পূর্ণিমা Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
" ভয়ঙ্কর পরিণতি"
জ্যোতির্ময় সেনগুপ্ত
সান্ধ্য আড্ডা চলছে মৃগাঙ্কর বাড়িতে। মৃগাঙ্ক, ওর স্ত্রী কনক, ওদের ছেলে সুনীল আর আমি মনোময় সেন। আমি সম্পর্কে ওদের পারাতুত কাকা হই। আর সুনীল এর দাদু।
সুনীল বলল " মনু দাদু তুমি তো প্রায় ৩০ বছর পুলিশ এ কাজ করেছ। কোনো অদ্ভুত বা অসাধারণ অভিজ্ঞতা হয়নি? বলনা গো?" বললাম " অনেক হোয়েছে। তবে আজ একটাই ঘটনার কথা বলছি। অদ্ভুত তো বটেই আর কিছুটা অবিশ্বাস্য। এখনো ভাবলে গা এ কাঁটা দেয়। বলছি তার আগে আর এক কাপ চা লাগবে যে।"
চা আসার পর বলতে শুরু করি, " আজ থেকে ২০ বছর আগেকার কথা। বর্ধমান জেলার কাটোয়া র কাছে ডাকবাংলো বলে একটা ছোট্ট জায়গা আছে। তখন নারোগেজ ট্রেন চলত ওখানে। আমি তখন সদ্য কাটোয়া থানা র ছোট দারোগা হয়ে join করেছি।প্রথম প্রথম বেশ ভালই সময় কাটছিল। খুব বেশি চুরি ডাকাতি নেই। তারপর একদিন শুনলাম একটা কম বয়সী মেয়ের গলাকাটা দেহ পাওয়া গেছে ওই ডাকবাংলো র কাছে। গেলাম ফোর্স নিয়ে। ওই ডাকবাংলো র কাছে একটা বেশ বড়ো মাঠ আছে। তার পিছনে একটা বেশ বড়ো পুকুর তার ই কাছে মৃতদেহ পরে আছে। চারদিকে গ্রাম বাসী দের ভীড়। গিয়ে দেখি একটা ফুটফুটে বছর ১২ বয়স এমন একটা মেয়ের দেহ। বিভৎস দৃশ্য। এটা বোঝা গেলো মেয়েটাকে কেউ আগে দেখেনি। লাশ দেখে বোঝা যাচ্ছে খুব ধারালো কিছু দিয়ে এক কপে গলা টা কেটে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাইহোক লাশ সরিয়ে বাকি কাজ করে আমরা চলে এলাম। তবে আমাদের যারা গুপ্ত খবর দেয় তাদের কাজে লাগিয়ে দিলাম যদি কিছু চোখে পরে। একদিন খবর পেলাম রেল লাইন এর পাশে এক তান্ত্রিক সাধু এসেছে ওর চেলা কে নিয়ে। সারা দিন ধুনি জ্বালিয়ে গাঁজা ভাং খায়। আর ধ্যান করে। ওর চেলা গ্রামবাসী দের কাছ থেকে খাবার দাবার জোগাড় করে। তবে তান্ত্রিক এর মেজাজ নাকি খুব ই রুক্ষ। কারুর সঙ্গে কথা বলে না শুধু ওর চেলা ছাড়া। যাই হোক এক দিন শুনলাম ওখান থেকে একজন এসে থানায় অভিযোগ করেছে ওই তান্ত্রিক এর নামে যে তান্ত্রিক নাকি ওর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। গেলাম ওখানে। গিয়ে দেখি তান্ত্রিক এর চেহারা ভয়ংকর। ৬ ফুট এর ওপর লম্বা। দাড়ি গোঁফ অলা মুখ। কপালে লাল তিলক। চোখ লালচে হয়ে আছে। কাছে যেতে ওর চেলা বললো বাবা কে বিরক্ত না করতে। ওই লোক টা বিরক্ত করতে ই এসছিলো। বাবা র আশির্বাদ পাবার জন্য। সেটা কি অতই সহজ।কত ত্যাগ লাগে তার জন্য। তাইতো বাবা রেগে গিয়ে মরার মাথার খুলি ওর দিকে ছুরে মারে।
তারপর একদিন শুনি ওই গ্রাম এর একটা কম বয়েসি মেয়ে কে নাকি পাওয়া যাচ্ছে না। ভোর বেলা ফুল তুলতে গেছিলো আর ফেরেনি। আমি গেলাম ফোর্স নিয়ে। আর চারিদিকে লোক লাগিয়ে দিলাম। কিন্তু না, কোথাও পাওয়া গেলো না।সারা দিন খোঁজাখুঁজি চলতে লাগলো। কিন্তু কোথাও পাওয়া গেলো না।এদিকে রাত হয়ে আসছে। ১০ টা বাজে প্রায়। হটাৎ একটা লোক ছুট তে ছুট তে এসে বললো ছোট বাবু শিগগির চলুন ওই বড়ো মাঠ টা তে। ওই তান্ত্রিক কি সব করছে? গেলাম তাড়াতাড়ি। গিয়ে দেখি তান্ত্রিক যজ্ঞ করছে। আর তার চেলা পাশে বসে একমনে একটা খাঁড়া জাতীয় অস্ত্রে ধার দিচ্ছে। আমাদের দেখেই ওটা লুকিয়ে ফেললো।আমি দেরি না করে গেলাম পুকুর ধারে। ওখানেই একটা নারকোল গাছের পেছনে সেই মেয়েটাকে পাওয়া গেলো হাত পা বাঁধা অবস্থায়। মনে হয় আফিম জাতীয় কিছু দেওয়া হয়েছে। পুরো ঝিমিয়ে গ্যাছে। আর ওখানেই পাওয়া গেলো একটা হারিকাঠ। আর কিছু বুঝতে বাকি রইলো না আমাদের। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। গ্রামের লোকেরা সব লাঠি, শাবল কোদাল এইসব নিয়ে চলে এসেছে তান্ত্রিক কে মারতে। আমরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু অত লোকের সামনে আমরা কি করবো? ওরা তান্ত্রিক আর তার চেলা কে মারতে মারতে প্রায় আধমরা করে ফেললো। তান্ত্রিক তখনও বলছে, আমার সাধনায় বিঘ্ন করলে তোদের কারো ভালো হবে না। আমি সর্বনাশ করে দেবো।এইসব শুনে গ্রামবাসীরা আরো রেগে গেলো। ওরা একটা বড়ো গর্ত খুরে তান্ত্রিক কে তার মধ্যে জ্যান্ত পুতে ফেললো। তান্ত্রিক তখনও হাসতে হাসতে বলছে কাজ টা তোরা ভালো করলি না। আমি কিন্তু ফিরে আসবো আবার। সর্বনাশ করে দেবো।
তান্ত্রিক কে পূতে ওরা ওর চেলা কে গ্রামের বাইরে বার করে দিল। আমরা এই নারকীয় ঘটনার সাক্ষী রইলাম। এখনো আমার কানে বাজে ওই " আমি কিন্তু ফিরে আসবো" কথা টা। কিন্তু ব্যাপারটি এখানেই শেষ হলো না। দিন ৫ পর থেকেই আবার একটা মেয়ে উধাও হয়ে গেল ওই গ্রাম থেকে। তারপর আবার , এবং আবার। কিন্তু কেনো? তান্ত্রিক তো আর বেঁচে নেই....
এই ভাবে এক এর পর এক মেয়ে উধাও হবার ঘটনা কে কেন্দ্র করে গ্রামে একটা আতঙ্কের আবহ তৈরি হলো। অবস্থা এমন দাঁড়ালো যে যারা পারলো তারা বাড়ির কম বয়েসী মেয়ে দের অন্য কোথাও পাঠিয়ে দিতে লাগলো আর যারা একান্তই পারলো না তারা সন্ধ্যে হলেই দরজায় খিল এঁটে বসে থাকলো। আমরা পরলাম মুস্কিল এ। এমন ভাবেই উধাও হচ্ছে যে মেয়ে গুলোর কোনো খোঁজ ই পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে থানায় এক এর পর এক অভিযোগ আসছে। ওপর মহল ও চাপ দিচ্ছে। আমরা একটা জিনিষ বুঝতে পেরেছিলাম যে সমস্ত ঘটনা গুলো ঘটছে পূর্ণিমার দিন। তাই আমরা ঠিক করলাম গ্রামে রাত পাহারা বসাবো। আমি নিজেও গেলাম পুরো ফোর্স নিয়ে পূর্ণিমার দিন। কিন্তু সেদিন কিছুই হলনা। তবুও পরপর ৩ দিন আমরা রাত জাগলাম। কোথাও কিছু নেই। তখন আমরা ২ জন কনস্টেবল বসিয়ে চলে এলাম। রাতে ওরা পাহারা দেবে। তারপর থেকে কিছুদিন সব ঠিক রইলো। তারপর পূর্ণিমার ঠিক ২ দিন আগে শুনলাম গ্রামের মিত্তির দের বাড়ি থেকে ওদের ১৬ বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে টি নিখোঁজ হয়েছে। গেলাম গ্রামে। গিয়ে একটা অদ্ভুত ঘটনা শুনলাম। রাতে নাকি মেয়ে টি গরুর চিৎকার শুনে গোয়াল ঘরে গেছিলো। আর ওর বাবা মা ঘরে ছিল। হটাৎ ওর বাবা মেয়ের চিৎকার শুনে ছুটে যান গোয়াল ঘরে। গিয়ে দেখেন এক বিশাল কালো মূর্তি মেয়ে কে কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছে। আর মেয়ে টা ছটফট করছে। তখন উনি পিছন থেকে একটা লাঠি নিয়ে এক বারি মারেন। মূর্তি টা ঘুরে দাঁড়ায়। উনি নাকি সেই তান্ত্রিক কে দেখতে পান। তবে তফাৎ ছিল যে তান্ত্রিক এর চোখ টা ছিল মরা মাছের মত। তখন উনি ভয় পেয়ে যান। কারণ তান্ত্রিক তো আর বেঁচে নেই। মূর্তি টা ওনাকে একহাতে তুলে ছুড়ে ফেলে দেয়। উনিও অজ্ঞান হয়ে যান।সকালে জ্ঞান ফিরলে উনি সবাই কে এই কথা বলেন। এখন গ্রামের আর কেউ পুলিশ এর ওপর বিশ্বাস রাখতে পারছে না। আমি অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে উনি ভুল দেখেছেন কিন্তু কেউ সেটা মানতে রাজি নয়। গ্রামবাসী রা ততক্ষনে পাশেই কেতু গ্রাম এর বিখ্যাত ওঝা মানস ওঝা কে খবর দিয়েছে। আমি ততক্ষণ আমার ২ জন কনস্টেবল যারা পাহারায় ছিল তাদের সঙ্গে কথা বলে নিলাম। ওদের বক্তব্য ওরা চিৎকার শুনে ছুটে আসতে আসতে অনেক দেরী হয়ে যায়। ওরা এসে গোয়াল ঘরে মিত্তির বাবু কে অজ্ঞান অবস্থায় পায়। দুপুরের পর মানস ওঝা চলে আসে। এসেই কেমন যেনো করতে থাকে। গ্রামের বাড়ি গুলোর চারপাশে কি যেনো শুঁকতে থাকে আর বির বির করে কি সব বলতে থাকে। তারপর গ্রামবাসী দেরকে বলে যে এখানে পিশাচের আগমন ঘটেছে। তার কারণেই একের পর এক মেয়ে উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটছে।তখন গ্রাম বাসীরা ভয় পেয়ে যায় আর ওঝা কে তান্ত্রিক এর সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। ওঝা সব শুনে একটু গম্ভীর হয়ে যায়। আমার তখন হাসি পাচ্ছে। ওঝা আমার দিকে তাকিয়ে একটু রেগে যায়। বলে এতই যদি অবিশ্বাস তাহলে পুকুর পাড়ে গিয়ে একবার তান্ত্রিক এর দেহ টা দেখলেই তো হয়। আমিও তাই ভাবছিলাম যে ওঝার বুজরুকি ধরতে এর চেয়ে ভালো প্রমাণ আর হয় না। সবাই গেলাম সেখানে। কিন্তু গিয়ে যা দেখলাম তাতে আমার হাসি বন্ধ হয়ে গেলো। কারণ তান্ত্রিক এর দেহ সেখানে নেই। তখন ওঝা বলল যে তান্ত্রিক এর চেলা কে খুঁজে বার করতে। মেয়ে কে সেখানেই পাওয়া যাবে। তবে তাড়াতাড়ি। মানে পূর্ণিমার আগে সেটা করতে হবে নাহলে মেয়ে কে আর পাওয়া যাবে না। সবাই চার পাশে খুঁজতে বেরিয়ে পড়লো। আমরা ও সব জায়গা দেখলাম। কিন্তু কোথাও কিছু নেই। ওঝা বলল যে আমি গ্রামের একটা বাড়ী কে বন্ধক দিয়ে দিচ্ছি। গ্রামে এখন যে কজন অবিবাহিত মেয়ে আছে তারা সবাই ওখানেই থাকবে আগামী ৪টে পূর্ণিমা পর্যন্ত। আর পুলিশ পাহারা সরাতে হবে। তবে আমাকে বললো যে আপনি থাকুন প্রতি পূর্ণিমা তে ওই বাড়ি তে তাহলেই আপনার অবিশ্বাস ভাব দূর হয়ে যাবে। গ্রামবাসী রাও তাই বলল যে ওঝা যা বলবে তাই হবে। এদিকে মিত্তির বাবু দের তো অবস্থা খারাপ। ওরা রীতিমত ওঝার পা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো। কিন্তু ওঝা বলল আমার কিছু করার নেই।পূর্ণিমার মধ্যে খুঁজে না পাওয়া গেলে তোদের মেয়ে আর ফেরত আসবেনা। তারপর গ্রামের হারান মন্ডল এর বাড়িটা বন্ধক দিতে লাগলো। বাড়ির চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে ছোট ছোট কাঠি রাখতে লাগলো আর মন্ত্র পড়তে লাগলো। তারপর জলের ছি টে দিল। দিয়ে বললো বন্ধক দেওয়া হয়ে গেছে। তবে আজ থেকে আগামী ৪ টে পূর্ণিমা গ্রামের সমস্ত অবিবাহিত মেয়ে দের ওখানে থাকতে হবে। আর প্রতি পূর্ণিমা তে আমিও থাকবো।
আরো একটা পূর্ণিমা এসে গেলো। আমি ওঝা আর হারান এই ৩ জন রাতে ওই বাড়িতে থাকবো। আর মেয়ে রা যেমন আছে তেমনি থাকবে। বাকিরা যে যার ঘরে থাকবে। যথারীতি রাত হলো। কিন্তু সেদিন কিচ্ছু হলনা। আমার তো ওঝা কে দেখে খুব হাসি পাচ্ছিল। ওঝা রেগে গিয়ে বললো এখানে না হেসে মিত্তির দের মেয়ে টাকে তো খুঁজে বড় করতে পারতেন। সত্যি তো, মেয়ে টাকে তারপর থেকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমার হাসি আপনা থেকেই বন্ধ হয়ে গেলো।
পর দিন সকালে খবর পাওয়া গেলো। গ্রামের মানুষ সকালে পুকুর ধারে যায় প্রকৃতির ডাকে। তাদেরই একজন দেখে যে এক দিকের মাটি কেমন যেনো উঁচু হয়ে আছে। একটু খুঁড়তেই চুল এর গোছা দেখতে পায়। তারপর ই গ্রামে আসে খবর দিতে। আমরা তো সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে মাটি কাটানোর ব্যবস্থা করলাম। ওঝা সাথেই ছিলো। কিন্তু আবার সেই বীভত্স দৃশ্য দেখতে হোলো। সেই একটা ফুটফুটে মেয়ের কাটা মাথা। তবে বাকি দেহ টা আর কোথাও পাওয়া গেলো না। মিত্তির বাবু দের ব্যাপার টা আর জানানো হলনা যে তাদের মেয়ে আর নেই। এদিকে ওঝা র দিকে তাকিয়ে দেখি ও নিজেই বিড়বিড় করে বলছে এর শোধ আমি নেব। আমি এর শেষ দেখে ছাড়বো।
যাই হোক আবার একটা পূর্ণিমা। আবার সেই হারান দের বাড়ি। রাত যখন ১২ টা হবে আমরা বাড়ির ছাদ থেকে দেখলাম একটা কালো ছায়ার মত মূর্তি বাড়ির চারপাশে ঘুরছে। দরজায় দেওয়ালে হাত দেবার চেষ্টা করছে আর প্রতিবার কারেন্ট শক খাবার মত পিছনে ছিটকে যাচ্ছে। আমি টর্চ ফেললাম ওর মুখে। আর দেখেই চমকে গেলাম। আমার কথা বন্ধ হয়ে গেলো। শরীর ভারী হয়ে গেলো। সেই তান্ত্রিক। কিন্তু তার হাঁটা টা যেনো কেমন। চোখ দুটো একদম স্থির। আর চোখের মণি টা যেনো কেমন ঘোলাটে। অনেক চেষ্টা করেও সেটা যখন বাড়িতে ঢুকতে পারলনা তখন দুর্বোধ্য একটা জান্তব আওয়াজ করে চলে গেলো। সেই আওয়াজ শুনে বাড়ির মেয়েরা চিৎকার করে উঠলো। আর হারান তো অজ্ঞান। ওঝা বলল এবার বিশ্বাস হলো। তবে চিন্তা নেই ও কিছু করতে পারবে না। আসলে ঐ তান্ত্রিক আর ওর চেলা দুজনেই ছিল পিশাচ সিদ্ধ। তাই তান্ত্রিক মারা যাবার পরে ওর চেলা প্রতিশোধ নেবার জন্যে ওর গুরুর দেহ টা তুলে নিয়ে যায়। তারপর মৃতদেহ জাগানোর পদ্ধতি প্রয়োগ করে তান্ত্রিক এর দেহ টাকে পিশাচ এ পরিণত করে। তারপর ও যা বলবে পিশাচ তাই করবে। ও তখন আদেশ করে এই গ্রামের সমস্ত অবিবাহিত মেয়ে দের প্রতি পূর্ণিমাতে ধরে নিয়ে আসার জন্যে। তারপর তাদের কে বলি দিয়ে পিশাচ এর খিদে মেটানোর জন্য সেই দেহ গুলো কে দিয়ে মাথা টা পুঁতে ফেলে। শুনে আমার ভিতর টা কেমন যেনো করতে থাকে। আমি বলি এর থেকে বাঁচার উপায়। ওঝা বলে যখন পিশাচ কোনো কাজে ৩ বার বিফল হয় তখন সে তার সৃষ্টিকর্তা কেই মেরেফেলে। আর নিজেও শেষ হয়ে যায়। যাই হোক এরপরের পূর্ণিমা কেটে গেলো। তারপর শেষ পূর্ণিমা এলো। আমরাও সজাগ আছি। যখন সেই পিশাচ এলো আমরা নিচে নেমে এলাম। জানলা দিয়ে দেখলাম সেই মূর্তি। কিন্তু আজ যেনো অনেক শীর্ণ দেখাচ্ছে। আর খুব বাজে একটা পচা গন্ধ। আজকেও যখন সে কিছু করতে পারলো না তখন সেই হার হিম করা একটা জান্তব আওয়াজ করে চলে গেলো। আমি আর ওঝা তখন ওর পিছু নিলাম। দেখি রেল লাইন ধার দিয়ে প্রায় ২ km যাবার পর একটা রেল ব্রিজ আছে। নিচে একটা ছোট্ট নালার মত আছে, সেখানেই ধুনী জ্বলছে। আমরা ওখানেই দাড়ালাম। দেখলাম সেই তান্ত্রিক এর চেলা র দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সেই পিশাচ মূর্তি। চেলা পালাতে গেল। কিন্তু পারলো না। পিশাচ ১ হাতে ওর গলা চিপে ধরলো। তারপর আর এক হাত দিয়ে ওর ঘাড় টা ধরে মটকে দিল। তারপর নিজেও প্রাণহীন দেহর মত পরে গেলো। এই দৃশ্য আমি আর সহ্য করতে পারলাম না। আমিও অজ্ঞান হয়ে গেলাম ওখানেই। পরদিন সকালে জ্ঞান হতে দেখি অনেক লোক। সমস্ত গ্রাম বাসী এসছে। সবাই মিলে নিচে গেলাম দেখি সেই তান্ত্রিক এর দেহ টা প্রায় পচে গেছে। আর ওর চেলার ঘাড় নিচের দিকে ঝুলে রয়েছে। তারপর ওঝার কথা মত দুটো দেহই পুড়িয়ে ফেলা হলো। তারপর থেকে আর কোনো মেয়ে উধাও এর ঘটনা ঘটেনি।"
এবার তোমরাই বলো এটাকে কি বলবে?
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments