মেকানিক Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
#সত্য_ঘটনা_অবলম্বনে
অনেকদিন পর আজ লিখতে বসলাম... শারীরিক দুর্বলতার জন্য এতদিন লিখতে পারিনি... বাড়িতে তিনজন কোভিড আক্রান্ত এটাও একটা কারন... কিন্তু মন ভালো করার জন্য এটা একটা ভালো উপায়... যাই হোক.... শুরু করি আজকের গল্প...এটাকে গল্প বলা যায় কিনা জানিনা... আমার সাথে ঘটা একটা ছোট্ট ঘটনা বলি...
আমি প্রায় আঠারো বছর যাবৎ নাট্যচর্চার সাথে যুক্ত... আগে প্রায়দিনই বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠান করে বেড়াতাম... এখন কাজের চাপে অত অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়ে ওঠেনা... সালটা ছিল 2013 আমি আর আমার টিম পুরুলিয়ায় গিয়েছিলাম অনুষ্ঠান করতে...শীতকাল ছিল...কনকনে ঠান্ডা পুরুলিয়ায় তখন... সব মিলিয়ে প্রায় দশ জন ছিলাম আমরা.. অনুষ্ঠান শেষ হতে প্রায় রাত হয়ে গিয়েছিলো... তো সবাই মিলে ঠিক করলাম আজকের রাতটা এখানেই থেকে পরের দিন সকালে রওনা হবো... কিন্তু পরের দিন আমাদের আর একটা অনুষ্ঠান থাকার কারনে অগত্যা থাকা আর হলোনা... গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পরলাম... গাড়ির ড্রাইভার দাদা বেশ কায়দায় গাড়ি চালিয়ে নিয়ে আসছিলেন.. আমার বেশ খানিকটা তন্দ্রা এসে গিয়েছিলো... প্রায় ঘুমিয়েই পরেছিলাম গাড়িতে বসে.. সবাই যে যার মতো গল্প গুজব করছিলো... হঠাৎ একটা জায়গায় এসে বিকট একটা শব্দ করে গাড়িটা দাঁড়িয়ে গেল... হঠাৎ ঝাঁকুনি লাগাতে আমার ঘুমটা গেল চটকে... বিক্ষিপ্ত মেজাজ নিয়ে উঠে বসে জিজ্ঞাসা করতে জানলাম গাড়ি খারাপ হয়ে গেছে... গাড়ির ক্লাচবেল্ট ছিঁড়ে গেছে... বাইরে কনকনে ঠান্ডা... অগত্যা গাড়ি থেকে সবাই নেমে পরলাম... আসে পাশে তাকিয়ে অন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখতে পেলাম না...হাতে টর্চ নিয়ে এদিক ওদিক খুঁজতে লাগলাম যদি কারোর দেখা পাই... কিন্তু ওই ঠান্ডায় রাস্তায় একটা বিড়াল কুকুর অবধি দেখতে পেলাম না.. মানুষ তো দুরের কথা... সবাই আলোচনা করতে লাগলাম কি করা যেতে পারে...এখানে রাত কাটানো বিপজ্জনক হতে পারে... আমি আর আমাদের ডিরেক্টর দাদা এদিক ওদিক খুঁজতে খুঁজতে বেশ খানিকটা এগিয়ে গেলাম... অন্ধকারে ঠিক কতটা এগিয়েছি খেয়াল নেই এমন সময় রাস্তার বামদিকে একটা মোমবাতির আলো দেখতে পেলাম... দুর থেকে মনে হলো বোধহয় কোন দোকান হবে... মোমবাতির আলো লক্ষ করে এগিয়ে গেলাম... দেখলাম ছোট্ট একটা গুমটি মতো দোকান... গুঠখার প্যাকেট গুলো ঝুলতে দেখে বুঝলাম চায়ের দোকান হবে হয়তো...দুজনে টর্চের আলো ফেলে এগিয়ে গেলাম। দোকানের সামনে কাউকে দেখতে না পেয়ে সাড়া নিলাম "কেউ আছেন"? দুই তিনবার ডাকার পর একটা লোক অন্ধকার থেকে আলোয় এলো... মুখটা ঠিক করে দেখতে না পেলেও জিজ্ঞাসা করলাম এখানে কোন মেকানিক পাওয়া যাবে?? আমরা কোলকাতা থেকে এসেছি ইত্যাদি ঘটনা বললাম.... দোকানী খানিক মুখের দিকে তাকিয়ে বললো রবি বলে একজন আছে... গাড়ি ভালো সাড়ায় বলে রাস্তার উল্টোদিকে একটা ঘর দেখালো... আশ্চর্য দোকানটা চোখে পড়লেও ঘরটা দেখতেই পাইনি এতক্ষন...এদিকে অনেকটা সময় কেটে গেছে ফোনে নেটওয়ার্ক না থাকায় বাকিদের সাথে যোগাযোগ ও করতে পারছিনা... যাইহোক আমি আর বিজয়দা (ডিরেক্টর) এগিয়ে গেলাম ঘরটার দিকে... কাছে গিয়ে ডাকতেই একটা মাঝবয়সী ছেলে বেড়িয়ে এলো...তাকে সবটা বলতেই সে বললো ঠিক আছে আমি ঠিক করে দেবো... বললো আপনারা গাড়িটা ঠেলে এই অবধি আনুন আমি দেখছি... লোকটার কথা শুনে মনটা লাফিয়ে উঠলো....আমরা দুজন তাড়াতাড়ি গাড়ির কাছে ফিরে এলাম... সবাইকে বললাম বেপারটা সবাই রাজি হলো... তারপর আমরা সবাই গাড়িটাকে ঠেলে সেই জায়গায় আনতেই দেখি ওই লোকটা একটা ব্যাগ হাতে করে দাঁড়িয়ে আছে... গাড়ি ঠেলতে গিয়ে সবাই ঘেমে গেছিলাম ওই ঠান্ডাতেও... গাড়ির ড্রাইভার টর্চের আলো দেখালো আর লোকটা গাড়ি মেরামত করতে লাগলো... আমরা ততক্ষন চায়ের দোকানটাতে বসলাম... চা আছে কিনা জিজ্ঞাসা করাতে দোকানী বললো না চা হবে না...অগত্যা চুপচাপ বসে থাকা ছাড়া গতি নেই... প্রায় আধঘন্টা চেষ্টা করার পর ড্রাইভার জানালো গাড়ি ঠিক হয়েছে... কিন্তু মেকানিককে দেখতে না পেয়ে ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করতে সে বললো বাড়িতে ব্যাগ রাখতে গেছে... আমরা টাকা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম.. প্রায় দশ মিনিট কেটে গেছে কিন্তু লোকটার পাত্তা নেই দেখে আমরা দুজন আবার লোকটার বাড়ির সামনে গিয়ে ডাকতে লাগলাম...কিন্তু কোন সাড়া নেই... বার পঁচিশ ডাকার পরও কোন সাড়া না পেয়ে একটু অবাক লাগলো... একটু গা টা ছমছম করেও উঠলো... এতক্ষন পর খেয়াল হলো যেখানে কোন লোকজন নেই সেখানে এরকম একটা ঘর একটা দোকান বুকটা ছ্যাঁত করে উঠলো... তাড়াতাড়ি গাড়িতে এসে বসেই ড্রাইভার দাদাকে গাড়ি স্টার্ট দিতে বললাম... এতক্ষন গাড়িটা পুরো মরার মতো হয়েছিলো... স্টার্ট দিতেই ঘ্যাচাং ঘ্যাচাং শব্দ করে স্টার্ট নিলো.... গাড়ির হেডলাইট জালাতেই সামনের রাস্তা আলোকিত হয়ে গেল.. কিন্তু একি!! এখানে দুদিকে জঙ্গল ছাড়া কিছুই নেই... না কোন দোকান না কোন বাড়ি... ওই ঠান্ডাতেও সবাই দরদর করে ঘামছি... গাড়ি স্টার্ট করতেই সোজা হু হু করে গাড়ি ছোটালেন ড্রাইভার দাদা... কোলকাতা ঢুকে স্বস্তি পেলাম...কিন্তু এই ঘটনাটা কাউকেই আজ অবধি বলিনি...পরের দিনের অনুষ্ঠান টাও ক্যানসেল করে দিয়েছিলাম সেইবার.... সবাই একটা আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম.... শুধু মনে মনে বিশ্বাস করেছিলাম মানুষ বিপদে পরলে ঠিক বিপদ থেকে উদ্ধার হওয়ার রাস্তাও থাকে....
।।সমাপ্ত।।
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments