জামাই ষষ্ঠী Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
জামাই ষষ্ঠী
=========
=========
( লালসা , কামনার হাসি , লেডিস টয়লেট, পিশাচ রাত্রি , যৌবনগন্ধার পর , সম্পূর্ণ অন্য আঙ্গিকে লেখা গল্প )
ভুবন ডাঙা
সন 1936
আকাশটা কালো হয়ে এসেছে সকাল থেকেই । ঘন কৃষ্ণকায় মেঘের দাপটে সূর্যেদেব আজ বড়ই ম্রিয়মাণ । তার উপর মাঝে মাঝে ঝোড়ো হাওয়ায় চারিদিক এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে ।
আর সেই হাওয়ায় এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে একজন ষোড়শীর মনও ।
আজ যে জামাই ষষ্ঠী ।
রায়বাড়িতে আজ সকাল থেকেই হট্টগোল চলছে ।
রায় বাহাদুর আশুতোষ সিংহ রায়ের একমাত্র নাতনীর স্বামীর অর্থাৎ নাতজামাই -এর আজ দ্বিতীয়বার পদার্পণ ঘটবে এই বাড়িতে ।
বিয়ের পর এইটেই হল প্রথম জামাই ষষ্ঠী ।
পাঁচ বছর আগে যথাবিধি আচার মেনে বিবাহদি ক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল ।
পাত্রটি অত্যন্ত সুলক্ষণ যুক্ত, সুপুরুষ এবং শিক্ষিত । তবে তার বংশ কৌলীন্য তেমন উচ্চ নয়, কলকাতায় নিজস্ব বাটী আছে বটে কিন্ত রায়বাড়ির তুলনায় তা নিতান্তই তুচ্ছ ।
পাত্রটি ব্রাহ্মণ এবং সরকারি কর্মচারী , অর্থাৎ উপার্জন শীল ।
সাধারণত এই বিবাহ হবার নয়, ঘটক প্রথমে এই পাত্রের সংবাদ দিতেই সাহস করেন নি । কিন্ত জমিদার মহাশয়ের চাহিদা মতো পাত্র যোগার করা ক্রমশ অসম্ভব হয়ে পরছিল ।
শেষে নিরুপায় হয়েই এই পাত্রের সংবাদ দিতে বাধ্য হন ঘটক । যদিও তার আশংকা ছিল এই পাত্রের কথা বললে তার মস্তক স্থানচ্যুত হওয়া অসম্ভব নয় ।
কারণ আশুতোষ সিংহ রায়ের নামে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খায় ।
সংবাদটি শুনে কিছুক্ষণ গুম হয়ে রইলেন জমিদার মশাই ।
তারপর জলদ গম্ভীর স্বরে বললেন , " পাত্রের কোষ্ঠী আছে আপনার কাছে ? "
ঘটক ঘর্মাক্ত অবস্থায় উত্তর দেন , " আজ্ঞে "
কোষ্ঠীর সমস্ত লক্ষণ যখন মিলে গেল , তখন জমিদার মশাই কিছুক্ষণ ভ্রুকুন্চিত করে বসে রইলেন । তারপর গম্ভীর স্বরে বললেন , " তবে এখানেই হোক । আমি চেয়েছিলাম সদ ব্রাহ্মণ সন্তান , চরিত্রবান , সভ্য একটি পাত্র , যে বংশ কৌলীন্যে আমাদের সমান হবে । তা এইটুকু যে পাওয়া গেছে এই অনেক । এখানেই বিবাহ হোক । বিয়ের পর পাত্র এইখানেই থাকবে । "
" আজ্ঞে যদি রাজী না হয়? আধুনিক যুগের ছেলে , কর্মরত , শিক্ষিত -- বাপ মাকে ছেড়ে যদি না আসতে চায়? "
ভয়ে ভয়ে ঘটক জমিদার মশাইযের শ্রীচরণ যুগলের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন পেশ করলেন ।
উত্তরে সজোরে অট্টহাস্য করে উঠলেন আশুতোষ সিংহ রায় । তারপর তাচ্ছিল্যর সাথে বললেন ।
" তোমার থেকে মানুষ আমি বেশী চিনি হে । আচ্ছা বেশ , এই প্রস্তাব আমি তাকে নিজের মুখে দেব না এখন । বিয়ে হোক , তারপরের দিন বিদায়ের সময় তাকে জানাবো আমার সিদ্ধান্ত । এই ঐশ্বর্য দেখেও সে যদি ফিরে যেতে চায়, তখন দেখা যাবে ।"
এই সবই পাঁচ বছর আগের কথা । পাত্র কিন্ত থাকতে চায়নি ঘর জামাই হয়ে । ফলে জমিদার মশাইও জেদে অনড় হয়ে তার একমাত্র মেয়েকে পাঠান নি । কণ্যা থেকে যায় পিতৃগৃহে । পাত্র ফিরে যায় কলকাতায় ।
তারপর -----
কেটে গেছে পাঁচ বছর ।
এখন নাতনীর বিষয়ে নরম হয়ে এসেছে জমিদার আশুতোষ সিংহ রায়ের মন ।
কি জানি ভাবেন সারাদিন আর মৃদু মৃদু হাসেন । সেই হাসিটি সরল নয় ।
এরমধ্যেই একদিন কলকাতায় আপিস থেকে ফেরার পর জামাতা নিবারণ চক্রবর্তী একটা চিঠি পেলেন ।
শ্রীযুক্ত বাবু শ্রী নিবারণ চক্রবর্তী মহাশয় সমীপেষু ,
মহোদয়,
আগামী পয়লা আষাঢ় জামাইষষ্ঠী উপলক্ষ্যে আপনাকে ভুবন ডাঙায় অবস্থিত সিংহ রায় ভবনে আমন্ত্রণ জানানো হইতেছে ।
পূর্বের বাদ বিবাদ ভুলিয়া সশরীরে উপস্থিত হইলে বাধিত থাকিব ।
পত্র দ্বারা নিমন্ত্রণের ত্রুটি মার্জনা করিবেন ।
ইতি
ভবদীয়
শ্রীল শ্রীযুক্ত বাবু আশুতোষ সিংহ রায় মহাশয় রায় বাহাদুর ।
দ্বিতীয় পর্ব
========
স্টেশনে যখন নামে নিবারণ , তখন আকাশ যেন ভেঙে পরেছে ।
বৃষ্টিতে চোখ চলে না , চোখের সামনে পুরো দৃশ্যপট ঝাপসা হয়ে আছে ।
সিংহ রায় বাড়ি স্টেশন থেকে প্রায় ঘন্টাখানেকের হাঁটা পথ । পুরো রাস্তাটি কাঁচা , দুদিকে প্রশস্ত ধান ক্ষেত । জমিদার বাড়ির পর মাইল খানেক গেলে তবে লোক বসতি ।
অন্যদিন হয়ত স্টেশনের বাইরে গোরুর গাড়ি থাকে , কিন্ত এই বর্ষায় পথে লোকজনের আশা বাতুলতা মাত্র । তবু নিবারণের আশা ছিল জামাইয়ের জন্য স্টেশনে লোকজন উপস্থিত থাকবে , কিন্ত সেই গুড়ে বালি । তবে কি জমিদার মহাশয় পুরাতন বিবাদ ভোলেন নি ?
নিবারণের মনে পরল পাঁচ বছর আগের কথা । রায়বাহাদুরের কথা অগ্রাহ্য করায় সেদিন আশুতোষ তাদের জ্যান্ত কবর দেবার হুমকি দেন । অবশ্য নব্য শিক্ষায় শিক্ষিত নিবারণ নিজ পৌরুষে অটল ছিলেন । এই কয় বছরে নিবারণের শুধু একটাই আফসোস ছিল । এগারো বছরের সেই কিশোরীর সলাজ চোখ দুটো ভারী মনে গেঁথে গিয়েছিল তার । পাঁচ বছর কেটে গেছে , অবশেষে এসেছে মিলনের দিন ।
নিবারণ আর অপেক্ষা করতে পারল না ।
ওই বৃষ্টির মধ্যে এক হাঁটু জমা জলে সে ধুতি গুটিয়ে নেমে পড়ল ।
এক হাতে তার কলকাতার নবীন ময়রার রসগোল্লার বিশাল হাঁড়ি, অন্য হাতে বউএর জন্য মনোরমা শাড়ি, কাঁচের চুরি, স্নো , পমেটম , সুগন্ধী সাবান আর পাউডার-- সাথে এসেন্সের শিশি ।
পথে নেমে দুই পা হাঁটার সাথে সাথেই ভিজে জুব্বুস হয়ে গেল নিবারণ । ছাতা খোলার সুযোগ নেই । দুই হাতই জোড়া । কিন্ত হায় রে ছাব্বিশ বছরের মন ----
জল ঠেলতে ঠেলতে এগিয়ে চলল নিবারণ ।
তৃতীয় পর্ব
========
ভুবন ডাঙার জমিদার বাড়ি । অবশেষে সেখানে পৌছাল নিবারণ । তবে তার কথা বিশেষ কহতব্য নয় । জলে কাদায় মাখামাখি হয়ে তার অবস্থা শোচনীয় ।
আসার সময় বেশ কয়েকবার আছাড় খাবার ফলে রসগোল্লার হাড়িটির আর অস্তিত্ব নেই। অন্য উপহার সামগ্রীর অবস্থাও তথৈবচ ।
প্রধান দেউড়ি পার করে কিছুটা হাটতেই প্রধান বারান্দা ।
আর সেখানেই নিবারণ দেখা পেলেন আশুতোষ সিংহ রায়ের । চেহারাটা আগের তুলনায় কিছুটা শীর্ণ , তবে মুখের তেজ ঠিক একরকমই আছে ।
প্রণাম করে উঠতেই নিবারণ সেই ভারী গলাটা শুনতে পেল , " থাক থাক- -- এস বাবাজীবন , ভিতরে এস । ওরে কে আছিস ---- স্নানের গরম জল দে । "
গরম জলে স্নান সেরে ভিতর বাড়িতে খেতে বসলেন নিবারণ । চারিপাশে বেশ কয়েকজন মহিলা । এক জনকেও ঠিকমতো চেনে না নিবারণ । ফুলকাটা আসনের উপর বসে নিবারণ দেখল সামনে বিশাল রূপার থালা । তাতে জুই ফুলের মতো ভাত , চারটি লুচি , পাঁচ রকমের ভাজা । পাশে বিভিন্ন বাটিতে মাছের মুড়ো, ইচরের ঘন্ট , কাতলা মাছ , কই মাছ , ইলিশ মাছ , চিংড়ি মাছ , পাঠার মাংস, চাটনি , দই , মিষ্টি, আম , লিচু , কলা ।
পিছনে দুই জন মহিলা পাখা দিয়ে হাওয়া করছেন , তাদের মধ্যে একজন বললেন , "খেয়ে নাও বাবা । তারপর তোমার বউ এর কাছে গিয়ে বিশ্রাম করবে ।"
একটার পর একটা পদ । খাওয়া শেষ করতে করতে নিবারণ ক্লান্ত হয়ে পরে । যদিও একসময় সব শেষ হয় ।
" এইবার তুমি তোমার স্ত্রীর কাছে যাও ---- " গম্ভীর স্বরে অনুমতি দেন আশুতোষ সিংহ রায়।
শেষ পর্ব
=======
বিশাল টানা বারান্দা , দুদিকে মাটি পর্যন্ত লম্বা বন্ধ জানলা , দরজা । দেওয়ালের গায়ে স্টাফড করা পশুদের মাথা --হরিণ , চিতাবাঘ, ভল্লুক । বারান্দার পরে সিড়ি, হিসাব করে দেখল নিবারণ তিন তলায় এসে পৌঁছেছে সে । সাথে একজন মাতৃস্থানীযা মহিলা ছিলেন , তিনি একটা লন্ঠন হাতে নিবারণের সাথে আসছিলেন । এইবার থেমে গিয়ে বললেন , " এই টুকু পথ তুমি নিজে যাও বাবা । ওই দক্ষিণের ঘরে আমাদের মা আছেন । "
উৎসুক নিবারণ বন্ধ দরজাটা খুলে ঘরে প্রবেশ করলেন ।
ঘর দীপ হীন তবে জালনা গুলো খোলা , শেষ বেলার ক্ষীণ আলোতে নিবারণ দেখল ঘরের বিশাল পালঙ্কের ঠিক মাঝখানে ঘোমটাতে আবৃত এক নারী মূর্তি ।
জালনার বাইরে তখন নারকেল গাছগুলি প্রবল ঝড়ের জোয়ারে বিপুল ভাবে আন্দোলিত হচ্ছে । সমগ্র প্রকৃতি যেন প্রস্তুত করছে মিলনের মঞ্চ ।
ঘরের ভিতরের অবস্থাও তথৈবচ । পাঁচ বছরের পর প্রিয়া সান্নিধ্য --- নিবারণ গভীর আশ্লেষে উচ্চারণ করল , " কনকপ্রভা---প্রিয়তমা- --"
ঘোমটার ভিতর থেকে অস্ফুট উত্তর এল , " প্রাণনাথ " ।
বাইরের বাতাস জালনা দিয়ে এসে ঘরের সবকিছু এলোমেলো করে দিয়ে গেল ।
নিবারণের মনের আকুলতা আর বাঁধ মানল না ।
তারপর -----
অধরের ভাষা অধরেই বোঝে , দোহার হৃদয় যেন দোহে পান করে । মাঝে আবরণ সৌতিনী মান --
হঠাৎই বাঁধা পরল । আচমকা বাইরে জোরে বিদ্যুতের শব্দে কেঁপে উঠল নিবারণ । তার পরেই তার চোখ পরল নিজের স্ত্রীর উপর ।
সঙ্গে সঙ্গে জমে পাথর হয়ে গেল নিবারণ ।
তার দুহাতের মধ্যে একটি তেরো বছরের মেয়ের মৃতদেহ । শরীরটা পচে ঢোল , দেহের অনেক জায়গার মাংস পচে , গলে খসে পরেছে ।
শুধু নিস্পলক চোখ দুটি মরা মাছের মতো চেয়ে আছে নিবারণের দিকে ।
এতক্ষণ বুঝতে পারেনি , এখন নিবারণের নাকে প্রবেশ করল বিকট পচা দুর্গন্ধ । মৃতদেহটির অস্থি সমৃদ্ধ হাতদুটি সজোরে বেষ্টন করে আছে নিবারণকে ।
নিবারণের স্থবিরতা লক্ষ্য করেই হয়ত স্থলিত স্বরে প্রাণহীন দেহটি নিবারণকে সম্বোধন করল , " প্রাণনাথ ---- স্বামী "
শেষবারের চেষ্টায় নিবারণ প্রাণপণে চিতকার করে উঠল ।
নিচের বৈঠক খানায় তামাক খেতে খেতে মনোযোগ দিয়ে সেই চিৎকার শুনে আশুতোষ সিংহ রায় সহর্ষে নায়েব এর দিকে তাকিয়ে বললেন , " আমি বলিনি , নাতজামাইকে আমি ঘর জামাই হিসেবেই রাখব ? "
নায়েব নীরবে মাথা নাডলেন । নিবারণ দাদা শ্মশুরের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে চলে যাওয়ার দুই বছর পরেই শোকে গলায় দড়ি দেয় কনকপ্রভা । তবে তার পরেও তার মহলে তার উপস্থিতির বহু প্রমাণ পাওয়া গেছিল ।
" আজ অশান্ত আত্মা শান্তি পেল " অস্ফুট স্বরে শব্দকটি উচ্চারণ করলেন নায়েব মশাই।
( শেষ )
লেখকের কথা : আপনারা যারা গল্প পড়েন তাদের কাছে একটা অনুরোধ ।
দয়া করে গল্প পড়ার পর আপনাদের মতামতটি দেবেন । সে ভালো মন্দ যাই হোক না কেন ।
আপনাদের চুপি চুপি বলি , ওটার লোভেই গল্প লিখি ।
শ্রদ্ধা নেবেন সবাই । 🙏🏻
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments