Header Ads Widget

#জামাইষষ্ঠী

#জামাইষষ্ঠী Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)







#জামাইষষ্ঠী


- “মা, ওমা বড্ড ক্ষিদে পেয়েছে। একটু গরম গরম ভাত দাও না।”
- এখন না সোনা, আর একটু সবুর কর। এইত্তো আর একটু পরেই আমার কাজ শেষ হয়ে যাবে। তারপর বাবুদের রকমারি খাওয়ার গুলো পেটপুরে খাবি খন। কিন্তু কাজ শেষ না করলে যে, বাবুরা ভাত দেবে না।
আজ বাবুদের বাড়ি জামাইষষ্ঠী। নতুন জামাই বলে যে কথা। তাই সকাল থেকেই সারা বাড়ি শুদ্দু একেবারে হৈচৈ কাণ্ড। শাশুড়ীমা তার নবজামাই কে আশীর্বাদ করার জন্য তালপাখার ওপর সিঁদুরের ফোটা এঁকে ধান, দূর্ব,পাঁচরকম ফল সাজিয়ে রেখেছে। শুধু জামাই আর মেয়ে আসার অপেক্ষায়। অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে একটা রিক্সা প্যাঁপু প্যাঁপু করতে করতে রম্যনাথ বাবুদের গেটেটার সামনে এসে থামলো। রিক্সা থেকে নেমে এলো মেয়ে আর জামাই। জামাইবাবুর একহাতে একটা মিষ্টির হাঁড়ি। আর অন্য হাতে পদ্মার এক ইলিশ। ইলিলমাছটার কানকো তে সুতো বাঁধা। জামাইবাবু সুতোটা ধরে মাছটাকে দোলাতে দোলাতে নিয়ে আসছে। মাছের দুলুনির সাথে সাথে জামাই এর ভুঁড়িটাও দুলে চলেছে। তাই দেখে কঁচি কাঁচারা নতুন জামাই.....নতুন জামাই বলে সোরগোল জুড়ে দিয়েছে।

জামাই ভুঁড়ি খানাও বেশ বাগিয়েছে। মনে হচ্ছে এক্ষুনি যেন পাঞ্জাবী ছিঁড়ে ভুঁড়িটা বেরিয়ে আসবে। কোঁচানো ধুতির খুঁটটা পাঞ্জাবীর পকেটে গোঁজা আছে জমাই এর। ব্যাটা আজ খুব সাঁটাবে বলে মনে হচ্ছে।

মেয়ে জামাই ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই বেজে উঠলো উলুরব, শঙ্খধ্বনি। শ্বশুর,শাশুড়ী, আশপাশের শালা,শালিরা অানন্দে মেতে উঠেছে তাদের একমাত্র জামাই কে নিয়ে।

জামাই আপ্যায়ন শেষ করে শুরু হল খাওনদাওনের পর্ব। নকশাকাটা আসন পেতে দিলেন শাশুড়ী। শালিরা তালপাখায় বাতাস করছে তাদের জামাই রাজাকে। কাল রাতেই মেয়ের বাবা মানে রম্যনাথ বাবু গিন্নীকে বলে রেখেছে, জামাই আদরে যেন কোনো ক্ষুত না থাকে। আর সেই মতই চলছে জামাই আদর। জামাই এর সামনে একটা বড়ো ধরনের কাঁসার থালায় রয়েছে সরু চালের ভাত আর একফালি পতিলেবু। আর রয়েছে চৌদ্দ পদ দিয়ে অর্ধচন্দ্রাকারে সাজানো জামবাটি। একটায় গরমাগরম খাসির মাংশ। আর একটায় পাকা রুইয়ের ঝোল। দই, মিষ্টি, ফলফলাদি আরও কত কি। জামাই মহারাজের যে আর তর সইছে না। চোখের ক্ষিদে আর মুখে লাজ রেখে যে আর লাভ নেই। তাই জামাই বাবাজীবন যে আর অপেক্ষা করতে পারে না। কব্জিটা সে ডুবিয়েই দেয় মাংশের বাটিটায়। কব্জি ডোবাতেই উফফ! করে চিৎকার করে ওঠে জামাই। এই রে! জামাই যে ধোঁয়া ওঠা গরম মাংশের বাটিটায় কবজী ডুবিয়েছে।

এদিকে ক্ষুধার্ত ছোট্ট ছেলেটা একদৃষ্টে চেয়ে রয়েছে নানান পদের সুস্বাদু রান্না গুলোর দিকে। চোখের পাতা যেন আর পড়ে না। সুগন্ধী ঘ্রাণও আসছে তার নাকে। ছেলেটা তার মায়ের আঁচল টেনে বলছে, "মা, ওমা আর কতক্ষণ চলবে এই জামাই আদর? আর যে পারছি না। খুব যে ক্ষিদে পেয়েছে আমার। "

এক সময় জামাই আদর শেষ হলো। কিন্তু এই হৈহুল্লোড়ের মাঝে রম্যনাথ বাবুর পরিবারেরা প্রায় ভুলতেই বসেছে তাদের কাজের বউ ও তার ছোট্ট ছেলেটাকে।

কিন্তু এত হৈহুল্লোড়, এত আনন্দের মাঝে হঠাতই এক নিরানন্দ হয়ে বসলো। ছোট্ট ছেলেটাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে মায়ের মন চনমন করে ওঠে। ছোট্ট ছেলেটা যে কোথায় গোলো সে নিয়েও কোনো মাথা ব্যথা নেই রম্যনাথ বাবুদের। তারা তো মেতে রয়েছে তাদের নতুন জামাই কে নিয়েই।

দিনান্তে প্রায় নষ্ট হয়ে যাওয়া কিছু অবশিষ্ট খাওয়ারের একটা পুঁটুলি হাতে দিয়ে কাজের মাসিকে বিদায় জানাল তারা। এদিকে পাগলের মত ছোট্ট ছেলেটাকেে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে ছেলেটার মা।

খোঁজ.....খোঁজ.....খোঁজ! অবশেষে খোঁজ পাওয়া গেলো তার। এতক্ষণ ধরে ক্ষিদের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে জামাইয়ের ঐ ডাষ্টবিনে ফেলে দেওয়া এঁটোকুটো গুলো চেটে চেটে পরিস্কার করছিল ক্ষুধার্ত সেই ছোট্ট ছেলেটা। মায়ের চোখ ছলছল করে ওঠে। কোলে তুলে নেয় তার ছোট্ট ছেলেকে।

“আর একটু কষ্ট করতে পারলি না পুকাই। এই দ্যাখ বাবুরা কত্ত কত্ত ভালোমন্দ খাওয়ার দিয়েছে। নে বাবা, এইবার খেয়ে নে। বড্ড যে ক্ষিদেতে কষ্ট পাচ্ছিলিস তুই।”এই বলে মাসি পুঁটুলিটা খুললো।

- আমার ক্ষিদেই তো আর নেই মা। জানিনা কেমন করে যেন পেটটা ভরে গেল। কিছুই যেন আর খেতে ইচ্ছে করছে না।

পুকাই অমন করে না বাবা। সেই তো সকাল থেকে না খেয়ে রয়েছিস তুই।

- “আমি পুকাই নই মা। আমি তো টুকাই। কি মজা! কি মজা! এবারো তোমায় গোলকধাঁধায় ফেললাম তো মা।” এই বলে দু-হাতে তালি দিয়ে ওঠে পুকাই।
- কি বলছিস কি তুই? তুই যদি টুকাই হোস, তবে পুকাই কই?

- ঐতো তোমার পেছনে।

মাসি পেছন ফিরতেই হঠাৎই কেমন শূন্য হয়ে গেলো মাসির কোলটা। আর দেখা গেল না টুকাই কে। এদিকে দুর ধান ক্ষেতের আলপথ ধরে ছুটতে ছুটতে আসতে থাকে পুকাই। এসে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে।

“এতক্ষণ ধরে কোথায় ছিলিস বাবা”-পুকাই এর মা জিজ্ঞেস করে
- মা দেখতে পাচ্ছো? ঐ যে দূরে ধানক্ষেত টা। সেইখানেই তো এতক্ষণ ধরে ধান কাটা দেখছিলাম আমি।”

কিছুই যেন বুঝে উঠতে পারে না পুকাই এর মা। স্মৃতির স্মরণী বেয়ে বছর খানিক পেছনে ফিরে যায় সে।

ঠিক এরকমই একদিন জামাইষষ্ঠীর দিন একমুঠো অন্নের জন্য মারা গেছিলো তার ছোট ছেলে টুকাই। তারপর কোনমতে বাবুদের বাড়িতে বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে অতি কষ্টে বাঁচিয়ে রেখেছে পুকাই কে। পুকাই আর টুকাই ওরা দুজন যমজ ভাই।

এক ভাই না খেয়ে থাকলে অন্য ভাইয়ের ও ক্ষিদ লাগতো না। একজনের অসুখ করলে অন্য জনেরও অসুখ করতো। অন্য ভাই খেলে আর এক ভাইয়ের পেট ভরে যেতো। এই রকমই মিল ছিলো টুকাই আর পুকাই এর। মাঝে মাঝে ওরা তার গর্ভধারিনী মাকেও গোলকধাঁধায় ফেলে দিতো। ওদের মাও এক এক সময় ভুল করতো তাদের চিনতে। কে টুকাই আর কেইবা পুকাই।

চোখের জল মুছতে মুছতে পুকাই এর মা পুকাইকে কোলে তুলে নিলো। খাওয়ারের পুঁটুলিটা হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চললো তাদের বস্তির দিকে। (Repost)

******( সমাপ্ত )******











website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments