত আবহাওয়া । আমি আর হুইচিং প্রস্তুতি নিলাম জাপানের ফুজি পর্বতমালার উত্তর পশ্চিমে পঁয়ত্রিশ কিলোমিটার বিস্তৃত এই বিখ্যাত অরণ্যের উদ্যেশ্যে রওনা দেওয়ার জন্য । মনের মধ্যে ছিলো এক উত্তেজনা । এই অরণ্য পর্যটনের জন্য প্রসিদ্ধ তবে তা ভয়ঙ্কর । রোমাঞ্চকর এই অভিযানে আমার সাথে শুধু মাত্র একটা পিঠ ব্যাগ আর কিছু শুকনো খাবার,এই ছিলো সামগ্রী । হুইচিং তখনও আপত্তি সূচক মুখে বারবার বলতে চাইছিলো আমাদের বিপদের কথা কিন্তু একজন ডক্টর হয়ে অবৈজ্ঞানিক কথায় খুব একটা আমল দিতে চাইনি । তখন মনে হয়েছিল যেকোনো জায়গা প্রসিদ্ধ করতে এরকম অনেক গল্প উঠে আসে । সকাল সাতটা নাগাদ রওনা হলাম আমরা । ফুজি পাহাড়ে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সূর্য মধ্য গগনে । একটা পিন ড্রপ সাইলেন্স ঘিরে আছে গোটা অরণ্য । যেন পুরো অরণ্যতে সবাই মৃত । দিনের আলোতেই গা যেন ছমছম করে উঠলো । অরণ্যে ঢোকার আগে থেকেই হুইচিং যেন একটু বেশিই চুপচাপ হয়ে ছিলো । হয়তো এই অরণ্য ঘিরে যে গল্প আছে তার অতিমাত্রায় প্রভাব পড়েছিলো ওর ওপর । আমি কিন্তু ভীত ছিলাম না কিন্তু তবুও কেমন যেন অদ্ভুত অনুভূতি ঘিরে ছিলো চারপাশ ।

অরণ্যে ঢোকার মুখে একটা সাইন বোর্ড চোখে পড়তেই থমকে দাঁড়ালাম ।সাইন বোর্ডে লেখা আছে "আর একবার ভেবে দেখুন পরিবারের কথা " জাপান গভর্মেন্ট এর তরফ থেকে একটা সতর্ক বাণী । অদ্ভুত লাগলো এটা ভেবে যে মানুষ নিজের মৃত্যুর জন্য এতটা নির্জনতা বেছে নেয় । আমার শান্তি লাগছিলো । শহরের কোলাহল থেকে বহু দূরে এক স্বর্গে চলে এসেছি যেখানে কোনো চিন্তা নেই জোড়ালো শব্দ নেই শুধু আছে এক ভয়াবহ নির্জনতা । জঙ্গলের ভিতরে সূর্যের আলো নেই বললেই চলে তাই দিনের এই প্রখর রৌদ্রেও জঙ্গল অন্ধকার । সারি সারি গাছ আর ঝোঁপের মধ্যে হিংস্র প্রাণী লুকিয়ে থাকাটা খুব একটা অপ্রাসঙ্গিক নয়, তাই সাবধানে এগিয়ে চললাম আমরা । নভেম্বর মাসে এই অঞ্চলে শীতের প্রকোপ থাকে কম কিন্তু জঙ্গলের মধ্যে আমাদের ভীষণ ঠান্ডা লাগছিলো, মনে হচ্ছিলো বরফ পড়ছে, সেটা অবশ্য সূর্যের অল্প আলোর প্রবেশের কারণেও হতে পারে ।আমরা ক্রমশ এই ঘন অরণ্যের গভীরে সরু বাঁকা পথ ধরে এগিয়ে চলছিলাম ।রাতের অন্ধকারের আগেই একটা তাবু বানাতে হবে ।

একটা বিষয় অদ্ভুত লাগছিলো আমার, এখনো পর্যন্ত এই গভীর অরণ্যে একটা পাখির দেখাও মেলেনি । ওয়াইল্ড লাইফ এখানে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন । জেগে ওঠার কোনো সূত্র নেই ওদের । পুরো অরণ্যে এখন শুধু মাত্র আমরা দুটি প্রাণী । কিছু দূর যেতেই হুইচিং থামলো । তারপর আমার দিকে এগিয়ে এসে গা ঘেঁষে দাঁড়ালো । ওর মুখে একটা আতঙ্ক । কিছু একটা দেখাতে ও আঙ্গুল তুলেছে । ওর আঙ্গুল নির্দেশ করে তাকাতেই বুকের ভিতরটা হিম হয়ে গেলো । গাছের একটা ডাল থেকে ঝুলে আছে কঙ্কাল যার গলায় ফাঁস লাগানো । শরীরের চামড়া নেই । হয়তো পোকামাকড় সাবাড় করে গেছে। কিন্তু ধারে কাছে তাদের চিহ্ন নেই । দৃশ্যটা দেখে আমিও চমকে উঠি কিন্তু তবুও নিজের মনের সবটুকু ভয়কে সংযত করে হুইচিং কে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দি । বেশ কিছুটা যেতেই একটা ফাঁকা বাড়ি চোখে পরে । আমরা নিশ্চিত হই তাবু খাটানোর প্রয়োজন নেই । তবে এই গভীর অরণ্যে কে বা কারা বাড়ি বানিয়েছিলো তা আমাকে চিন্তিত করছিলো । আমার এই চিন্তাকে দূর করতে হুইচিং বলেছিলো একজন মহিলা শান্তির খোঁজে এই নির্জনতা কে বেছে নিয়েছিলেন তবে তিনি এই অরণ্যে আসার তিনদিন পর নিখোঁজ হয়ে যান। পরে তার দেহ ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় কিছু দূরে পরে থাকতে দেখা যায় অথচ মৃত্যুর কারণ কেউ বলতে পারেনি । কথাটা শুনে আমি কিছুক্ষণ চুপ করে যাই তারপর বাড়িটার দিকে এগিয়ে যাই । ছিমছাম কাঠের বাড়ি । দেখে মনে হয় যত্নে গোছানো হয়েছিল । এখন সেখানে আগাছা আর স্যাতস্যাতে হয়ে আছে । দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ততা ঘিরে ধরেছে বাড়িটা । আমরা একটি ঘর পরিষ্কার করে নিলাম থাকার জন্য । জঙ্গলের এতটা পথ আসায় বেশ খিদে পাচ্ছিলো তাই শুকনো খাবার দিয়ে খিদে মেটালাম । কিছু কাঠ জোগাড় করে ফাইয়ার প্লেসে আগুন জ্বালালাম । দেখতে দেখতে ঝুপ করে গাঢ় অন্ধকারে ঢেকে গেলো জঙ্গল । নিশ্ছিদ্র নিস্তব্ধতা, পাতা পড়লেও যেন আওয়াজ পাওয়া যাবে ।

আমি আর হুইচিং মুখোমুখি বসে একটু ড্রিঙ্কস করছিলাম আর পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করছিলাম । ঠিক সেই সময় মনে হলো ঘরের বাইরে একটা খস খস আওয়াজ । কেউ যেন হেঁটে একদিক থেকে আর এক দিক গেলো । আমি কান খাড়া করলাম,শব্দটা আর একবার শোনার জন্য। কিন্তু সে মুহূর্তে আবারও সব নিশ্চুপ হয়ে গেলো ।

নিজের মনের ভুল, এই ভেবে আবারও মন দিলাম তরল পানীয়তে । কিন্তু এ শব্দ যে আবারও হবে তার ধারণা ছিলো না আমার । এবার হুইচিং ও শুনতে পেলো শব্দটা । কিছুক্ষণের মধ্যেই শব্দটা আমাদের বাড়ির চারপাশটা ঘিরে ধরলো । আর তার তীব্রতা কান ভেদ করে আমাদের মস্তিষ্কে দাবামা বাজাচ্ছিলো । এক সাথে অনেক মানুষের যন্ত্রণার বহিরপ্রকাশ মস্তিষ্কের শিরা উপশিরা গুলোকে বিভ্রান্ত করছিলো । মনের ভিতরে প্রবল যন্ত্রণার সৃষ্টি করছিলো । আমি কান চাপা দিয়ে হুইচিং এর দিকে তাকাতেই দেখি, হুইচিং চিৎকার করে কাঁদছে আর মাথার চুল ধরে টানছে । আমি কানে হাত দিয়ে ওর দিকে এগিয়ে গেলাম ওকে শান্ত করতে কিন্তু অদ্ভুত ভাবে হুইচিং আমার হাত ছাড়িয়ে দরজা খুলে বেড়িয়ে গেলো বাইরে । গাঢ় অন্ধকারে প্রবল আওয়াজে সারা অরণ্য যেন জেগে উঠেছিলো মরণ খেলায়, আমি হুইচিং এর নাম ধরে ডাকতে ডাকতে বেড়িয়ে গিয়েছিলাম বাইরে হাতে ছিলো জোড়ালো একটা টর্চ । কিন্তু কোথায় কি নিমেষের মধ্যেই হুইচিং যেন জঙ্গলের অন্ধকারে হারিয়ে গেলো । বাড়িটা থেকে অনেক দূর পর্যন্ত ছুটে এসেছি কিন্তু কোথাও চিহ্ন নেই হুইচিং এর । শব্দটা যে থেমে গেছে সেটাও তখন অনুভব করতে পারছিনা ।গাঢ় অন্ধকারে এই শীতের রাতে দাঁড়িয়েও গা ঘামে ভিজে উঠেছে । মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে । স্নায়ু তন্ত্র ক্রমশ অসাড় হয়ে যাচ্ছে । এই ঘন অরণ্যে আমি পথ হারিয়েছি । পা দুটো যেন থমকে মাটির সাথে লেগে গেছে । শিরদাঁড়া দিয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে যাচ্ছে । হটাৎ মনে হলো আমাকে পালাতে হবে । নতুবা এই অরণ্য আমাকে গ্রাস করে নেবে ঠিক হুইচিং এর মতো । আমি পা নাড়ানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু মনে হলো কেউ যেন পিছন থেকে আমাকে চেপে ধরে রেখেছে । আর তার সেই শক্ত বাঁধনে আটকে পড়েছি আমি । শরীর তখনও থরথর করে কাঁপছে ।আমি টর্চ টা পায়ের দিকে দিতেই টর্চের আলোতে দেখলাম গাছের লতা তে নিজের পা আটকে ফেলেছি । দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে ছুটতে গিয়েই হয়তো এই বিপত্তি । নিচু হয়ে বসে পায়ের থেকে লতা গুল্ম গুলো ছাড়াতে লাগলাম । মুখের মধ্যে টর্চটা ধরা ছিলো । এক মনে যখন কাজটা সম্পন্ন করছি ঠিক তখন গাছের থেকে ঝুপ করে কিছু একটা পিঠে এসে পড়লো । আমি মুখ থুবড়ে পড়লাম আর টর্চটা নিভে গেলো ।

আচমকা সেই মুহূর্তে আমার মনে হলো আমি যেন মাটির গর্ভে ঢুকে যাচ্ছি, ভারি বস্তুটা এখনো আমার পিঠে । সাহস করে হাতটা পিঠে দিতেই গলা শুকিয়ে গেলো আর হৃৎপিণ্ডে রক্ত শূন্যতা অনুভব করলাম । আমার পিঠের ওপর যেটা পড়েছে সেটা একটা মৃতদেহ । তবে তার শরীর এখনো গরম আছে খুব বেশিক্ষণ হয়নি তার মৃত্যু । নিজেকে প্রবল নাড়া দিয়ে মাটি থেকে উঠিয়ে নিলাম তারপর হাতড়ে হাতড়ে টর্চ টাকে খুঁজতে লাগলাম । আমার মুখের থেকে ছিটকে কিছুদূরেই পরে ছিলো টর্চ টা । ওটা তুলে নাড়া দিতেই ফের জ্বলে উঠলো । টর্চের আলোতে মৃত দেহটা দেখে চমকে উঠলাম । জামা কাপড় না থাকলে, চিনতেই পারতাম না ওটা হুইচিং । বহুদিনের খিদে মেটাতে কেউ যেন ওর শরীরটা খুবলে খেয়েছে । নাক আর কান দিয়ে এক ধরণের সাদা পোকা বেড়িয়ে আসছে । দৃশ্যটা দেখে জ্ঞান শূন্য আমি ছুটতে লাগলাম । কিন্তু যত ছুটছি তত যেন গভীর জঙ্গলের ভিতরে ঢুকে যাচ্ছি । এমনিতেই এই জায়গাটা সি অফ ট্রি অর্থাৎ গাছের সমুদ্র হিসাবে বিখ্যাত । তাই অগণিত গাছের মাঝে এই ঘন অন্ধকারে নিজেকে ভীষণ অসহায় লাগছিলো । মনে হচ্ছিলো বোধহয় ফেরা হবেনা ।কতক্ষণ ছুটছিলাম জানা নেই । একসময় হটাৎ কিছুতে হোঁচট খেয়ে আবারও মুখ থুবড়ে পড়ে যাই । টর্চাটা হাতে শক্ত করে ধরা ছিলো তাই ওটার কোনো ক্ষতি হয়নি । বুকের ধুকপুকানি নিয়েই উঠে দাঁড়ায় আমি , টর্চের আলো চারিপাশে ফেলতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতোই লাফিয়ে উঠলো হৃৎপিণ্ড। আমার চারপাশ ঘিরে অগণিত মৃত মানুষ। যেন একটা ঠান্ডা ঘুমন্তের দেশে আমি দাঁড়িয়ে আছি । তারা যন্ত্রের মতো । তাদের ঠোঁট গুলো শুকনো পাতার মতোই খরখরে । চোখের কুঠুরিতে গাঢ় অন্ধকার । মাথা পর্যন্ত ঢাকা । গোলাকার অগ্নি কুন্ডের চারপাশে তারা ঘুরছে ।

ঠিক অগ্নি কুন্ড নয় পাতাল থেকে উঠে আসা আলোক রশ্মি ।

আমি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম । গাছের পাতা গুলো নড়ে উঠলো হঠাৎ তারপর তীব্র একটা শীতল বাষ্প আমার সারা শরীর ভার করে দিলো ।

আমি অনুভূতি শূন্য । মৃত দেহ গুলো এবার এগিয়ে আসতে থাকলো ধীরে ধীরে । আর তার সাথে সেই তীব্র আওয়াজ । মিলিত মানুষের তীব্র আর্তনাদ ।

আমার মস্তিষ্কের শিরা উপশিরা গুলো যেন ফুলে ফেঁপে উঠছিলো । এখনই ওগুলো ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবে । তবে কি আমিও শিকার হব?
ওদের চাউনিতে প্রখর দৃষ্টি ।
শব্দ আরও স্পষ্ট হতে লাগলো । ঠিক সে সময় দপ করে অন্ধকার চিরে জ্বলে উঠলো আলো । আর সেই ঝলসানো আলোর মধ্যেই ভেসে উঠলো তীক্ষ্ণ দু জোড়া চোখ ।
মাত্র এক সেকেন্ড এর মধ্যে ওই তীক্ষ্ণ চোখ উল্কাগতিতে ঝাঁপিয়ে পড়লো পাহাড়ি জঙ্গলের সেই তীব্র আর্তনাদের ওপর ।
তারপর আবার এক ভয়ঙ্কর নিস্তব্ধতা ।
আর সেই নিস্তব্ধতা আমার শরীরের রক্ত স্রোতের সাথে মিশে যাচ্ছিলো ক্রমশ । আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছিলো গোঙানির আওয়াজ টুকু । পাহাড়ি জঙ্গলে তার প্রতিধ্বনি সুর মূর্ছনার শব্দ সৃষ্টি করছিলো আর আমি আবেশে ডুবে যাচ্ছিলাম ক্রমশ ।
ঠান্ডা আরও তীব্র হচ্ছিলো । আমার মনে হচ্ছিলো আমি কোনো মেরুর প্রান্তিক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি ।
দাঁতে দাঁত লেগে আসছে । বাতাসে ক্রমান্বয়ে দম বন্ধ হয়ে আসছিলো ।
ঠিক সেই সময় একটা ঠান্ডা হাতের স্পর্শ পেলাম পিঠে ।
পিঠ নয় কাঁধেও অনুভব হচ্ছে স্পর্শ । তবে এটা হাত নয়, ঠান্ডা জিভ।
শরীর শিরশির করে উঠলো । গলাটা শুকিয়ে যাচ্ছে।
শরীরের সব শক্তি দিয়ে স্পর্শ টুকু ঠেলে সরিয়ে ছুটতে লাগলাম ।
পিছন পিছন বাতাসে ভর করে ধেয়ে আসছে সেই তীব্র আর্তনাদ ।
হটাৎ হোঁচট খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লাম আমি ।
চমকে তাকিয়ে দেখলাম একটা নীল রশ্মি আমার সারা শরীর আলোকিত করছে। আর সেই নীল রশ্মি ধরে একটা অবয়ব উঠে যাচ্ছে আকাশ পথে।
আমি সুস্থ হয়ে উঠছি ধীরে ধীরে ।
জন্ম মৃত্যুর মাঝে আমি । এই অরণ্যের পথে খুঁজে চলেছি মৃত্যুর পরের অবস্থান । ওই যে আমার সব মৃত্যু পথ যাত্রী রুগীরা বেঁচে উঠে বলছে নরক দর্শন করেছে তারা ।আমিও সেই পথে পার্থিব শরীর ত্যাগ করে ক্রমশ অবস্থান খুঁজে চলেছি তাদের ।
মৃত্যুর পরের যন্ত্রনা যে আরও তীব্র। সেই যন্ত্রনা মানুষের মস্তিস্ক ভেদ করে যখন প্রবেশ করে তখনই
হয় বিভীষিকা । এ অরণ্য সেই বিভীষিকা বহন করছে বহুদিন । আমি হুইচিং জঙ্গলের প্রত্যেকটা মৃতদেহ সবাই, একটা নির্দিষ্ট আশ্রয় খুঁজে চলেছি।
এ খোঁজ প্রত্যেকবার কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ ।
আমাদেরও যে খিদে হয় একটা তীব্র যন্ত্রণার খিদে।
(শেষ হয়েও কিছু গল্পের শেষ হয়না )

(সমাপ্ত )













website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments