Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
#নীলু
মাঝরাতে কেমন এক অস্বস্তিতে ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো রতনের৷ বারে বারে মনে হচ্ছিলো ভেজা একটা হাত, একটু পরপরই তার মুখটা ছুঁয়ে দিচ্ছে। বিছানা থেকে নামলো রতন।
"আচ্ছা ঘরে কেউ ঢুকলো না তো?", মনে মনে ভাবলো সে। দেওয়াল হাতড়ে হাতড়ে সুইচবোর্ডের কাছে গিয়ে জ্বেলে দিলো ঘরের বাতি। রুমের চারদিকে কড়া নজর বুলালো সে। খাটের নীচে.. তারপর পুরো বাড়ি এমনকি সদর দরজাও পর্যবেক্ষণ করে এলো কিন্তু তেমন কিছুই তার নজরে এলো না৷ মনে মনে নিজেকে গালি দিলো রতন, ব্যাপারটা হয়তো তারই মনের ভুল.. এছাড়া আর কিছুই নয়। বেশ আশ্বস্ত হলো সে...তারপর বাতি নিভিয়ে আবার শুয়ে পড়লো।
ফের রতনের ঘুমটা ভাঙ্গলো গায়ের উপর টপটপ করে পানি পড়ার কারণে৷ তার মুখটা পানির ফোঁটায় বেশ ভিজে গেছে ইতোমধ্যে। বিছানায় শুয়ে শুয়ে রতন ভাবলো এসব হচ্ছেটা কি তার সাথে? এদিকে কাউকে যে ডাকবে সেই উপায়ও নেই ।মালা... তিন মেয়েকে নিয়ে গেছে বাপের বাড়ি৷ বাড়িতে রতন আজ একা৷
টিনের চাল কি ফুটো হয়ে গেছে নাকি? কই এতদিন তো চাল চুইয়ে পানি পড়ে নি৷ আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, বৃষ্টিই তো হচ্ছে না? কই টিনের চালে তো বৃষ্টি পড়ার কোন শব্দই পাওয়া যাচ্ছে না৷ তবুও নিশ্চিত হবার জন্য বিছানার পাশের জানালাটা খুলে বাইরে তাকালো রতন৷ যা ভেবেছিলো সে , একদমই তাই... বৃষ্টি হচ্ছে না বাইরে। এমনকি ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টিও না।
জানালা বন্ধ করে, তোয়ালে দিয়ে মুখটা মোছার জন্য ফের বিছানা ছেড়ে নামতে যাবে রতন.. ঠিক তখনই ঘটলো ব্যাপারটা৷ একজোড়া জ্বলন্ত চোখকে তার সামনে উদয় হতে দেখলো সে, তারপর আবার খুব দ্রুত মিলিয়েও গেলো। পড়িমরি করে নামতে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে মেঝেতে মুখ থুবড়ে পড়লো রতন, মনে হলো কেউ যেনো পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা মেরেছে তার পিঠে । কপালে বেশ আঘাত পেলো সে৷ তবে তা গ্রাহ্য না করে কোনমতে উঠে গিয়ে বাতি জ্বালাতে গেলো রতন, ঠিক তখনই ফের.. কে যেনো তাকে প্রবল আক্রোশে সজোরে ধাক্কা মারলো৷ এবার দেওয়ালের সাথে মাথাটা ঠুকে গেলো রতনের৷ প্রচন্ড যন্ত্রণায় মাথাটা যেনো ছিঁড়ে যাবে
তার..ইতোমধ্যে মাথা ফেটে গলগল করে রক্ত পড়তে লাগলো ৷ ঠিক তখনই ঘরের বাতিটা নিজে নিজেই জ্বলে উঠলো।
চোখে রীতিমতো আঁধার দেখছে রতন, যন্ত্রণায় ভো ভো করছে মাথার ভেতরটা৷ ধীরে ধীরে কিছুটা ধাতস্থ হতেই সামনে তাকালো রতন৷ ঠিক তখনই তাকে দেখতে পেলো সে ৷ তার সামনে দাঁড়িয়ে মাসদুয়েক মতন বয়সের , ছোট একটি শিশু । তার সারা দেহ থেকে চুইয়ে চুইয়ে মেঝেতে গড়িয়ে পড়ছে পানির ফোঁটা৷ শ্যাওলার মতো সবুজ সবুজ কিসে যেনো আবৃত তার সারাদেহ, তবে মুখের জায়গা ব্যতীত ৷ তার চেহারা দেখেই রীতিমতো আঁতকে উঠলো রতন৷ আরে! এ যে নীলু... নিজের চোখকেই যেনো বিশ্বাস করতে পারছে না সে। এটা কি করে সম্ভব?
*
পরপর তিন মেয়ে জন্ম দেয়ার পরে... ফের যখন মালা গর্ভবতী হয়, তখন রতন আশায় বুক বেঁধেছিলো এই ভেবে যে, এইবার পুত্র সন্তানেরই বাবা হবে সে। ভগবান এবারে, তার দিকে মুখ তুলে তাকাবেন । তার মনোবাসনা হয়তো এবার পূর্ণ হবে । কিন্তু বিধিবাম! এবারও আশাভঙ্গ হলো রতনের, ফের মেয়ের জন্ম দিলো তার বউ মালা। এমনিতেই ঋণে জর্জরিত ছিলো রতন। জুয়েলারির দোকানে সামান্য কর্মচারীর চাকরী করে আর কয় টাকাই বা বেতন পায় সে। চতুর্থ সন্তানের জন্মের প্রাক্কালে আরও কিছু টাকা ঋণ নিয়েছিলো রতন। টানা চতুর্থবারের মতো আবারও মেয়ে হওয়ায়... এবার মাথায় যেনো বিনা মেঘে বজ্রপাতই হয় তার৷ মাথায় খুন চেপে যায়৷ একে তো তার স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার.. ওদিকে আবার মাথার উপর রয়েছে পাহাড়সম ঋণের বোঝা । হিতাহিত জ্ঞান লোপ পায় রতনের৷ তক্কে তক্কে থাকে সে, উপযুক্ত সুযোগের অপেক্ষায় থাকে রতন। অবশেষে একদিন পেয়েও যায় কাঙ্খিত সুযোগ । সেদিন মালা ছোট মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে.. রান্নাঘরের পাশে, বাইরের ঘরটায় যখন তিন মেয়েকে রাতের খাবার বেড়ে দিচ্ছিলো, তখনই দোকানের ডিউটি শেষ করে ফিরে আসা রতন ... বাইরে থেকে সবকিছুই পর্যবেক্ষণ করে । তারপর চুপিচুপি শোবার ঘরে ঢুকে সে । তারপর আর এক মুহূর্তও দেরী না করে বিছানা থেকে ঘুমন্ত নীলুকে খুব সাবধানে কোলে তুলে নেয় সে, তারপর তাকে.. নিজের গায়ে থাকা শালে জড়িয়ে নিঃশব্দে বেরিয়ে যায় ঘর থেকে৷ অতঃপর গ্রামের শেষসীমায় জঙ্গলের ধারে.. ডোবার কাছে গিয়ে প্রবল আক্রোশে নিজের মেয়েকে ছুঁড়ে মারে ডোবার জলে।
ফের যখন বাড়ি ফিরে রতন..তখন বাড়িতে ইতোমধ্যে হৈ হুল্লোড় পড়ে গেছে৷ কান্নায় ভেঙ্গে পড়া স্ত্রী, তিনমেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সেও নীলুকে খোঁজার ভান করে... পুরোটা সময়েই মিথ্যে অভিনয়টা ভালোই চালিয়ে যায় রতন ৷
**
রতনের চোখেমুখে প্রবল ভীতির ছাপ দেখে যেনো বেশ তৃপ্তিই পেলো নীলুর প্রেতাত্মা ।
"ত..ত..তুই এখানে এলি কি করে? " তোতলাতে লাগলো রতন৷ আচ্ছা সে স্বপ্ন দেখছে না তো৷ নিশ্চিত হবার জন্য বেশ জোরেই গায়ে চিমটি কাটলো রতন৷ প্রচন্ড যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠলো সে৷ চোখের সামনে যা দেখছে সবই সত্যি তাহলে ।
মাথার যন্ত্রণা কিছুটা কমে এসেছিলো রতনের৷ কিন্তু হঠাৎ করেই তা বেড়ে গেলো৷ প্রচন্ড যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগলো সে । দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরলো রতন৷ এদিকে নীলুর আত্মার অদৃশ্য ইশারায় রুমের দরজা দড়াম শব্দে বন্ধ হয়ে গেলো , তারপর ধীরে ধীরে মেঝেতে পানি দৃশ্যমান হতে লাগলো। আস্তে আস্তে বাড়তে লাগলো পানি৷ বিস্মিত রতন আবিষ্কার করলো তার চতুর্দিকে থইথই করছে পানি । ইতোমধ্যে তার কোমর ছাড়িয়ে, দ্রুত আরও উপরে উঠছে পানি। উঠে দাঁড়াতে চাইলো রতন। কিন্তু তার পা দুটো যেনো কেউ... মেঝেতে আঠা দিয়ে সেঁটে দিয়েছে। একচুলও নড়তে পারছে না সে ।
ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে রতন। প্রচন্ড যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগলো সে৷ শরীরের সমস্ত শক্তি একত্র করে শেষ একটা চেষ্টা করলো রতন কিন্তু বৃথাই সেই চেষ্টা, কিছুতেই মেঝে থেকে একচুলও নড়তে পারলো না সে। প্রাণবায়ু বেরিয়ে যাবার আগে পানির মধ্যে শ্যাওলায় আবৃত ছোট্ট এক শিশুর নিষ্পাপ মুখাবয়বে একরাশ পরিতৃপ্তির হাসি ফুটে থাকতে দেখলো রতন৷
#সমাপ্ত
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments