Header Ads Widget

চতুর্দশী

চতুর্দশী Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)






#গল্প 
#চতুর্দশী 


দীপাবলির আগে বাড়ি ফিরতেই হবে দিয়াকে। মা-বাবা অপেক্ষায় থাকে এই সময়টার জন্যই প্রতিবছর। পাঁচ বছর আগে চাকরীসূত্রে ব্যাঙ্গালোরবাসী হয়েছে দিয়া, একাকী স্বাধীন জীবনেই সে আনন্দ পায় চিরকাল। কিন্তু বাড়িতে বছরে এই একবার সে ফেরেই। শুধু গতবছর মা বারবার করে বলে দিয়েছিল দুর্গাপুজাতে বাড়ি আসতে। মোটামুটি সব ঠিকই করে ফেলেছিল সে। কিন্তু তা আর হল কই! 

প্রতিবছর এই দীর্ঘ সময়টা ট্রেনে কাটতেই চায় না। এবারে অবশ্য ব্যাপার একটু আলাদা। সাথে তেরো জন সঙ্গী আছে। সকলেই ব্যাঙ্গালোর থেকে হাওড়া ফিরছে। এরপরে যে যার মত কোলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলের বাড়ি যাবে। একসাথে গল্প করতে করতে ঠান্ডা ঠান্ডা অবহাওয়াতে চাদর-ওড়না মুড়ি দিয়ে খেতে খেতে সময় কেটে চলেছে বেশ। তারা তাদের খাবার সঙ্গেই এনেছে। যদিও ট্রেনে অনেক রকমের খাবার উঠেছে, আশে পাশের অনেকেই খাচ্ছে। তাদের মধ্যেই একজন হাতে ভেজ পাকোড়া নিয়ে খেতে খেতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কমবয়সী দিয়াকে দেখে সুদর্শন সেই যুবক দিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে উঠল... "আপনি পাকোড়া খাবেন?"

-"কেন? আপনি খাওয়াবেন?"

দিয়ার সাথে চোখাচোখি হতেই কেমন যেন থমকে গিয়ে চোখ সরিয়ে নিয়ে তাড়াতাড়ি চলে গেল সেই যুবক। দিয়ার সঙ্গীরা সব হেসে উঠল। দূর থেকে এক মহিলা খেয়াল করে দেখলো, নানা বয়সী চোদ্দো জন নারী-পুরুষ কী সুন্দর ভাবে একসাথে জোট বেঁধে গল্প করতে করতে চলেছে। এই যুগে এমন দেখাই যায় না। 

**

দীপাবলির আগের দিন, চতুর্দশী আজ। খুব ভোরে হাওড়া ষ্টেশনে ট্রেন থামলো। অন্ধকার এখনও পুরাপুরি কাটেনি। চোদ্দো জন ভিন্ন বয়সী নর নারী চলল তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে। আজ এখানে আবহাওয়া ভীষণই শীতল, আসলে শীতকাল যে আগতপ্রায়। তার উপর নিম্নচাপের কারণে একনাগাড়ে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি আর ঠান্ডা হাওয়ার রেশ। 

দিয়া ট্যাক্সিতে করে চলল শিবপুরের বাড়ির উদ্দ্যেশে। ড্রাইভারটা যেন কেমন একটু, মুখে এক অদ্ভুত বাঁকা হাসি। শুধু চোখ দুটো বেশ বড় বড়। শীতে বেশ জুবুথুবু যদিও। তবে যা হাওয়া দিচ্ছে, তাতে এমনটাই স্বাভাবিক। কিছুটা দূরে গিয়েই ড্রাইভার হঠাৎ করে গাড়ি থামালো। বাইরে অঝোরে বৃষ্টি এখন। ড্রাইভার পিছন ফিরে দু চোখে কেমন এক লালসা এনে বলল "আপনার লাগবে কিছু"? 

দিয়া অদ্ভুতভাবে হেসে বলল, "যা চাইব... দিতে পারবেন?"

একটু পরে গাড়িটাই ভেতর থেকে কেমন যেন এক আর্তনাদ করে উঠল... কিছুক্ষণ নিস্তব্ধতা... অবশ্য তার একটু পরেই আবার চলতে শুরু করল। 

**

বাড়ি ঢুকেছে দিয়া। সেই ড্রাইভার নিজে তার লাগেজ বাড়ির দরজায় রেখে দিয়ে ফিরে গেছে। শুধু ফেরার সময় তার মুখে ছিল চাদর আর এক চোখ ছিল হাত দিয়ে ঢাকা। 

- "এলি রে মা? কিছু খাবি?"

- "হ্যাঁ মা। দীপাবলির সময় তোমাদের ছেড়ে থাকতে পারি কি আমি? আর ট্রেনে আমি আর আমার তেরো জন সঙ্গী কচি শকুনের মাংস খেয়েই এসেছি।"

- "ও আচ্ছা। কিন্তু তোর বাবা তো এখন বৃদ্ধাশ্রমে থাকে রে।"

-"ও হ্যাঁ, তাই তো! তা তুমি কেমন আছো মা?"

-"ওই আর কি! তুই যেমন!"

-"আজকের দিনে ঘর অন্ধকার করে রাখা ভালো লাগে না মা।"

-"কে আর আলো আনবে বল এ ঘরে? দুর্গাপুজার সময়ে তোর সেই দুর্ঘটনার সাথে সাথে আমার এ খবর সহ্য করতে না পারা... তোর বাবার আশ্রমে চলে যাওয়া... আলো যে আর আসে না এ ঘরে।"

-"কেন মা আমি এনেছি আলো, জোগাড় করে এনেছি দেখো!"

দিয়ার হাতে জড়ো করা তেরোটি চোখ... মানুষের চোখ। একটা যেন একটু আগেই উপড়ে নেওয়া, পুরো রক্ত মাখা। 

- "কিন্তু আর একটা লাগতো যে দিয়া।" 

- "আমার মুখমন্ডলে একটা থাকলেই তো হবে মা।" 
....বলেই নিজের এক হাতের তর্জনীর বীভৎস বড় নখ দিয়ে নিজের এক চোখ উপড়ে ফেলল দিয়া। 

**

এক বছর ধরে পড়ে থাকা ধুলো আর ঝুলমাখা নিঝুম বাড়িতে আজ প্রদীপ সাজানো হচ্ছে। ঘরের চোদ্দ কোণায় চোদ্দটি চোখ। সবগুলোই দেখে মনে হচ্ছে জ্বলন্ত। কালকের জন্য প্রদীপ জোগাড় করতে বেরোবে তারা আজ রাতেই। আপাতত দুই অশরীরী নারীই আজ ভূত চতুর্দশী পালনে ব্যস্ত। 

(সমাপ্ত)













website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments