মোবাইল Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
মোবাইল॥॥॥॥॥॥॥॥॥ অনিরুদ্ধ বাবুর বাবা মা মরা এক নাতনী সম্বল।নাতনীর যখন দুবছর বয়স তখন অনিরুদ্ধ বাবুর এক মাত্র ছেলে রাকেশ ও তার বউ নিপা গাড়ী দুর্ঘটনায় মারা যায়।সেই থেকেই বাবা মা মরা নাতনিকে বুকে আগলে মানুষ করে চলেছেন বৃদ্ধ অনিরুদ্ধ বাবু এবং বৃদ্ধা মনীষা দেবী। বুকে পাথর চাপা দিয়ে নাতনিকে মনের মত মানুষ করতে চান এই দুই বৃদ্ধ বৃদ্ধা ।ছেলে ও বউয়ের নামের আদ্যাক্ষরের প্রথম দুটোনিয়ে নাম রেখেছেন রানী।রানীর এখন ক্লাস ফোর,পড়া শোনায় বেশ মনোযোগী-তার দাদুই তাকেপড়ান।স্কুলেও সব ম্যাম রা ভালোবাসে।এইভাবেই সে বড় হতে লাগলো। আর কিছু দিনের মধ্যেসে এগারোবছরে পা রাখবে জন্মদিনেরানী হঠাত্ করে তার দাদুর কাছে একটা মোবাইল চেয়ে বসলো।দাদু পেন্সানার তিনি নাতনীর আবদার শুনে প্রথমে একটু চমকে উঠলেন এবং ভাবলেন এতো টাকা কোথায় পাবেন।রানীর বাবা মা অনেক টাকা রেখে গেছেন কিন্তু নীর্লোভ বৃদ্ধ মানুষটি সব টাকা রানীর নামে ফিক্স ডিপোজিট করে রেখেছেন । আর মাত্র সাতদিন বাকি জন্মদিনের এর মধ্যে মোবাইলটা কিনতে হবে, সেটা কী করে সম্ভব? সাত পাঁচ ভেবে দোকানে গেলেন দর দাম জানতে।যেটাই দেখাচ্ছে সেটাই বাজেটের বাইরে, কী করবেন ভাবতে লাগলেন।তখন দোকানদার জিজ্ঞেস করলো, দাদু আপনার বাজেট কত, অনিরুদ্ধ বাবু বললেন, খুব বেশী নয় এই হাজার দুয়েক টাকার মত।দোকানদার বললো, আগে বলবেন তো বলেই ছোট সাইজের মোবাইল বের করে দিলো। দাদু বললেন, না এরকম জিনিষ নয় বলে হাতের সাইজ দেখালেন, দোকানদার বললো যেটা চাইছেন সেটাকে ট্যাব বলে ,সেই জিনিষ কী অত অল্প দামে পাওয়া যায় এই বলে দোকানদার জিনিষ গোছাতে লাগলো।অনিরুদ্ধ বাবুও বাড়ীর পথ ধরলেন।হঠাত্ দোকানদার অনিরুদ্ধ বাবুকে, ও দাদু একটু শুনে যান, দাদু ফিরে গেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন আবার ডাকলেন কেন? একটু দাঁড়ান ,এই বলে দোকানদার ওর সহকারীকে বললো, হ্যারে সেদিন যে মহিলা ফোনটা দিয়ে গিয়েছিলো সেটা নিয়ে আয়।ছেলেটি ফোনটা এনে দিলে দোকানী বললো দেখুন দাদু, যার ফোন সে বলে গেছে ফোনটা যে রকম দাম হোক বেচে দিতে সেজন্যই আপনাকে ডাকলাম।আপনার বাজেট কম অথচ বড় ফোন চাই দেখুন এটা নেবেনকিনা ,আপনার বাজেটেই হয়ে যাবে॥ অনিরুদ্ধ বাবু ট্যাবটি হাতে নিয়ে উল্টে পাল্টে দেখে বললেন,দেখুন ভাই আমি এসবের কিছু বুঝিনা তবে খটকা একটা লাগছে বলবো, দোকানী বললো বলুন দাদু বললেন, এতো দামী ফোন এতো অল্প টাকায় দিয়ে দিচ্ছেন তাই মনে হচ্ছে ফোন ঠিক আছে তো? দোকানী বললো দাঁড়ান আপনাকে দেখিয়ে দিচ্ছি-,এই বলে ফোন অন করে দেখিয়ে দিলে দাদু একটু নিশ্চিন্ত হলেন, ফোন প্যাক করে দিলে মনের আনন্দে বাড়ীর পথ ধরলেন। মোবাইল টাকে লুকিয়ে ঘরে ঢুকে দীদুন বলে ডাকলেন, রানী ছুটে এসে দাদুকে জড়িয়ে ধরে বললো, ফোন এনেছ দাদাই।দাদু হেসে বললেন, কেন ভাই আজ কী আমার ফোন আনার কথা ছিলো? রানীর মুখটা ম্লান হয়ে গেলে দাদু হেসে প্যাকেটটা বার করে রানীর হাতে দিলেন।রানী না দেখেই একপাক নেচে বলে উঠলো আমার দাদাই বেস্ট। মনীষা দেবী আড়ালে জিজ্ঞেস করলেন, হ্যাগো কত দাম নিল, অনিরুদ্ধ বাবু বললেন বাজেটের মধ্যেই হয়ে গেছে চিন্তা করোনা।ট্যাব নিয়ে রানী নিজের ঘরে ঢুকে উপুড় হয়ে ট্যাবটা অন করলো, অন করার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠলো একটা কিউট বার্ব্বী পুতুলের ছবি।রানী আনন্দে হাত তালি দিয়ে উঠলো কী সুন্দর দেখতে, সব চেয়ে সুন্দর পুতুলের নীল চোখ দুটো।মনে হয় জীবন্ত এখনি কথা বলে ফেলবে। ও একটা কথা লেখা হয়নি, রানীর একটা পুষ্যি বেড়াল ছিলো, সাদা ধবধবে একদম তুলোর মত রানী পড়ার ফাঁকে ম্যাও কে নিয়ে খেলতো ।রাতে ঘুমত ওকে জড়িয়ে।সেদিন রাতে খেয়ে রানী তাড়াতাড়ি ডল কে নিয়ে শুয়ে ট্যাব্টা অন করলো কিন্তু রাতে ডলটার নীলচোখের ভাষা যেন কী ভাবে পাল্টে গেলো।রানী ডলের চোখ থেকে চোখ সরাতে পারলো না, ক্রমশঃ রানী নিস্তেজ হয়ে পড়লো। সকালে ঘুম ভাঙলো দাদু দিদার কথায়, কান খাঁড়া করে শুনলো, দিদার গলা কে করতে পারে এমন কাজ, আহারেম্যাও টাকে কে এমন করে মারলো।এই কথা শুনে রানী লাফ দিয়ে যেখানে কথা হচ্ছে সেখানে গিয়ে দেখলো ম্যাও ঘাড় মটকানো অবস্থায় মরে পড়ে আছে।রানী গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো ম্যাওর উপর, তার পর হাপুস নয়নে কাঁদতে লাগলো।অনেকক্ষণ পরে রানী ঘরে এসে ট্যাব অন করে ডল কে ম্যাও এর কথা বলতে গিয়ে লক্ষ্য করলো ডল এর মুখের পাশে কী যেন লেগে আছে, হাত দিয়ে তুলে আনতে গিয়ে দেখলো কত গুলো সাদা লোম। রানী অত খেয়াল না করে পুতুলকে ম্যাও এর কথা বলতে লাগলো।যাইহোক রানীর জন্মদিন ভালো ভাবেই পালন করা হলো, রানী খুব খুশী।দুপুরে মাংস রান্না হলো রানী প্রচন্ড খুশী হয়ে ভাত খেলো তারপর পুতুলকে নিয়ে শুয়ে পড়লো।বিকেল বেলায় পুতুলকে নিয়ে পড়তে বসলো।ট্যাব কেনাতে রানী এখন অন লাইন ক্লাস করতে পারছে কিন্তু ক্লাস করতে গিয়ে বারবার ট্যাব ওফ হয়ে যায়, এতে রানীর পড়ার খুব অসুবিধা হতে লাগলো। রানী ছোট হলেও ওর মনে একটা প্রশ্ন জেগে ওঠে,ও যখনই ট্যাব অন করে পুতুলটার নীল চোখের দিকে তাকায় তখনই ও নিজে কেমন যেন হয়ে যায়, কিছুক্ষণ পরে ওর কিছু মনে থাকেনা।সেদিন রাতে আবারও মাংস ভাত খেয়ে রানী পুতুল টাকে নিয়ে কিছুক্ষণের জন্য খেলতে বসলো, ট্যাব অন করার সঙ্গে সঙ্গে ডলের ছবি ভেসে উঠতেই ওর নীল চোখ দুটো জ্বল জ্বল করে উঠলো। রানী একদৃষ্টে চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো।আস্তে আস্তে রানী উঠে দাঁড়ালো, দেখে মনে হচ্ছে রানীর কোন চেতনা নেই।রানী পুতুল টাকে সঙ্গে নিয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে মনীষা দেবীর ঘরে ঢুকলো।সকাল হলে অনিরুদ্ধ বাবু মনীষা দেবীর নাম ধরে ডাকতে লাগলেন, কী গো তুমি আজ এখনও চা দিলে না।সাড়া শব্দ না পেয়ে অনিরুদ্ধ বাবু মনীষা দেবীর ঘরে গিয়ে চমকে উঠলেন দেখলেন যে ভাবে বিড়ালটাকে মারা হয়ে ছিলো তেমনি ঘাড় মটকানো অবস্থায় মনীষা দেবী পড়ে আছেন। অনিরুদ্ধ বাবু হতচকিত হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন তারপর কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন।রানীছুটে এসে এই দৃশ্য দেখে চিত্কার করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো।কাজের লোকের চেচামেচীতে পাড়ার লোকজন এসে এই দৃশ্য দেখে ভয় পেয়ে গেলো।তারপর অনিরুদ্ধ বাবুকে নিয়ে ওর নিজের ঘরে এনে বসিয়ে পুলিশে খবর দিলো, পুলিশ এসে এই রকম মৃত্যু দেখে হতভম্ব হয়ে গেলো, যাইহোক তাদের ডিউটি করে বডি নিয়ে চলে গেলো। সেদিন রাতে অনিরুদ্ধ বাবু মনীষা দেবীর ছবির সামনেধূপকাঠি জ্বালিয়ে ছবির সামনে বসে রইলেন আর মনে মনে বলতে লাগলেন, কে তোমাকে এই ভাবে মারলো এখন মনে হচ্ছে আমার আলাদা শয্যা করা উচিত হয়নি তোমার কাছে থাকলে হয়তো এরকম ঘটনা ঘটতো না।এসব কথা অনিরুদ্ধ বাবু চোখ বন্ধ করে বলছিলেন তারপর উনি চোখ মেলে ছবির দিকে তাকিয়ে চমকে গেলেন। দেখলেন আবছা চেহারায়ঘাড় মটকানো মনীষা দেবী ছবিতে ভেসে উঠেছেন।অনিরুদ্ধ বাবু কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলেন তুমি কী আমাকে কিছু বলতে চাও? তখন ছবিতে দুটো লেখা ভেসে উঠলো রা ও পু এই শব্দ দুটো ভেসে উঠলো এবং মনীষা দেবীর সঙ্গে মিলিয়ে গেলো।অনিরুদ্ধ বাবু বুঝতে পারলেন না।তবে রালেখাটা দেখে উনি খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন। মনে মনে অস্থির হতে লাগলেন অথচ কাউকে বললে কেও বিশ্বাস করবেনা কাজেই নিজের মনেই যুদ্ধ করতে লাগলেন।শুধুই মনে প্রশ্ন উঠতে লাগলো রা এবং পু, তবে কী রা মানে তার দিদুনের নাম কিন্তু পু টা কী? রান্নার লোক এসে রান্নাএবং ঘরের কাজ নিয়মিত করে যেতে লাগলো ,এদিকে পুলিশের তরফ থেকে কোন তথ্য বের করতে পারলো না। রানী দাদাই এর কাছে এসে কান্না কাটি করতে লাগলো আর বলতে লাগলো আমার দীদুন কে এমন ভাবে কে মারলো দাদাই ।বৃদ্ধ মানুষটি বিহ্বল চোখে রানীর দিকে তাকিয়ে রইলেন।ট্যাবের চার্জ যখন শেষ হয়ে যেতো তখন রানীর দাদু চার্জে বসাতেন এবং রানীকে বলতেন দীদুন এটাতে তুমি হাত দিও না, রানী জানতে চাইতো ,কেন দাদাই ধরতে না করছো? অনিরুদ্ধ বাবু বলতেন, এটা তো কারেন্ট কাজেই ছোট বাচ্ছা দের ধরতে নেই।এদিকে দুদিন ধরে ট্যাবে চার্জ নেই অথচ রানী দাদুকে বলতেও পারছেনা আবার মোবাইল নিয়ে পড়তে বা খেলতে কোনটাই পারছেনা।কী মনে ভেবে রানী দাদাইর ঘরে গেলো চার্জের কথাটা বলতে, ঘরে গিয়ে দেখে দাদাই ঘরে নেই অথচ ট্যাবটা চার্জে বসানো। এদিকে অনিরুদ্ধ বাবু রা এবং পু শব্দের পুরো কথাটা জানার জন্য অস্থির হয়ে উঠলেন।মনীষা দেবীর ছবির সামনে বসে তার কেবলই মনে হতে লাগলো, দুটো শব্দের কী মানে হতে পারে।সেই মুহূর্তে অনিরুদ্ধ বাবুর রা মানে রানীর নামটা মনে হলো কিন্তু পু শব্দের কী অর্থ টা খুঁজে পাচ্ছেন না । তখনই মনীষা দেবীর ছবিতে একটা পুতুলের ছবি ভেসে উঠলো।ছবিটাদেখতে খুব সুন্দর, বিশেষ করে তার চোখ দুটো নীল এবং জীবন্ত দেখে মনে হয় এখনই কথা বলবে।ছবিটা দেখে অনিরুদ্ধ বাবু কোথায় দেখেছেন মনে করতে পারলেন না।তবে তখনই তার রানীর কথা মনে পড়লো। মনীষা দেবীর ঘর থেকে বেরিয়ে রানীর ঘরে গিয়ে রানীকে দেখতে পেলেন না।দীদুন কোথায় গেলো এই ভেবে নিজের ঘরের দিকে এগিয়ে গিয়ে দেখলেন দীদুন মোবাইলটা চার্জার শুদ্ধ অন করেছে তখনই মোবাইলে সেই সুন্দর পুতুলকে দেখতে পেলেন যার নীল চোখ দুটো অসম্ভব সুন্দর। কিন্তু দীদুনকে সাবধান করার আগেই ট্যাবটা খুব জোরে শব্দ করে বাস্ট করলো আর অনিরুদ্ধ বাবু দেখলেন একটা নীল ধোয়া বেরিয়ে গেলো জানালা দিয়ে,দীদুন অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেলো।অনিরুদ্ধ বাবু ছুটে রানীর কাছে গিয়ে ডাকতে লাগলেন কিন্তু কোন সাড়া পেলেন না।তখনই একটা ক্যাব ডেকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ডাক্তারকে সব খুলে বললেন। ডাক্তার চিকিত্সা শুরু করলেন,কিছূ ক্ষণ পড়ে বেরিয়ে অনিরুদ্ধ বাবুকে বললেন খুব জোর বেচে গেছে তবে বলে একটু চুপ করে রইলেন, বলুনডাক্তার বাবু বলুন রানীর দাদু অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ডাক্তার বাবু বললেন রানীর শ্রবণ শক্তি লোপ পেয়েছে ও আর কানে শুনবে না, I am very sorry.. এই বলে ডাক্তার ভিতরে চলে গেলেন, অসহায় বৃদ্ধ রানীর বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে রইলেন॥॥॥সমাপ্ত ॥॥॥॥
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments