ব্ল্যাক_ম্যাজিক Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
#ব্ল্যাক_ম্যাজিক
ভৌতিক কি না বলতে পারি না, তবে অস্বাভাবিক অবশ্যই।
কিছুদিন আগেই ঘটনাটি আমি আমার পাশের বাড়ির বৌদির কাছ থেকে শুনি। বৌদি বলে ডাকলেও উনি আমার কাকিমার বয়সী বলতে পারেন। আমি "সত্তি ভূতের গল্প"- গল্প লিখছি শুনে উনার সাথে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি গল্পের আকারে আমায় লিখতে বললেন। ঘটনাটি আমি কতটা ভালো ভাবে উপস্থাপিত করতে পারবো জানিনা, কিন্তু এটুকু বলতে পারি শুনতে শুনতে দিনের বেলাতেও আমার গা ছমছম করে উঠেছিলো। ব্ল্যাক ম্যাজিক আমি খুব ভয় পাই। গল্পটি বৌদির বয়ানেই বলার চেষ্টা করছি।
ব্ল্যাক ম্যাজিক সম্পর্কে তোমাদের কতটা অভিজ্ঞতা আছে জানা নেই, কিন্তু আমি ওসবে একেবারেই বিশ্বাস করতাম না। জ্যোতিষী, তাবিজ-কবচ, তন্ত্র সাধনা, ব্ল্যাক ম্যাজিক এসবের থেকে বরাবরই নিজেকে একটু বাঁচিয়ে চলতাম। এসবের সত্যতা সম্পর্কে যেমন কোনো জ্ঞান ছিল না, তেমন কোনোদিন জানার কোনো আগ্রহও জন্ম নেয়নি। বিয়ের পর সবাই যখন বলতো, বিয়ের জোর, মালা বদলের মালা, জুতো সমস্ত কিছু সাবধানে ১ বছর সামলে রাখতে, তখন কিছুটা তাচ্ছিল্যের সাথেই নিয়েছিলাম কথাটা। মনে মনে ভাবতাম, কেন যে মানুষ আজও অন্ধ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে ,কে জানে...!
বিয়ের পর সবেমাত্র ৩ মাস কেটেছে। নতুন বউয়ের গন্ধ তখনো গা থেকে যায়নি। নতুন জীবন, নতুন পরিবারের আনন্দে মাতোয়ারা। আমার শ্বশুরবাড়ির ফ্ল্যাটটি যে আপ্যার্টমেন্টে, তার নিচে ২৪ ঘন্টা একজন সিকিউরিটি গার্ড থাকতেন। তাই আমরা খুব নিশ্চিন্তেই ঘরের বাইরে নিজেদের জুতোর একটা আলমারী রেখেছিলাম। পরিবারের সকলের জুতোর সাথে সাথে আমার আর আমার স্বামীর বিয়ের জুতোও ছিল ওই আলমারিটাতেই।
একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিস যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছি। জুতো বের করতে গিয়ে দেখি আমার বিয়ের জুতোর এক পাটি নেই। কি আশ্চর্য ব্যাপার। এক পাটি জুতো নিয়ে কার কি লাভ হতে পারে ভেবে পেলাম না। বিয়ের জুতো বলে কথা। মা বার বার করে বলে দিয়েছিলেন এক বছর যত্ন করে রাখতে। তন্ন তন্ন করে সর্বত্র খোঁজা হলো, কোথাও নেই। একবার মনে হলো নিশ্চই এটা কোনো কুকুরের কাজ। হয়তো সিকিউরিটি গার্ড ঘুমিয়ে পড়েছিলেন রাতের বেলা, সেই সুযোগে কুকুর ব্যাটা এই কারসজিটা করেছে। কিন্তু আরও অবাক হলাম যখন বুঝতে পারলাম আমার স্বামীরও বিয়ের আর এক পাটি জুতো ভ্যানিশ। এইবার মনটা একটু খুঁত খুঁত করতে লাগলো। যাই হোক, তোমার দাদার অফিস যেতে যেতে সেদিন একটু দেরিই হয়ে গেল।
কাজের চাপে জুতোর কথাটা প্রায় ভুলে গিয়েছিলাম। সন্ধ্যেবেলায় চা খেতে খেতে শাশুড়িকে সমস্ত টা খুলে বললাম শাশুড়ির শুনে রে রে করে উঠলো চিন্তায় ওনার কপালে ভাঁজ পড়ল । সেদিন ওর বাড়ি ফিরতে বেশ রাত হল। খুব ক্লান্তও হয় ছিল। তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খেয়ে তাই ঘুমিয়ে পড়লাম।
রাত আড়াইটা তিনটে হবে। অদ্ভুত একটা স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গেল। দেখলাম অন্ধকার একটা রাস্তায় আমি একা হেঁটে চলেছি। খুব ভয় করছে। কাউকে দেখতে পাচ্ছিনা, কিছু চিনতে পারছি না। চিৎকার করতে যাচ্ছি গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোচ্ছে না।
ঘুম থেকে উঠেও ভয় হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেছে। জল খেয়ে একটু ধাতস্থ হয়ে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।
কিন্তু ঘুম আর হলো না।
আজও স্পষ্ট মনে করতে পারি, এই একই স্বপ্ন আমি টানা এক সপ্তাহ দেখেছিলাম। প্রতিরাতে এই একই ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখে ঘুমের মধ্যে কাঁপতে থাকতাম। আর ভয়ে ঘুম ভেঙে যেতো। তারপর আর ঘুম হত না, পুরো ঘুম না হওয়ায় চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।
এইরকম অবস্থাতেই একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আকাশের মুখ ভার। বেশ বোঝা যায় নিম্নচাপ হয়েছে। আমার শরীরটাও বিশেষ ভালো লাগছিলো না। একবার ভাবলাম ওকে বলবো আজ আর অফিস যেতে হবে না। কিন্তু বিয়ের জন্য অলরেডি বেশ কয়েকটা ছুটি চলে গেছে। আর তাছাড়া ওর অফিস বাড়ির খুব কাছেই। এইসব সাত পাঁচ ভেবে আর কিছুই বললাম না। ও অফিস চলেই গেলো।
ভাবলাম আজ একটু বাবার কাছ থেকে ঘুরে আসি , তাড়াতাড়িই বাড়ি ফিরে আসবো। একটু ফ্রেস হয়ে নিয়ে যেই বেরোতে যাবো, হটাৎ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো। এত জোরে বৃষ্টি আমি শেষ কবে দেখেছি মনে পড়ে না। চারিদিক সাদা হয়ে গেছে, কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না। আমার কাছে ছাতাও নেই। আর যা বৃষ্টি পড়ছে তাতে ছাতা কোনো কাজেও আসবে না। রাস্তা ঘাটে যতদূর চোখ যায় মানুষ তো দূরের কথা, একটা কুকুর পর্যন্ত নেই। গাড়ি গুলো পর্যন্ত কোথায় যেন উবে গেছে। হটাৎ আমার কি যে হলো আমি জানিনা, এই বৃষ্টির মধ্যেই বাবার-বাড়ি যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়লাম। শাশুড়ি-মা আমাকে অনেক বারণ করেছিল। আমি কারো কথা শুনলাম না। আমি যেন আমার মধ্যে ছিলাম না। বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম। বেশ কিছুটা পথ আসার পর মনে হলো প্রতিদিনের চেনা রাস্তাটা কেমন যেন অচেনা হয়ে গেছে। কাউকে চিনতে পারছিনা। খুব ভয় করতে লাগলো। চারিদিকে অন্ধকার, একটা বাড়ির আলো পর্যন্ত জ্বলছে না। একা একা আমি হেঁটেই চলেছি, ঠিক স্বপ্নে দেখা সেই রাস্তাটা দিয়ে। ১০ মিনিটের রাস্তাটাকে এক ঘন্টার মনে হচ্ছে। চিৎকার করতে চাইছি, অথচ গলা দিয়ে টু শব্দটি করতে পারছি না। কিরকম মনে হলো, আমার ডান দিক থেকে ক্রমাগত আমাকে কেউ ফলো করছে। বার বার পিছন ফিরে তাকালেও কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। এইরকম ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে কতক্ষন হেঁটেছিলাম জানিনা। সামনের বাড়ি থেকে একজন মহিলাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার করে ওনাকে জাপটে ধরেছিলাম, তারপর জ্ঞান হারালাম।
একটু ধাতস্থ হওয়ার পর উনি আমাকে বাড়ি দিয়ে এসেছিলেন। আজও খুব স্পষ্ট ভাবে মনে করতে পারি, বাড়ি ফিরে এসেও একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। কারো কোনো প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারিনি। শুধু আমার ঘরে দেওয়ালে টাঙানো আমার মা-এর ছবিটার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিলাম আর চোখ দিয়ে ক্রমাগতভাবে জল ঝড়ছিলো।
এরপর শুরু হয় গোলমাল আমার হাজবেন্ডের সঙ্গে... ওর অফিসে হঠাৎ একটা বিশাল চুরি হয়ে যায় প্রচুর অর্থ ক্ষতি হয় ও পাগলের মতন করতে থাকে , কোন কিছু কূলকিনারা না পেয়ে নিজের মাথার চুল নিজে ছিঁড়তে থাকে। আমি , আমার শাশুড়ি মা ওকে সামলাতে পারছিলাম না, আমাদেরকে খুব বাজে বাজে কথা শোনার ছিল । সবার থেকে নিজেকে আলাদা করে নিয়েছিল, অন্ধকার ঘরে একা একা থাকত, শাশুড়ি মা এবং আমি দুজনেই খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম । কি করব বুঝতে না পেরে শুধুই ঠাকুরকে ডাকছিলাম , এর থেকে মুক্তির পথ উনি যেন দেখান।এই অঘটনটা এমন ভাবেই ঘটেছিল আমার হাজবেন্ডের জীবনটা পুরো অগোছালো হয়ে গেছিল।
কতটা ক্ষতি হয়েছিল জানি না তবে হয়তো প্রচুর ক্ষতি করে দিয়েছিল, যার ফলে ওর আর আমার সম্পর্কের ব্যাঘাত ঘটতে শুরু করে দিলো। এইভাবে খারাপ দিনগুলো কাটাতে থাকছিলাম, এমন কিছু ঘটনা ঘটে চলেছিল, হয়তো ওর আর আমার মধ্যে ডিভোর্স পর্যন্ত হয়ে যেত যদি না শাশুড়ি মা আমাকে *উনার* কাছে নিয়ে যেত।
সারাটাদিন আজ টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছিল। কাজের মধ্যে কাটাতে লাগলাম। দুপুরের পর থেকে আবহাওয়ারও বেশ কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বিকেলে সাড়ে পাঁচটা নাগাদ শাশুড়ি মা এসে পড়লেন বললেন,~ 'মৌ আমার সাথে একটা জায়গায় চলো'। আমি বললাম ~'এখন কোথায় যেতে হবে '? উনি বললো,~ চলোই না গেলেই দেখতে পাবে। আমাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে অটো করে সোজা খড়দা চৌধুরীপাড়া তে এলাম এখানে আমি আগেও এসেছি বিয়ের আগে পড়াতে। ওখানেই লাইট পোষ্টের সামনে একটি বাড়িতে আমরা ঢুকে গেলাম, বাড়িটা আমি চিনতে পারলাম। পড়াতে আসতাম যখন, আর এটাকে দেখতে পেতাম। আজও রয়েছে একটু পুরনো হয়েছে। শাশুড়িমা আমাকে নিয়ে ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বললো ~ 'আমি গিয়ে দেখি ঠাকুরমশাই আছে কিনা তুমি এখানে অপেক্ষা করো'! বলে মা ভেতরে ঢুকে গেল তার কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে এসে বলল, মৌ ভেতরে এসো। ভিতরে গিয়ে দেখলাম.. একজন ভদ্রলোক বসে আছেন , সাদা পাঞ্জাবি পাজামা পরে, বয়স প্রায় ৭০ এর উপরে !
মা বললেন~ ইনি ব্রাহ্মণ পুরোহিত মনি রতন কাকু। উনাকে বাবার আমল থেকে আমরা চিনি, উনি জ্যোতিষী চর্চা করেন , পুজো করেন, অনেক কিছু সমস্যা সমাধান করতে পারেন। তাই আজ আমরা এখানে এসেছি ওনার কাছে , আমাদের সমস্যাটা বলবো। আমাকে ইশারায় বসতে বলে, ওনার দিকে জোড়হাত করে বলে উঠলেন, কাকু ইনিই আমার বউমা একটু দেখুন না ওকে... রাতের বেলায় ভয়ানক স্বপ্ন দেখছে.. বলে কি স্বপ্ন দেখেছি সেটা বলল। সেদিন কারোর কথা না শুনে বৃষ্টির মধ্যে বেরিয়ে গিয়ে বিশাল একটা অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছিল।
বিয়ের তিন মাসের মধ্যে ওর আর আমার ছেলের একপাটি জুতো কেউ নিয়ে নিয়ে গেছে। দেখুন না একটু বলে নিষ্পলক ভাবে তাকিয়ে রইলেন ওনার দিকে।
সব শুনে তিনি বলেছিলেন, আমাদের জুতো জোড়া নিয়ে গিয়ে কেউ নাকি ব্ল্যাক ম্যাজিক করেছে। কিন্তু ভাগ্য ভালো, সেরকম কিছু হয় নি। ভালো করে জুতোর আলমারিটা পরিষ্কার করতে বলেছিলেন। আর পারলে যেন আলমারিটা না ব্যবহার করি। উনি আমাদের স্বামী স্ত্রীকে একটি করে মাদুলী দিয়েছিলেন, তিন মাস ওটি পড়ে থাকতে বলেছিলেন। বলল, সব ঠিক হয়ে যাবে কোনো চিন্তা নেই।
বাড়ি ফিরেই সবসময়ের কাজের মেয়েটিকে দিয়ে জুতোর আলমারিটা পরিস্কার করিয়ে ছিলাম। সেই জুতোর আলমারিটা থেকে একটা লাল কাপড়, লাল জবা আর সর্ষে খুঁজে পেয়েছিলাম। এর পর থেকে ওই আলমারিটা আর ব্যবহার করিনি কখনো।
মাদুলি টা আমরা দুজনেই হাতে পড়ে নিয়েছিলাম। তারপর থেকে আস্তে আস্তে আবার সব সহজ হতে শুরু করল । আমার শরীরও ঠিক হতে শুরু করল আর ওর অফিসেও সব ঠিকঠাক হয়েছিল কারন ওর স্বভাব টা আবার আগের মতন হয়ে গেছিল। আমার সাথেও সম্পর্কটা আবার আগের মতন হয়ে গেল। মাঝখানে কিছুদিন টা যেন দুঃস্বপ্নের মত কেটে গেছে।
এই ঘটনার কোনো ব্যাখা আমি আজ অবধি খুঁজে পাইনি। হতে পারে কাকতলীয়, হয়তো এমন কোনো বাস্তব যা বিজ্ঞানের নিরিখে যাচাই করা সম্ভব নয়। এই ঘটনার পরে সত্যি-মিথ্যে বিচার না করে ব্ল্যাক ম্যাজিক, তন্ত্র সাধনা এই সমস্ত বিষয় গুলোকে নিজের অজান্তেই এড়িয়ে চলি। তবে একটা জিনিষ আজ বেশ বুঝতে পেরেছি, এই সব জাদুবিদ্যার আর যাই হোক মানুষের ভালো করার ক্ষমতা শূন্য।
সমাপ্ত
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments