টান Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
#গল্প
#টান
উত্তর চব্বিশ পরগণার ছোট একটি গ্রাম বিশ্বনাথপুর। গ্রামের প্রান্তে ততোধিক ছোট একটি মাটির বাড়ি। সন্ধ্যার অন্ধকারে, সেই বাড়ির উঠোনে এসে দাঁড়ালো এক যুবক। তুলসীতলায় দাঁড়িয়ে একটু অবাক হয়েই চারিদিকে তাকালো সে। বাড়িটা যেন নিকষ কালো অন্ধকারে ডুবে আছে। গ্রাম ঘরে, গৃহস্থ বাড়িতে ভর সন্ধ্যায় আলো জ্বালানো হয়নি, ব্যাপারটা স্বাভাবিক ঠেকল না তার কাছে। বাড়িতে কেউ নেই নাকি! উঠোনে দাঁড়িয়েই, একটু গলা তুলে ডাকল যুবক,, " মা, ও মা।'
ছোট মাটির ঘরটা থেকে এক বৃদ্ধার ক্ষীণ গলার আওয়াজ ভেসে এল,, " কে? দীপু এলি? আয় বাবা, ভিতরে আয়।"
অন্ধকারে চোখ সইয়ে ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকল দীপক ওরফে দীপু। ঘরে কাঠের তক্তপোষে শুয়ে আছেন এক শীর্ণকায়া বৃদ্ধা। এককোণে টিমটিম করে জ্বলছে একটা হ্যারিকেন। তার ক্ষীণ আলোয় ঘরের অন্ধকার দূর হওয়ার বদলে বেশ একটা আলো, আঁধারির মায়াময় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
মায়ের পাশে বসে, জিজ্ঞেস করলো দীপক,, " কী হয়েছে তোমার মা? এরকম সন্ধ্যা বেলায় শুয়ে আছ? ঘরের আলোও জ্বালাও নি.....,।"
" কিছু হয়নি রে বাপ। ঐ একটু গা গরম। বুড়ো বয়েসের আপদ বালাই। এতদিন বাদে তুই এলি। এবার আমি একদম সেরে যাব।"
" ছেলের মুখ দেখে মনের শান্তি হতে পারে মা, কিন্তু, দেহের অসুখ সারে না। তুমি শোও। আমি ডাক্তার কাকাকে ডেকে আনি।"
উঠে পড়ছিল দীপক, বৃদ্ধা বাধা দিলেন।
" দীপু, আমার সময় বেশী নেই বাবা। ডাক্তার, কবিরাজ পরে করিস। এখন একটু বস আমার কাছে। তোকে মনের আশ মিটিয়ে একটু দেখি। সেই যে ছমাস আগে গেলি দিল্লি তে সোনার দোকানে কারিগরের কাজ করবি বলে, এতদিন পরে মাকে মনে পড়ল বাবা?
" কী করব বলো মা? মালিক ছুটি দিতে চায় না একদম। জোর করে আসলে মাইনে কেটে নিত। ঐ তো কটা টাকা।তার থেকেও কেটে নিলে...."
কথা শেষ করতে পারে না দীপক। রুগ্না বৃদ্ধা তার হাতদুটো ধরে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেন।
" টাকা নাহয় কিছু কেটে নিতই দীপু। তবু কদিন আগে যদি আসতিস....."
গভীর মমতায় মায়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় দীপক। " কেঁদো না মা। এইতো আমি এসেছি। দেখো, তুমি এবার..."
আবার বাধা পড়ে দীপকের কথায়। বাইরে থেকে মেয়েলী গলায় একটা ডাক ,, " কে? কে কথা বলছে বাড়ির ভিতর? দীপুদা এসেছ নাকি?"
ঘরের কোণ থেকে হ্যারিকেন টা নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে দীপক। স্তিমিত আলোয় দেখতে পায়, কর্মকারদের ছোট মেয়ে, লীলা এসে দাঁড়িয়েছে বাড়ির উঠোনে।
" কখন এলে তুমি, দীপুদা? "
" এই তো রে, ঘণ্টা খানেক হবে। মায়ের সাথে কথা বলছিলাম।"
হঠাৎ কেমন পাংশু হয়ে যায় লীলার মুখ।
" কী বলছো তুমি দীপুদা!! কার সাথে কথা বলছিলে তুমি? মাসীর সঙ্গে..!!"
" হ্যাঁ রে। কিন্তু তুই এতে চমকে উঠলি কেন? মা ছাড়া আমি এই বাড়িতে আর কার সঙ্গে কথা বলব, বল?"
কিছুক্ষণ বিষ্ফারিত চোখে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে লীলা। তারপর হ্যারিকেন টা দীপকের হাত থেকে নিয়ে, মৃদুস্বরে বলে,
" ভিতরে এসো দীপুদা।"
লীলার পিছন পিছন আবার ঘরে ঢোকে দীপক। ফাঁকা ঘর হা হা করছে। যে তক্তপোষে একটু আগেও মাকে শুয়ে থাকতে দেখেছে, সেখানে এখন বিছানা পরিপাটি করে গোছানো। কারোর শোওয়ার কোনো চিহ্ন নেই সেখানে। সামনের দেয়ালে চোখ পড়ল দীপকের। ওখানে মায়ের একটা ছবি ঝোলানো থাকে। যথাস্থানে রয়েছে সেটি। শুধু ছবিতে টাটকা রজনীগন্ধার মালা।
ধপ করে তক্তপোষে বসে পড়ল দীপক। শুনতে পেল লীলা বলছে,,
" মাসখানেক ধরে মাসী জ্বরে ভুগছিল। ডাক্তার কাকাকে কতবার পায়ে ধরে সাধলাম একবার এসে মাসীকে দেখে যাওয়ার জন্য। চামারটা বলে কিনা,,
' এই জ্বরের ওষুধ দিলাম, নিয়ে যা। বাড়ি গিয়ে রোগী দেখলে আমার আলাদা ফিজ।' আমরা দিন আনি, দিন খাই, দীপুদা। অত টাকা পাবো কোথায়? তুমি যে টাকা পাঠাতে, তাই দিয়ে মাসীর ওষুধ আর পথ্য চালিয়েছি। বিনা চিকিৎসায় পড়েছিল গো মানুষ টা। গত পরশু সব লড়াই শেষ হয়ে গেল। যতক্ষণ চেতনা ছিল, মাসী শুধু তোমার নামই করে গেছে , দীপুদা। তাই হয়তো তোমাকে একবার দেখে গেল... দুদিন ধরে, আমিই সন্ধ্যা বেলায় হ্যারিকেন জ্বালিয়ে ঘরে রেখে যাই। আজও তাই গেছিলাম। সবাই বলল, সদ্যমৃতার ঘর সন্ধ্যায় অন্ধকার করে রাখতে নেই। তাইই...."
দীপকের মুখের দিকে তাকিয়ে চুপ করে গেল লীলা। অসম্ভব এক রাগে লাল হয়ে উঠেছে দীপকের মুখ। দাঁতে দাঁত চেপে বলল সে,, " বিদেশ বিভুঁইএ আমিও নানা ঝামেলায় ছিলাম রে। খুব বেশী টাকা তাই পাঠাতে পারিনি। আপাতত আমার কাছে হাজার পাঁচেক টাকা আছে। তুই এটা রাখ। অনেক খরচ হয়ে গেছে তোর। হয়তো আরো কিছু হবে। আমি বরং একবার ডাক্তার কাকার বাড়ি থেকে ঘুরে আসি। দেখি, ওখানকার হিসেবটাও মিটিয়ে যেতে পারি কিনা।"
লীলাকে আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে, ঘর থেকে বেরিয়ে যায় দীপক। হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে লীলা।
পরদিন গ্রামে পরপর কয়েকটি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটল। গ্রামের একমাত্র ডাক্তার অবিনাশ মুখোপাধ্যায় কে নিজের বিছানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল। গভীর রাতে কেউ গলা টিপে খুন করেছে তাঁকে।
আর গ্রামের কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না দীপককে। সে যেমন হঠাৎ এসেছিল, তেমনি হঠাৎ উধাও হয়ে গেল।
গ্রামের সকলেই মোটামুটি নিশ্চিত হল, প্রবল আক্রোশে দীপকই হত্যা করেছে ডাক্তার বাবুকে। কিন্তু, অত রাতে দীপক ডাক্তার বাবুর বাড়ি ঢুকল কিভাবে, আর সবার অজান্তে এমন নারকীয় ভাবে খুন করে পালিয়েই বা গেল কিভাবে,, সেটাই মাথায় ঢুকল না কারোর।
সকলের মুখে মুখে যখন এই বীভৎস হত্যাকাণ্ডের আলোচনা চলছে, তখনই দিল্লি থেকে আসা একটা ফোনে গোটা গ্রামের মানুষ চমকে উঠে, একেবারে মূক হয়ে গেল।
দিল্লি থেকে ফোনে দীপকের এক সহকর্মী জানালো:
সোনার দোকানের মালিকের সাথে কয়েক মাস ধরে মাইনে বাড়ানো নিয়ে ঝামেলা চলছিল কারিগরদের। সেই সঙ্গে ছিল দীর্ঘদিন বাড়ি ফিরতে না পারার হতাশা। মানসিক অবসাদ আর সহ্য করতে পারেনি দীপক। গতকাল সন্ধ্যায়, নিজের ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে সে।
হ্যাঁ, সময়টা মোটামুটি তখনই, যখন আমরা দীপককে তার গ্রামের বাড়িতে ঢুকতে দেখেছি। সেই সময় যদি সে মৃত হয়, তাহলে কে এল তার গ্রামের বাড়িতে!! লীলা অতক্ষণ কথা বলল কোন দীপুদা র সঙ্গে!! এতটা ভুল দেখল, ভুল শুনল লীলা!! কিন্তু তাহলে ঐ পাঁচহাজার টাকা!! দীপুদা যদি না আসবে, কে দিল লীলাকে অতগুলো টাকা??
তাছাড়া, ডাক্তার বাবুকেই বা হত্যা করল কে?? কেন??
আর দীপকের বৃদ্ধা মা!! তিনি মৃত্যুর ওপার থেকে ফিরে এলেন কাকে দেখতে?? কার অমোঘ টানে??
গতকাল দীপুদা ই যে এসেছিল,, এব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই লীলার মনে। শুধু একটা অঙ্ক ই মেলাতে পারছে না সে।
কে কার নাড়ির টান উপেক্ষা করতে না পেরে, ফিরে এলেন পৃথিবীতে??
ছেলের টানে মা.....
নাকি, মায়ের টানে ছেলে.....???
সমাপ্ত
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments