Header Ads Widget

মানিকের মা

মানিকের মা Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)







#গল্প-"মানিকের মা"


//১//
- "মা...ও মা ...মা"

ডাকটা শুনেই বিছানায় ধড়মড়িয়ে উঠে বসলো শর্মিলা।ঘড়িতে তখন ঠিক কাটায় কাটায় রাত তিনটে বাজতে দশ মিনিট বাকি।আবার! আবার আজকে মানিক ডাকছে! এই নিয়ে আজ পাঁচদিন;রোজ রাত্রিবেলা ঠিক এইসময়ে মানিক ডাকে..ঠিক এইসময়েই দোতলার বারান্দা থেকে ভেসে আসে মানিকের অকৃত্রিম কান্নার সুর আর তারপরেই...তারপরে দোতলার বারান্দায় একের পর এক যা ঘটে তা ভাবতে গিয়েই নিঃশ্বাসটা প্রায় বন্ধ হয়ে এলো শর্মিলার।

শর্মিলা বিছানা থেকে অতি সন্তর্পণে নীচে নামলো।বিছানায় বিল্টু আর বিল্টুর বাবা যথারীতি ঘুমিয়ে কাদা হয়ে আছে,ওদের এতটুকু টের পেতে দিলে কিন্তু চলবে না।প্রায় নিঃশ্বাসের আওয়াজটুকুও চেপে পা টিপে টিপে ও ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল দরজার দিকে।তারপর দরজার ছিটকিনিটা নামালো আস্তে করে।বুকের মধ্যে তখন ও স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে একটা প্রচন্ড ধকধক শব্দ,একটা গভীর নিঃশ্বাস ফেললো শর্মিলা...তারপর আস্তে আস্তে বেরিয়ে এলো বারান্দায়।

বারান্দায় একটাই মাত্র রাতের আলো টিমটিম করে জ্বলছে।আর তার আলোতেই অন্ধকারটা যেন আরো জমাট বেঁধে উঠেছে।মাঝে মাঝেই শীতের হিমেল হাওয়া শরীরে এসে লাগতেই গায়ের রোমগুলো খাড়া হয়ে যাচ্ছে।আর মাত্র কিছুক্ষণ... তারপরেই উনি আসবেন...উনি আসবেন ওনার মানিকের কাছে...চার...তিন...দুই...এক,ঘড়িতে রাত তিনটের ঘন্টা বাজলো ঢং ঢং করে।আর তার ঠিক সাথে সাথেই বারান্দার মাঝখানে রাখা মানিকের বড়ো খাঁচাটার সামনে শর্মিলা স্পষ্ট দেখতে পেলো এক অশীতিপর বৃদ্ধার অস্পষ্ট অবয়ব।আর তার ঠিক পরেই সেই চেনা কণ্ঠস্বর-
-"মানিক,ও মানিক কিছু খাবিনে বাবা? রাত যে কত হয়ে গেল।"

দৃশ্যটা দেখামাত্রই শর্মিলার শিরদাঁড়া দিয়ে যেন একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল।পিসিমা! পিসিমা এসেছেন তার মানিকের কাছে! শর্মিলা বুঝলো ওর শরীরটা যেন আস্তে আস্তে অবশ হয়ে আসছে...হঠাৎ করে এত ঠান্ডা লাগছে কেন ওর ! সবটা যেন অন্ধকার, আরো অন্ধকার হয়ে আসছে...

//২//

-"কিরে ছোটো এখন শরীর ভালো তো?"

বৌদিদির কথায় হালকা করে মাথাটা নাড়লো শর্মিলা।তারপর বৌদিদির চোখে চোখ রেখে একটা অস্বাভাবিক ঠান্ডা গলায় বললো-"আমি কিন্তু কালকে নিজের চোখে দেখেছি বৌদিদি।উনি এসেছিলেন,উনি নিজে এসেছিলেন ওনার মানিককে খাওয়াতে।"

-"আঃ আবার ওই এক কথা! বলেছি না ওসব কথা বলতে নেই। আর তোকে কতবার করে বললাম ছোটো রাতের বেলা ঘরের বাইরে বেরোবি না,কোনো আওয়াজ শুনলেও কান বন্ধ করে থাকবি।তা না তুই সেই কাল রাতেও ঘরের বাইরে বেড়িয়েছিলিস?"
-"কি করবো বলো...কৌতূহলের বশে..."
-"ওমন কৌতূহলের কেতায় আগুন।"-শর্মিলার কথায় ঝাঁঝিয়ে ওঠে বৌদিদি ওরফে ওর বড় জা-" তবে তোর সাহস আছে বলতে হবে ছোটো।বলি সবে আটদিন হলো ওই বুড়ি মরেছে,এখনো শ্রাদ্ধ শান্তির কাজ শেষ হলো না।আর ওর মধ্যেই কিনা তুই মাঝ রাতের বেলায় ওর ঘরের সামনে ঘোরাঘুরি করছিলিস ! আমার তো ভাবতেই কেমন গায়ে কাঁটা দিচ্ছে রে! উফ! রাম রাম রাম রাম!"
-"বৌদিদি আমার একটা কথা রাখবে? বিল্টুটাকে এই কদিনের জন্য তোমার কাছে নিয়ে শোবে গো?"-হঠাৎই একটা অদ্ভুত আকুতির সঙ্গে প্রশ্নটা করলো শর্মিলা।
-"ওঃ তোর সেই ভয় আর গেল না রে ছোটো ! বলি বেঁচে থাকতে ওই হারজ্বালানি বুড়ি যা করতে পারেনি,মরে গিয়ে তা করতে পারবে ভেবেছিস? কক্ষনো না...আরে মায়ের কাছ থেকে ছেলেকে নিয়ে যাওয়া অত সহজ নাকি?

-"তবুও বৌদিদি।তুমি তো জানো কালকেই তোমার ছোট ঠাকুরপো ব্যাঙ্গালোর চলে যাচ্ছে কাজে দোতলায় আমি আর বিল্টু একা একা শোব...তারপর রাতবিরেতে যদি কিছু একটা হয়! না বাবা তার থেকে বরং তুমি ওকে নিয়ে শুও।

-"তা না হয় বিল্টুকে আমি সাথে নিয়েই শোব।কিন্তু তুই? তুই এই দোতলায় একা শুবি নাকি ছোটো? একে তো তোর শরীরের এই অবস্থা,তারওপর আবার এই সব অঘটন।আমিও যে মুনিয়াকে ছেড়ে তোর কাছে এসে শোব তারও তো উপায় নেই রে ছোটো !"

বৌদিদির কথাটা বুকের ভেতরটা একেবারে যেন ঠান্ডা হয়ে গেল শর্মিলার।সত্যিই তো পিসিমা মারা গেছে এখনো বারো দিনও হয়নি।তেরো দিনের ঘাট কাজ এখনও বাকি ।এরই মধ্যে সমগ্র দোতলায় ওকে সারা রাত একা একা কাটাতে হবে?একা! একা!! সম্পূর্ণ একা!তাও আবার পিসীমার ঠিক পাশের ঘরেই! ওঃ কথাটা ভাবতে গিয়েই সারা শরীরটায় যেন কাঁটা দিয়ে উঠলো।

-"ও যা হবে দেখা যাবে বৌদিদি,কপালে যা আছে তা তো হবেই বলো।তবে আমার বিল্টুর জন্য আমি সবকিছু করতে পারি,সবকিছু।আর তুমি অত ভেবো না তো,দুদিনের তো ব্যাপার...তারপরেই ও চলে আসবে।আমি ঠিক সামলে নেব দেখো,ঠিক সামলে নেব।"

গলায় অনেকটা জোর এনে অনেকটা আত্মবিশ্বাসের সাথে কথাটা বললো বটে শর্মিলা,কিন্তু ও স্পষ্ট বুঝতে পারলো যে ওর বুকের ভিতর ক্রমাগত একটা ঠান্ডা গলায় কে যেন ফিসফিসিয়ে বলেই চলেছে একটাই মাত্র কথা-"বিপদ বিপদ বিপদ...মৃত্যু আসন্ন !"

//৩//

পিসিমা! পিসীমাকে নিয়ে এই সেনগুপ্ত বাড়িতে কত যে গল্প,কত যে চোখ কানাকানি,কত যে ফিসফিসানি তা ঠিক গুনে শেষ করা যাবে না।বিয়ে হয়ে আসা ইস্তক এসব শুনে আসছে শর্মিলা।

বিয়ে করে এবাড়িতে যেদিন ও প্রথম আসে,সেদিন প্রথম বার পিসীমাকে দেখেই ওর মনে হয়েছিল এ এক হাড় জিরজিরে জাঁদরেল বুড়ি।মাথা ভর্তি সাদা চুলের জট, দাঁতবিহীন ফোকলা গাল, প্রায় অস্থিসার শরীর অথচ হাবে ভাবে,চালে চলনে একটা অদ্ভুত আভিজাত্য।বুড়িকে দেখামাত্রই বৌদিদি শর্মিলার কানে ফিসফিস করে বলেছিল-"এই বুড়ির থেকে একটু সামলে থাকিস রে ছোটো, ভীষণ রকমের শুচিবাইগ্রস্ত এবং অস্বাভাবিক খিটখিটে।বাড়ির সব্বাই তো এর ভয়ে একেবারে কাঠ হয়ে থাকে।এখন যা তাড়াতাড়ি গিয়ে পেন্নাম ঠোক।নইলে এক্ষুনি 'বাপের বাড়িতে কি শিখেছো বাছা' বলে গলা চেপে ধরবে।"

সেই বুড়ি পিসীমার সঙ্গে শর্মিলার প্রথম আলাপ।তারপর অবশ্য যতদিন গেছে ও ততই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে যে বৌদিদির সেইদিনের কথাগুলো ঠিক কতটা সত্যি ছিল।তারপর অবশ্য পিসীমার সম্পর্কে নানান গল্প ও শুনেছে এ বাড়ির অন্যদের কাছ থেকে।এই যেমন বুড়ি পিসীমার ভালো নাম নাকি মনিবালা দেবী।অল্প বয়সে তিনি ছিলেন নাকি ডাকসাইটে সুন্দরী,দারুন সেতার বাজাতে পারতেন,দুর্দান্ত আঁকতে পারতেন এবং সবচেয়ে বড়ো কথা তিনি নাকি সেই সময়ের গ্র্যাজুয়েট পাশ।ভাবা যায়!

তো তখনকার সেই অপূর্ব সুন্দরী, নরম স্বভাব ননিবালা নাকি হঠাৎ পাল্টে গেলেন বিয়ের ঠিক পর পরই।বিয়ের ঠিক তিনমাসের মাথায় শ্বশুরের সঙ্গে কি একটা বিষয়ে ঝগড়া করে নাকি এক কাপড়ে শ্বশুর বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছিলেন তিনি।তারপর জীবনে আর কখনো ওই বাড়িমুখো হননি এমনি তার জেদ।

অন্যদিকে শর্মিলার শ্বশুরও ছিলেন তেমনি রাশভারী ও কঠিন মানুষ। একমাত্র বোনের প্রতি তার ছিল অগাধ স্নেহ সুতরাং যে বাড়ি ছেড়ে তার বোন এক কাপড়ে চলে এসেছে,সে বাড়িতে তাকে আর কক্ষনো ফিরে যেতে আদেশ বা অনুরোধ কোনোটাই করেন নি তিনি।সুতরাং সেই তখন থেকেই মনিবালা থেকে গেলেন এই সেনগুপ্ত বাড়িতে তার দাদার সংসারে।

এমনিতে জেদি,খিটখিটে হলে কি হবে,মনিবালার সাংসারিক জ্ঞান ছিল দুর্দান্ত।তেমনি আবার ছিল তার হাতের রান্না।এ বাড়ির লোকেরা তো পিসীমার রান্না শুনেই ধন্য ধন্য করে।তো যাই হোক সেই পিসিমা থুড়ি মনিবালা শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে এসে তার জীবনের প্রায় বারো আনাই কাটিয়ে দিলেন তার দাদার সংসার সামাল দিয়ে আর হেঁসেলের কাজকর্ম দেখে।

এদিকে দেখতে দেখতে সময় কাটলো।দাদার ছেলেরা একে একে বড় হলো,তারপর কাজবাজ জোটাল, তারপর একে একে বিয়ে থা,সংসার ধর্ম ইত্যাদি ইত্যাদি।এরইমধ্যে দেখতে দেখতে মনিবালারও বয়স বাড়লো যথারীতি।তার যৌবনের সেই রূপ সময়ের করাল স্পর্শে ধুয়ে মুছে এমনি সাফ হয়ে গেল যে,অতীতের সৌন্দর্যের বিন্দুমাত্র ছাপ তাতে রইলো না।শুধু থাকার মধ্যে থেকে গেল এক মাথা সাদা চুলভর্তি এক অস্থিসার শরীর এবং অবশ্যই ভয়ঙ্কর তিরিক্ষি মেজাজ আর ভীষণ খিটখিটে স্বভাব।

এদিকে যথারীতি নতুন বৌমারাও সংসারের দেখাশোনার পুরো ভাগ দ্বায়িত্ব তুলে নিলো নিজেদের কাঁধে।এতোদিনকার প্রিয় হেঁসেলের কাজবাজ থেকেও একরকমের অব্যাহতি দেওয়া হলো বুড়ি পিসীমাকে।এই দিকে পিসিমা পড়লেন মহা বিপদে।জীবনে একমুহূর্ত কর্মহীন হয়ে বসে থাকেন নি কখনো।অথচ এখন সকাল থেকে বিকেল যেন সময়ই কাটতে চায় না।সুতরাং অবসর কাটানোর জন্য তিনি হন্যে হয়ে খুঁজতে লাগলেন একটি সঠিক উপায়।এরইমধ্যে হঠাৎ একদিন পিসীমার মনে হলো যে যাঃ তার এই জীবনে মেয়ে হয়ে জন্মানোর বারো আনাই তো বৃথা হয়ে গেল ! নারীজীবনের সবচেয়ে বড়ো যে পাওয়া-"মা হওয়া" তার তো সেটাই হয়ে ওঠা হলো না।অথচ জীবনটাকে অসম্পূর্ণ রাখবেন এও তার ইচ্ছা না।সুতরাং সত্তর পেরিয়ে পঁচাত্তরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে হঠাৎ একদিন বুড়ি পিসিমা জেদ ধরলেন যে তিনি 'মা' হবেন।

বুড়ির কথা শুনে প্রথমেই বাড়ির লোকজনের চোখ কপালে উঠলো।এমন অবাস্তব প্রস্তাব তারা জীবনে কখনো শোনেনি,যে মানুষ আজ বাদে কাল নিজেই দেহ রাখবেন,তার হঠাৎ মা হওয়ার শখ! এ বুড়ো বয়সের ভীমরতি ছাড়া আর কি!এদিকে শর্মিলার শ্বশুরও দেহ রেখেছেন বছর চারেক হয়ে গেছে;ফলে ইতিমধ্যে শ্বশুরের আমলে যা যা করা যেত না,শ্বশুরের অবর্তমানে তা পুরোদমে শুরু হয়ে গেল।

মাঝে মাঝেই পিসীমাকে কথা শোনানো,এ সংসারে তিনি যে একটা ভার ছাড়া আর কিছুই না তা হাবে ভাবে,চালে চলনে বুঝিয়ে দেওয়া, এমনকি তার শুচিবাই নিয়ে নিন্দা...বৌদিদির সঙ্গে তো রোজই ঝগড়া হতো পিসীমার।বৌদিদি বলতো-"বলি অনেক তো হলো পিসিমা! কতদিন আর এমন হারমাস জ্বালাবেন বলুন দেখি! এবার মানে মানে ভগবানের স্মরণ নিলেই তো পারেন।"
বুড়ি পিসিমা এর উত্তরে থুরথুরে ফোকলা গাল নেড়ে জবাব দিতেন-"আ মলো যা...এখনই কেন মরবো রে মুখপুরী! আমার খোকা হবে,তার মুখে মা ডাক শুনবো...তবে না মরবো।"

তো এহেন সময় একদিন ঘর আলো করে সেনগুপ্ত বাড়িতে খোকা এলো।পিসীমার ঘরে অবশ্য নয়,শর্মিলার ঘরে।বড় সাধ করে শর্মিলা ছেলের ভালো নাম রাখলো প্রিয়ম,আর বৌদিদি দিলো ডাকনাম-"বিল্টু"।এদিকে খোকা হওয়া মাত্রই বুড়ি পিসিমা ছুটে এলেন শর্মিলার কাছে।

-"অ ছোটো বউ।বলি তোর খোকারে আমায় দিবি রে?আমি তাকে মা বলা শেখাবো,সে আমায় মা বলে ডাকবে...আমার ফোকলা গালগুলো জড়িয়ে ধরে আদর করবে।কিরে বল না ছোট বউ দিবি? বদলে আমার সেকেলে যত সোনার গয়না সব তোকে দিয়ে দেব।বল না দিবি?"

পিসীমার প্রস্তাব শুনে শর্মিলার বুকের ভেতরটা একেবারে ঠান্ডা হয়ে গেল।এমনিতে শর্মিলা শান্তশিষ্ট মেয়ে,বেশি কথা বলে না,এ বাড়িতে আসা ইস্তক পিসীমাকে সে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলেছে।কিন্তু এবার!!এবার যেন সহ্যের সব সীমা পেরিয়ে গেছেন পিসীমা।অগত্যা বিল্টুর বাবাকে বলতেই হলো সবটা খুলে।

যথারীতি পরের দুদিন বাড়িতে তান্ডব চললো।সুযোগ পেয়ে সবাই বুড়ির ওপর যে যার নিজেদের রাগ পুষিয়ে নিলো।অথচ এই এতকিছু হওয়া সত্ত্বেও বুড়ি নিজের জেদ থেকে সড়লেন না।মা তিনি হবেনই,যে করে হোক...মা ডাক না শুনে তিনি ইহলোক ছাড়বেন না।

দেখতে দেখতে বছর ঘুরলো,বিল্টু আস্তে আস্তে হাঁটা শিখলো,তারপর আধো আধো কথা।এদিকে কি করে যেনো বুড়ি পিসীমার সঙ্গে দারুন ভাব জমে গেল বিল্টুর।সময় সুযোগ পেলেই পিসিঠাম্মির ঘরে গিয়ে বসে থাকে সে, বুড়ির কোলে শুয়ে আদর খায়।আর এদিকে এসব দেখে শর্মিলার বুক ঠান্ডা হয়ে যায়।যদি পিসিমা বিল্টুকে নিয়ে নেয়! যদি বিল্টুকে কিছু করে দেয়! এই নিয়ে একদিন ছোটখাটো একটা ঝামেলাও হয়ে গেল বাড়িতে।সেই থেকেই পিসিঠাম্মির ঘরে যাওয়া বিল্টুর বন্ধ হয়ে গেল একেবারে।

এর ঠিক পরের বছরই বড় বউয়ের ঘর আলো করে এলো এক মেয়ে।দীর্ঘ সাত বছর পরের সন্তান,সবাই যখন সব আশাই ছেড়ে দিয়েছিল তখন হঠাৎ দেবতার বরে লক্ষীর আগমন...বাড়িতে যেন খুশির লহর উঠলো।যেখানে তাকাও, সেখানেই আনন্দ, সেখানেই ফুর্তি।শুধু দোতলার একটা কোনের ঘুপচি ঘরে পড়ে থাকা বুড়ি পিসীমার কথা একটিবারের জন্যেও কারুর মনে পড়লো না তিনি যে এ সংসারের জন্য আজীবন ঘানি টানলেন সে কথাও কারুর মাথায় এলো না...তিনি যেন এক সম্পূর্ণ অচল মুদ্রা যার এ বাজারে কোনো মূল্য নেই,সুতরাং তার যত্নেরও কোনো প্রশ্নই ওঠে না

এরইমধ্যে বুড়ি পিসিমা ঘটিয়ে ফেললেন এক কান্ড।কোথা থেকে যেন বায়না করে কিনে আনলেন খাঁচা সমেত এক আস্ত টিয়াপাখি। তারপর তার ফোকলা গালে সবাইকে শুনিয়ে শুনিয়ে বললেন-
"দেখরে দেখ... আমার সোনা মানিক এসেছে ঘরে।আর কারুর খোকা লাগবে না রে আমার,কারুর খোকা লাগবে না।এই দেখ আমার নিজের কোল আলো করে খোকা এসেছে...আমি ওকে মা বলা শেখাবো, ও আমায় মা বলে ডাকবে।কি রে তাই না মানিক!"

বুড়ির কান্ড কারখানা দেখে সবাই মুখ টিপে খুব একদফা হাসলো।কেউ কেউ আবার ঈষৎ ব্যঙ্গ করে বললো-"বাঃ তোমার ছেলেকে তো বেশ ভালো দেখতে হয়েছে পিসী;এক্কেবারে যেন মায়ের মুখ বসানো।"
তবে পিসিমা কারুর কথাতেই দমবার পাত্রী নন।তিনি তার পাখিটিকে থুড়ি তার একমাত্র সন্তান মানিককে উঠে পড়ে লাগলেন 'মা' ডাক শেখাবার জন্য।
-"ও মানিক,সোনার টুকরো ধন আমার!একবার মা বলে ডাক না রে,ডাক না বাছা।তোর মুখে মা ডাক শুনে এই জীবনটা সার্থক করি।ছোলা খাবি ছোলা! এই দেখ কত ছোলা এনেছি তোর জন্য!"

ছোলার লোভেই হোক অথবা প্রবল মাতৃস্নেহে,মানিক কিন্তু খুব শীঘ্রই মা বলাটা শিখে নিলো।আর তারপর থেকেই শুরু হলো তার অহরহ মা ডাকা।দিন নেই,রাত নেই মানিক কেবল ডেকেই চলেছে তার মাকে-"মা ওমা মা"

এই এতদূর পর্যন্ত সব ঠিকঠাক ছিল।কিন্তু আসল কান্ড বাধলো গত সপ্তাহে।ভোর সকাল বুড়ির কোনো পাত্তা নেই,এদিকে মানিক তার মাকে ডেকে চলেছে তারঃস্বরে।তো বুড়িকে খুঁজতে গিয়ে দেখা গেল সে তার ঘরে নেই...খোঁজ খোঁজ খোঁজ...শেষমেশ বুড়িকে পাওয়া গেলো কলঘরে।থৈ থৈ জলের মধ্যে অচেতন হয়ে পড়ে আছে।সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে ছোটা হলো আর জি করে।সেখানে ডাক্তার দেখেই বললেন-"করেছেন কি? এ তো কাল রাত তিনটে নাগাদই এক্সপায়ার করে গেছে।সাডেন কার্ডিয়াক এরেস্ট...ইস যদি ঠিক সময়েও আনতেন তাহলে হয়তো বাঁচানো যেত!"

যাক বুড়ী মরেছে শেষমেশ! অনেকে গোপনে,কেউ কেউ আবার প্রকাশ্যেই স্বস্তির শ্বাস ফেললো।শর্মিলাও মনে মনে যেন একটু শান্তি পেলো।কিন্তু কারুর একটিবারও মনে পড়লো না মানিকের কথা।বুড়িকে পুড়িয়ে সবাই যখন বাড়ি ঢুকলো,তখনও মানিক তারঃস্বরে ডাকছে-"মা ওমা মা"।
তার সেই ডাক শুনে শ্মশানযাত্রীদেরই কেউ একজন বিদ্রুপ করে বলল-"ধুস শালা,তোর মা আর নেই।"

কি অদ্ভুত কান্ড! কথাটা শোনামাত্রই মানিকও অবিকল সেই সুরে কথাটা নকল করে নিলো তৎক্ষণাৎ।তারপর তারঃস্বরে চেঁচাতে লাগলো-"মা আর নেই,মা আর নেই..."

মানিকের সেই করুন ডাক শুনে শর্মিলার বুকটাও যেন কেঁপে উঠলো।একটা সামান্য পাখির ডাকেও কি এত দরদ থাকতে পারে! তবে মানিক কিন্তু তার মায়ের মতো মোটেই বেশি জ্বালায় নি।বুড়ির মরার ঠিক দুদিনের মাথায় সকালবেলা উঠে দেখা গেল মানিক তার খাঁচায় মরে কাঠ হয়ে পড়ে আছে।শুধু তার চঞ্চুদুটো অদ্ভুতভাবে খোলা।যেন প্রাণবায়ুটুকু বেরিয়ে যাওয়ার আগেও সে প্রানপনে ডাকছিল-"মা ওমা মা"।

//৪//

কিসের একটা যেন পোড়া পোড়া গন্ধে হঠাৎ ঘুমটা ভেঙে গেল শর্মিলার।আর চোখ খুলতেই ওর বুকের ভিতরটা যেন ছ্যাত করে উঠলো।ও স্পষ্ট বুঝতে পারলো ওর ঠিক সামনেই বিছানার ওপর বসে আছে অন্ধকারে মেশা এক অস্পষ্ট আবছায়া মূর্তি।

-"ছোটো বউ...ও ছোটো বউ।বলি আর কত ঘুমোবি রে ঘরে যে আগুন লেগেছে।"

শর্মিলা ইতিমধ্যেই উঠে বসেছে খাটের উপর।পা থেকে শুরু করে মাথা পর্যন্ত ঠকঠক করে কাঁপছে ও।ও কি ঠিক দেখছে! পিসীমা! পিসীমা এসেছে ওর ঘরে! ওই তো সেই মাথা ভর্তি সাদা চুল,অস্থিসার সেই হার জিরজিরে শরীরের অবয়ব...আর মুখে! ও কি ভয়ঙ্কর একটা ফোকলা হাসি! কিন্তু পিসিমা কি করে আসবে এখানে! পিসিমা তো কিছুদিন আগেই...

-"ও ছোট বউ তোর সঙ্গে শেষ কিছু বোঝা পড়া করার ছিল রে...তাই এলুম।আচ্ছা আমি তোর কোন ক্ষতিটা করেছিলুম বল দেখিনি যে তুই আমার এতো বড় সর্বনাশটা করতে পারলি!বলি একবারও তোর মানিকটার জন্য মনটা কাঁপলো না রে ছোটো বউ!"

সর্বনাশ! কোন সর্বনাশের কথা বলছে পিসিমা! তাহলে কি সেদিন রাত্রে...শর্মিলা বুঝতে পারছে ওর শরীরটা কেন জানি না আস্তে আস্তে একেবারে অবশ হয়ে আসছে...
-"কি জানিস ছোটো বউ,আমার কপালটাই না পোড়া।বেশি দিন এ কপালে সুখ সয় না।সেই কবেকার কথা,তখন সদ্য বিয়ে হয়েছে।ও বাড়িতে দিন কয়েক থাকার পর বুঝতে পারলাম আমার স্বামী যাকে বলে হদ্য মাতাল! প্রতিদিন রাতে নেশা করে,বাইজি নাচ দেখে বাড়ি ফেরে...বাড়ির বড়রা কেউ কিচ্ছুটি বলে না পর্যন্ত! একদিন আমি বলতে গেলুম তার বদলে পেলাম ঘাড়ের কাছে কালশিটে দাগ আর ঠোঁটের কোণে জমাট বাঁধা রক্ত।তবুও প্রতি রাতে ওই অসহ্য যন্ত্রনা সহ্য করেই দাঁতে দাঁত চেপে ওই বাড়িতে পড়ে ছিলাম রে তিনমাস।শুধু ভেবেছি লোকে কি ভাববে,শ্বশুর বাড়ি ছেড়ে চলে গেলে লোকে কি বলবে।তারপর একদিন হঠাৎ কি মনে হলো ঠিক করলাম আর না;আর এসব সহ্য করবো না।একবাক্যে এক কাপড়ে সেদিন সেই বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছিলুম রে,ভেবেছিলাম আর যাইহোক আমার দাদা আমাকে পর করে দেবে না।দেয় ও নি,তবে এই বাড়িতে কিন্তু বিনে পয়সায় থাকিনি ছোটো বউ দুবেলা খেয়েছি বদলে গায়ে গতরে খেটে সব পুষিয়ে দিয়েছি...শুধু এই শেষ বয়সটায় এসে...।যাই হোক,এই যেমন তোর কথাটাই ধর না।সেদিন তো তুই রাতে কলঘরে গেছিলিস বল।তুই স্পষ্ট দেখলি আমি কলঘরের মেঝেতে পড়ে।তখন আমার গলায় আর জোর নেই,তাও তোকে হাত পা নাড়িয়ে কত ডাকলুম কিন্তু কি অবাক কান্ড তুই বাড়ির কাউকে তো ডাকলিই না বরং নিজেও ঘরে গিয়ে দোর দিয়ে শুয়ে পড়লি! আমার মানিকটার কথা তোর একবারও মনে পড়লো না রে! তুইও তো মা বল!সন্তানকে ফেলে আসার যন্ত্রণাটা তুই বুঝলি না একবারও ছোটো বউ?"

শর্মিলা দরদর করে ঘামছে।ওর কথা বলবার ক্ষমতা আর একেবারেই নেই।সারা শরীর আতঙ্কে একেবারে কাঠ হয়ে গেছে।একবিন্দু নড়ার ক্ষমতা পর্যন্ত নেই।ও জানে এটাকে কি বলে-সাডেন প্যারালিসিস।ভীষণ আতঙ্কে এমনটা মাঝে মাঝে হয়,খুব ছোটবেলাতেও একবার এরকম হয়েছিল ওর।
-"এখন তোর নিজের কান্ডটাই দেখ না রে ছোটো বউ।কাল রাত্রে ঘরে মশা মারার সেই যে ধুপ জ্বলিয়েছিলিস তা নেভাতে ভুলে গেছলিস।এখন তার আগুনের ফুলকি থেকেই সারা ঘরে আগুন লেগে কি কান্ড দেখ দেখি।তোর যা অবস্থা তাতে তো বোধহয় গলা দিয়ে রাও বেরোবে না।এই অবস্থায় সারা ঘরে আগুন লেগে গেলে কেমন হবে বলতো? তুই তো কাউকে ডাকতে পর্যন্ত পারবি না!এই আগুনের মধ্যেই জ্বলে পুড়ে একেবারে খাক হয়ে যাবি... আচ্ছা তাহলে কি তুই বুঝবি মরার আগে কারুর থেকে সামান্য সাহায্য না পাওয়ার কি যন্ত্রনা? তোরও তো সন্তান আছে...আজ যদি তুই এখানে জীবন্ত পুড়ে ছাই হয়ে যাস তাহলে কি তুই অন্তত বুঝতে পারবি সন্তান ফেলে আসার কি জ্বালা!বল না রে ছোটো বউ,বুঝতে পারবি?"

পিসীমার কথাগুলো শুনেই ভিতরে ভিতরে শিউরে উঠলো শর্মিলা।আগুন! আগুন! ওর চোখের সামনে এখন চারদিকে শুধু আগুন! ওই তো আলনায় রাখা শাড়ি, সায়াটা পর্যন্ত জ্বলছে দাউ দাউ করে।উঃ কি বিকট গন্ধ...মাথা যেন বন্ধ হয়ে আসছে...ওই তো পিসিমা হাসছেন...ওই যে মানিক ডাকছে "মা ওমা মা"।আচ্ছা বিল্টু ! বিল্টুর কি হবে! কথাটা ভাবতেই বুকের ভিতরটা যেন হাহা করে উঠলো শর্মিলার।আচ্ছা যদি পিসীমার কথা মতোই এই ঘরেই জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যায় শর্মিলা তাহলে! বিল্টুকে কে দেখবে? ও যে এখনো নিজের হাতে খেতে পর্যন্ত পারে না! টিফিন গুছিয়ে দিতে হয়,জলের বোতল ভরে দিতে হয়, জুতোর লেস বেঁধে দিতে হয়...ওর!ওর কি হবে! কে দেখবে বিল্টুকে!বিল্টু!বিল্টু!বিল্টু!মরার আগে কি বিল্টুর মুখে শেষবারের মতো একবার মা ডাকটাও শুনতে পাবে না শর্মিলা!

//৫//

-"মা ওমা তুমি ভালো আছো?"
বিল্টুকে এখন কোলের মধ্যে জাপটে ধরে বসে আছে শর্মিলা।কাল রাত্রে যে ভীষণ বিপদটা কেটে গেছে সেটার কথা ভাবলেও ওর এখন গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। উফ! কি ভয়ঙ্কর ছিল কালকের রাতটা,কি ভয়ঙ্কর ছিল সেই আগুন! একমুহূর্তের জন্য যেন মনে হয়েছিলো সবটা শেষ গেল একেবারে।কিন্তু কি ভাগ্যিস কাল রাত্রে বিল্টুর ঘুমটা হঠাৎ ভেঙে যায়।তারপর মায়ের জন্য মন কেমন করায় ও ছুট্টে চলে আসে দোতলায় মায়ের কাছে।তারপর সব দেখে শুনে ওর চেঁচামেচিতেই তো বাড়ির সবাই জাগলো...আর এ যাত্রায় খুব বাঁচার বেঁচে গেল শর্মিলা।

-"জানো মা,কাল রাতে আমি স্পষ্ট শুনেছি মানিক পিসিঠাম্মিকে ডাকছে-'মা ওমা মা'।ওর ডাক শুনেই তো আমার ঘুমটা ভাঙলো।মানিক তো মোড়ে গেছে মা,ও আবার কি করে ডাকবে?"

-"চুপ চাপ এসব কথা আর বলে না বিল্টু,যা হয়ে গেছে তা হয়ে গেছে।"-বিল্টুকে আরো আকড়ে ধরে শর্মিলা,না না ওকে কোত্থাও যেতে দেবে না আর,কোত্থাও না।

-"জানো মা;বনু না আমার নতুন গাড়িটা ভেঙে দিয়েছে।কোন গাড়িটা বলোতো...ওই যে বাবা যেটা এনে দিল,নীল রঙের... ঐটা।কিন্তু আমি জানো তো মা বনুকে মারি নি,বকি নি,কিচ্ছু বলিনি।কেন জানো?"

-"কেন বিল্টু সোনা?"
-"কারণ পিসিঠাম্মি আমায় শিখিয়েছিল জানো মা,যারা ছোটো মনের মানুষ তাদের সঙ্গে কেউ খারাপ ব্যবহার করলে তারাও উল্টে খারাপ ব্যবহার করে।আর যারা বড়ো মনের মানুষ তাদের সঙ্গে কেউ খারাপ ব্যবহার করলে তারা তাদের ক্ষমা করে দেয়।আমিও তাই বনুকে ক্ষমা করে দিয়েছি,বলো না মা আমি বড় মনের মানুষ তাই না?"
-"হ্যা নিশ্চই বিল্টুসোনা, তুমি খুব বড় মনের মানুষ!"-কথাগুলো বলতে বলতে চোখ ভিজে আসে শর্মিলার।

-"আচ্ছা মা তোমার মন ও কি বড়ো?বলো যা মা তুমিও কি বড়ো মনের মানুষ?"

আর পারে না শর্মিলা।এবার হাউ মাউ করে কেঁদে ফেলে ও।আর যত কাঁদে তত শক্ত করে আঁকড়ে ধরে বিল্টুকে।কি করে ও বলবে এই বাচ্চাতাকে যে ও কত বড় স্বার্থপর! কত বড় পাপী! মায়ের থেকে সন্তানকে আলাদা করে যে তার মন কি কখনো বড়ো হতে পারে! আচ্ছা এই পাপের কি কোনো ক্ষমা হয়!কোনো ক্ষমা কি হওয়া সম্ভব! কিন্তু তবুও শর্মিলা জানে যে এই একটা জায়গায় সারাজীবন অবহেলিত,লাঞ্ছিত খিটখিটে আর বদ মেজাজী বুড়ি পিসিমা তাকে একেবারে গো হারান হারিয়ে দিয়ে চলে গেছে ।পিসিমা আসলে অনেক বড় মনের মানুষ,তাইতো এই জঘন্য পাপ করা সত্ত্বেও তাকে ক্ষমা করে দিতে পেরেছেন নির্দ্বিধায়,একজন মা হয়ে বুঝতে পেরেছেন আরেক মায়ের যন্ত্রনা!হায়!শর্মিলা যদি এই কথাগুলো আগে বুঝতো তাহলে হয়তো মানিককে তার মাকে হারাতে হতো না....

ঠিক এইসময়েই শর্মিলার আকুল কান্নার মাঝখানেই,ও যেন স্পষ্ট শুনতে পায় দোতলার ওই বারান্দা থেকে ভেসে আসছে মানিকের সেই চিরপরিচিত ডাক-"মা ওমা মা"
আর তার প্রত্যুত্তরে বুড়ি পিসীমার ভাঙা ভাঙা গলায় সেই উত্তর-"এই তো এসেছি মানিক আমার!সোনার টুকরো বাছা আমার! এই তো ছোলা নিয়ে এসেছি।তবে তার আগে আরেকবার মা বলে ডাক না রে বাছা!শুনে এই জীবনটা ধন্যি করি,ডাক না রে বাছা ডাক না।"
-"মা ওমা মা"
মানিকের সেই ডাক যেন সেনগুপ্ত বাড়ির সব ইট ,কাঠ,পাথর,দেওয়াল ভেদ করে আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাচ্ছে দিগন্ত বিস্তৃত নীল আকাশের বুকে।
(সমাপ্ত)











website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments