Header Ads Widget

হুইল চেয়ার

হুইল চেয়ার Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)





#গল্প:- হুইল চেয়ার (ভূতের গল্প)


২০৪০ সাল
আজ ভারতের মহাকাশ গবেষণার এক উল্লেখিত দিন। পৃথিবীর প্রথম দেশ হিসেবে ভারত শনিগ্রহে পা রাখলো। ইসরোর মহাকাশ গবেষণা ইনস্টিটিউটে আজ অনাবিল খুশির পরিবেশ। তারা পেরেছে। পেরেছে পৃথিবীকে বুঝিয়ে দিতে,"হাম কিসি সে কম নেহি"।
গোটা ইনস্টিটিউটের মানুষের সম্বলিত করতালি কেবল একটা হুইল চেয়ারকে ঘিরে। আজ ভারত যে মহাকাশ গবেষণাতে এতটা অগ্রসর হয়েছে তা তো শুধু ওই.....

২০১০ সাল
"কি রে রাক্ষুসী? নিজের স্বামীকে তো খেয়েছিস! তারপর একটা পঙ্গু, অর্থব ছেলেকে জন্ম দিলি। সৎ পথে থাকলে কি আর ওরকম হতো?ও ছেলে আমাদের রক্ত নয়। কোন অজাত, কুজাতের রক্ত কে জানে? ও ছেলে তোর পাপের বোঝা। গলা টিপে মেরে ফেল ওকে। কি হবে বেঁচে থেকে। সারাজীবন বোঝা হয়ে থাকবে।"
সুপ্রিয়া শাশুড়ির কথা শুনে কেঁদে ফেলে। নিজের পঙ্গু সন্তান রুদ্রকে বুকে জড়িয়ে ধরে।

রুদ্রর আজ ৯ বছর পূর্ণ হলো। জন্ম থেকেই সে স্পেশাল। দুটো পা অকেজো। হাঁটতে পারে না। হুইল চেয়ার নিত্যসঙ্গী। অথচ এমন হওয়ার কথা ছিলো না! ঈশ্বর মাঝে মাঝে কেন যে এমন পরীক্ষা নেন?

সুপ্রিয়া কলেজে পড়ার সময় অনিলের প্রেমে পড়ে। তারপর বাড়ির অমতে বিয়ে। সুপ্রিয়া কলকাতার বিখ্যাত বনেদী ফ্যামিলি "দাশ পরিবারের" মেয়ে। বাবা একজন স্বনামধন্য বাবস্যায়ী। তাই যেদিন সুপ্রিয়া যখন বস্তির ছেলে অনিলের হাত ধরে বাড়ি ছাড়ে,সেদিন ওই দাশ বাড়ির সাথে সমস্ত যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। সেটাই হয়তো স্বাভাবিক। দাশ পরিবারের কাছে তাদের নিজেদের সম্মানটাই যে সব।
অথচ মনে কোনো ক্ষোভ ছিলো না সুপ্রিয়ার।
দিনমজুর অনিলের সাথে ভালোই দিন কাটছিল।
রাজপ্রাসাদের সুখ সুপ্রিয়া ভাঙা বস্তিতে খুঁজতে চেয়েছিলো। কিন্তু পারলো কই? তার আগেই....

"বলি সারাদিন কি ওই ল্যাংড়া ছেলের পিছনে সময় দিলে হবে?বাড়িতে যে আরও কাজ আছে সেটা খেয়াল আছে কি? এরপর তো আবার তুমি বাইরে রাসলীলা করতে চলে যাবে। তখন বাড়ির কাজ কে করবে? তোমার ওই ল্যাংড়া ছেলে? যতসব আদিখ্যেতা। মরণও হয় না পঙ্গুটার।"
সুপ্রিয়ার শাশুড়ি রাগে গজগজ করতে করতে এক পাঁজা বাসন ঝনঝন শব্দে ফেলে চলে যায়।
সুপ্রিয়া চোখে একরাশ জল নিয়ে নিঃশব্দে বাসনগুলো ধুতে থাকে।

বাসে জানলার পাশে একটা সিট পেয়ে বসে পড়ে সুপ্রিয়া। নিজের ছেলেকে স্নান করিয়ে খাইয়ে,বাড়ির সব কাজ সেরে এখন সে চলেছে কাজে। ভাগ্যিস কলেজে পড়ার সময় বিউটিশিয়ানের কোর্সটা করে রেখেছিল। তাই তো পার্লারে কাজটা করে কোনোরকমে ৩ টে পেট চলে যাচ্ছে। না হলে কি যে হতো কে জানে????

জানলার পাশে বসে বিগত দিনের ঘটনার স্মৃতি রোমন্থন করতে থাকে সুপ্রিয়া।
বেশ তো চলছিল তার। অনিল খুব একটা যে খারাপ ছিলো তা নয়। তাকে যথেষ্ট ভালোবাসত। রোজগারপাতি কম হলেও সুখের অভাব ছিলো না। 
কিন্তু তাল কাটলো অনিলের মৃত্যুতে। কাজ করতে গিয়ে উঁচু বিল্ডিং থেকে পরে গিয়েছিল। স্পট ডেড।
ওখানেই সুপ্রিয়ার সমস্ত স্বপ্নের সলিল সমাধি হয়ে যায়। পরিবারটা ছারখার হয়ে যায়। স্বামীহারা শাশুড়ি নিজের একমাত্র পুত্রকে হারিয়ে কেমন যেন অন্যরকম হয়ে যায়। সারাদিন খিটখিটে হয়ে থাকে। তারপর রুদ্র হতেই সেই খিটখিটানি আরো যেন বেড়ে যায়। হয়তো নাতির মধ্যে নিজের ছেলেকে খুঁজতে চেয়েছিলো। 

অথচ সুপ্রিয়া তার দোষটা কোথায় সেটা আজও বুঝতে পারে না। মরতে ইচ্ছে করে সুপ্রিয়ার। পারে না।
রুদ্রর প্রতি ভালোবাসা তাকে মরতে দেয় না।
কেউ যেনো সুপ্রিয়ার কানে কানে বলে,
"সুপ্রিয়া! হাল ছেড়ো না! রুদ্র পারবে! দেখো ও একদিন অনেক বড় হবে! আমাদের মুখ উজ্জ্বল করবে।"
গলাটা যে তার মৃত স্বামীর সেটা বুঝতে অসুবিধা হয় না তার।

সময় নদীর স্রোতের মতো বয়ে যেতে থাকে। রুদ্র এখন ১৭ বছর। সুপ্রিয়া গোটা পরিবারটিকে এখনো আগলে রাখার অসম চেষ্টা করে চলেছে। পারে না।
যত দিন এগিয়েছে ততই ওর শাশুড়ির চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়িয়েছে রুদ্র। কথাটা পর্যন্ত বলে না। ওর ছেলে যে স্পেশাল, ভগবানের দান সেটা মানতে চায় না। "ল্যাংড়া" নামটা যেন মুখেই ফেরে সুপ্রিয়ার শাশুড়ির। শুধু কি সুপ্রিয়ার শাশুড়ি? গোটা বস্তি রুদ্রকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করে। মাঝেমাঝে সুপ্রিয়া এই ভেবে অবাক হয়, কারা সুস্থ? এই সমাজ না রুদ্র??
ওরা তো রুদ্রর অক্ষমতা নিয়ে ব্যাঙ্গ করে, কই রুদ্রর ব্রেইন নিয়ে তো আলোচনায় করে না। ছেলেটা যে অসম্ভব মেধাবী সেটা তো মানে না।
হয়তো সমাজটাই এইরকম।
 "মন্দের পূজারী"!

এইরকম একদিনে সকালে রুদ্র ঘুম থেকে উঠে দেখে তার মা সুপ্রিয়া আর নেই মারা গেছে।
সমাজ আর অভাবের সাথে লড়তে লড়তে আজ তার মা ক্লান্ত,পরাজিত।
কেঁদে ফেলে রুদ্র। কিন্তু সেই কান্না সাময়িক। সমাজের রূঢ়তা তার চোখের জল শুষে নেয়।
অবাক চোখে দেখে তার ঠাম্মা তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ির বাইরে বের করে দিচ্ছে। 
বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায় রুদ্র। সমাজের প্রতি ঘৃণায় বাকরোহিত হয়ে পরে।
ল্যাংড়া,পঙ্গু বলে কি নিজের মায়ের মুখাগ্নি দেওয়ার
অধিকারটুকুও নেই???
নিজের বুক ঘষতে ঘষতে কোনরকমে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসে রুদ্র। ঠিক তখনই জীবনের কঠিন বাস্তবতার সন্মুখীন হয় সে। কতদিন, কতরাত যে সে গাছতলায় অভুক্ত অবস্থায় কাটিয়েছে তার ইয়াত্তা নেই।
রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামীজীর সামনে না পড়লে হয়তো এতদিনে তার চ্যাপ্টার ক্লোজ হয়ে যেত।

২০৪০ সাল
ইসরোর মহাকাশ গবেষণা ইনস্টিটিউটে প্রশান্ত মুখে নিজের হুইল চেয়ারে বসে সামনের খোলা আকাশের দিকে একমনে তাকিয়ে ছিল রুদ্র। আজ সে সফল। না হলে এতো কম বয়সে ইসরো প্রধান হওয়া তো আর কম কথা নয়।আজ সারা পৃথিবী তার নামে ধন্য ধন্য করছে। আজ যে ভারত শনিগ্রহ পৌঁছালো তা তো শুধু তার ব্রেইন পাওয়ারের জন্যই।
তাও এতো কম খরচে। এই যে একটু আগে নাসা থেকে বিরাট অংকের প্রস্তাব এসেছে সেটা কি আর এমনি?

"Sir! ১০ মিনিট পরে আপনার প্রধানমন্ত্রীর সাথে মিটিং আছে।"
রুদ্র দেখে তার পাশে একজন সাইয়েন্সটিস্ট দাঁড়িয়ে।
"ওহ! Yes! আমি যাচ্ছি! একটু ফ্রেশ হয়ে আসি।"
নিজের রিমোট কন্ট্রোল হুইল চেয়ার চালিয়ে ওয়াশ রুমের দিকে এগিয়ে যায় রুদ্র। ফ্রেশ হওয়াটা তার খুব দরকার।
 একটু আগে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বেশ ক্লান্ত। তাছাড়া কয়েকদিনের উৎকণ্ঠা তো রয়েছেই।

চোখ মুখ ধুঁয়ে আয়নার দিকে তাকাতেই মনটা খুশিতে ভরে ওঠে রুদ্রর।
দেখে তার মা সুপ্রিয়া আয়নার মধ্যে। তবে আজ সে একা নই। আরও একজন পুরুষ তার সাথে এসেছে।
অনেকটা তার মতন দেখতে।
সুপ্রিয়া পরিচয় করিয়ে দেয়,
"বাবা আজ তোমার বাবা এসেছে তোমার সাথে দেখা করতে। ওর অনেক দিনের ইচ্ছা তোমার সাথে দেখা করার কিন্তু এতদিন ঈশ্বর অনুমতি দেন নি। আজ দিয়েছেন।"
রুদ্র নিজের বাবার উদ্যেশে প্রণাম করে।

সুপ্রিয়া বলে চলে,
"বাবা! পেরছো। পেরছো তুমি। খুব আনন্দ হচ্ছে আমাদের। তুমি যে স্পেশাল সেটা আবারও প্রমান করলে। তোমাদের মতো ছেলেমেয়েরা যে গড গিফ্টেড সেটা সমাজকে বুঝিয়ে দিলে। এ জয় শুধু তোমার নয়। এ জয় তোমার মতো লাখ লাখ ছেলে মেয়েদের যাদের সমাজ তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের চোখে দেখে।
আজ আমাদের মুক্তি। এবার আমাদের ফিরতে হবে।
খুব ভালো থেকো। আর ঠাম্মির খেয়াল রেখো। মনে রেখো তুমি ছাড়া তার আর কেউ নেই। এবার আমরা আসি। ডাক এসেছে যে।"
রুদ্র দেখে সামনের আয়নায় তার বাবা-মায়ের আবছা অবয়ব ধীরে ধীরে মিলে যাচ্ছে।

নিজের অজান্তেই চোখে জল চলে আসে রুদ্রর।
সে জানে, এই শেষ। শেষ তার মায়ের সাথে দেখা করা,শেষ মায়ের সাথে মায়ের সাথে সুখ দুঃখের অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া.....

ওদিকে রুদ্রর বস্তিতে আজ খুশির আমেজ। নিজেদের ছেলে শনিগ্রহে পৌঁছে গেছে, সেটা কি কম গর্বের। সকাল থেকে মিডিয়ার আনাগোনায় বস্তি গমগম করছে। হঠাৎ করে তারা যেন রুদ্রর অতীত জীবন নিয়ে অতি উৎসাহী।
রুদ্রর ঠাম্মি বিছানায় শুয়ে টিভিতে নিজের নাতির ইন্টারভিউ দেখছিলো। তার বাড়িতে আজ গোটা বস্তি। এমন বিখ্যাত ব্যাক্তির ঠাম্মি হওয়া কি যা তা ব্যাপার। গর্বে বুকটা ফুলে ওঠে রুদ্রর ঠাম্মির। ইচ্ছে করে উঠে গিয়ে নিজের নাতিকে টিভিতে একটা চুমু খেতে।
পারে না সে। পারে না অসাড় দেহ নিয়ে উঠে যেতে।গত ২ বছর ধরে পক্ষাঘাতে ভুগছে যে।
এখন সে বোঝে ল্যাংড়া হওয়ার কষ্ট, বোঝে পঙ্গুত্বের অভিশাপ। বোঝে প্রতিবন্ধী সন্তানের মা হওয়ার অসহায়তা।

"সবিতা দেবী বাড়ি আছেন?"
নিজের নাম শুনে দরজার দিকে তাকায় রুদ্রর ঠাম্মি।
দেখে ডাক অফিসের পিওন দাঁড়িয়ে। হাতে একটা খাম।
"রুদ্রাবাবু এইমাসে money oder পাঠিয়েছেন!
প্লিজ একটু নিয়ে নেবেন।"
চোখে জল চলে আসে সবিতা দেবীর। সেটাকে লুকাতে অন্যদিকে চোখ ফেরায় সে। ঠিক তখনই চোখ চলে যায় ঘরের কোণে রাখা রুদ্রর হুইল চেয়ারের দিকে।

নিজের অজান্তে ধরা গলায় অস্ফুট স্বরে সবিতা দেবী বলে ওঠে,
"ছেলেটা খুব স্পেশাল! গড গিফ্টেড....













website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments