নিঝুমপুরের নরখাদক Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
#গল্প – নিঝুমপুরের নরখাদক
সুশোভনের স্ত্রী মৌসুমীর ফোন আসতে অলোক বেশ অবাকই হলো। সন্ধেবেলা চেম্বারে ক্লায়েন্টের সঙ্গে একটা কেসের ব্যাপারে কথা হচ্ছে এরই মধ্যে মৌসুমীর ফোন "খুব বিপদে পড়ে আপনাকে ফোন করছি। আপনার বন্ধু আজ তিনদিন হলো বাড়ি ফেরেনি। ব্যাবসার কাজে বাইরে গেছিল, বলেছিল দুদিনের মধ্যে ফিরে আসবে। কিন্তু এখনও অবধি কোন খবর নেই।" মৌসুমীকে খুবই উদ্বিগ্ন মনে হলো। কিন্তু অলোক এখন ক্লায়েন্টের সঙ্গে জরুরী বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে, কাজেই এই মুহূর্তে কথা বলার সুযোগ নেই, বললো "আমি চেম্বারে একটু ব্যস্ত আছি, বাড়ি ফিরেই আপনাকে ফোন করছি।" একটা দুশ্চিন্তার কাঁটা অলোকের মাথার মধ্যে তখন থেকেই খচ্ খচ্ করতে লাগলো।
অলোক রায় হাইকোর্টের নামকরা ল'ইয়ার। সুশোভন ওর কলেজ লাইফের বন্ধু। এখনও ভালো যোগাযোগ আছে দুজনের। ছুটির দিনে মাঝে মধ্যেই সুশোভন আসে আলোকের বাড়ি। চায়ের টেবিলে আড্ডা হয়, পুরনো দিনের গল্প, দেশের হাল হকিকত, খেলাধুলো, এই ভাবেই রাত নটা সাড়ে নটায় আড্ডা শেষ। আইন সংক্রান্ত কাজের জন্যে অলোকের সঙ্গে ওপর মহলের অনেকের জানাশোনা। সুশোভন ব্যাবসার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধায় পড়লে অলোকের স্মরনাপন্ন হয়।
ঠাকুর পুকুরের সুশোভন কাঞ্জিলালের তিনটে জিনিসের খুব শখ। গাছ, মাছ, আর কুকুর। তার বাড়ির সামনে দিকে একটা বিরাট সাজানো বাগান। তাতে নানা রকম ফুল আর ফলের গাছ। বাড়ির ড্রইংরুমে আছে চোখে পড়ার মত বড় একটা একুরিয়াম, তাতে নানা ধরনের রঙিন মাছ। আর আছে দু দুটো আদরের পোষা কুকুর। একটা বুলডগ অন্যটা গ্রেহাউন্ড। ব্যবসায়ী মানুষ, অঢেল পয়সা, কাজেই এসবে খরচ করতে তার বাধে না। সুশোভনের স্ত্রী মৌসুমী আবার এই কুকুর টুকুর মোটেই পছন্দ করেন না।
অলোক চেম্বার থেকে ফিরেই ফোন করলো ঠাকুরপুকুরে, "হ্যালো, আমি অলোক বলছি, সুশোভন কি ফিরেছে?"
ওপাশ থেকে থমথমে গলায় মৌসুমী বললো
"না, এখনও কোন খবর নেই। ফোন সুইচ অফ বলছে। আচ্ছা আপনাকে কিছু জানিয়েছিল।"
"না, আমার সঙ্গে এর মধ্যে কোন কথাই হয়নি।
ঠিক আছে আজ রাতটা দেখুন, কাল কোর্টে যাওয়ার আগে আপনাদের বাড়ি হয়ে যাবো। তখন আলোচনা করে একটা কিছু করা যাবে। এমনও হতে পারে যে জরুরী কোন কাজে আটকে পড়েছে তাই দেরি হচ্ছে ফিরতে। সে যাই হোক চিন্তা করবেন না কাল সকালে যাচ্ছি, তখন কথা হবে। আর এর মধ্যে কোন খবর পেলে ফোন করবেন।
পরদিন ঠিক সকাল নটায় অলোকের গাড়ি এসে দাঁড়ালো ঠাকুর পুকুরে কুঞ্জভিলার সামনে। বারান্দায় চেন দিয়ে বাঁধা দুটো কুকুর অলোককে দেখেই লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে সমস্বরে চিৎকার শুরু করলো। আর সেই চিৎকার শুনেই শংকর দৌড়ে এলো বাইরে। অলোক তাকে বললো "দিদিমনিকে খবর দাও।" শংকর সুশোভনদের কাজের লোক, বাড়ির ফাই ফরমাশ খাটে। কুকুরের চিৎকারে মৌসুমীও আলুথালু বেশে বাইরে বেরিয়ে এলেন, অলোককে দেখে বললেন,
"বাইরে দাঁড়িয়ে কেন, ভিতরে আসুন।"
অলোককে নিয়ে গিয়ে ড্রইংরুমে বসালেন মৌসুমী। অলোক জিজ্ঞেস করল
"কোন ফোন এসেছিল?"
মৌসুমী খুবই বিমর্ষ ভাবে বললো "নাহ্"।
অলোক প্রশ্ন করলো "আচ্ছা ও কোথায় যাচ্ছে বা কি কাজে যাচ্ছে কিছু বলেছিলো?
কোন ঠিকানা….?"
"না, ওকেতো মাঝে মধ্যেই ব্যাবসার কাজে দু এক দিনের জন্য বাইরে যেতে হয়। আবার ঠিক সময়ে ফিরেও আসে। কিন্তু এরকম কখনও হয়নি। খুব চিন্তা হচ্ছে।" হতাশ ভাবে বললো মৌসুমী।
অলোক চুপ করে ভাবছিল কি ঘটতে পারে, এই সময় শংকর চা দিয়ে গেল টেবিলে। মৌসুমী বললো আপনি চা খান, আমি পূজো সেরে এক্ষুনি আসছি।
অলোক চা খেতে খেতে টেবিলে রাখা খবরের
কাগজটায় একটু চোখ বুলিয়ে নিলো। না তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য খবর নেই। হঠাৎ তার নজরে পড়লো একটা কোচকানো পুরনো খবরের কাগজ টেবিলের এক কোনে পেপার ওয়েট চাপা দিয়ে রাখা আছে। কাগজটা টেনে নিয়ে খুলতেই চোখে পড়লো লাল কালিতে দাগ দেওয়া সেই বিজ্ঞাপন।
এই কাগজটাই তার বাড়িতে সেদিন সুশোভন এট্যাচি থেকে বার করে ছিল। অলোক কাগজটা ভাঁজ করে ব্রিফকেসে ঢুকিয়ে উঠে পড়লো। অনেক দেরি হয়ে গেছে। বাইরে বেরিয়ে শংকরকে দেখতে পেয়ে বললো " আমি যাচ্ছি, একটু তাড়া আছে, কোর্টে যেতে হবে। দিদিমনিকে বোলো চিন্তার কিছু নেই একটা ব্যবস্থা হবেই। প্রয়োজন হলে পুলিশের সাহায্য নিতে হবে। আর এর মধ্যে যদি সুশোভন বাড়ি ফিরে আসে বা ওর কোন ফোন আসে, আমাকে যেন সঙ্গে সঙ্গে জানায়।"
কোর্টে যেতে যেতে গাড়ির ব্যাক সিটে বসে অলোকের মাথায় অনেক সম্ভবনার কথাই উঁকি মারতে লাগলো। ব্যাবসার লাইনে অনেক শত্রু তৈরী হয়, আবার কিডনাপ কেসও আজকাল
খুব হচ্ছে। হুমকি দিয়ে টাকা হাতানোর ধান্দা। ব্রিফকেস খুলে সেই পুরনো কাগজটা দেখেই আর একটা সম্ভবনাও খোঁচা দিলো মাথার মধ্যে। দিন পনেরো কুড়ি আগে, সুশোভন শেষ যেদিন এসেছিল তার বাড়িতে, সেদিন নানান কথা, গল্প এবং চা পর্বের পর সুশোভন এট্যাচি থেকে বার করেছিল দু-তিনমাস আগের একটা পুরনো খবরের কাগজ। তারপর খুলে লাল কালিতে মার্কিং করা একটা বিজ্ঞাপন অলোককে দেখয়েছিল। বিজ্ঞাপনটা কেন জানিনা অলোকের খুব অদ্ভুত মনে হয়ছিল। সুশোভন বললো "কাল হঠাৎ এই বিজ্ঞাপনটা চোখে পড়লো। ভাবছি একবার গিয়ে দেখেই আসি কি ব্যাপার। একটা ভালো এলসেসিয়ান পোষার ইচ্ছে আমার অনেক দিনের। তোর কি মত ?"
ঠিকানা যেটা দেওয়া আছে সেটা কলকাতা থেকে বেশ দূরে, বাংলাদেশ বর্ডারের কাছে, জঙ্গল পূর্ণ এলাকা। সুশোভন যে কুকুরের জন্য যে কোনও জায়গায় যেতে পারে এটা অলোক জানে। তাই এই বিষয়ে সে কোনো মতামত প্রকাশ করলো না। এখন অলোকের সন্দেহ হচ্ছে সুশোভন সেই কুকুরের খোঁজেও যেতে পারে।
কো্র্ট থেকে ফিরে অলোক ঠাকুরপুকর থানায় ফোন করলো। থানায় বর্তমানে যিনি চার্জে আছেন সেই নিখিল পোদ্দারের সঙ্গে অলোকের আগে থেকেই আলাপ ছিল। তাকে সুশোভনের বাড়ি না ফেরার ব্যাপারে জানলো। সে বললো
"কোন মিসিং ডাইরি তো কিছু হয়নি।"
অলোক বললো, "না, আমি জাস্ট আপনাকে বিষয়টা জানিয়ে রাখলাম। যদি প্রয়োজন হয় আপনার সাহায্য লাগবে।"
এরপর সুশোভনের বাড়িতে ফোন করলো অলোক
যদি কোন খবর এসে থাকে, "হ্যালো, অলোক বলছি। কোন খবর আছে?"
ওদিক থেকে মৌসুমী জানালো "না কোন খবর নেই। এখন আমার যে কি করা উচিত তাই বুঝতে পারছি না। হ্যাঁ, একটা কথা আপনাকে বলা হয়নি কদিন আগে ও ফোনে কাউকে বলেছিল কি একটা কুকুরের সন্ধান পেয়েছে, একবার সেখানে যাবে খোঁজ নিতে। এই কুকুর কুকুর করেই লোকটা একদিন পাগোল হয়ে যাবে।" ফোন কেটে দিল মৌসুমী।
অলোক মনে মনে স্থির করলো নিজেই গাড়ি
নিয়ে বেরিয়ে পড়বে বন্ধুর খোঁজ করতে এবং সেটা কালই। অলোকের এখন স্থির বিশ্বাস সুশোভন সেই বিজ্ঞাপন দাতার ঠিকানাতেই গেছে।
ড্রাইভার শান্তনু সকালেই গাড়ি বার করলো গ্যারেজ থেকে। অলোক তৈরী হয়ে বেরিয়ে পড়ল কাগজের সেই ঠিকানার সন্ধানে। মনের
মধ্যে একরাশ এলোমেলো ভাবনা কালো মেঘের মত ধেয়ে আসছে। সুশোভন ব্যাবসায়ী এবং খুবই বুদ্ধিমান ছেলে। তার এই ভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া, ভাবাই যায় না। শান্তনু গাড়ী চালাতে চালাতে বললো
"স্যার আমাদের ঐ জায়গায় পৌঁছোতে প্রায় বিকেল হয়ে যাবে। গাড়ীতে ঘন্টা ছয়-সাত তো লাগবেই। মাঝে কোথাও একটু হল্ট করে লাঞ্চ সেরে নিতে হবে। যে জায়গার কথা বললেন সেখানে পুরো জঙ্গল। মনে হয়না কোন দোকান পাট আছে।" অলোক মনে মনে ভাবলো এ ভাবে এই অজানা জায়গায় তার চলে আসাটা বোধ হয় ঠিক হয়নি। তবুও সঙ্গে গাড়ী আছে, ড্রাইভার শান্তনু আছে, সেরকম বুঝলে ফিরে আসা যাবে।
লাঞ্চের পর বাইরের ফুরফুরে ঠান্ডা হাওয়া, আর দু ধারে সবুজের সমারোহ দেখতে দেখতে কখন যে চোখটা বুজে গেছিল অলোকের খেয়াল নেই। হঠাৎ গাড়ি থামতেই এক ঝটকায় ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। শান্তনু গাড়ি সাইড করে নেমে এসে বললো স্যার আমরা মনে হচ্ছে ঠিক জায়গায় পৌঁছে গেছি। অলোক গাড়ি থেকে দেখলো সে এক নিঝুমপুরে গাড়িতে বসে আছে। মাত্র কয়েকটা বাগান বাড়ি টাইপের দূরে দূরে দাঁড়িয়ে। একটা বাড়ি থেকে আর একটা বাড়ির দূরত্বও বেশ খানিকটা। আশে পাশে কোনো লোকজনও চোখে পড়ছে না যে খোঁজ নেবে 'বনবাস' নামের বাড়িটা কোথায়। যা ঘন জঙ্গল বাড়ির নাম 'বনবাস'ই ঠিক আছে। গাড়ি থেকে নেমে অলোক ব্রিফকেস খুলে বিজ্ঞাপনের কাগজটা বের করে দেখল বাড়ির মালিকের নাম বিক্রম গুপ্তা। এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে হঠাৎ ওদের চোখে পড়ল কাঁদামাটি মাখা একটা লোক পাশের নাবাল ধানজমি থেকে উঠে আসছে রাস্তায়। মনে হলো চাষের কাজ করে। দুজন শহুরে বাবুকে এখানে দেখে কেমন থম মেরে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে। ভাবখানা এমন যেন জিজ্ঞেস করছে, কে বাবা তোমরা, এই নির্বান্ধব পুরিতে?!
অলোক তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলো
"ও ভাই, তুমি কি এখানেই থাকো?"
সে মাথা হেলিয়ে বোঝালো, "হ্যাঁ"।
তা এখানে 'বনবাস' বাড়িটা কোথায় বলতে পারো।
নামটা শুনেই সে কেমন যেন আঁৎকে উঠলো!
তারপর একটা রঙচটা বাড়ির দিকে আঙুল তুলে দেখিয়ে, হনহন করে সামনের রাস্তা ধরে হাঁটা দিল।
দূর থেকে বাড়িটাকে কেমন রহস্যময় মনে হলো। অলোক শান্তনুকে বললো তুমি এখানে গাড়ির কাছে থাকো। আমি গিয়ে কথা বলে আসি। কোন সমস্যা হলে তোমায় ফোন করবো। অলোক হাঁটতে হাঁটতে বাড়িটার কাছে গিয়ে দেখলো দেওয়ালে একটা পুরনো নেমপ্লেটে বড় বড় করে লেখা আছে
'বনবাস'।
তার নিচে লেখা,
মিঃ বিক্রম গুপ্তা এবং
মিসেস সঞ্জনা গুপ্তা।
পাশে আর একটা বোর্ড, তাতে লেখা,
"কুকুর আছে সাবধান"।
সামনের বড় দরজায় তালা ঝুলছে। কোন মানুষ জন নেই। জানলার পাল্লা কয়েকটা খোলা। জানলা দিয়ে উঁচু হয়ে অলোক দেখার চেষ্টা করলো ভেতরে কেউ আছে কিনা।
হঠাৎই পিছন থেকে মহিলা কন্ঠস্বর !
অলোক চমকে, ফিরে তাকলো।
"হ্যালো, আপনি কি কাউকে খুঁজছেন?"
অলোক একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিল। সামলে নিয়ে বললো,
"হ্যাঁ, আমি একটা বিজ্ঞাপন দেখে এখানে এসেছি।"
"আমার সঙ্গে আসুন" বলে মহিলা বাড়ির পিছন দিকের একটা দরজা দিয়ে ঢুকিয়ে, একটা ঘরে নিয়ে গেলেন অলোককে। তারপর "একটা কাজ সেরে আসছি" বলে কোথায় যে গেলেন অনেকক্ষণ তার আর দেখা নেই।
অলোক ঘরের চারপাশে তাকিয়ে বুঝলো, বাড়ি ঘরের অবস্থা খুবই সঙ্গীন। এখানে মানুষ কি করে থাকে, এটা ভেবেই তার অবাক লাগলো। ঘরে তেমন আলো আসার সুযোগ নেই। আসবাবপত্রে ধূলো জমেছে। কেমন একটা দমবন্ধ করা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ। কি একটা পঁচা দুর্গন্ধ ভেসে আসছে। অলোকের মনে হলো, এদের অবস্থা হয়তো এক সময় ভালো ছিল, এখন অভাবে পড়ে কুকুর পোষার সামর্থ আর নেই। তাই বিজ্ঞাপন।
সঞ্জনা দেবী এবার ঘরে এলেন, তবে অন্য পোষাকে।
অলোক বললো, "আপনিইতো মিসেস্ সঞ্জনা গুপ্তা।"
সঞ্জনা মাথা ঝুঁকিয়ে বললেন "হ্যাঁ।"
"খবরের কাগজে দেওয়া বিজ্ঞাপনে দেখলাম আপনাদের পোষা এলসেশিয়ানটিকে পুষতে ইচ্ছুক এমন কাউকে দিতে চান।"
"হ্যাঁ সেরকমই আমাদের ইচ্ছে। তা আপনি কি কুকুর টা নিতে চান।" চাপা স্বরে বললেন সঞ্জনা।
"হ্যাঁ, হ্যাঁ, সেই উদ্দেশ্যেই তো আসা।"
"অবশ্য আপনার আগে যারা এসেছিলেন তারা কেউই কিন্তু কুকুরটা কে নিয়ে যেতে পারেন নি।"
"কেন ? কুকুরটা কি তাদের পছন্দ হয়নি। না কি আপনাদের পছন্দ হয় নি ঐ লোকগুলোকে।"
"না না সেরকম কিছু নয়, তবে যারা এসেছিলেন তারাই আর শেষ পর্যন্ত নিতে রাজি হয়নি মিস্টার,... "
"ওঃ দুঃখিত, আমি অলোক রায়, কোলকাতা থেকে আসছি।
আপনার হাসব্যান্ড মিঃ বিক্রম গুপ্তা কে দেখছি না।
বিজ্ঞাপনে আপনাদের দুজনের নাম দেখেছিলাম। উনি কি বাড়িতে নেই। "
"না,না, উনি কুকুরটাকে নিয়ে জঙ্গলের দিকে হাঁটতে গেছেন।
আপনি আমার সঙ্গে সচ্ছন্দে কথা বলতে পারেন।"
"কিছু মনে করবেন না মিসেস্ সঞ্জনা দেবী, আপনারা এই নির্জন জায়গায়, এই এত বড় বাড়িতে একা একা থাকেন। তার উপর বাড়ির পিছনেই এমন ঘন জঙ্গল। আপনাদের ভয় করে না।"
"ভয়!" বলেই হাঃ হাঃ করে উচ্চস্বরে হেসে উঠলেন সঞ্জনা।
অলোকের খুব অদ্ভুত লাগলো তার হাসির ধরন। কেমন যেন পৈশাচিক মনে হলো।
অলোক কথা ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
"আচ্ছা দুদিন আগে সুশোভন কাঞ্জিলাল নামে কেউ এখানে এসেছিল, এই কুকুরের জন্য?"
সঞ্জনা কেমন অদ্ভুত ভাবে অলোকের দিকে তাকিয়ে একটু সময় নিয়ে বললেন,
"হ্যাঁ, এসেছিলেন, কুকুর পোষার খুব শখ ভদ্রলোকের। ওনাকে দেখেই আমি বুঝেছিলাম
উনি এই কুকুর পোষার যোগ্য লোক নন।
বারণ করেছিলাম বারবার, শুনলেন না। কত করে বোঝালাম একে আপনি পোষ মানাতে পারবেন না, আপনি ফিরে যান। উনি জিদ ধরলেন, বললেন একবার চেষ্টা করে দেখি। একবার অন্তত দেখান কুকুরটাকে। অগত্যা তাকে জঙ্গলের পথটা দেখিয়ে দিলাম। যে রাস্তা দিয়ে বিক্রম কুকুর নিয়ে রোজ হাঁটতে যায়। কথা শুনলেন না, উনি এগিয়ে গেলেন জঙ্গলের মধ্যে।….. এইটুকু বলেই হঠাৎ থেমে গেলেন সঞ্জনা দেবী।
সন্ধে নেমে আসছে ক্রমশ। বাড়িতে ইলেকট্রিক আছে কিনা বোঝা যাচ্ছে না। চারদিকে কেমন যেন একটা শূন্যতা। সঞ্জনা দেবীর কথা গুলোও কেমন অদ্ভুত। কেমন সামঞ্জস্য হীন। ঠিক যেন ধাঁধার মত। সঞ্জনা দেবী মৌনতা ভেঙে হঠাৎ বললেন "আপনিও কি কুকুরটাকে দেখেতে চান।"
অলোক উদগ্রীব হয়ে বললো "নিশ্চয়ই কোথায় আছে?"
"আমার সঙ্গে আসুন।"
অলোক সম্মোহিতের মতো সঞ্জনাকে অনুসরণ করে জঙ্গলের পথে হাঁটতে শুরু করলো।
জঙ্গল ক্রমশ ঘন হতে শুরু করেছে। আধো অন্ধকারে পথ কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে। সামনে সঞ্জনাকে আর দেখা যাচ্ছে না। পায়ের নিচে মনে হলো অনেক হাড়গোড় ছড়িয়ে। মানুষ না জন্তুর অন্ধকারে বোঝার উপায় নেই। একটা বীভৎস দুর্গন্ধে গা গুলিয়ে উঠছে। নাকে হাত চাপা দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো অলোক। কোথা থেকে যেন সঞ্জনা বললো "ভয় নেই এগিয়ে আসুন।"
আর ঠিক তখনই একটা প্রচন্ড হ্রিংস গর্জন! অলোকের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলো। দেখলো অন্ধকারে ভাটার মত জ্বলন্ত একজোড়া চোখ তার দিকে ক্ষুধার্ত রাক্ষসের মত তেড়ে আসছে। আর কেউ একজন সেই রাক্ষসটাকে সর্বশক্তি দিয়ে টেনে রেখেছে। সেই অন্ধকারেও তার হামুখের সুতীক্ষ্ণ সাদা দাঁতগুলো ঝকঝক করছে। অলোকের মনে হলো সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত তার সামনে এক ভয়ঙ্কর জন্তুর রূপ ধরে দাঁড়িয়ে। দূর থেকে সঞ্জনার আর্ত চিৎকার শোনা গেলো
"পালিয়ে যান, বাঁচতে চান তো শিগগির এখান থেকে পালিয়ে যান। পালিয়ে যান, নয়তো এই পিশাচটা আপনাকে শেষ করে দেবে।"
অলোক বুঝলো পালানো ছাড়া বাঁচার আর কোন উপায় নেই, মাত্র কয়েক হাত দূরে জন্তুটা এক্ষুনি ঝাঁপিয়ে পড়বে ঘারে। সে প্রানভয়ে উর্ধশ্বাসে দৌড়তে শুরু করলো জঙ্গলের বাইরে আসার জন্য। অন্ধকারে একটা আলোর ঝলকানিতে সে কিছু টা পথ দেখতে পেয়ে সেদিকেই দৌড়তে শুরু করলো। হঠাৎ একটা টর্চের জোরালো আলো মুখে এসে পড়লো, চোখটা ধাঁধিয়ে গেল অলোকের। কার একটা কর্কশ কন্ঠ "কে, কে ওখানে? অন্ধকারে জঙ্গলে কি করছেন ? বাইরে আসুন।"
অলোক কিছুটা হকচকিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল "আপনারা কে?"
"আমরা পুলিশ। আপনি সামনে আসুন।"
অলোক বুঝলো ব্যাপার গোলমেলে। পুলিশ দেখে সঞ্জনাও ইতিমধ্যে কোথায় গা ঢাকা দিয়েছেন। আলো সরাতে কোন রকমে দেখলো তিন জন উর্দিধারী পুলিশ সন্দেহের চোখে তাকে নিরীক্ষণ করছে। অলোকের তখন অবিন্যস্থ চেহারা, সারা শরীরর দিয়ে ঘাম ঝড়ছে, চোখে মুখে তখনও আতঙ্কের ছাপ। পুলিশের একজন বেশ বাজখাঁই গলায় জিজ্ঞেস করলো, "আপনি এই বাড়িতে ঢুকেছিলেন?"
অলোক বললো "হ্যাঁ।"
"এই বাড়ির দরজা থানা থেকে সিল করে দেওয়া হয়েছে, আপনি ভিতরে গেলেন কি করে। কে অাপনাকে ভিতরে যাওয়ার পারমিশন দিয়েছে?"
বিষয়টা অলোকের মোটেও বোধগম্য হলো না।
সে একটু দম নিয়ে শান্ত ভাবে বললো "দেখুন আমি এডভোকেট অলোক রায় আর আমার গাড়ীর চালক রাস্তায় গাড়ির কাছে অপেক্ষা করছে। আমরা কোলকাতা থেকে এসেছি আমার বন্ধু সুশোভন কাঞ্জিলালের খোঁজে। এই বাড়ির মালকিন মিসেস সঞ্জনা গুপ্তাই আমাকে পিছনের দরজা দিয়ে ভিতরে নিয়ে গেলেন। তারপর জঙ্গলে……,"
কথা শেষ করার আগেই পুলিশ অফিসার ধমকে বললেন "থামান মশাই আপনার এইসব আষাঢ়ে গল্প। বন্ধুর খোঁজে আপনি এসেছেন, আপনাকে সঞ্জনা দেবী বাড়ির মধ্যে নিয়ে গেলেন, তো তারা কি সব উবে গেলেন? আপনি জানেন এই জঙ্গলে একটা ভয়ঙ্কর নরখাদক ঘুরে বেড়াচ্ছে। আপনার কপাল ভালো যে আপনি এখনও প্রানে বেঁচে আছেন।
অন্ধকারে এখানে বেশিক্ষণ থাকা নিরাপদ নয়।
আপনারা থানায় চলুন, বাকি গল্প ওখানে গিয়ে শুনবো।"
থানায় পৌঁছে অলোক ঠাকুরপুকুর থানার নিখিল পোদ্দারের দেওয়া চিঠি আর খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন টা বড়বাবুর টেবিলের উপর রেখে বললো "আমার বন্ধু সুশোভন কাঞ্জিলাল আজ চারদিন হলো বাড়ি ফেরেনি। তার স্ত্রী এবং আমরা সবাই খুব উদ্বিগ্ন। আর আমার বিশ্বাস কুকুরের জন্য আমার বন্ধু এখানে এসেছিলো। তারপর থেকেই সে নিখোঁজ।"
বড়বাবু সব কাগজপত্র পরীক্ষা করার পর বললেন,
"ঐ বাড়িতে কিছু অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটে গেছে। এখন পুলিশ তদন্ত চলছে, যার জন্যে বাড়িটা সিল করা আছে। গত পরশুদিন আমরা একজন ভদ্রলোক কে জঙ্গল থেকে উদ্ধার করি, কিন্তু তার কোনো নাম, ঠিকানা, পরিচয়, আমরা পাইনি। দেখুন সেই আপনার বন্ধু কিনা।….. কি যেন নাম বললেন?"
"সুশোভন কাঞ্জিলাল। সে এখন কোথায়?"
"হাসপাতালে ভর্তি আছেন। অবস্থা খুব একটা ভালো নয়।"
"কেন, কি হয়েছিল ওর!"
"জঙ্গলে ঢুকেছিল, তবে কি কারণে তা বলতে পারবো না।
নেকড়ে বাঘের থাবায় মুখ চোখ মারাত্মক ভাবে
জখম হয়েছে। প্রায় অর্ধোলঙ্গ অবস্থায় পুলিশ ও স্থানীয় লোকেরা জঙ্গল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। এখনও তার জ্ঞান ফেরেনি।
চলুন একবার হাসপাতালে লোকটিকে দেখে যদি
আডেন্টিফাই করতে পারেন।"
হাসপাতালে ঢুকে বেডে শুয়ে থাকা লোকটার অবস্থা দেখে আঁৎকে উঠলো অলোক। মাথা সমেত পুরো মুখটাই সাদা বান্ডেজ জড়ানো। শরীরের অনেকটাই বান্ডেজে ঢাকা পড়ে গেছে। হাত পায়ের বিভিন্ন জায়গায় মারাক্তক সব ক্ষত। দেখে চেনাই যাচ্ছে না লোকটা কে? কোন সাড়াশব্দ নেই। অলোক আর সহ্য করতে না পেরে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এলো।
পুলিশ অফিসার জিজ্ঞেস করলো,
"কি চিনতে পারলেন, ইনিই কি আপনার বন্ধু?"
অলোক বললো, "চেনার কোনো উপায় নেই। আচ্ছা এই লোকটার কোন এট্যাচি, মোবাইল ফোন কিছু পাওয়া গেছে?"
"না কিছুই পাওয়া যায় নি। হতে পারে ঐ জঙ্গলেই
কোথাও পড়ে আছে। আসলে নেকড়ের আতঙ্কে
জঙ্গলে কেউ কাজ করতে সাহস পাচ্ছে না,
তার সঙ্গে আবার ঐ ভূতের উপদ্রব। দাঁড়ান দেখাচ্ছি, দেখুন এই ছবিটা, গুপ্তা ফ্যামিলির কি অবস্থা করেছে ঐ জন্তুটা, বলে মোবাইলটা সামনে ধরলেন অলোকের। ছবিটা দেখে অলোকের শিরদাঁড়া দিয়ে একটা শীতল স্রোত বয়ে গেল নিমেষে। এটাতো মিসেস্ গুপ্তার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ।
তাহলে বিকেলে যে তাকে ঘরে নিয়ে গেলো সে কে!
"আরে মশাই ঐ গুপ্তা ফ্যামিলি কবে মরে ভূত হয়ে গেছে, আর আপনি বলেছেন আপনাকে মিসেস গুপ্তা ডেকে ঘরের মধ্যে নিয়ে গেলেন!"
মিসেস গুপ্তা মারা গেছেন! তাহলে একটু আগেই যার সঙ্গে এতক্ষণ ছিলাম, এত কথা হলো... ভাবতেই সারা শরীর আবার যেন ঝিমঝিম করে উঠলো অলোকের।
অফিসার বললেন "ওরা এখানে লুকিয়ে জন্তু জানোয়ার, পাখি এইসব বেআইনি ভাবে বেচাকেনা করত। বর্ডার এলাকা বুঝতেই পারছেন। আর সেই জন্যই এরকম নির্জন জায়গায় এই বাড়িতে থাকতো। কিন্তু কাল হলো ঐ নেকড়ে। যেটাকে কুকুর বলে বিজ্ঞাপন দিয়ে অন্যকে গছাবার ধান্দায় ছিল। যাকে আপনি কুকুর বলছেন সেটা আসলে মশাই একটা বুনো নেকড়ে বাঘ। বনবিভাগের অফিসার তো বললেন,খাদ্যের অভাবে নেকড়েরা অনেক সময় মানুষখেকো হয়ে যায়। আর সেই নেকড়েই
ঐ গুপ্তা ফ্যামলির দু জনকেই শেষ করে দিয়েছে। আমরা ঐ দুজনের খোবলানো লাস জঙ্গল থেকে খুঁজে পেয়েছি। আর সেই ভয়ঙ্কর নরখদকটা এখনও জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কখন যে কাকে এট্যাক করবে কোন ঠিক নেই। স্থানীয় মানুষতো বাঘের ভয়ে বাইরেই বের হচ্ছে না। সন্ধের পর সবাইকে বাইরে থাকতে বারণ করা হয়েছে । বনবিভাগের লোকেরা এবং পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে নেকড়েটাকে ধরার। তবে মশাই ঐ ভূতের রহস্যটা কিন্তু আমার কাছে এখনও ঠিক পরিষ্কার নয়। মৃত মানুষ যদি ভূত হয়ে ঘুরে বেড়ায় আমাদের কি করার আছে বলুনতো। এ ব্যাপারে কিন্ত আমি কোন ক্লু খুঁজে পাইনি। যদিও আমাদের কনস্টেবল হরিহর বাবু বলছিল, সে নাকি কাল রাতে দুটো ছায়ামূর্তিকে দেখেছে, অন্ধকারে নিঃশব্দে ঐ বাড়ির আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে!!
সে যাক, কাল আমরা একবার ভালোভাবে জঙ্গলে তল্লাশি করে দেখবো কোনো মোবাইল আর এট্যাচি পাওয়া যায় কিনা। কাল আপনার বন্ধুর স্ত্রীকেও একবার আনবেন। ছেঁড়া জামা প্যান্ট গুলো ওনার স্বামীর কিনা উনি বলতে পারবেন। এবার তাহলে বাড়ি যান। তবে যাবার সময় কোন অবস্থাতেই রাস্তায় কিন্তু গাড়ি থামাবেন না, আর গাড়ির কাঁচ অবশ্যই বন্ধ রাখবেন। নেকড়েটা কিন্তু খুবই হিংস্র।"
বড়বাবুর কথা শেষ হতেই অলোক আর দেরি না করে উঠে পড়লো, রাত হয়েছে। শান্তনু দুরন্ত গতিতে গাড়ি ছোটালো কলকাতার দিকে।
পরদিন সকালেই মৌসুমী দেবীকে নিয়ে অলোক বেরিয়ে পড়লো হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। মৌসুমী
কিছুতেই মানতে পারছেন না অলোক যাকে দেখে এসেছে সে সুশোভন। অলোকের মাথায় এখনও কালকের রহস্যময় বাড়ির অশরীরী ভূত চেপে বসে আছে। আর সেই বিভৎস নরখাদকের জ্বলন্ত চোখ দুটোর কথা মনে পড়লেই গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠছে। ঠিক সময়ে পুলিশ না এলে কাল কি যে হতো ভাবতেই গা শিউরে উঠল অলোকের। সুশোভনও নিশ্চয়ই ঐ অশরীরীর পাল্লায় পড়েছিল। মোবাইল বেজে উঠল অলোকের, বড়বাবুর ফোন, "অলোক বাবু আমি থানা থেকে বলছি। এট্যাচি আর ফোনটা উদ্ধার হয়েছে জঙ্গল থেকে। সব কাগজপত্র দেখে যা বুঝলাম ওগুলো সুশোভন বাবুর। আর একটা ভালো খবর, বনকর্মীরা অনেক কসরত করে সেই নরখাদক নেকড়েটাকে পাকড়াও করে খাঁচায় পুরতে পেরেছে। আপনারা জলদি থানায় চলে আসুন।" ফোন কেটে গেল।
অলোক খবর টা শুনে নিশ্চিন্ত হয়ে মৌসুমীকে সব জানালো। তারপর আশ্বাস দিয়ে বললো "যাক আর কোন চিন্তা নেই, সব ঠিক হয়ে যাবে। সম্ভব হলে আজই সুশোভনকে এনে কোলকাতার কোন ভালো নার্সিংহোমে ভর্তি করে দেবো।"
– : সমাপ্ত : –
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments