ভয়-ভাইসাব-ভঁইস Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
#গল্প--
#ভয়-ভাইসাব-ভঁইস
~~~~~~~~~~~~~~
প্রকাশের ভূতের ভয়টা ইদানিং একটু বেড়ে গেছে। এর পিছনে অবশ্য ওর বাঙালী বউ শ্রীতমার বিশেষ অবদানের কথা ভুললে চলবে না। বাঙালী বউ বলার কারন, প্রকাশ যাদব ভাইসাব, নিজে বিহারী। সাসারামে আদি বাড়ি। শ্রীতমার সাথে কোলকাতায় আলাপ, প্রেম এবং শেষমেশ যা হয় আরকি ! তো যাই হোক প্রকাশ হানিমুনে প্রথমবার টের পেল বউয়ের ভূত-প্রীতি। প্রথম প্রথম সেটা হলিউড হরারের মধ্যেই সীমিত ছিল। কিন্তু উত্তরোত্তর বউয়ের গায়ে ঢলাঢলি করার সময় হাতের মোবাইলে নানান ভূতুড়ে গল্পের ফেসবুকীয় সমাহার দেখতে পেয়ে, প্রকাশের মনের গভীরে নব নব প্রস্ফুটিত কামিনীকাঞ্চন আস্তে আস্তে মূর্ছা যেতে থাকে। বরের এরকম ক্রমাগত ভয় পাওয়াটা, অচিরেই শ্রীতমার ভূতোৎসাহী আস্কারায় পরিনত হতে শুরু করে। ভয় পাওয়ার নেগেটিভ অনুভূতির চেয়ে ভয় দেখানোর পজিটিভ অনুভূতি কিন্তু বেশি বিপজ্জনক। আর সেটা মরমে মরমে প্রকাশের নানান সাংসারিক যুদ্ধে একের পর এক সিদ্ধ হতে থাকলো।
এই যেমন, গত সপ্তাহে রাজ্যসরকারের অঢেল ছুটির নিদানে গত শুক্র থেকে সোম অব্দি ভাইসাব ঘরবন্দী ছিল। নতুন দাম্পত্যে বীর পুঙ্গব জাতির ঘন ঘন প্রেম পাওয়া, ডায়াবেটিকের বাথরুমের চেয়ে কোন অংশেই কম যায়না। আদরের মাত্রাতিরিক্তে তিতিবিরক্ত শ্রীতমা তখন কুকুরের মত গা ঝাড়া দিয়ে প্রকাশকে ইগনোর করে চলে। কিন্তু ছ্যাঁচোড় প্রকাশ একটুও নিরুৎসাহ না হয়ে বলতে থাকে - " বচপন সে ভঁইসকা দুধ পিয়ে আসছে, তো এখোন থোরা এনার্জী না ছোড়লে হামার দিমাগটা খারাব হয়ে যাবে.. হেঁ হেঁ, বুঝলে কি না ! একটু এসো না ইদিকে.. হেঁ হেঁ.. "
-" এই তোমার দিমাগ জ্বলে যাক ! আমার তরকারি জ্বলে যাবে। ভাগো এখন। কে বলেছিল এত দুধ খেতে ? জ্বালা কি !"- এরপরও নাছোড়বান্দা প্রকাশকে ঠেকাতে তখন শ্রীতমাকে বলতেই হয় - " মাঝরাতে পাশের রুমে চলে যাবো, দেখবে খাটের তলা থেকে সেই মর্গের গল্পের মাংস খুবলে খাওয়া ভূতটা তোমার পা টেনে ধরবে !"
এই শুনে দুধ কা শক্তি তখন প্রকাশহৃদয়ের নিলয়ে যেন তলানীর জল দুধ ! আস্তে করে শ্রীতমাকে বাহুমুক্ত করে মুখভার করে গজ গজ করতে থাকে প্রকাশ।
এরকমটা প্রায় দিন হতে হতে একদিন তুমুল অশান্তি। শেষে ভঁইসের দুধ খেকো প্রকাশের স্বয়ং ভঁইসরূপে আত্মপ্রকাশ !
- " কি বেপার তুমার, তুমার কি আমার সাথ অউর বালো লাগছেনা ?"
-" মানে ?"
-" মানে আবার কি ? দিনরাত কিসোব মোবাইলে ফেসবুক লিয়ে, চ্যাটিং লিয়ে খুট খুট কোরছো। কি জানি কার সাথে পিরীত মারাচ্ছো !"
বঙ্গললনার সাথে কটুকথা যদিওবা ক্ষমাযোগ্য অপরাধে গন্য হয়, কিন্তু সন্দেহ ? নৈব নৈব চ। সন্দেহ থাকলেও সেটা যে সামনে আনতে নেই তা নির্বোধ ও নিস্পাপ খাঁটি মোষদুধপুষ্ট মস্তিষ্কে চালান করার মতো কোন কপট পরামর্শদাতা প্রকাশের বান্ধবসমাজে এযাবৎকাল অনুপস্থিত ছিল। পরিনতি ? দু ঘন্টা ধরে স্নান ও এক ঘন্টা ধরে মেকআপ করার গৃহবধু পাঁচ মিনিটের নোটিশে ছয় মিনিটে বাক্সপ্যাঁটরা গুছিয়ে খিদিরপুর অভিমুখে বাপের বাড়ির খিদমত পেতে রওয়ানা। পেছন থেকে ভঁইস থুড়ি প্রকাশ হাত নেড়ে নেড়ে আস্ফালন করতে থাকলো - "ক্যায়া সমঝতি হো আপনে আপকো ? বোড়িয়া উঠায়ে অউর চল দিয়ে ? যাও, নেহি রোকেঙ্গে তুমহে ! জি লেঙ্গে বিন্দাস "
সেই বিন্দাস, দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যে হতেই প্রকাশের বুকের ভিতর ত্রাসের রূপ নিয়ে ফেলল। বাইরের আঁধার, মনের আঁধার এক হয়ে এক্কেবারে হর-হরি আত্মা।
হ্যাঁ, আত্মার কথাই প্রথম মনে এল প্রকাশের। আত্মা অমর হ্যায় ! এখন হ্যায় তো কি করা যায় ? লাঠি বন্দুকে তো আর আত্মা ম্যানেজেবল নয় ! পুরো বাড়িটা যেন চোখের সামনে লাফিয়ে লাফিয়ে আরও অনেক বড় হয়ে গেল ! বেডরুম থেকে বাথরুম যেন এক মাইল লাগছে। শেষটায় প্রকাশ বুদ্ধি করলো যে সামনের বজরঙবলীর মন্দির থেকে মন্ত্রপুত ফুল নিয়ে আসবে। বাপ ঠাকুর্দার নিয়ম করা বিশ্বাস। একটু স্বস্তি নিয়ে প্রকাশ বাইরে বেড়িয়ে গেল। আর অন্ধকার থেকে নিয়তি, ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ শব্দে ব্যাঙ্গ করতে করতে বাড়িটার পিছনে এসে হাজির হল !
বুকপকেটে ঠাকুরের ফুল নিয়ে হাসি হাসি মুখ করে প্রকাশ বাড়ির সামনে এসে গেল প্রায়। বাড়িটা দেখে ও টের পেল যে, শুধু মুখটাই ওর বেঁকে আছে; আসলে হাসি ঠিক পাচ্ছে না। তৎক্ষনাত মনে আবার সাহস এনে অস্বাভাবিক রকম বুক চিতিয়ে ঘরে ঢুকলো। বেশ লম্বা লম্বা ভারি পা ফেলে বৈঠক খানা, বেডরুম কৃত্তিম সদর্পতায় ঘুরে বেড়াতে লাগল আর চেল্লাতে লাগল,-" কাঁহা হ্যায় ভূত, শালা নিকল ! নিকল শালা। " -আপাতত কেউ নিকলো না বটে, তবে রাত আভি বাকি বা।
প্রকাশ বাজার থেকে রুটি তরকারি এনেছিল। সেটা খাওয়ার পর অভ্যেসমত দুধ খাওয়ার জন্য ওভেনে দুধ জ্বাল দিতে গেল। রান্নাঘরেই ঢক ঢক করে দুধটা খেয়ে বেরিয়ে আসতে গিয়ে খেয়াল হল জানালা খোলা রয়েছে। সেটা বন্ধ করতে গিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখে অন্ধকার ঘুরঘুট্টি ! তাড়াতাড়ি জানালা বন্ধ করে তিন লাফে বেডরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে এক লাফে বিছানায়। প্রকাশের হাবভাব দেখে মনে হবে বিছানাটা যেন ভূতনিরোধক কোনো যন্ত্র ! ভূত যেন বিছানায় প্রকাশকে কব্জা করতে পারবে না। বেড সুইচ টিপে আলো বন্ধ করে চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ল। মোবাইলের আলো জ্বেলে পকেটের ফুলটা হাতে নিয়ে একবার দেখল। এতক্ষন ঘরের মধ্যে দাপাদাপি করায় ফুলটা একটু ঝিমিয়ে ছোট হয়ে গেছে। চুপসানো ফুল দেখে প্রকাশও একটু চুপসে গেল। ঘুমানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রকাশের মনে হল, সেইসব সিনেমা গল্পের বিভৎস তেঁনারা যেন প্রকাশের খাটের চারিদিকে আলো করে ঘিরে আছে। নানারকম ভাবতে ভাবতে একসময় প্রকাশ ঘুমিয়ে পড়লো।
খুট খটাস.. প্রকাশের ঘুম গেল চটকে। চাদরটা মুখ থেকে সরিয়ে দেখল বৈঠকখানার আলোটা আসছে না। বেড সুইচ টিপে যা আন্দাজ করেছিল, তাই ! লোডশেডিং ! এতদিন শ্রীতমার সাথে থাকার রাতগুলোতে কখনও পাওয়ার কাট্ হয়নি। অদ্ভুত ! যেখানেই ভূতের ভয়, সেখানেই লোডশেডিং হয় !
আবার - খুট্ ঠকাস ঠুক্ ... এবারে যেন আওয়াজটা আরও সামনে হল।
ঠক্ খুট্ - বেশ জোরে, মাথার কাছে ওয়ার্ডরোব থেকে এল। প্রকাশ অন্ধকারে ওয়ার্ডরোবের দিকে তাকিয়ে দেখে এক জোড়া সবুজ চোখ !
ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে মোবাইলের আলো জ্বালার চেষ্টা করতে যেন পাহাড় ওঠাতে হচ্ছে। কোনোরকমে আলো জ্বালিয়ে সেই জ্বলন্ত চোখের দিকে ফেলতে যাবে, অমনি সেটা একলাফে বিছানায় ওর গায়ের উপর !
ভজরংভলি! - বলে প্রকাশ বিছানা থেকে সটান সাষ্ঠাঙ্গে মেঝেতে । উঠে দাঁড়াতে গিয়ে আবার পড়ল। ততক্ষনে লাইট চলে এসেছে ! চোখ জোড়া দুটোর মালিক, প্রকাশের এরকম চাদরে-মেঝেতে লোটাপুটি কিম্ভুত আচরন দেখে ভয়ে তখন এক কোনে সিঁটিয়ে ! সেটা এক ছোট্ট স্বর তুলে ছোট্ট নিবেদন জানালো - " মিঁউ ! "
মানে কিঁউ ?
হালে একটু পানি পেল প্রকাশ ! দরজা খুলে দিয়ে প্রথমে বেড়াল তারপর মোড়ল, রাত সারে এগারোটা নাগাদ দরজায় তালাবন্ধ করে সোজা মেন রাস্তায়।
-" ট্যাক্সি !"
কলিংবেলের ঘন ঘন আওয়াজে শ্রীতমার বাবা, মা সবাই এসে দরজা খুলে প্রকাশের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে !
-" ঘোরে চোলো। মোনটা খারাব লাগছে !"
-" মাঝ রাত্তিরে পৌঁছে মন খারাপ ?" - বলে শ্বশুরমশাই অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলেন প্রকাশকে।
-" এত রাতকো আর ঘরে চলতে হবে না। তুম ভিতরমে এসো !"- বলে গদগদ হয়ে প্রকাশকে ভিতরে ডাকলেন শাশুড়িমাতা। শ্রীতমা হেসে লুটিয়ে পড়তে পড়তে বললো- " মন ভাঙ্গা না মুরোদ ভাঙ্গা ?"
পরেরদিন সকালে আলুর দম, মিষ্টি দিয়ে খান পনেরো লুচি উড়িয়ে ফুরফুরে মেজাজে ছাদে পায়চারি করছিল জামাইরাজা। দুহাতে আবির নিয়ে গান গাইতে গাইতে শ্রীতমার পিছনে এসে দাঁড়ালো প্রকাশ -" লালা, লালা, লালা, লালা / ডাডা, ডাডা, ডাডা, ডাডা/ আকাশে ডাডা ডাডা /
বোসোন্ত আসি গিছে /"
-রঙ মাখতে মাখতে শ্রীতমা বলল -" আর বোসোন্ত করতে হবে না। বিকেলে বাড়ি চলো !"
-" হেঁ হেঁ, একদোম আমার মোনের কোথা বলেছো !"
-" হে হে .. ভীতু ভঁইস আমার ! "
~~~~~~~~~~~~
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments