Header Ads Widget

ভাই

ভাই Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)






#গল্প: ভাই

শ্রুতি বর্তমানে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষিকা। তার কাজ কারবার xi-xii এর ছেলে মেয়েদের নিয়ে। বেশ অল্প বয়সেই তার চাকরি জীবনে প্রবেশ। কোথাও যেন সে ভাবতো সে ঠিক ছেলেদের সাথে সাবলীল নয়। তার কারণ এটি তার দ্বিতীয় চাকরি। তার পূর্ব কর্মস্থল টি ছিল বালিকা বিদ্যালয়, তাই বয়সন্ধিকালের ছেলে দের সামলাতে হয়নি তাকে। যদিও বাড়ি তে তার দুই খুড়তুতো ভাই এর সাথে বেজায় ভাব তার।তাতে কি ভাই আর স্কুল এর দস্যি- দামাল গুলো এক হলো নিজের মনে ভাবে আর একটু হলেও সংকোচ করে।

এখানে বলা ভালো শ্রুতি আগের স্কুলের চাকরি টি ছেড়েছে শুধু আর্থিক কারণে। বাবা মা কাকা কে নিয়ে তার সংসার,ভালো ছাত্রী হয়েও চাকরি মনের মতো জোটাতে পারেনি সে। খুব ইচ্ছে ছিল কলেজে এ পড়াবে।

ইতিমধ্যে নতুন স্কুল তার ভালো লাগতে থাকে,তার সাথে স্টুডেন্ট রাও তাকে আপন করে নেয়। এটা বুঝতে পেরে ওহ এখন মানসিক ভাবে বেশ হালকা বোধ করছে। স্টুডেন্ট মহলে যে তাকে সবাই গ্রহণ করেছে সেটা শ্রুতি বুঝতে পারলো যেদিন একদল "সদ্য ফুল হয়ে ফোটার অপেক্ষায় থাকা একঝাঁক মুখ এসে বলল ....ম্যাম সেল্ফি প্লিজ"। সেই দিনটা ছিলো স্কুলের "ফেস্ট"।

কোথায় যেন সেদিন ই আপন হয়েগেল শ্রুতি ওদের কাছে। মোবাইল নম্বর আদান প্রদান হলো শুধু সেল্ফি পাঠানোর অজুহাতে।

 হটাৎ একদিন সন্ধ্যে বেলায় এক গুচ্ছ মেসেজ এসে জমা হয়,শ্রুতির whatsapp এ । "অরিন" মেসেজ করেছে। তার সাথে স্কুল এ তোলা সেল্ফি গুলোই এসেছে।

শ্রুতি ধন্যবাদ জানায়। কথা কিন্তু এগোয় না আর।অরিন হলো শ্রুতির স্কুল এর ক্লাস xi এর ছাত্র। লম্বা, ফর্সা, মিষ্টি মুখ,চোখে একরাশ স্বপ্ন। ইতিমধ্যে বলা ভালো শ্রুতির দুই ভাই নিজ নিজ ফ্ল্যাট এ শিফট হয়ে যায়। এখন বাড়িতে কেবল শ্রুতির বাবা,মা,কাকা আর ও। ওর আর বাড়ি ফিরতে মন চায়না। খুব একা লাগে। কার সাথে গল্প করবে ও, কার সাথে বাজি পোড়াবে, কাকে পড়াতে বসাবে,,, ভাই রা ফ্লাটে গিয়ে দিদি কে ভুলতে বসেছে। চোখের জল ফেলে শ্রুতি কিন্তু করার কিছু নেই।

অরিন এর সাথে এখন তার প্রায় কথা হয়। যেটা সবচেয়ে ভালোলাগার সেটা হলো অরিন এর মুখের ওই মিষ্টি ডাক টা "দি" বলে ডাকে সে শ্রুতি কে।অরিন এর অনেক স্বপ্ন। সব কিছুই সে বলে শ্রুতি কে। দুজনের মধ্যে একটা আধ্যাত্মিক সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। তার এই নতুন ভাই তাকে ভীষণ ভালোবাসে, বলা ভালো আগলে রাখে। যখন এ কারোর মন খারাপ হয় একে ওপর কে ফোন করে।

সময় এলো তাদের আলাদা হওয়ার। অরিন দারুন সাফল্যের সাথে উচ্চমাধ্যমিক পাস করলো। শ্রুতি মুখে কিছু বললো না ঠিকই কিন্তু ভাই কে চোখে না দেখতে পাওয়াটা ভাবিয়ে তুললো।ভাই তাকে ভোলেনি,রীতিমতো কথা চালায় দিদির সাথে। তাদের সম্পর্ক খুবই গোপন ,কাজের জায়গায় এমন পবিত্র সম্পর্ক নিয়ে কেউ যদি কিছু বলে তাই চুক্তি হয় ভাই বোনে তারা ছাড়া আর কেউ জানবে না এই কথা।

একদিন ফোন আসে অরিন এর । সে বলে মুম্বাই যাচ্ছে সে মামাতো দাদার বিয়ে। শ্রুতি খুব খুশি হয় শুনে এবং সাবধানে ফিরতে বলে। মুম্বাই থেকে ফোনে বলে অরিন যে সে শ্রুতির জন্য কানের দুল কিনেছে, সাথে ছবিও পাঠায়।

মহামারীর জন্য শ্রুতি অরিন এর দেখা হয়নি দুবছর। কানের দুল ও হাতে পায়নি। ফোনে একদিন কথা হয় তাদের, বলা ভালো এটাই শেষ কথা। মজার ছলে শ্রুতি বলে দুল কবে দিবি?? অরিন বলে দেব তবে কবে দেব তা জানিনা।।।। তখন শ্রুতি বলে 5 বছর পরে হলেও দিস। ভাই এর দেয়া গিফ্ট বলে কথা.... দেখিস আবার আমার দুল অন্য কাউকে দিয়ে ইমপ্রেস করিসনা যেন। তাহলে খুব খারাপ হবে। এটা শুনে অরিন খুব হাসে আর বলে ওটা তোমারই থাকবে দি, আর কারোর না। বেঁচে থাকতে দিলেই হবে,না বাঁচি যদি ছিনিয়ে নেব মনে থাকে যেন।।।।।। হা হা করে হাসে শ্রুতি। অরিন মন খারাপ করে বলে দি প্লিজ এভাবে বলোনা।

ফোনালাপ শেষ হয়। আর কখনো কথা হয়নি ভাই বোনে। মনে প্রশ্ন জাগছে কেন তাইনা।।। অরিন এর জীবনে বসন্ত আসে ,সে প্রেমে পড়ে তিথির। সব টাই জানতো শ্রুতি। কিন্তু একদিন শ্রুতির সাথে তিথি কে নিয়ে মনোমালিন্য হয় অরিন এর। কেউ কথা বলেনি। ওদের মধ্যে এমন টা হয়নি আগে। তাই একটা ঠান্ডা লড়াই চলছিল।

অরিন এখন খুব ব্যস্ত অনলাইনে ক্লাস নিয়ে। কেন জানিনা লাকি ক্লাস এর মাঝে প্রায় 5 বার ফোন করেছে। খুব বিরক্ত সে, জানে অরিন এর এখন ক্লাস থাকে।লাকি কে ফোন করে অরিন।

খুব বিরক্ত হয়ে ফোন করার কারণ জানতে চায়...লাকি যা বলে তা শুনে জমে বরফ হয়ে যায় অরিন। শ্রুতি ম্যাম আর নেই অরিন!!!! সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে খুব চোট পায়, হসপিটাল এ নিয়ে গেলে একদিন লড়াই এর পর সব শেষ। !!

এটা কি শুনছে অরিন। সে স্কুল গ্রুপ খোলে দেখে শ্রুতি কে নিয়ে শোকবার্তা পোস্ট করা হয়েছে। ঠিক একদিন আগে। দিদির উপর রাগ করে দিদির মেসেজ ও দেখেনি সে। পাগলের মতো কাঁদতে থাকে অরিন। কাঁদতে কাঁদতে শ্রুতির ডিপির দিকে চোখ যায় তার।।।। সে কি দেখছে!!!দির কানে ওটা কি ??????? এটা তো দি কে দিতে পারেনি সে, মুম্বাই থেকে আনা তার দুলটা না!!!!নিজের চোখ কে বিশ্বাস হয়না অরিন এর। দিদির জন্য লুকিয়ে রাখা দুলের বাক্স টেনে বের করে অরিন।
তার অবাক হওয়ার এখনবাকি । দুলের বাক্স খালি, দুল নেই তাতে। কি করে এমনটা সম্ভব??? কেউ জানত না অরিন ছাড়া এই দুলের কথা। বার বার সে ডিপি দেখতে থাকে শ্রুতির । হ্যাঁ এই সেই দুল যা সে এনেছিল।

বুকে মোবাইল টি জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে অরিন আর তাদের শেষ কথোপকন মনে পড়ে তার। শ্রুতি বলছে """দুল না দিলে ছিনিয়ে নেব আমি"""""। সারাজীবন এর জন্য ভাই এর দেয়া দুল কানে পরে পৃথিবী ছাড়লো শ্রুতি। সারাজীবন তার ডিপি তে ঝলমল করবে, তার ভাই এর দেয়া ভালোবাসা।

অরিন দির ডিপির দিকে তাকিয়ে কাঁদতে থাকে।।।।তার কানে ভেসে আসে একটা গানের কলি।।।। 

"কত কথা বলা হলো না প্রিয়"।

                                  সমাপ্ত।












website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments