মোহমায়া Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
মোহমায়া
------------------
খুব সুরাত ল্যারকি সে দূর রেহেনা--ব্যারনা প্যাস্তাও গে-- খুব সুরাত ল্যারকি সে দূর রেহেনা--আলখাল্লা পরিহিত উস্ক খুস্ক চুল ,লোকটাকে পাগল বলেই মনে হলো দীপনের, গাড়ীর সামনে হঠাৎ করে এমন ভাবে চলে এসেছিল যে আর একটু হলেই মরে যেত, দীপন কাঁচ নামিয়ে খিস্তিটা দিতে গিয়েও সামলে নিলো লোকটার কথা শুনে, মনে মনে ভাবলো প্রেমে আঘাত পেয়ে মাথাটা গেছে ওই হিন্দি ভাষী লোকটার। হাসি পাচ্ছিল দীপনের , খুব সুরাত ল্যারকি সে দূর? ইম্পসিবল। ল্যারকি কে সামলাতে জানতে হয় বস। দীপন এটা ভালোই পারে। সুন্দরী নারী আর রঙিন পানীয় এর মধ্যেই তো জীবনের আসল মজা বস। সবার কপাল এক হয়না। হা হা হা।গাড়ী ড্রাইভ করতে করতে হাসে দীপন। গন্তব্য নাইট ক্লাব।
অনুরিমার কল আসে। ফোন তুলে দীপন বলে--এই তো চলে এসেছি।
নাইট ক্লাবে গিয়ে ভিড়ে মিশে যায় দীপন। বড়লোকের একমাত্র মেয়ে সুন্দরী অনুরিমাকে বেশ কিছুদিন ধরেই টার্গেট করেছিল, অনেক কষ্টে ,অনেক কাঠ খর পুড়িয়ে বাগে এনেছে। অনুরিমার সাথে সময়টা বেশ ভালোই কাটলো দীপনের, তবে অনুরিমা চলে যেতে সেও বেরিয়ে পড়ল।
গভীর রাতে শুনশান রাস্তায় আবার দুর্ঘটনা ঘটতে ঘটতে বাঁচলো দীপনের গাড়ী, মেয়েটা যে হুট করে রাস্তায় নেমে পড়বে ধারণায় করতে পারেনি। নির্জন রাতের ফাঁকা রাস্তায় গাড়ীর গতিটা বেশ জোরেই ছিলো, মেয়েটাকে দক্ষহাতে সাইড কাটিয়ে ব্রেক করতে রাস্তার পাশে লাইট পোস্টে ধাক্কা মারার আগেই ভাগ্যিস দাঁড়িয়ে গেল গাড়ীটা। ধুর আজ যে কী হচ্ছে আমার সাথে?
গাড়ি থেকে নেমে রাগে চিৎকার করে উঠলো দীপন---দেখে চলতে পারেন না? মরবার জন্য কী আমার গাড়ীকে বেছে বেরিয়ে ছেন বাড়ি থেকে। যতসব রাতের বেলা নেশা ভাঙ করে নিজেকে সামলাতে পারেনা আর মরতে আসে আমার গাড়ীর সামনে।
নির্বিকার মেয়েটি কোনো উত্তর না দিয়ে ,না তাকিয়ে রাস্তা অতিক্রম করে ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকাএকটা গাড়ীর দিকে যাচ্ছে দেখে দীপনের মেজাজ বিগড়ে গেল। দীপন মেয়েটার পেছন পেছন এসে যখন খুব কাছে এলো মেয়েটাকে বেশ করে ঝাড়বে বলে। মেয়েটাকে কাছ থেকে দেখে ওর রাগটা যেন উবে গেল।
মেয়েটা নিঃসন্দেহে সুন্দরী। মেয়েটি দাঁড়িয়ে একবার দীপনের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলো, বললো-সরি।
না না ঠিক আছে। এত রাতে একা একা বাড়ী ফিরছেন ভয় করেনা?
মেয়েটি শুধু হেসে মাথা নেড়ে বললো না।
ওর চোখের চাহনি দীপনকে পাগল করে দিলো। অনুরিমার থেকেও সুন্দরী।
আচ্ছা যদি আমি পৌঁছে দিই আপনাকে আপনার বাড়ি ?
মেয়েটার চোখে দুস্টুমিভরা চাহনি,।
দীপন--না না মানে আপনি ড্রিংক করে ঠিক মতো চলতে পারছেন না। গাড়ি চালিয়ে যেতে পারবেন তো?
না না আপনি আসুন আমি পৌঁছে দিচ্ছি।
মেয়েটা আপত্তি করলো না।
দীপনের পাশের সিটে উঠে বসলো, দীপন গাড়ি স্টার্ট করে বেরিয়ে গেল।
একটা এপার্টমেন্টে পৌঁছে মেয়েটা ছাড়লো না দীপনকে, সাথে নিয়ে এলো কফি খেয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে, দীপনের বোধ হয় ইচ্ছে ছিলো কিছুটা সময় ওর সাথে কাটায়। তাছাড়া সুন্দরীদের অনুরোধ উপেক্ষা সে কখনো করে না।এতক্ষণে গল্পে গল্পে মেয়েটার নাম ও জানা হয়ে গেছে । শ্রুতি। ও একাই থাকে।
সুন্দর সাজানো এপার্টমেন্টের ভেতর ঢুকে দীপন বুঝতে পারলো শ্রুতি বেশ শৌখিন। দামি দামি সব সাজাবার জিনিস দিয়ে ঘর সাজিয়ে রেখেছে।
দীপন সোফায় বসলো। শ্রুতি কফি বানাতে গেল।
দীপনের ফোনটা বেজে উঠলো--অনুরিমা কল করেছে।
দীপন ফোন রিসিভ করতে অনুরিমা বললো --কী করছো ?
দীপন --এই তো তোমার কথা ভাবছিলাম। আর তুমি কল করলে।
অনুরিমা--তাই বুঝি?
দীপন --কেন বিশ্বাস হলো না?
অনুরিমা --হবেনা কেন? বিশ্বাস করেছি বলেই তো বন্ধুত্ব হলো।
শ্রুতি কফি নিয়ে আসছে---এমন সময় দীপন--ওকে তবে কাল দেখা হচ্ছে। এখন রাখি শুভ রাত্রি।
অনুরিমা--ধুর আমি ভাবলাম তোমার সাথে আজ সারারাত গল্প করবো আর তুমি বলছো শুভ রাত্রি? এই শোনা না --বলছি আমি না তোমায় খুব মিস করছি। একবার আসবে?
দীপন--এখন ? কোথায়?
অনুরিমা --হ্যাঁ। আমার ঘরে।
দীপন --কটা বাজে জানো?
অনুরিমা--যটা বাজুক আমি জিজ্ঞেস করছি আসবে কী না বলো?
দীপন --ওকে আধ ঘন্টা অপেক্ষা করো আসছি।এখন রাখো।
অনুরিমা--ওকে। ফোনটা কেটে যায়।
শ্রুতি --এখন আবার কোথায় যাবে ?
দীপন --ও এক বন্ধুর কল এসেছিল।
শ্রুতি কফি নিয়ে দীপনের কাছে ঘেষে বসে, ওর শরীরের স্পর্শ অনুভব করে দীপন। ওর শরীরের সুঘ্রাণ মনকে মাতাল করে তুলছে। আড়চোখে তাকাতে শ্রুতির ইসদ উন্মুক্ত বুকের সুডৌল খাঁজটা ওর দৃষ্টি আকর্ষন করলো, ভেতরের পাগলামিটা মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। শ্রুতির স্বল্প পোশাকের বাইরে উন্মুক্ত মসৃন উরু , দীপন অস্থির হয়ে উঠলো। কফির শেষ চুমুক। শ্রুতির ইঙ্গিত পূর্ণ চাহনির সাথে স্পর্শ। মাথাটা ঝিমঝিম করছে। দীপনের মনে হলো ওর নেশাটা বেড়ে গেছে।
ফোনটা বাজছে। চোখ খুললো দীপন, ভোরের সূর্যের নরম উষ্ণ স্পর্শ জানলার পর্দা ভেদ করে ওর চোখে এসে পড়ছে। কাল রাতের কথা মনে পড়লো। নিজের নগ্ন শরীর এলোমেলো বিছানা ,ফোনটা অনুরিমা করছে। --আধ ঘন্টা অপেক্ষা করতে বলেছিলাম। কফি। মাথা ঝিমঝিম , শ্রুতির চাহনি ওর স্পর্শ।।
পাশে তাকাই দীপন --শ্রুতি পাশে শুয়ে। এদিকে অনুরিমার কল।দীপন কোনো রকমে জামা কাপড় পড়ে শ্রুতিক বলে আসছি। শ্রুতি যেন নেশাগ্রস্তের মতো পড়ে আছে। কোনো সাড়া না পেয়ে বেরিয়ে যায় দীপন।
অনুরিমাকে মিথ্যা বলে ম্যানেজ করে।দিনকয়েক পর দীপন বুঝতে পারে ওর শ্রুতির প্রতি একটা দুর্বলতা। রাতে যেন শ্রুতি ওকে আকর্ষণ করে। অনুরিমার প্রতি তেমন আগ্রহ নেই দীপনের।গলার কাছে দগদগে ক্ষতটা আয়নার সামনে রোজ দেখে দীপন শ্রুতি উত্তেজনার চরম মুহূর্তে কামড়ে দেয়। যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠে কিন্তু কিছু বলতে পারেনা। শ্রুতির প্রতি আসক্তি ওকে যেন বেঁধে রেখেছে কোনো সম্মোহনের জালে।
রাতে দীপন গাড়ি চালাচ্ছে পাশে অনুরিমা। হঠাৎ জোরে ব্রেক করতে হলো দীপনকে--খুব সুরাত ল্যারকি সে দূর রেহেনা--ওই ভাগ ইহাসে। পাগল আদমি।। গর্জে উঠে দীপন।।
আহ অমন করছ কেন? অনুরিমা কথাটা বলতে দীপন বলে লোকটা প্রায় দেখি গাড়ির সামনে চলে আসে। আর ওই এক কথা। সেদিন তো মরতে মরতে বেঁচে ছিলো। আজও তাই।প্রেমে ব্যর্থ হয়ে শা** দেবদাস হয়ে ঘুরে ঘুরে আজও মরতে আমার গাড়ির সামনেই এসেছে। দীপন গাড়ি আবার চালাতে যাবে অনুরিমা বলে দাঁড়াও। কেন বাড়ি যাবে বলছিলে ? দীপনের প্রশ্নে অনুরিমা বলে --লোকটাকে দেখি কিছু টাকা দিয়ে আসি, জিজ্ঞেস করবো কেন বলে?
ধুর ছাড়ো তো। চলো আমার আবার একটা জরুরি কাজ আছে। দীপনের বিরক্তি দেখে অনুরিমা নামেনা। দীপন কেমন বদলে যাচ্ছে। আজকাল কথায় কথায় বিরক্তিপ্রকাশ করে।কেমন যেন খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে।
শ্রুতির ঘরে দীপন যখন পৌঁছায় তখন মধ্য রাত ঢলে গেছে। শ্রুতি যেন ওর অপেক্ষায় বসে থাকে। আজ খুব ক্লান্ত লাগছে দীপনের, সকাল থেকে মাথাটা ঝিমঝিম করছে। কিন্তু রাত হলেই শ্রুতি যেন কোনো অদৃশ্য সুতোর টানে টেনে নিয়ে আসে। শ্রুতি পাশে ঘনিষ্ঠ হয়ে বসতে দীপন বলে --আজ থাক। মুড নেই আজ। শ্রুতি শোনেনা, ওর তৃষ্ণার্ত ঠোঠ দীপনের ঠোঁট স্পর্শ করে চিবুক হয়ে গলা বেয়ে নেমে আসে সেই ক্ষতস্থানে, দীপন অনুভব করে শ্রুতির জিভের লালায়িত স্পর্শএখনই ধারালো সুন্দর দাঁতের কামড় সেই ক্ষতকে আরও দগদগে করে তুলবে, দীপন এক ঝটকায় সরিয়ে দেয় শ্রুতিকে। আজ থাক, কিন্তু শ্রুতির চোখে মুখে তখন তীব্র এক তৃষ্ণার ছাপ স্পষ্ট। মোহময়ী রহস্যাবৃত গভীর দৃষ্টির সেই নীলাভ সুন্দর চোখের মণি দুটো যেন ক্ষনিকের জন্য জ্বলে ওঠে, ঠোঁটের দুইপাশে ইসদ বর্ধিত দুটি তীক্ষ্ণ দাঁত ক্রমে মুখের ভেতর মিলিয়ে যায়,ক্ষনিকের এই দৃশ্য দীপনকে চমকে দেয়।
এটা কী আমার চোখের ভুল? মনে মনে ভাবে দীপন, সে বেরিয়ে যেতে চাই কিন্তু শ্রুতি ওকে আষ্টে পৃষ্টে জড়িয়ে ধরে আদরের জাল বিছিয়ে ধরে রাখে। দীপন চেষ্টা করেও নিজেকে মুক্ত করতে পারেনা। ওর শরীর যেন ধীরে ধীরে এলিয়ে পড়ে নরম বিছানায়। শ্রুতি তৃপ্ত হয়ে শুয়ে পড়তে উঠে দাঁড়ায় দীপন, এই মোহের মায়াজাল কেটে পালাতে হবে। মনে হয় দীপনের,কিন্তু ভাবাই হলো। মাথা ঘুরে আবার লুটিয়ে পড়লো বিছানায়।।
পরেরদিন দীপন আর এলোনা শ্রুতির কাছে। কারণ শরীর সাথ দিলোনা। আজ সারাদিন ঘরেই ছিলো দীপন। খুব দুর্বল লাগছে ওর। অনুরিমার সাথে ফোনে কথা হয়েছে। রাত তখন দুটো দীপনের ফ্ল্যাটের ডোর বেল বেজে উঠলো। ঘুমটা ভেঙে যেতে দীপন ঘুমের ঘোরে দরজা খুলে শ্রুতিকে দেখে অবাক হয়ে গেল।
তুমি? দীপনের প্রশ্নে বিস্ময়। শ্রুতি বলে- তুমি যাওনি তাই চলে এলাম। দীপন---কিন্তু তুমি আমার ঠিকানা জানলে কী করে? তোমার ঠিকানা তুমি যে কিছুদিন আগে নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে বলেছ সেটাও ভুলে গেলে? আমি তোমাকে ছেড়ে থাকতে পারিনা দীপন। আবারো এক যন্ত্রনা ময় রাত। ভোরে চোখ খুলতে দেখে রহস্যময়ী শ্রুতি কখন চলে গেছে।
অনুরিমাকে বলতেই হবে সত্যিটা। অনুরিমার কাছে কিছুই গোপন করলো না দীপন। মৃত্যু যে ওর শিয়রে। শ্রুতি সাধারণ কোনো নারী নয়। ওর সেই রূপ মনে পড়লেই চমকে উঠছে দীপন। গলার ক্ষতটা দগদগে ঘায়ের রূপ নিয়েছে এ কদিনে। অনুরিমা সব শুনে চুপচাপ গম্ভীর। দীপন যে ওকে খেলাচ্ছিলো এ সত্যিটা আজ মৃত্যুভয়ে বেরিয়ে এসেছে দীপনের মুখ থেকে। নিঃশব্দে কোনো কথা না বলে বেরিয়ে যাচ্ছিলো অনুরিমা। দীপন ওর হাত ধরে বললো-- ছেড়ে যেও না অনুরিমা। আমি অন্যায় করেছি। ক্ষমা চাওয়ার অধিকার ও আমার নেই। কিন্তু এভাবে ছেড়ে গিয়ে আমাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিও না। কিছু একটা করো প্লিজ। অনুরিমা যেতে চেয়েও পারেনা। মন যে দীপনকে সত্যি ভালোবাসে। অনুরিমা মনে মনে ভাবে কী ভাবে দীপনকে মুক্ত করা যায় ? মনে পড়ে ওই পাগল লোকটা, দীপনের গাড়ীর সামনে আচমকা বারবার এসেছে,ওই কথা গুলো বলে কী তবে দীপনকে সাবধান করেছিলো? মোহ মায়ার টানে দীপন সেটাকে অগ্রাহ্য করেছে। হ্যাঁ ওই লোকটাকে খুঁজে বের করতেই হবে আমাকে। দীপন তুমি চিন্তা করো না। যদি যেতেই হয় তবে তোমাকে ওই মেয়ের কবল থেকে মুক্ত করে তবেই যাবো। আমি এখন আসছি। আমাকে যেতে দাও।।
শহর চষে বেরিয়েও লোকটাকে খুঁজে পেলো না অনুরিমা। এদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। দীপন উৎকন্ঠায় বেশ কয়েকবার ফোন ও করেছে। আজ রাতেও আসবে শ্রুতি চুষে নেবে দীপনের শরীরের রক্ত। না না আমাকে আরও খুঁজতে হবে। গাড়ীটা পেট্রোল পাম্প থেকে তেল ভরিয়ে রাস্তায় নামতে অনুরিমা দেখতে পায় লোকটাকে।উলটো দিকের ফুটপাথে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বির বির করে কী বলছে যেন। গাড়ীটা আবার পেট্রোল পাম্পে পার্ক করে অনুরিমা এগিয়ে যাই। লোকটার কাছে যেতেই লোকটা --উসে কোই নেহি বাচা সকতা , ম্যারেগা। জরুর ম্যারেগা, এ মোহমায়া কে খেল হ্যায়। কথা গুলো বলতে বলতে লোকটা রাস্তার উল্টো দিকে ছুটে যায়। অনুরিমা ও ছুটতে থাকে পেছনে--ও বাবা দাঁড়ান , আপনি ওকে বাঁচান, ও বাবা?রাস্তার উল্টো দিকে পীরের মাজার। অনুরিমা বেশ কয়েকবার এসেছে এখানে মনস্কামনা নিয়ে। লোকটা যে মাজারের ভিড়ে কোথায় মিলিয়ে গেল? অনুরিমা খুঁজতে খুঁজতে মাজারের পেছনে খাল পাড়ের দিকে গেল। ঘন জঙ্গল, অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে, বড় গাছের ভিড়ে জায়গাটা গা ছমছমে--বাবা? অনুরিমা ডাক দেয়। কোনো সাড়া নেই, বাবা আপনিই পারেন ওকে বাঁচাতে, বাবা আপনি ধরা না দিলে আমার সাধ্য নেই আপনাকে খুঁজে বের করার। দয়া করুন বাবা, সেদিন আমি গাড়ী থেকে নেমে জানবার জন্য আসছিলাম, দীপন বাধা দেয়, ওকে আপনি বারবার সাবধান করেছেন তবুও ও শোনেনি। বাবা দয়া করে ওকে বাঁচান। অনুরিমা কথা গুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেলে। ঠিক তখনই ওর পেছন থেকে কেউ ওর ঘাড় স্পর্শ করে। ঘুরে তাকাই অনুরিমা। আলখাল্লা পরিহিত সেই লোক। চোখে মুখে উদ্ভাসিত এক জ্যোতি, চোখের দৃষ্টি যেন অন্যের মন পড়ে নিতে পারে। --বাবা? অনুরিমার ডাকে ভক্তির আবেগ। চল বেটি, সব মালিক কা ইচ্ছা , মালিক কা মঞ্জুরি হোগা তো ওহ ল্যারকা জরুর জিন্দা রেহেগা। দেরি করেনা অনুরিমা গাড়ীতে করে নিয়ে আসে দীপনের ফ্ল্যাটে। ।
দীপন --পাগলটাকে কী করতে নিয়ে এলে? তুমি চুপ করো দীপন, আর একটাও কথা বলবে না। তোমাকে যা যা বলা হবে সেগুলো করবে চুপচাপ --অনুরিমার কথায় চুপ করে যায় দীপন। লোকটা বির বির করে কী সব বলতে বলতে দীপনের ঘরে ঘুরছে। অনুরিমা দীপন চুপচাপ দেখছে। লোকটা সাদা পাউডারের মতো কিছু ওর আলখাল্লার পকেট থেকে বের করে ছড়িয়ে দিলো ঘরের কোণে। চার কক্ষ বিশিষ্ট এই ফ্ল্যাটের প্রতিটা ঘরে,দীপনের ঘরে দীপনকে থাকতে বলে পাশের একটা ঘরে অনুরিমাকে সাথে নিয়ে ঢুকলো। গভীর রাত, দীপনের ঘরে বেল বেজে উঠলো---শ্রুতি? দীপন ভয়ে ভয়ে দরজা খুলে দেখলো --শ্রুতি দাঁড়িয়ে। ভেতরে ডাকবে না? দীপন --এসো। তোমার অপেক্ষা করছিলাম। শ্রুতিকে নিয়ে নিজের বেড রুমে যায় দীপন। ঘনিষ্ট হয়ে বসে শ্রুতির কাছে যেমনটা ওই লোকটার নির্দেশে অনুরিমা বলেছে, শ্রুতি দীপনকে জড়িয়ে ধরে বলে--তুমি খুব দুর্বল হয়ে গেছ, আজ থাক। তুমি রেস্ট নাও আমি আজ আসি। শ্রুতি যেন ঘরে ঢোকার কিছুক্ষনের মধ্যে অস্থির হয়ে উঠলো। আজ ওর লোলুপ দৃষ্টি নেই দীপনের প্রতি, ঘরের মধ্যে কিছুর ঘ্রাণ নেওয়ার চেষ্টা করছে, দীপন ওকে ছাড়লো না, শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বিছানায় শুইয়ে দিল, তারপর নিজের ঠোঁট আলতো করে শ্রুতির গালে ছুইয়ে বললো--আমি ঠিক আছি ডার্লিং, তোমার নেশায় সব দুর্বলতা কেটে যায়। এসো ডার্লিং রাতটা উপভোগ করি। অন্য দিনের মতো শ্রুতি আজ উৎসাহ দেখালো না, ঝাঁপিয়ে পড়লো না দীপনের উপর, দীপনের শরীরকে নগ্ন করে ওর সুন্দর ঠোটের স্পর্শে দীপনের শরীরে উষ্ণতা জাগলো না, ওর লালায়িত জিভ দিয়ে লেহন ও করলো না দীপনের শরীরকে, সেই খতে মুক্তোর মতো সাদা ঝকঝকে দন্ত রাশি দিয়ে কামড়েও দিলো না। বরং দীপনের বাহুডোরে আবদ্ধ হয়ে হাঁসফাঁস করতে লাগলো মুক্ত হওয়ার জন্য। এদিকে দীপন একটু একটু করে শ্রুতির পোশাক উন্মুক্ত করতে উদ্যত হতেই একরাশ ধোয়া ঘরে ঢুকলো, শ্রুতি চিৎকার করে সজোরে দীপনকে ঠেলে সরিয়ে দিলো । দীপন অবাক হয়ে তাকিয়ে শ্রুতির দিকে, নরম কোমল এই নারী শরীরে যে পশুর মতো শক্তি থাকতে পারে এটা ধারণা ছিল না। শ্রুতি ঘর ছেড়ে বেরোবার আগেই ঘরে ঢুকে পড়লো সেই লোকটা। ---বির বির করে কী সব বলছে, আর শ্রুতির গায়ে সেই ধোঁয়া ফু দিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে।আর শ্রুতি ? না ওকে এই মুহূর্তে মোহময়ী সুন্দরী বলা যাবেনা। বরং কুৎসিত এক নারী, যে কোনো জাদুবলে নিজের সৌন্দর্য্য ধরে রেখেছিল, নিজের বয়স কমিয়ে রেখেছিল। শ্রুতি রাগে গড়গড় করছে, ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে একবার দীপনের দিকে আর একবার অনুরিমা আর লোকটার দিকে তাকাচ্ছে, তারপর দীপন আর অনুরিমাকে অবাক করে দিয়ে সরীসৃপের মতো দেয়াল বেয়ে ঘরের চারদিকে ঘুরতে লাগলো, যেন সুযোগ বুঝে পালাবার পথ খুঁজছে । না দীপন আর অনুরিমা ভয়ে বিচলিত হলেও ওই লোকটা কিন্তু নিজের কর্তব্যে অবিচল। ---তু ওহ ল্যারকি কা শরীর ছোড়কে নিকাল আ , ম্যাই তুঝে মুক্তি দিলা দুঙ্গা।লোকটার কথাটা শুনে হেসে উঠলো শ্রুতি--আমি ছাড়বো না। তোরা সবাই মরবি। শ্রুতি হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে অনুরিমার উপর, ওর ধারালো দুটো দাঁত ঠোঁটের দুই পাশ থেকে বেরিয়ে আসে, রক্ত পিপাসু জিভ লক লক করছে ঠোঁটের বাইরে এসে। রক্তাভ চোখের জ্বলন্ত ক্রুর দৃষ্টি।অনুরিমাকে কিছুই করতে পারেনা শ্রুতি, ওর শরীর স্পর্শ করতে যেন তড়িৎতাহতের মতো ছিটকে পড়ে, আবার হামাগুড়ি দিয়ে দেওয়ালে উঠে ঘরের জিনিস গুলো ছুড়ে মারতে থাকে। দীপন কখনো এমন ভয়ানক রূপ কল্পনা করতে পারেনি শ্রুতির। লোকটা বির বির করে বলেই চলেছে আর সেই ধোয়া যেন ক্রমশ আরো গাঢ় হচ্ছে। একসময় বদ্ধ ঘরে যেন দমবন্ধ হয়ে আসে শ্রুতির, অথচ দীপনদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না, এ যেন কোনো অলৌকিক ধোঁয়া। নেতিয়ে পড়ে শ্রুতির শরীর, তান্ডব থামিয়ে এলিয়ে পড়ে বিছানায়, দীপন অনুরিমা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে শ্রুতির দিকে, ওর শরীর থেকে বেরিয়ে আসে এক ঘন কালো ধোঁয়ার মতো এক নারী প্রতিকৃতি।
লোকটা বলে --মালিক নে তুঝে মুক্ত কিয়া, মালিক সে বরা কোই নেহি। তু তো এক খুন পিপাসু আত্না থি, কিউ পিতি থি খুন? ঘরের মধ্যে বেজে ওঠে অন্য এক নারীর ভয়াল স্বর---আমি একজন পিশাচিনি। জীবন্ত অবস্থায় পিশাচদের সাধনা লব্ধ ক্ষমতায় বশে করে অনেক খারাপ কাজ করেছি। অনেকের ক্ষতি করেছি। আমি ভেবেছিলাম আমি অমর হবো ,চিরদিন নিজের রূপ যৌবন ওই পিশাচের ক্ষমতা বলে ধরে রাখবো কিন্তু পারিনি। মোহমায়ায় অন্ধ হয়ে মন্ত্র ক্ষমতার ভুল প্রয়োগে এক পিশাচের হাতে আমার প্রাণ যায়। তারপর অতৃপ্তি নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে এই মেয়ের শরীরকে আশ্রয় করি। আর রাতের অন্ধকারে শরীরের আকর্ষণে শিকার খুঁজে ওর রক্তপান শুরু করি। মেয়েটা বুঝতেও পারত না। সেদিন এই ছেলেটা আমার নজরে আসে, ওকেও একটু একটু করে রক্তশুষে শেষ করতাম। রক্ত ছাড়া আমি থাকতে পারিনা।। লোকটা বলে--যা অভি সে তু মুক্ত হ্যায়,আউর কভি এইসা পাপ নেহি করনা। মালিক সে ব্যরা কোই নেহি।। লোকটা কে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যায় সেই কালো ধোঁয়া।
বিছানায় শ্রুতির রূপ আবার ফিরে এসেছে। ওর জ্ঞান ফিরতে ও অবাক। কীভাবে এলো ও এখানে এটাই প্রশ্ব। দীপনকে তো চিনতেই পারলো না। অনুরিমা ওকে সব বলতে ও কাঁদতে লাগলো। ও একটা বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে। একদিন নাইট ক্লাব থেকে বেরিয়ে রাস্তার উল্টো দিকে রাখা গাড়ীর দিকে যাওয়ায় সময় হঠাৎ ওর মাথা ঘুরে যায়, তারপর কিছু মনে নেই। পরেরদিন নিজের বিছানায় বেশ বেলা করে পড়ে থাকতে দেখে ও নিজের এলোমেলো পোশাক দেখে বিভ্রান্ত হয়। খুঁজতে খুঁজতে ওই রাস্তার ধারে গাড়ীটা খুঁজে পাই। তারপর প্রতিটা সকালে মনে হতো কেউ আমার কাছে আসে অথচ আমি জানিনা। শরীরে ব্যথা অনুভব করি। আমি সাইক্রিয়াটিস্ট এর কাছে এপইন্টমেন্ট নিয়েছি। কিন্তু এসব। আমার তো কিছুই বিশ্বাস হচ্ছে না। দীপন অনুরিমা যখন অনেক বুঝিয়ে শ্রুতিকে শান্ত করে তখন ওদের খেয়াল হয় সেই অলৌকিক লোকটা ওদের না জানিয়ে আবার নিঃশব্দে চলে গেছে। অনুরিমা দীপনের সাথে শ্রুতির বিয়ে দিয়ে বলে--আমার এইটুকুই সম্পর্ক ছিল তোমার সাথে। বাকি জীবন শ্রুতি থাকবে তোমার পাশে।
যাওয়ার সময় থমকে দাঁড়ায় অনুরিমা। ঘুরে তাকাই, বলে---খুব সুরাত ল্যারকি সে দূর রেহেনা। ব্যারনা---?
দীপন বলে--প্যাস্তাওগে।।😪😓😥😭😭
সমঝে?😊😊😊😊😊
😃😃😃😃😃😃😃😃😃😃
সমাপ্ত।।
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments