Header Ads Widget

বনবাংলো

বনবাংলো Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)






#গল্প
      #বনবাংলো।
      
                   -

     জামাইবাবু কেমন একটা চোখে যেন  তাকায় ওর দিকে। কিন্তু, সুমি কিছু বলে না দিদিকে। বললে, দিদি বিশ্বাসও করবে না। ওর জামাইবাবুকে গ্রামের সবলোকই ভয় পায়- সমীহ করে। এককালের জমিদারের বংশধর - বিরাট বড়লোক। ওদের গ্রামের পাশেই নদী। নদী পেরিয়ে বন। সেই নদীর ওপারে বনের ধারে জামাইবাবুর একটা দোতলা কাঠের বাড়ি আছে। দিদি বলে বাংলো। সেখানে মাঝেমাঝেই রাত কাটায় জামাইবাবু৷ টুকটাক শিকারও নাকি করে। একবার তো লুকিয়ে হরিণ শিকার করে তার মাংস সবাইকে খাইয়েছিলো৷ হরিণ শিকার করা নিষিদ্ধ। কিন্তু, জামাইবাবুর চেনাশোনা অনেক ক্ষমতাশালী লোক আছে। তাই ভয় খুব একটা পায় না। সে মাংস অবশ্য মুখে দিতে পারে নি সুমি। ও একবার জামাইবাবুর ঐ বাড়িতে গিয়েছিলো। জামাইবাবুর ঐ কাঠের বাড়ি ছাড়িয়ে কিছুটা দূরে বনের শুরু। সেখানে একপাল হরিণ দেখেছিলো ও। কি সুন্দর দেখতে! চোখদুটো কি মায়াবী! সেই সুন্দর প্রাণীর মাংস ও খেতে পারে? দিদির অবশ্য কিছুই এসে যায় না। যেমন জামাইবাবু- তেমনি দিদি। জামাইবাবুর একটা কুকুর আছে। ভয়ঙ্কর চেহারার কুকুর। সে আবার দিদির ন্যাওটা। দিদিকে ছেড়ে থাকতে পারে না। দিদি অবশ্য ওদের বাড়িতে খুব একটা আসেনা।

     সুমির বাবা নেই। মা কোনরকমে সংসার চালায়। দিদি অবশ্য সাহায্য করে। এবারে দিদি আর জামাইবাবু গিয়েছিলো ঐ কাঠের বাড়িতে। কিন্তু, জামাইবাবু ফিরে এলো একা। গোটা গ্রামে বিষাদের ছায়া। জামাইবাবু যখন জঙ্গলে গিয়েছিলো শিকারে- তখন দিদিও সঙ্গে গিয়েছিলো। দিদিকে একটা বাঘ ধরে নিয়ে গিয়েছে। জামাইবাবুর সামনে দিয়ে। জামাইবাবুর বন্দুকের গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কুকুরটা পিছনে পিছনে তাড়া করে যায়। আর ফিরে আসে নি। জামাইবাবু কয়েকদিন খুঁজে খুঁজে হতাশ হয়ে ফিরে এসেছে। ঐ জঙ্গলে যে বাঘ আছে তা সুমির জানা ছিলো না। রুমির মৃত্যুর পরে কেঁদে কেঁদে বছর কেটে গেলো সুমির। জামাইবাবু ওকে বিয়ে করতে চাইলো। মা এককথায় রাজি হয়ে গেলো। সুমির ইচ্ছে ছিলো না। কিন্তু জামাইবাবু যেভাবে ভেঙে পড়েছে তা দেখে ওর মনে খুব কষ্ট হলো। রাজি হয়ে গেলো ও। জামাইবাবুর নাম রণবীর। ও বাড়িতে গিয়ে ধীরে ধীরে মন বসিয়ে নিলো। রণবীরের বাবা-মা নেই। কাজের লোকেরা ওর ভক্ত হয়ে গেলো। এ বাড়িতে বড়ো করে পুজো হয়। পুজোর দায়িত্ব কম নয়। দেখতে দেখতে সময় কেটে গেলো। পুজোর পরে বাড়ির সবথেকে বুড়ি কাজের লোক শান্তা মাসি ওর হাতে কয়েকটা ফুল আর বেলপাতা দিয়ে বললো, " এগুলো সবসময়ে কাপড়ের খুঁটে বেঁধে রেখো। মায়ের আশীর্বাদ সবসময় তোমার সঙ্গে থাকবে। "

        এতদিন রণবীর ঐ বাংলোয় যায় নি। এবার সুমিকে বললো যাওয়ার জন্য। সুমি মন থেকে সায় পেলো না। তবু বিষণ্ণ রণবীরের মন যাতে ভালো হয়- সেজন্য যেতে রাজি হলো। সকাল সকাল ওরা নদী পেরিয়ে গেলো বাংলোয়। নীচের তলায় থাকে বিক্রম। সে এই বাংলোর কেয়ারটেকার-আবার রাঁধুনিও। সত্যিই দারুণ রান্না করে বিক্রম। অমৃতের স্বাদ পায় সুমি। ও নিজেও এতো ভালো রান্না করতে পারতো না। বিকেল গড়িয়ে যখন সন্ধ্যা নামছে, আকাশ যখন রক্তরাঙা-এ-ধরনের একঝাঁক হরিণ চলে এসেছিলো বাংলোর সামনে। মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখছিলো সুমি। পিছন থেকে রণবীর শক্ত করে ওর হাত চেপে ধরে। চমকে ওঠে সুমি। একঝাঁক পাখি ডাকতে ডাকতে আকাশ দিয়ে উড়ে যায়। ঝুপ করে অন্ধকার নেমে আসে। অন্ধকারের চাদরে মুড়ে যায় চারদিক।

     রণবীর বনে ঘুরে খরগোশ -পাখি শিকার করে। অলস সময় কাটে সুমির। দিদির কথা খুব মনে পড়ে যায়। চোখ ভিজে যায় যখনই দিদির কথা মনে পড়ে। রাতে ঘুম ভেঙে যায় বিভিন্ন পশু-পাখির ডাকে। সকাল থেকে বারান্দায় বসে প্রকৃতির অনুপম সৌন্দর্য দেখে। বেশ লাগে ওর। সেদিন গভীর রাতে ঘুম ভেঙে যায় সুমির। দরজায় কে যেন আঁচড়াচ্ছে। দোতলায় ওঠা তো কোনো পশুর পক্ষে সম্ভব নয়। তাহলে কি হাওয়ায় শব্দ হচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই একটু ডাকাবুকো সুমি। সহজে ভয় পায় না। পাশে রণবীর অঘোরে ঘুমোচ্ছে। দরজা খুলে বিস্মিত হয় সুমি। রণবীরের কালো কুকুরটা না? সে কি করে হবে? রণবীরকে ডাকতে মুখ ফিরোয়। ঘুমন্ত লোকটাকে ডাকতে মায়া হয় ওর। তারপর ফিরে আর কুকুরটাকে দেখতে পায় না সুমি। কোথায় অদৃশ্য হয়ে গেছে কে জানে? তাহলে কি কুকুরটা ফিরে এসেছে? আর কুকুরটাকে দেখতে না পেয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় সুমি।

     পরের দিন রণবীরকে বলতে হেসে উড়িয়ে দেয় ও। কিন্তু, নিজের চোখকে কি করে অবিশ্বাস করবে ও! পরের দিন রাতে ঘুম ভেঙে যেতে বারান্দায় বেরিয়ে এলো সুমি। আজ পূর্ণিমা। চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে চারদিক। মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে সুমি। একটা রাতচরা পাখির ডাকে চমকে ওঠে সুমি। গা ছমছম করে ওঠে। ঘরে ঢোকার আগে আর একবার বাইরের দিকে তাকিয়ে চমকে ওঠে সুমি। কালো কুকুরটা না? তাই তো মনে হচ্ছে। প্রাণপণে একজায়গায় মাটি আঁচড়াচ্ছে। হঠাৎ সুমির দিকে মুখ তুলে অক্ষম আক্রোশে গর্জে ওঠে কুকুরটা। ভয় পেলেও কৌতূহলই জয়ী হলো। নীচে নেমে দরজা খুলে বেরিয়ে এলো সুমি। কাছে গিয়ে কিন্তু কুকুরটাকে আর দেখতে পেলো না ও। অথচ চারদিক চাঁদের আলোয় ঝকঝক করছে। কিরকম অপার্থিব আলো। যেখানে কুকুরটা আঁচড়াচ্ছিলো -সেখানে জমিটা কিছুটা অসমান। বাংলোয় ফিরে সুমি বারান্দায় রাখা শাবলটা তুলে নিলো। ওর প্রচন্ড কৌতূহল হচ্ছে জায়গাটা খুঁড়ে দেখার জন্য। 

    খোঁড়া শুরু করতেই রণবীরের গলার আওয়াজ পেয়ে বারান্দার দিকে তাকিয়ে দেখে রণবীর ওকে ডাকছে। না শুনে ও মাটি খুঁড়তেই থাকে। কেমন একটা জেদ চেপে গেছে ওর। রণবীর নীচে নেমে ওর দিকে এগিয়ে গেলো। " তুমি কি পাগল হয়ে গেছো নাকি? এই মাঝরাতে এখানে বাঘও আসতে পারে।" সুমি শুনলো না। ওর ভিতর থেকে কে যেন বলছে খুঁড়ে দেখতেই হবে। কপাল দিয়ে ঘাম ঝরছে। হাঁপাচ্ছে ও। তবু খুঁড়তে থাকে। রণবীরের দুটো হাত ওর গলা চেপে ধরে। " বলছি- তবু শুনছো না। সব কিছু জানার ইচ্ছা কেন তোমার? তবে শোনো। তোমার দিদিকে আমিই মেরে ফেলেছি। আমার এক বন্ধুর সঙ্গে খুব আশনাই চলছিলো। পারলে দুজনকেই মারতাম। তাছাড়া যখন থেকে তোমায় দেখেছি তখন থেকেই ঠিক করেছিলাম তোমায় ভোগ না করে ছাড়বো না। " দুটো হাতের চাপ ক্রমশঃ কঠিন হয়ে আসে। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সুমির। প্রাণপণ শক্তিতে ও রণবীরের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে। ব্যর্থ চেষ্টা। সাঁড়াশির মতো হাতদুটো আরো চেপে বসেছে। ওর চোখদুটো যেন ছিটকে বেরিয়ে আসছে। অসহায় সুমির হাত শিথিল হয়ে যায়।  রণবীরের হাত আর ধরে থাকতে পারে না ও। নিজের আঁচলটা শিথিল হাতে ধরে। আর তখনি ওর মনে পড়ে যায় ফুল আর বেলপাতার কথা। সবসময়েই ওর আঁচলের সঙ্গে বাঁধা থাকে। আঁচলটা বুকে চেপে ধরে। আসন্ন মৃত্যুর আগে মা দুর্গার কথা স্মরণে আসে। মনে পড়ে যায়, " ইয়া দেবী সর্বভূতেষু"। পুরোহিত ঠাকুরের মন্ত্রোচ্চারণ যেন স্পষ্ট শুনতে পায় ও। আর তখনি একটা ভয়ঙ্কর গর্জন। রণবীর ওর গলা ছেড়ে দিয়েছে। হাঁপাতে হাঁপাতে সুমি তাকায় রণবীরের দিকে। রণবীরের গলা কামড়ে ধরে ঝুলছে ওরই পোষা কালো কুকুরটা। চাঁদের আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কালো কুকুরটার হিংস্র দুটো চোখ। যেন টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলবে রণবীরকে কোন এক আক্রোশে। চোখের সামনে সব অন্ধকার হয়ে যায় সুমির। 

    জ্ঞান ফিরতে সুমি দেখে ও বাংলোয় ওর ঘরে বিছানায় শুয়ে আছে। মা বসে আছে ওর শিয়রে। পাশে গ্রামের কবিরাজমশাই  ঘরভর্তি গ্রামের লোকজন। ধীরে ধীরে উঠে বসতে চায় ও। কবিরাজমশাই ওকে শুয়ে থাকতে বলে। ও শুনতে পায় পুলিশ এসেছে। রণবীরকে অজানা কোনো  হিংস্র পশু কামড়ে কামড়ে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। সেখানেই মাটির তলায় একটা কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছে। হাতের আংটি দেখে বোঝা গেছে সেটা রুমির  কঙ্কাল। পুলিশের কর্তা যখন জানায় এই কঙ্কালটা রুমির তখন ডুকরে কেঁদে ওঠে সুমি। ধরা গলায় বলে, " আর কুকুরটা?" " কুকুরের কঙ্কালটাও পাশেই পাওয়া গেছে। চমকে যায় সুমি। নিজের চোখকে অবিশ্বাস করবে ও কি করে? নদী পার হয়ে ফিরে আসে ওরা। ভুটভুটি যখন মাঝনদীতে তখন পিছনে ফিরে তাকায় সুমি। ও স্পষ্ট দেখতে পেলো কালো কুকুরটা নদীর ওপারে দাঁড়িয়ে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। হঠাৎ বৃষ্টি নামলো। আবছা হয়ে গেলো চারদিক। ওপারের আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না। কেন জানেনা সুমি ওর ভীষণ কান্না পাচ্ছে। 

    গ্রামে ফেরার পরে পুলিশ ওকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করলো। গ্রামের সর্বত্রই এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা। নিজেকে ঘরের কোণে বন্দী করে রাখলো। ওর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলো প্রাক্তন নায়েব হরবল্লভ। সুমির শ্বশুরবাড়ির দেখাশোনার ভার এই বৃদ্ধ মানুষটির উপরেই। সুমি বলেছিলো কোনো কাজের লোককেই যেন ছাড়ানো না হয়। সুমির শরীরটা ঠিক নেই। কবিরাজমশাই দেখে বললো," মা খুশির খবর। তুমি মা হতে চলেছো। " আনন্দ পেলো মা। সুমিকে বললো," রুমি বোধহয় এবার তোর পেটে এসেছে।"  সুমি প্রথমে নিরুত্তাপ ছিলো, মার কথা শুনে ওর মনটা কেমন করে ওঠে। দেখতে দেখতে পুজো চলে আসে। কাজের লোকেরা সবাই আসে। শান্তা মাসি বলে," মা পুজো কি হবে না? তুমি ফিরে এসো।" মার কথায় সুমি ফিরে গেলো ওর শ্বশুরবাড়িতে। ঠাকুরকে বেদীতে ওঠানো হলো-সাজানো হলো। বোধনের পরের দিন পুজো শুরু হলো। ঠাকুরমশাই আরতি করছেন। ঢাক আর কাঁসরের আওয়াজে ভরে গেছে চারদিক। দুর্গার মুখের দিকে তাকিয়ে সুমির মনে হলো মা ওর দিকে তাকিয়ে হাসছেন। চকিতে ওর মনে পড়ে গেলো সেই ভয়ঙ্কর রাতের কথা। মায়ের এই মুখই যে ও দেখেছিলো। পুজো বাড়ি থেকে ফেরার পথে সুমি টের পায় ওর শাড়ির আঁচল ধরে কে টানছে। তাকিয়ে দেখে একটা কালো রঙের কুকুরের বাচ্চা। কুকুরের বাচ্চাটাকে আদর করতেই ওর চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই ভয়ঙ্কর কালো কুকুরের স্মৃতি। " এই কুকুরটা কোত্থেকে এলো? আমাদের সঙ্গে সঙ্গে যাচ্ছে যে। " রান্নার লোক মানদা বলে ওঠে। " থাক- ওকে আমি পুষবো।" সুমি বলে। ওর পেটে নড়ে ওঠে বাচ্চাটা। সুমি পেটে হাত বুলিয়ে বলে," তুই খুশিতো? আমি জানি।"












website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments