Header Ads Widget

কোঁকি

কোঁকি Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)







#konki
#ভূতের গল্প

কোঁকি

[নমস্কার আমি ভাদু। আমার গল্পসূত্রে আপনাদের জানাই সাদর আমন্ত্রণ। আমাদের দিন প্রতিদিনের জীবনের হাসি কান্না সুখ দুঃখ কথা অভিমান ভয় ভালোবাসা শব্দগুচ্ছের মধ্যে দিয়ে রূপান্তরিত হয় গল্পে - উপন্যাসে । তবে আমার গল্পের সমস্ত চরিত্র বা ঘটনাবলি কেবল মাত্র আমার কল্পনা প্রসূত। বাস্তবের সাথে তার কোনো মিল থেকে থাকলে তা সম্পূর্ণভাবে কাকতালীয়।]
স্কুলে গ্রীষ্মের ছুটি পড়লেই মায়ের সাথে মামাবাড়ি আসি। মামাবাড়িতে সত্যিই ভারী মজা। বিশাল মাটির বাড়ি, টালির ছাদ। চারিদিকে ঘর মাঝে সিমেন্টের পাকা উঠোন। উঠোনের রোদে সারি সারি আচারের বয়াম। অন্য দিকে জলের টিউবওয়েল। টিউবওয়েল থেকে জল তোলা একটা ভারী মজার ব্যাপার। আশেপাশের ছোট ছোট গর্তে জল জমে থেকে দুপুর রোদেও এই জায়গাটা ভিজে থাকে। জমা জলে দুপুর বেলা মৌমাছির দল ভিনভিন করে উড়ে বেড়ায়। টিউবওয়েলের ঘটাং ঘটাং , ঢেঁকির ঢুকুর ঢুক, যাঁতার ঘড়ঘড়, পায়রার বকমবক আর থেকে থেকে হনুমানের হুপ সব মিলিয়ে মামাবাড়ির দিনরাতের নিজস্ব একটা ছন্দ আছে। দেওয়ালের কোণে সাপের গর্ত , ছাদের ঘরে পায়রার বাসা আর দিনের বেলা সরাইঘরের অন্ধকারে ঘাপটি মেরে বসে থাকে দিদিমার গল্পের ভূতেরা। বাড়ির পেছনে বিশাল বাগান। আম জাম কাঁঠাল লিচু পেয়ারার গাছ ঘন ছায়া মেলে দাঁড়িয়ে আছে। বাগান না বলে ফল গাছের জঙ্গলই বলা চলে। তারই মাঝে অনারস গাছের কাঁটা ঝোপে আনারস ফলেছে। এখনো কাঁচাসবুজ। পাকলে সোনালী রং ধরবে। তার ডান দিকে বহু বছরের পুরোনো বটগাছ। ওখানে মা ষষ্ঠীর বাস। বটগাছের তলায় গোবরের লেপ দেওয়া ভুঁইয়ে সিঁদুর মাখা মাটির হাতি ঘোড়া রাখা আছে। দিদিমাই পুজো করেন। দুপুরবেলা ওখানে একলা যেতে দিদিমার বারণ আছে। দিদিমা অনেকবার দেখেছেন মা ষষ্ঠী কে। দুপুর বেলা খাবার খেয়ে পান চিবোতে চিবোতে মা ষষ্ঠী বট নিচের গাছের ডালে পা ঝুলিয়ে বসে দোল খান। একলা ছোট ছানা দেখতে পেলে আদর করে বটগাছের ভেতরে তার ঘরে নিয়ে গিয়ে রাখেন। সে ছানা আর তার মায়ের কোলে ফিরে আসেনা। ষষ্ঠীস্থান ঘিরে বাঁশ গাছের ঘন ঝোপ ঝাড়। ওদিকে সাপখোপের বাসা। উই পোকার মাটির ঢিবি তে ছোট ছোট গর্তে গোখরো সাপ বাস করে। ওখানে গোখরো সাপ কে ফণা তুলে বসে থাকতে দেখেছি দু একবার। বাগানের মধ্যে দিয়ে সুবর্ণ রেখা নদীর বাঁধ। বাঁধে লাল মোরাম দিয়ে নতুন রাস্তা তৈরী হয়েছে। যদিও এই রাস্তায় সাইকেল গাড়ি আসা যাওয়া করে খুব কম। বাঁধের ওপারে বাগানের আর একটা অংশ। বর্ষাকালে ওই অংশে বন্যার জল জমে ডোবা তৈরী হয়েছে। বাঁশের বেড়ার ভাঙা অংশ দিয়ে ঢুকে পড়লাম বাগানে। এখানে খুব একটা কেউ আসেনা। আসলে আসতে ভয় পায়। বাগানের মাঝামাঝি জায়গায় একটা পেয়ারা গাছে কোঁকি গলায় দড়ি দিয়ে মরেছিলো।
মামাবাড়ির গ্রাম্য ভাষায় কোঁকি মানে বোবা। খবরটা শুনে মা অনেক দুঃখ করলেন। মা বাপের বাড়ি আসলে সে খুব খুশি হতো। খুশিতে তার বড়ো বড়ো কাজলা চোখ দুটো উজ্জ্বল হয়ে উঠতো। দুঃখে থাকলে ওই চোখ দুটোই মা কে জানিয়ে দিতো তার কষ্টের কথা। গতবারে মায়ের কাছে বসে অনেক কেঁদেছিল সে। সে বোবা বলে তার বিয়ে হবে না। বাড়ির লোকজন তার মা বৌদি সবাই তাকে দিনরাত কথা শোনায়। একপাল ছাগল আর গামছায় দু মুঠো শুকনো মুড়ি বেঁধে দিয়ে তাকে রোদে জলে পাঠিয়ে দেয় মাঠে। দুপুর বেলা খিদে পেলে ছাগল তাড়িয়ে নিয়ে বাগানের বেড়ার ফাঁক দিয়ে লুকিয়ে ঢুকে আসতো সে। পেয়ারা মুসম্বি শশা ফুটি গাছ থেকে ছিঁড়ে নিয়ে খেত। তখন সূর্য মামা এই বাগানের দেখভাল করতেন। তাকে দেখতে পেলেই গালমন্দ করে তাড়াতেন। ধরতে পারলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মেরে হাত পায়ে লাল দাগ করে দিতেন। দিদিমা একদিন দেখতে পেয়ে সূর্যমামা কে বকা দেন।
-এই বোবা অসহায় মেয়েটাকে ঐভাবে কেউ মারে? বেচারি বাগান থেকে দুটো পেয়ারা পেড়েই তো খেয়েছে। কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়েছে তাতে?
দিদিমা তাকে দেখতে পেলে মাঝে মধ্যে ডেকে গুড় মুড়ি, পান্তা ভাত চালের পিঠে খেতে দিতেন।
একদিন বৌদির সাথে খুব ঝগড়া হলো কোঁকির। সে বৌদির মতো চিৎকার করতে পারেনা। বোবা ভাষায় আঃ হুহঃ য়েঃ শব্দ করে লড়াইয়ে পেরে উঠলো না। তখন রেগে গিয়ে জল ভরা মাটির জালা কাছড়ে ভেঙে ফেললো। দাদা ঘর ফিরতেই বৌদি ঘটনায় তেল মশলা মাখিয়ে দাদাকে উস্কে দিলো। দাদা প্রায়ই হাত তুলতো তার গায়ে। সেদিন মার খেয়ে অভিমানে সারাটা রাত চোখের জল ফেললো। ভোর হওয়ার একটু আগেই উঠে বেরিয়ে পড়লো রাস্তায়। তখন গ্রাম ঘুমিয়ে আছে। পাশের গ্রামে তার বড়ো দিদির বাড়ি। হাঁটা পথে একঘন্টা। সকালবেলা গিয়ে পৌঁছবে। দিদির বর নিত্য জামাইবাবু খুব ভালো। অন্যদের মতো তাকে বোবা বলে দুরছাই করেন না। দিদি তাকে দেখেই রেগে গেলো।
-এত সকালে কি করে পৌঁছে গেলি তুই ! কে এলো সঙ্গে ?
দিদি তো কিছুতেই ঘরে ঢোকাবে না তাকে। জামাইবাবু বুঝিয়ে সুঝিয়ে রাজি করলো।
-আচ্ছা আমি ছেড়ে দিয়ে আসবো। আগে ওকে বসিয়ে ওর সব কথা শোনো। কি হয়েছে বাড়িতে আমরা তো কিছুই জানিনা।
দিদি সব বুঝে চুপ করে রইলো। চাষজমির এক মজুরকে দিয়ে খবর পাঠালো বাপের বাড়িতে। খবর পেয়েও কেউ নিতে এলো না। আসবেই বা কেন। ছোট ভাই টি ছাড়া ঘরে তো কেউ তাকে দেখতেই পারেনা। বাবু কে সে নিজের কোলে পিঠে মানুষ করেছে। তাই তার প্রতি ভাইয়ের টান খুব।
দিদি পোয়াতি। আর কয়েক মাস পরই নতুন সদস্য আসবে দিদির ঘরে। বড় হলে তাকে মাসি মাসি বলে ডাকবে। খুশিতে ডগমগ কোঁকি দিদির সেবা শুশ্রূষায় দিন রাত এক করলো। কিন্তু দিদির বাড়িতে নতুন উপদ্রব শুরু হল। জামাই বাবু সুযোগ পেলেই অভদ্র ব্যবহার করে তার সাথে। দিদিকে বললে দিদি ঘর থেকে তাকে নিশ্চয় তাড়িয়ে দেবে। সেই ভয়ে সে চুপ করে রইলো। হঠাৎ ঘুমের মধ্যে তার শ্বাস আটকে আসতে লাগলো। একটা ভারী কিছু তার ওপর চেপে বসে আছে। হাত পা যেন কেউ বেঁধে দিয়েছে নড়বার ক্ষমতা নেই। অন্য কারো ঘন ঘন শ্বাস প্রশ্বাস টের পাচ্ছে সে। প্রদীপ নিভে ঘর ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে আছে। কিছুই দেখা যায় না। সকালে উঠে দিদিকে হাত পা নেড়ে ইশারায় রাতের দুঃস্বপ্নের কথা বলতেই দিদি অগ্নিমূর্তি হয়ে উঠলো। তাকে ঝাঁটা দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে খিড়কি দুয়ার পার করে দিলো। গ্রামে ফিরে এলো কোঁকি। আর তো কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না তার। এসে আবার আগের মতো ছাগল চরানোর কাজে লেগে গেলো সে। বৌদির খোঁটা শুনেও নিস্তেজ হয়ে বসে থাকতো ঘরের এক কোণে। কেউ দিলে খাবার খায় না দিলে ঐভাবেই বসে থাকে। খিদে পেলেও আর আগের মতো হাঁড়ির ঢাকা তুলে লুকিয়ে খাবার খায়না।
-কি হয়েছে কে জানে মা। সে আর গাছেও ওঠে না। সারাদিন দুঃখী দুঃখী মুখে পেয়ারা গাছটার নিচটাতে বসে ডোবার জলে তাকিয়ে থাকে। গাছ থেকে নিজে ফলও ছিঁড়ে খায় না। হাতে দিলে আঁচলে বেঁধে রাখে।
সূর্যমামা গিয়ে জানালেন দিদিমাকে। দিদিমা গিয়ে দেখে এলেন। সত্যি তো। কে জানে বাছার কি দুঃখ বিঁধেছে মনে।
রোজ সকালে দাঁত মাজতে মাজতে তার বমি হয়। মুখ তেতো হয়ে যায়। বৌদি তীক্ষ্ণ চোখে নজর করে তাকে। সবসময় মায়ের আর দাদার কানে কানে মন্ত্রণা দেয়। মা মাথায় হাত দিয়ে বসে কাঁদে। দাদা সেদিন সন্ধ্যে বেলা ঘরে ঢুকেই কাটারি হাতে তেড়ে আসে তার দিকে। বৌদি ও ছুটে আসে পেছনে। দাদার হাত থেকে কাটারি ছিনিয়ে নেয়। দাদা তার চুল মুঠি ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে ঘরের বাইরে ঠেলে ফেলে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো। ঘরের বন্ধ দরজায় হাত পিটতে পিটতে ক্লান্ত হয়ে বসে ঘুমিয়ে পড়েছিল ঘরের দুয়ারে। রাত বাড়ছিল। মাথার ওপর দিয়ে বিচ্ছিরি কেরে কেরে আওয়াজ করে উড়ে গেলো রাত পাখি। ঘুম ভেঙে জেগে উঠে বসলো সে। চারিদিকের পরিবেশ টা কেমন থমকে দাঁড়িয়ে আছে। একটা গাছের পাতা নড়ে না। ছাগলগুলোর চোখ অন্ধকারে চকচক করছে। তারা আজ কেউ ঘুমোয় নি। একদৃষ্টে সবাই তাকিয়ে আছে তার দিকে। তারা কোঁকির মন বোঝে। গায়ে গা ঘষে জিভ দিয়ে চেটে আদর করে। ছোট্ট ছাগলছানা টা শাড়ির আঁচলের খুঁট মুখে পুরে একমনে চিবিয়ে যাচ্ছে। এই অবলা প্রাণী গুলো ছাড়া এই দুনিয়ায় তার আপন কেউ নেই। ছাগলছানা টিকে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে কোঁকি। তারপর ছাগলের গলায় বাঁধা দড়ি খুঁটি থেকে খুলে নিয়ে বাঁধের ওপর দিয়ে ছুটতে থাকে।
ছুটতে ছুটতে কোঁকি পৌঁছে যায় পেয়ারা গাছের তলায়। রাতের অন্ধকারে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে বাগানের গাছপালাও ঘুমিয়ে গেছে। শুধু বুড়ো শিমুল গাছটাই জেগেছিলো। ডালপালা নেড়ে অনুনয় বিনয় করতে লাগলো। ফিরে যা কোঁকি, ফিরে যা। তার ফিসফিসানি কোঁকির কান পর্যন্ত পৌঁছনোর আগে ভেঙে গুঁড়ো হয়ে মিশে গেলো হাওয়ায়। বুড়ো শিমুলের কথা শুনে হাওয়া আলুথালু ছুটে বেড়াল বাগানময়। কাকে ডেকে বলতে পারে কার কাছে এই খবর পৌঁছে দিলে ছুটে আসবে কেউ। বাগানের সব গাছেরা ঘুম থেকে জেগে উঠে হায় হায় করতে লাগলো। দিদিমা ঘুম ভেঙ্গে উঠে জানালা খুলে দিলেন। কেউ কি ডেকে গেলো তার নাম ধরে ! কোথায় কি ঘটে যাচ্ছে না জেনেও তাঁর বুকের ভেতরে নারী প্রাণ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। কাঁদতে কাঁদতে কোঁকি পেয়ারা গাছের ডালে উঠে বসে দড়ির প্রান্ত ডালে শক্ত করে বেঁধে নিলো। দড়ির ফাঁস গলায় দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েই হাত পা ছুঁড়ে সে ছটফট করতে লাগলো। যত ছটফট করতে লাগলো দড়ির ফাঁস ততই শক্ত হয়ে কসে যেতে লাগলো শ্বাস নালীর ওপর। জিভ মুখের বাইরে এসে শ্বাস নেওয়ার জন্য কাকুতি মিনতি করতে লাগলো। চোখের মনি যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসবে এখুনি যদি একফোঁটা শ্বাস বুকে না পৌঁছায়। মিনিট পাঁচ পর কোঁকি শান্ত হয়ে গেলো। জিভ বার করে পা ঝুলিয়ে দুলতে লাগলো সামনে পেছনে ডাইনে বাঁয়ে।
সূর্যমামা প্রথম দেখতে পেয়েছিলেন কোঁকিকে পেয়ারা গাছ থেকে ঝুলে থাকতে।
সে নাকি এখনো ঘুরে বেড়ায় এই বাগানে।
অসহায় বোবা মেয়েটার গল্প শুনে বড় কষ্ট পেয়েছি আমি। তাকে দেখতে পাওয়ার আশাতেই আমি এখানে রোজ আসি। সারা দুপুর বসে থাকি। পেয়ারা গাছের ডালে বসে দোল খাই। কাঁচা পেয়ারা ছিঁড়ে খাই। শশা গাছের লতা থেকে কাঁচা শশা ছিঁড়ে খাই। রোদে গরমে ব্যাং গুলো ডোবার কাদা জলে ভেসে বেড়ায়। আমি ওদের ঢিল ছুঁড়ে মারি। এক দুটো মরেও যায়। বিকেল হয়ে আসলে গা ছমছম করে। তখন দ্রুত পায়ে গিয়ে বেড়ার ফাঁক দিয়ে বাঁধের রাস্তায় উঠে পেছনে ফিরে দেখি। কিন্তু কোনোদিনই দেখা পাই নি তার।। আজ দিদিমা পান্তা ভাত আমের টক লাউয়ের চচ্চড়ি আলু পস্তু বেগুন ভাজা বানিয়েছিলেন। গোগ্রাসে গিলে নিয়ে পেটটা বেশ ভারী ভারী লাগছে। পেয়ারা গাছের ছায়ায় নরম ঘাসের ওপর বসে কোঁকির অপেক্ষা করতে লাগলাম। এগাছ ওগাছের ডালপাতার মধ্যে দিয়ে ফ্যাকাশে আকাশ দেখা যাচ্ছে। ডোবার জলে রোদ পড়ে ঝিকমিক করছে। তারই মাঝে এক দুটো ব্যাং ভাসতে ভাসতে কুবুক কুবুক করে এদিক থেকে ওদিক লাফ দিয়ে ডুবে যাচ্ছে। আজ আর ব্যাং মারতেও ইচ্ছে নেই। কালই বাড়ি ফিরতে হবে। তখন দিদিমার হাতের রান্না , গাছের থেকে ফল পেড়ে খাওয়া , নদীতে ডুব দিয়ে স্নান , সূর্য মামার সাথে ডোবায় জাল ফেলে মাছ ধরা কোঁকির রোমাঞ্চ সব স্বপ্নের মতো মিলিয়ে যাবে। পেয়ারা গাছের গায়ে পিঠ দিয়ে শুয়ে পড়লাম। তন্দ্রা জড়িয়ে এলো চোখের পাতায়। বন্ধ চোখে পর্দায় একটা ছায়া দুলছে। একটা মেয়ে। পেয়ারা গাছের ডালে দড়ি বেঁধে বসে দুলছে। আর একটা ডাঁসা পেয়ারা চিবিয়ে খাচ্ছে। কালো চুলে লাল ফিতে দিয়ে বেনুনি বাঁধা। কালো কালো,ডাগর চোখে তাকিয়ে আছে আমারি দিকে। আমি আশ্চর্য্য হয়ে গেলাম। এই মেয়েটা আবার কে ! পেয়ারা গাছে কোনো দোলনা তো ঝোলানো থাকেনা। সে মেয়ে দোলনা টাঙ্গালো কখন ! এলোই বা কোথা দিয়ে! আমি একদৃষ্টে তাকিয়ে আছি দেখে খিল খিল করে হেসে উঠলো।
-কি হলো চিনতে পারছিস না ? যার জন্যে এত ভালোবাসা তোর মনে তাকে দেখেও চিনতে পারছিস না ? আমি কোঁকি। এখনো ঘুরে বেড়াই এই বাগানে।
এই বলে আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো। আমি বেশ ভয় পেয়ে গেলাম। কিন্তু ছুটে পালতে গিয়েও পারছি না। হঠাৎ সে আমার মুখের দিকে তার আধ খাওয়া পেয়ারাটা ছুঁড়ে মারলো। চমকে উঠে ঘুম ভেঙে গেলো আমার। উঠে বসে ভয় ভয় চোখে এদিক ওদিক চেয়ে দেখতে লাগলাম। পেয়ারা গাছের ডাল টা দুলছে ঠিক স্বপ্নের মতোই। কোনো রকমে উঠে দৌড় লাগলাম। বেড়া গলে পার হতে গিয়ে পিঠে বাঁশের কঞ্চির খোঁচা খেয়ে জামা ছিঁড়ে গেলো। বাঁধে উঠে এসে হাঁফাতে লাগলাম।
সন্ধ্যের আগেই বাড়ি ঢুকলাম। মা হাত খামচে ধরলো।
-জামা ছিঁড়লো কি করে?
-পেয়ারা গাছে উঠে ছিল। ওই যে পকেটে ডাঁসা পেয়ারা দেখছিস না !
সামনের মোড়ায় বসে থাকা এক মহিলা বললেন। আমি পকেটে হাত ঢুকিয়ে তাড়াতাড়ি পেয়ারাটা বার করে আনলাম। ডাঁসা সবুজ চকচকে পেয়ারা, আধ খানা খাওয়া। দেখেই দিদিমা চিৎকার করে উঠলেন,
-ইস! মাগো। বাদুড়ে খাওয়া পেয়ারা তুলে এনেছিস ! যা ফেল গিয়ে এখুনি।
আমার কথা শুনে দাদা অট্টহাস্য করে উঠেছিল। বলেছিলো আমি নাকি গাছের ঠান্ডা ছায়ায় শুয়ে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলাম।
-ঘুমের অনেকরকম স্তর থাকে। ঘুমের একটি স্তরে আমাদের চোখের মনি দ্রুত ঘোরা ফেরা করলে আমরা ঘুমের মধ্যে রঙিন ছবি দেখতে পাই। এমন ছবি যেগুলো আমরা বাস্তব জীবনে দেখে থাকি বা কল্পনা করে থাকি।
এই জ্ঞান বিজ্ঞানের স্বপ্ন সংজ্ঞার বিশ্লেষণের পর আমি দাদার কাছে আর আধ খাওয়া পেয়ারার কথা তুললাম না। তুললে হয়তো বলতো যে আমি ঘুমের মধ্যে নিজেই সেটা আধ খাওয়া খেয়ে পকেটে পুরে রেখেছিলাম।
কিন্তু আমি জানি স্বপ্ন সত্যি হয়। তাই তারপর থেকে পেয়ারা খাওয়া ছেড়েই দিয়েছিলাম। ****












website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments