Header Ads Widget

সর্বান্তকরণে

সর্বান্তকরণে Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)





#গল্প 

                                                    #সর্বান্তকরণে
                                                       

       রাত তখন ২:২০, রনজয়বাবুর ঘুমটা আজও ভেঙে গেল।। আজ রনজয় বাবুর স্ত্রী, সুরঞ্জনাদেবী গত হয়েছেন চার দিন হল, ঠিক রাত ২:২০-তে।। তার পর থেকেই রনজয়বাবুর ঘুমটা প্রত্যেকদিন রাত্রে ওই সময়ে ভেঙে যায়।। বিমর্ষ, ভারাক্রান্ত ও বিষণ্ণতায় তাঁর চোখ ছলছল করে উঠলো, "সঞ্জু, এই গোটা পৃথিবীতে আমাকে একা ফেলে রাখার কোনো প্রয়োজন ছিল?? কথা দিয়েও কেন রাখলে না??" অজান্তেই তাঁর গলা থেকে কথাগুলো বেরিয়ে এলো।। সুরঞ্জনাদেবীকে তিনি খুব ভালোবাসতেন, পঞ্চাশ বছরের দাম্পত্য জীবন তাঁদের, বিশেষ করে বছর সাতেক আগের সেই মর্মান্তিক রাতের পর থেকে ভালবাসাটা যেন চারগুণ বেড়ে গেছে।। 
           অনেক স্বপ্ন ছিল তাঁদের, একমাত্র সন্তান অমিয়কে বিদেশে ডাক্তারী পড়ানোর জন্য তাঁদের এই সাত পুরুষের সাতমহলা ভিটের অনেকখানি বিক্রি করতে হয়েছিল।। একসময় প্রচুর প্রতিপত্তি ছিল তাঁদের, তখন রনজয়বাবুর পূর্বপুরুষরা এই নির্জন জনমানবহীন প্রদেশে বসবাস করতে শুরু করেন, আশা ছিল এই নির্জন স্থানে একটা জমিদারি প্রথা চালু করবেন, কিন্তু হায়, যখন রনজয় বাবু নেহাতই কোলের শিশু, তারআগে থেকেই তাদের অবস্থা পড়তে থাকে।। শেষে এই বাড়িটুকুই যা সহায় সম্বল হিসেবে ছিল, তাও ছেলেকে বিদেশে পড়তে পাঠানোর জন্য, এই দুটো ঘর ছাড়া পুরো বাড়িটাকেই বিক্রি করে দিতে হয়েছিল।। সেও দশ বছর হয়ে গেলো, বিদেশ যাওয়ার পথে বিমান দুর্ঘটনায় তাঁদের একমাত্র সন্তান অমিয় মারা যায়, তারপর থেকে তাঁরা দুইটি প্রানী এইঘর দুটো জুড়ে ছিলেন।। তাঁর স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ঘরটা যেন আরও খালি হয়ে গেছে।।
সুরঞ্জনা দেবী রনজয় বাবুকে কোনদিন চোখের আড়াল করতেন না, তাই কিভাবে ভাত ফুটিয়ে খেতে হয় সেটুকু পর্যন্ত রনজয় বাবুকে জানতে হয়নি।। সুরঞ্জনা দেবীর মৃত্যুর দু'দিন আগে থেকে তাঁর পেটে খাবার জোটেনি, অসুস্থ শরীরেও সুরঞ্জনা দেবী দুটি চাল ফুটিয়ে দিতে গিয়েও পারেননি, ঘরে সে মুহূর্তে চালও মজুত না থাকায় তাঁদের খাওয়া আর হয় নি।। সুরঞ্জনা দেবীর মৃতদেহ বাড়ির এককোনে সৎকার করার পর, এই চার দিন ধরে তিনি শুধুমাত্র বাড়ির উঠোন সংলগ্ন কুয়োর জলই খেয়েছেন।। 
  আজও তার ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর কুঁজো থেকে গড়িয়ে এক গ্লাস জল খেতে ইচ্ছে করল।। চারিদিকে একটা ফুরফুরে হাওয়া বইছে, ঘরটা একটা মিষ্টি চিরপরিচিত গন্ধে ভরে উঠেছে।। তিনি বুঝতে পারলেন, তিনি আর ঘরে একা নেই।। পিছনে ঘুরে দেখলেন সুরঞ্জনা দেবীর আবছায়া মুর্তি দাঁড়িয়ে আছে।। "কিগো, খুব কষ্ট দিলাম বলো!! সাত বছর আগে তোমায় বলেছিলাম না তোমাকে কখনই একা ফেলে রেখেও যাব না, একা যেতেও দেবো না।। আজ প্রতিশ্রুতি রাখতে ফিরে এলাম।।", সুরঞ্জনা দেবীর ছায়ামুর্তি বললেন।। শুনে রনজয় বাবুর সাত বছর আগেকার কথা মনে পড়ে গেল, সেদিন রাত্রিবেলায় তিনি বসন্তর প্রচন্ড মারন যন্ত্রনায় ছটফট করছিলেন, সহায়-সম্বলহীন সুরঞ্জনা দেবী অসহায় অবস্থায় দিনরাত তাঁর সেবা শুশ্রূষা করে দিন চারেকের মাথায় তাঁকে সুস্থ করে তুলে ঠাট্টা করে কথাটা বলেছিলেন।। "চলো, দেরী হয়ে যাচ্ছে তো !!", সুরঞ্জনা দেবী বললেন।। রনজয় বাবু মৃদু হেসে উঠে দাঁড়ালেন, সুরঞ্জনা দেবীর হাত ধরে দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেলেন।।
 পিছনে পড়ে থাকল অজস্র স্মৃতি মাখা তাঁর ঠান্ডা শীতল জরাজীর্ণ দেহটা।।

বি দ্রঃ: ভুল ত্রুটি মার্জনীয় 🙏🙏🙏













website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments