স্নেহময়ী Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
#স্নেহময়ী
পিসিমা একটা জটিল হাসি হেসে বললেন তাহলে বুঝেছো তো বৌমা আগামীকাল তোমাকে দুপুরে কি কি রান্না করতে হবে? ভয়ে ফেকাসে হয়ে যাওয়া সুমনার মুখ টা দেখে বেশ মজা পেলেন গীতা দেবী। হাত বাড়িয়ে সুমনার গালটা টিপে দিয়ে বললেন কেষ্ট পেতে গেলে একটু তো কষ্ট করতেই হয় সোনা। তাহলে ঐ কথাই রইলো ভাত, মাছের মাথার ডাল, মোচা চিংড়ি, মাছের ঝোল কাল তুমি রান্না করছো বলেই একটা বাঁকা হাসি ছুড়ে দেয় সুমনার শাশুড়ি লক্ষী দেবীর দিকে।
সুমনার শাশুড়ি লক্ষী দেবী বললেন দিদি সবে কাল ওর বিয়ে হলো আর আগামীকাল ই ওকে এতো রান্না করতে বলছো, এটা কোন ধরণের ভদ্রটা? অমনি গীতা দেবী কঠিন গলায় লক্ষী দেবী কে বললেন কেন বৌদি সিলেবাসের বাইরে কোয়েশ্চেন এসেছে বুঝি? লক্ষী দেবীকে দেখে মনে হলো যেনো জোঁকের মুখে নুন ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমতা আমতা করে লক্ষী দেবী বলেন বাড়ির সব নতুন বৌরাই তো আলু পোস্ত, ডাল আর মাছের ঝোল রান্না করে নতুন এসে তাহলে সুমনার বেলাতে এতো কঠিন রান্না কেন করতে বলছো? পিসিমা একটা বাঁকা হাসি ছুড়ে দিয়ে বলেন কোনো বৌ তো আর জরোয়া সেট পাবার জন্য রান্না করে না তাই। লক্ষী দেবী বলেন যা ওর পাওনা তা পাবার জন্য ওর যোগ্যতা প্রমানের তো কোনো দরকার নেই। রিতার শেষ ইচ্ছার দাম তো তোমার কাছে নেই তাই এসব করছো তুমি । পিসিমা বলেন আমি তো খারাপ কিন্তু যে ভালো ছিল তার গুন ও তো কম ছিল না। তার হাতের রান্না ছিল অমৃত তাহলে তার জিনিস তো যাকে তাকে দিতে পারিনা। সেই হার যাতে সঠিক হাতে যায় সেই চেষ্টাই আমি করছি।কথাটা বলেই ঘর থেকে বেরোতে গিয়ে থমকে যান গীতা দেবী তারপর বলেন জিনিস পত্র সব কেটে কুটে রান্না ঘরেই রাখা থাকবে কিন্তু রান্নাটা ওকে একাই করতে হবে কারো সাহায্য নেওয়া যাবে না, মনে থাকে যেনো।
এতক্ষন সুমনা কিছু বলেনি, গীতাদেবী চলে যেতেই সে বলে মা এই জরোয়া সেট পাওয়া টা কি খুব জরুরী? পিসিমা তো আমাকে ওনার শত্রু ভাবছেন। আমি এতো রান্না জানিনা, সেটা আপনি জানেন। আপনার কথা অনুযায়ী মা আমাকে ডাল, আলুপোস্ত, আর মাছের ঝোল রান্না করা শিখিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মোচা চিংড়ি, মাছের মাথার ডাল এসব রান্না আমি জানিনা, একদিনে শেখাও সম্ভব নয়। হয়তো দুপুরে কেউ খেতেই পারবে না আমার জন্য আপনি পিসি মা কে বলে দিন ঐ সেট আমার চাই না।
লক্ষী দেবী জল ভরা চোখে সুমনার হাত দুটো চেপে ধরে বলেন অমন কথা মুখেও এনোনা বৌমা। ঐ হার যে তোমার জন্য আশীর্বাদ, তাই তো ওতো লড়াই। তুমিতো ভেঙে পড়ার মতো মেয়ে নও একবার চেষ্টা তো করো। সুমনা বলে কার আশীর্বাদ মা, আমিতো কিছুই বুঝতে পারছিনা।
ধীরে ধীরে লক্ষী দেবী বলতে শুরু করেন। তোমার শ্বশুর মশাইরা তিন ভাইবোন। তোমার শশুরমশাই বড়,তার পরে এক মেয়ে গীতা, ও তার দুই বছর পরে আরেক মেয়ে হয় রিতা । গীতা ও রিতা দুজনেই পরমা সুন্দরী কিন্তু গীতার চাপা স্বভাব, গম্ভীর মুখ আর মাথায় চুল কম থাকার জন্য তার সৌন্দর্যটা যেনো বিকশিত হোতে পারতো না। আর মেজাজ থাকতো সবসময় সপ্তমে। আর রিতা হলো ঠিক তার উল্টো সব সময় তার মুখে হাসি লেগে থাকতো। যেকোনো ছোটো কথা সে এতো সুন্দর ভঙ্গি করে বলতো যে সবাই সেটা শুনে হেসে ফেলতো। যেমন মিষ্টি স্বভাব ছিল তার ঠিক তেমন মুগ্ধ করা ছিল তার রূপ। ভগবান যেনো খুব যত্ন নিয়ে রিতার চোখ দুটো একে ছিলেন, তার সাথে ছিল কোমড় ছাড়ানো চুল, আর ছিল ছোট্ট একটা গজাল দাঁত। যখন রিতা হাসতো মনে হতো ওর হাসিতে চারিদিক মুখরিত হয়ে উঠছে।আর সে ছিল শ্বশুর বাড়িতে আমার একমাত্র প্রাণের বান্ধবী, আমরা এতো গল্প করতাম সবাই বলতো এরা নির্ঘাত আগের জন্মে দুই বোন ছিল।বেশ কেটে যাচ্ছিলো দিনগুলো গোল বাঁধলো যখন দিদিকে দেখতে এসে জামাইবাবু রিতাকে বিয়ে করতে চাইলো। সুপাত্র কে হাতছাড়া করবে না বলে জামাইবাবুর সাথে রিতারই বিয়ে ঠিক হলো।
কেউ লক্ষ্য করলো কিনা জানিনা কিন্তু আমি বুঝতে পারতাম দিদির স্বভাব আরো খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে কিন্তু বলবো কাকে সবাই তখন রিতা কে নিয়ে ব্যাস্ত। আমি সম্পর্কে দিদির বৌদি হলেও বয়েসে ছোটো হবার জন্য আমাকে সে বৌদির সন্মান কোনোদিন দেয়নি বরং আমি তাকে দিদির জায়গা দিয়েছি তাই সব বুঝলেও চুপ করে থাকলাম। রিতার বিয়ের পরে দিদি আরো চুপচাপ হয়ে গেলো খুব দরকার না হলে কোনো কথা বলতো না। এদিকে রিতা বিয়ের পরে নিজের গুনে শ্বশুর বাড়ির সবার মন জয় করে ফেলতে লাগলো। ওর শাশুড়িমা নিজে হাতে ধরে রিতাকে রান্নাবান্না, ঘরের কাজ কর্ম শেখাতে লাগলেন। দেখতে দেখতে পাকা রাঁধুনি হয়ে উঠলো রিতা। ওর হাতের রান্না যেনো কথা বলতো। সবথেকে ভালো রাঁধতো মাছের মাথার ডাল আর মোচা চিংড়ি। যে ঐ রান্না খেয়েছে সে কোনোদিন তার স্বাদ ভুলবে না এটা হলফ করে বলতে পারি।
এরপরে বছর ঘুরতে না ঘুরতে খবর এলো রিতা সন্তান সম্ভবা। রিতার খুব ইচ্ছা ছিল আমি যদি সেই সময় ওর কাছে গিয়ে থাকি কিন্তু সেই সময় বাবু আমার পেটে। কিন্তু সবাই কে অবাক করে দিদি বললো আমি গিয়ে থাকবো রিতার কাছে। সবাই খুব অবাক হলো আর আমার মন কেঁদে উঠলো কোনো অজানা বিপদের আশঙ্কাতে। আমি সেদিন না করে ছিলাম কিন্তু কেউ শোনেনি আমার কথা ফল স্বরূপ কিছুদিন পরেই খবর আসে সিঁড়িথেকে নামতে গিয়ে রিতা পড়ে গেছে, হাসপাতাল এ ভর্তি। বাচ্চা টাকে বাঁচানো যায়নি আর রিতার অবস্থা ও ভালো নয়। আমি কান্নাকাটি শুরু করলে সবাই আমাকে রিতার কাছে নিয়ে যায়। রিতা আমাকে দেখেই বলে সে আলাদা করে আমার সাথে কথা বলতে চায়। সবাই চলে যেতেই রিতা আমার হাত ধরে বলে বৌদি আমি নিজে পড়ে যাইনি কেউ আমাকে ধাক্কা দিয়েছিলো। আমার বুকটা ধক করে ওঠে। আমার অবচেতন মন এমন একটা কিছুই আন্দাজ করেছিল। আমি বললাম সব ঠিক হয়ে যাবে ওতো চিন্তা কোরোনা। রিতা একটু হাসার চেষ্টা করে কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম ওর খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি ওকে থামতে বললে ও বলে বৌদি আমার হাতে আর বেশি সময় নেই ঐ সংসার আর আমার থাকবে না। তাই আমি আমার জরোয়া সেটটা তোমার সন্তান কে দিয়ে যেতে চাই।আমি তো মা হোতে পারলাম না হয়তো তোমার ছোটকু টাকে দেখে যেতে ও পারবো না কিন্তু মনে রাখবে ও আমার সন্তান তোমার থেকে আমার অধিকার কোনো অংশে কম হবে না।তারপর জামাইবাবু কে ডেকে সবাই কে সাক্ষী রেখে বলে আমার জরোয়া সেটটা বৌদির পুচকু বা পুচকি কে দিলাম, ও কে বোলো ওটা ওর বড় মা ওকে দিয়েছে, ওটা আমার আশীর্বাদ । আমি রিতার হাত ধরে বলি তুমি নিজে দিও।
এর দুইদিন পরে রিতা মারা যায়। পরে জামাই বাবুর সাথেই বিয়ের হয় দিদির। বাবু জন্মানোর পরে জামাইবাবু রিতার আশীর্বাদ স্বরূপ জরোয়া সেটটা নিয়ে আশীর্বাদ করতে আসেন। কিন্তু দিদি বলে হয়েছে তো ছেলে ও হার নিয়ে কি করবে? এটা এখন আমার কাছে থাক ওর বৌ এলে দেবো। এরপরে সব কিছু বদলে যায়, রিতার সাজানো সংসার নিজের হাতের মুঠোতে নিয়ে আসে দিদি। কিন্তু রিতার বিয়ের পরে যে সংসারে মা লক্ষী অচলা হয়েছিলেন, দিদির বিয়ের পরে দিদির হিংসার আগুনে মা লক্ষী বেশিদিন অচলা থাকলেন না। জামাইবাবুর ব্যাবসার অবনতি ঘটতে থাকলো। পরে পরিস্থিতি একটু সামলালেও আগের সেই রমরমা ভাবটা আর ফিরে এলো না। পরে দিদির একটি মেয়ে হলো সীমা। মায়ের আদর্শেই সে শিক্ষিত। তার খুব পছন্দ ঐ জরোয়া সেট টা তাই এই রান্নার শর্ত দিয়েছে তোমাকে হারটা না দেবার একটা অছিলা।
এতক্ষন একনাগাড়ে কথা বলে একটু হাপিয়ে পড়েছিলেন লক্ষী দেবী। একটু থেমে সুমনা কে বললেন তুমি পারবেনা একজন মৃত মানুষের শেষ ইচ্ছা কে স্বার্থক করতে। সুমনা প্রথমে মনে মনে ছোটো পিসিমার উদ্দেশ্যে প্রণাম জানিয়ে তারপর লক্ষী দেবী কে প্রণাম করে বলেন আশীর্বাদ করুন যেন জয়ী হোতে পারি।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
রান্না ঘরে ঢুকে মাথা ঘুরে যায় সুমনার একে তো ভীষণ গরম তার উপরে এতো গুলো রান্না। গতকাল সারারাত ইউ টিউব এ রান্নার নানা ভিডিও দেখে মনে হয়েছিল সে পারবে কিন্তু সেটা বাস্তবে করতে এসে যেনো সব গুলিয়ে যাচ্ছে। সুমনা ভাবে ফোনটা তার ঘরে রেখে আসা ঠিক হয়নি মাছের ঝোলটা তো সে রান্না করতে পারেই তাহলে যে সময়ে সেটা হবে তখন সে আরো একবার রান্না গুলো দেখে নিতে পারবে। যেই ভাবা সেই কাজ কিন্তু রান্না ঘর থেকে বেরাতে গিয়েই দেখে কখন যেনো পিসিমা ঘরে এসে দাঁড়িয়েছেন। সুমনাকে বাইরে যেতে দেখে পিসিমা বলেন রান্না ফেলে কোথায় যাচ্ছ তুমি? সুমনা আমতা আমতা করে বলে ফোন টা ফেলে এসেছিলাম ঘরে সেটা আনতে যাচ্ছি। পিসিমা হেসে বলেন ও ও ও ভিডিও দেখে রান্না করার কথা ভাবছো নাকি? সুমনা কে চুপ করে থাকতে দেখে বলেন ওসব ফন্দি ছাড়ো যা করবে নিজের এলেমে করো, যতক্ষণ রান্না না হয় এই ঘরের বাইরে এক পাও দেবেনা। আমার মেয়ে কিন্তু সতর্ক দৃষ্টি রাখছে তোমার উপর।
রান্না করতে বসে যখন সুমনার লেজে গোবরে অবস্থা ঠিক তখনি সে দেখে রান্না ঘরের চৌকাঠে একটি বৌ দাঁড়িয়ে। সুমনা ভাবে কেউ বুঝি তদারকি করতে এসেছে রান্নার তাই কোনো কথা না বলে সে চুপ করেই থাকে। বউটি এবার আস্তে আস্তে সুমনার পাশে এসে দাঁড়ায় তারপর বলে ইস নৌতুন বৌকে দিয়ে কেউ এতো রান্না করায়? তোমার শ্বশুর বাড়ির লোক কেমন গো, প্রাণে কোনো মায়া দয়া নেই নাকি? বউটার গলায় কিছু একটা যেনো ছিল কথা গুলো শুনে সুমনার দুচোখ বেয়ে জল পড়তে লাগলো। বউটা নিজের আঁচল দিয়ে সুমনার চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বললো চিন্তা কোরোনা ভাই আমি তো আছি।
'আমি তো আছি ' এই কথাটা শুনে সুমনা এবার ভালোকরে বউটার দিকে তাকায়। নাহঃ চেনা কেউ না। সুমনা কে হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে বউটা হেসে বলে আমি তোমাদের পাশের বাড়িতে থাকি, আমার নাম মিষ্টি। নতুন বউ দেখতে এসে জানতে পারলাম তোমার পিসি শাশুড়ি তোমাকে একা রান্না করতে বলেছে, তাই চুপিচুপি চলে এলাম তোমাকে সাহায্য করতে। সুমনা বললো বাইরে আমার ননদ পাহারাতে আছে, আর কেউ যদি জানতে পারে তুমি আমাকে সাহায্য করছো তাহলে তো আর রক্ষে থাকবে না। মিষ্টি হেসে বলে তোমার ননদ এখন ফোন এ গল্প করতে ব্যাস্ত আমাকে সে দেখতেই পায়নি, তুমি চিন্তা কোরোনা কেউ জানতে পারবে না।
সুমনা অবাক চোখে দেখতে থাকে মিষ্টি চোখের নিমিষে একের পর এক রান্না করে যাচ্ছে, আর মুখে বলে যাচ্ছে কিভাবে কি রান্না করছে যাতে সুমনা রান্না গুলো শিখে নিতে পারে। মাঝে মাঝে মিষ্টি সুমনাকে কাছে ডেকে কোন রান্নায় কি ফোড়ন দিচ্ছে তা দেখিয়ে দিচ্ছে, আবার প্রশ্ন করে দেখে নিচ্ছে সুমনার সব মনে আছে নাকি। সুমনা ভাবতে লাগলো কে এই মিষ্টি, খুব চেনা লাগছে কিন্তু মনে করতে পারছে না। মিষ্টি সুমনার থেকে ছোটোই হবে কিন্তু সাজগোজ কেমন যেনো অন্য রকম, অনেকটা পুরানো দিনের নায়িকাদের মতন।আটপৌরে ভাবে শাড়ি পড়া, মাথা ভর্তি চুল সুন্দর করে খোপা করা তাতে আবার ফুলের কাজ করা কাঁটা লাগানো, পায়ে আলতা আর মুখটা দেখলে মনে হয় যেনো কোনো দেশের রাজকন্যা। এতো সুন্দর কাউকে ও তো বিয়েতে দেখেছে বলে মনে করতে পারছে না কিন্তু কোনো একজনের সাথে মুখের খুব মিল কিন্তু সে কে কিছুতেই মনে আসছে না সুমনার। মিষ্টির ডাকে ঘোর ভাঙে সুমনার, সে বলে সব রান্না হয়ে গেছে কিন্তু খুব সাবধান কিভাবে কি রান্না হলো মনে রেখো পিসিমা কিন্তু জানতে চাইতে পারে। আর আমার কথা কিন্তু বলো না। সুমনা কৃতজ্ঞতা জানাবার জন্য মিষ্টির হাত ধরেই অবাক হয়ে যায় এতো গরমেও মিষ্টির হাত বরফের মতো ঠান্ডা। সুমনার মনের কথা বুঝতে পেরেই হয়তো মিষ্টি বলে ওঠে এবার আমি আসি ভাই ভালো থেকো বলেই ছুটে বাইরে বেরিয়ে যায় সে।
রান্না খেয়ে সবাই ধন্য ধন্য করে ওঠে, আবার কেউ কেউ তো বলে ওঠে এমন রান্না যে শেষ কবে খেয়েছে তারা মনেই করতে পারছে না।পিসেমশাই সুমনার মাথায় হাত রেখে বলেন তুমি তোমার বড়ো মায়ের কথা মনে করিয়ে দিলে। এ যেনো ঠিক তাঁরই রান্না।সবাই এতো প্রশংসা করলেও পিসিমা চুপ করে থাকলেন তারপর সুমনার দিকে তাকিয়ে বললেন মাছের মাথার ডাল কিভাবে রান্না করলে? আকস্মিক করা প্রশ্নে সুমনা একটু ঘাবড়ে গেলেও মিষ্টির বলে দেওয়া রান্নার পদ্ধতিটা একের পর এক বলে যেতে লাগলো। সুমনাকে থামিয়ে পিসিমা বললো বৌদি রিতার ঘরে ওর ছবির সামনে হারের বাস্কটা রাখা আছে, ওটা তোমার বউমা কে দিয়ে দিও। লক্ষী দেবী বলেন কেন দিদি তুমি নিজের হাতে দেবে না। গীতা দেবী জ্বলন্ত চোখে বলেন না আর ঠিক তখনি সুমনার মনে পড়ে যায় মিষ্টির মুখের সাথে কার মিল সে দেখেছে।
সুমনা কে জরোয়া সেটটা পরিয়ে দিয়ে লক্ষী দেবী একটা ছবির দিকে ইশারা করে বললেন ইনি তোমার বড় মা মানে বাবুর ছোটো পিসিমা যাও প্রণাম করে আশীর্বাদ নাও। সুমনা ছবির দিকে তাকিয়ে প্রায় ছিটকে উঠলো এটা কার ছবি!এতক্ষন এই তো সব রান্না করলো বললো পাশের বাড়িতে থাকে। লক্ষী দেবী কে কিছু জিজ্ঞাসা করতে যেতেই সুমনা শুনতে পেলো মিষ্টির গলা, সে বলছে সব কিছু সবাই কে বলতে নেই ভাই। আমাকে তো আমার সন্তান কে সাহায্য করতে আসতেই হতো, ভালো থেকো। সুমনা ভক্তি ভোরে প্রণাম করে স্নেহময়ী বড়মার উদ্দেশ্যে।
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments