Header Ads Widget

মেকআপ আর্টিস্ট

মেকআপ আর্টিস্ট Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)






#গল্প:- মেকআপ আর্টিস্ট 
#বিষয়:- ভৌতিক


আজ সকাল থেকে ভীষণ ব্যস্ত সুমন্ত। তার আদরের ছোট বোন শ্রীতমার আজ বিয়ে বলে কথা! চার বছর আগে দিদি শ্রীলেখার বিয়ের পর আজ তাদের বাড়িতে আনন্দ অনুষ্ঠানে তাদের বিশাল পরিবারের সবাই অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু তার দিদি শ্রীলেখার বিয়ের দিনের কথা খুব মনে পড়ছে সুমন্তর। তার নিজের দীর্ঘদিনের ভালবাসাকে আপন করে পাওয়ার আনন্দে মশগুল শ্রীলেখা নিজের অদূর অন্ধকার ভবিষ্যতের কথা কখনো স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি হয়তো। বিয়ের একদিন পরেই ঝলসানো মুখ নিয়ে বাপের বাড়ি ফিরে এসে অপমানিত অবসাদগ্রস্ত হয়ে শেষে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিল শ্রীলেখা। এত আনন্দের মধ্যেও বারবার এই দুর্ঘটনার আতঙ্ক সুমন্তকে তারা করে বেড়াচ্ছিল। মনে মনে যাতে শ্রীতমার বিয়েটা সুসম্পন্ন হয়ে যায় তাই প্রার্থনা করে চলেছিল সুমন্ত।

কিন্তু কি আশ্চর্য! নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কনে সাজানোর জন্য অর্চনাদি এখনো আসছে না কেন? বিয়ের প্রায় পাঁচ মাস আগে থেকেই অর্চনাদিকে বায়না করে রেখেছিল সুমন্ত। অর্চনাদি স্হানীয় মেকআপ আর্টিস্ট এর মধ্যে অন্যতম। অর্চনাদি তো এরকম কখনো করে না! এরপর তো বরের আসার সময়ে প্রায় আগত। কি হবে এখন? বাড়ির মহিলামন্ডলী অধীরভাবে অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত হয়ে পড়েছে। তারা না হয় যা হোক কিছু একটা সেজে নেবে। কিন্তু শ্রীতমাকে তো সাজানো তো তাদের কর্ম নয়। বাধ্য হয়ে তারা অর্চনাদি কে বারবার ব্যাকুল ভাবে টেলিফোন করতে থাকে। অনেকক্ষণ চেষ্টা করার পর অর্চনাদি নিজেই ক্ষমা চেয়ে সুমন্তকে জানালেন যে আজ হঠাৎ করে বাথরুমে পড়ে পায়ে চোট খাওয়ার কারণে তিনি আসতে পারবেন না। তার বদলে তিনি তাঁর পার্লারের অন্য একটি মেয়েকে পাঠাচ্ছেন। সুমন্ত মনঃক্ষুন্ন হলেও পরিস্থিতি বিবেচনা করে তখনকার মতো শান্ত হয়ে যাওয়াটাই তখন বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করল। সুমন্ত ইতিমধ্যে অন্যান্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। বাড়ির মেয়েরা কনে সাজানোর জন্য আসা মেয়েটিকে দেখার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। মেয়েটিকে সুমন্ত দূর থেকে এক ঝলক দেখে আঁচ করল ওড়না দিয়ে প্রায় বেশিরভাগ অংশই ঢাকা!

 শ্রীতমাকে সাজানোর কাজে মেয়েটি ব্যস্ত হয়ে পড়ল। হঠাৎ শ্রীতমার জন্য বরাদ্দ ফুলের মালাটি পৌঁছে দিতেই সুমন্ত শ্রীতমার ঘরটিতে প্রবেশ করল।
একি! এটা সে কি দেখছে! ওই মেয়েটির মুখ পুরোটাই ওড়না দিয়ে ঢাকা থাকলেও আবরনহীন চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে! তার পোষাকের ফাঁক দিয়ে ঝলসানো হাত দুটি শ্রীতমার সারামুখে আনাগোনা করছে! শ্রীতমার চোখ দুটি যথারীতি বন্ধ। উল্টো দিকের বড় ড্রেসিংটেবিলের আয়নাতে সুমন্ত এই দৃশ্য দেখে থমকে গেল। এ চোখ যে তার অতি পরিচিত! এ যে তনুকা! তার কলেজ জীবনের প্রেমিকা! কিন্তু তনুকা কি করে এখানে এলো? আজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে এক ঝড় জলের রাতে একদল মানুষরুপী পশুর হাতে নিজের শারীরিক আত্মিক সম্মান লুণ্ঠিত হওয়ার পরেই অনেক আশা নিয়ে সুমন্তর কাছে ছুটে এসেছিল সে। কিন্তু ভীরু কাপুরুষ সুমন্ত তার পরিবারের সন্মানের কথা ভেবে তনুকাকে আর কাছে টেনে নিতে পারেনি। নিজের মানুষের কাছে এরকম অবহেলা আশা করেনি তনুকা! অপমান ও আত্মগ্লানিতে ভুগে গায়ে আগুন দেয়েছিল তনুকা!

নিজের দিদিকে হারিয়ে একমাত্র বোনকে বাঁচানোর অদম্য তাগিদে সমস্ত শক্তি সঞ্চয় করে সুমন্ত শ্রীতমার কাছে দৌড়ে আসে। আচমকা ধাক্কায় শ্রীতমা চমকে যায়।
--"কি দাদা! কি হয়েছে? ওরকম করছিস কেন?" শ্রীতমার ব্যাকুল প্রশ্নের উত্তরে সুমন্ত প্রায় হাঁপাতে হাঁপাতে বলে, "তুই এক্ষুনি মুখটা ধুয়ে ফেল.. এক্ষুনি!!"
আতঙ্কের আতিশয্য চোখের সামনে তনুকাকে মিলিয়ে যেতে দেখে সুমন্ত। শ্রীতমা দৌড়ে গিয়ে দাদার কথা মত বেসিনে গিয়ে মুখে জলের ঝাপ্টা দিতেই শ্রীতমার আর্তচিৎকারে সুমন্ত চমকে উঠলো। আতঙ্কিত হয়ে সে বোনের কাছে ছুটে যায়। একি! তার বোনের কি অবস্থা! সারামুখ যেন ঝলসে গেছে! বেসিনের জল যেন আ্যসিডের কাজ করছিল! শ্রীতমার আর্তচিৎকারে বাড়ির সবাই এসে উপস্থিত হয়। তাকে দেখে সবাই চমকে ওঠে। তার মুখটা যে পুরো শ্রীলেখার মতনই ঝলসে গেছে! ঠিক একইরকম রূপ নিয়েই যেবিয়ের পরদিনই বাপের বাড়িতে ফিরে এসেছিল শ্রীলেখা!

 পরদিন সকালে সুমন্তদের বাড়ির পাশ থেকে একটি যুবতীর অচেতন দেহ আবিষ্কৃত হয়। গতকাল থেকেই পার্লারের মেয়েটি সুমন্তদের বাড়িতে এসে আর ফিরে আসেনি। তার বাড়ির লোকেরা অনেক যোগাযোগ করার পর ওকে ফোনে পাওয়ার জন্য থানায় একটি মিসিং ডায়েরি করেছিল। অর্চনা দিয়ে খবর পেয়ে মেয়েটিকে সনাক্ত করে নিয়ে যায়। অনেক সেবা-শুশ্রূষার পর জ্ঞান ফিরলে মেয়েটি জানায়, যেহেতু সে সুমন্তদের বাড়িটা ঠিক চিনত না। সন্ধ্যায় একজন অবগুণ্ঠিত মহিলা তাকে নির্ধারিত বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে ভুল রাস্তায় নিয়ে এসেছিল। রাস্তায় একা পেয়ে সেই অবগুন্ঠিতা নারী তার মুখের ওড়নাটা সরিয়ে ছিল। সে এক আগুনে পুড়ে যাওয়া বীভৎস মুখ! তাকে দেখেই সে অজ্ঞান হয়ে যায়!

কেউ কিছু না বুঝলেও সুমন্ত বুঝতে পারে তার নির্দোষ দিদি ও বোনের সর্বনাশের জন্য সে নিজেই দায়ী। আজ তার যে পরিমাণ কষ্ট হচ্ছে, এর থেকে অনেক বেশি কষ্ট তনুকা পেয়েছিল! শারীরিক মানসিক আর্থিক যন্ত্রনা পেয়ে সুমন্তর কাছে আশ্রয়ের আশায় সে ছুটে এসেছিল। কিন্তু তার তা না পেয়ে সে নিজেকে শেষ করে দিয়েছিল। সে তো নির্দোষ ছিল।

সকালের শ্রীতমার ঘরে একটি মেকআপ বক্স দেখে চমকে ওঠে সুমন্ত। এটাতো তনুকার! প্রায় সাত বছর আগে নতুন চাকরি পেয়ে তাকে এই বাক্সটি তাকে উপহার দিয়েছিল সুমন্ত। স্বনির্ভর হওয়ার আশায় তনুকা একটি বিউটি কোর্স করছিল তখন! তাকে বাহবা দিতেই এটি উপহার দিয়েছিল সুমন্ত। পাঁচ বছর পূর্বে হারানো প্রেমিকা তনুকার জন্য আজ সুমন্তর মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। মেকআপ বক্স টা হাতে নিয়ে এসে ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।

**সমাপ্ত**












website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments