Header Ads Widget

শাশুড়ি

শাশুড়ি Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)





#গল্প
       #শাশুড়ি 
      
                      -

      বিয়ের আগে শাশুড়ি সম্পর্কে সবাই ভয় দেখিয়েছিল। মিলি এমনও বলেছিল," নিজের মেয়ে আর পরের মেয়ে এক হয় না। " কলির বিয়েটা ঠিক হল হঠাৎই । ভাল পাত্র পাওয়া গেল। বিধবা মায়ের একমাত্র ছেলে। সরকারি চাকুরে। ছেলের মা চাইছে তাড়াতাড়ি বিয়েটা হোক। কলির বাবা- মাও এই সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাইল না। পাপিয়া বাঁকা হাসি হেসে মন্তব্য করেছিল," শাশুড়িরা খাটতে চায় না। ছেলের বউ এসে কবে থেকে খাটাখাটির দায়িত্ব নেবে- সেই আশাতেই বসে থাকে।" ডিসেম্বর মাসে যোগাযোগ হল- বিয়ে হয়ে গেল জানুয়ারিতে। উত্তর কলকাতার মেয়ে,দক্ষিণ শহরতলির বউ হয়ে চলে গেল। বিয়ের পরে বাবার চোখে জল দেখে মন খারাপ হয়ে গেল কলির৷ মা বলল," মন দিয়ে সংসার করিস মা।" নয়ন যখন ওকে নিয়ে গাড়িতে উঠছে তখন কলি দেখে দোতলা থেকে বাবা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। চোখ ঝাপসা। কান্নায় ভেঙে পড়ল কলি। নয়ন পরে বলেছিল," সে সময় আমারও খুব কষ্ট হচ্ছিল। যেন জোর করে তোমায় নিয়ে চলে যাচ্ছি এরকম মনে হচ্ছিল।" আসলে নয়ন একেবারেই নরম মনের মানুষ৷ কলির সামান্য জ্বর হলেও কিরকম অসহায় হয়ে যায়।

   প্রথম প্রথম বেশ ভয়ে ভয়ে শাশুড়ির সঙ্গে কথা বলত কলি। তাই দেখে শাশুড়ি বলেছিল," আমি কি তোর স্কুলের হেডমিস্ট্রেস নাকি?" শুনে হাসি পেয়ে গিয়েছিল কলির। শাশুড়ি যে কখন বন্ধু হয়ে গেল- তা ও বুঝতেই পারল না। এমন কি ওদের হানিমুনের ব্যবস্থাও শাশুড়ির উদ্যোগেই হল। শাশুড়িকে একা ছেড়ে যেতে কলির একটু অস্বস্তিই হল৷ ওরা ফিরে আসার পরে শাশুড়ি বলেছিল," যাক, আমার একটা ইচ্ছে পূরণ হল। আমার হানিমুন হয় নি। নয়নের বাবার সে সাহসই ছিলনা। বাবা- মা দিদি- জামাইবাবু- সবাইকে নিয়েই হানিমুনে গিয়েছিল। " হেসে হেসে এই কথা শাশুড়ি বললেও- কলি বুঝেছিল, শাশুড়ির হাসির আড়ালে একটা দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে রয়েছে। শাশুড়ির আর একটা মাত্র ইচ্ছা জীবনে-নাতি বা নাতনির মুখ দেখা। ইচ্ছেটা নাতনিরই। স্বপ্নে নাকি নাতনিকে দেখেওছে কয়েকবার। বউমাকে বলে বলে শাশুড়ি চেনাজানা একটা প্রাইভেট স্কুলে ঢুকিয়েও দিয়েছে। বলেছে," বাড়িতে বসে থাকলে বাইরের পৃথিবীর স্বাদগন্ধ কিছুই পাবে না তুমি। " সত্যিই বলেছে শাশুড়ি। বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলোকে পড়াতে বেশ লাগে কলির এখন। দুজনে মিলে রান্নার এক্সপেরিমেন্টও করে। এখন বাপের বাড়ি গেলেও কিছুদিনের মধ্যেই শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসতে ইচ্ছে হয় কলির। বন্ধুরা বলে," তুই দেখালি বটে। তোর মতো শাশুড়িপ্রেম কারোর মধ্যে দেখিনি। " পাপিয়া বলে," আসল কথা হল, বরকে ছেড়ে একদিনও থাকতে চায় না আমাদের কলিরানি।" সবাই হেসে ওঠে।

   কয়েকবছর দিনগুলো কাটছিল ভালই। কিন্তু, হঠাৎই শাশুড়ির শরীর ভেঙে পড়তে লাগল। ডাক্তার দেখে, বিশ্রাম নিতে বলল। বলল," প্রচুর খাটনি গেছে আপনার উপর দিয়ে। এবার বিশ্রাম নিন। " শাশুড়ি শুনতে চাইলনা। বলল," ডাক্তারটা বোকা আছে। কাজেই যে আমার আনন্দ - তা বুঝতেই পারল না। " এর মধ্যেই খুশীর খবর এল। কলি মা হতে চলেছে। শাশুড়ির আনন্দ আর দেখে কে! নাতি বা নাতনিকে নিয়ে কি কি করবে- তার প্ল্যান শুরু হয়ে গেল। সে বছর পুজোর সময়ে ডেট পড়লো কলির। মহালয়ার পরে শাশুড়ি আর নয়ন ওকে বাপের বাড়ি রেখে এল। বাবা- মাও সেটাই চাইছিল। শাশুড়ির শরীরটাও ভাল নেই। যাওয়ার সময় শাশুড়ি ওর মাকে বলে গেল," দিদি - মেয়েটাকে ছেড়ে যেতে আমার মন চাইছে না। তবে, এসময় নিজের বাবা- মার কাছেই সবাই স্বস্তিতে থাকে। হাসপাতালে ভর্তি হলেই আমায় খবর দেবেন কিন্তু। সঙ্গে সঙ্গে চলে আসব।" শাশুড়ি চলে যাওয়ার পরে বাবা কলিকে বলেছিল," এরকম শাশুড়ি সব মেয়ে পায়নারে মা। " কলি নিজেও সেটা জানে।

    অষ্টমীতে কলির ডেট ছিল। কিন্তু, তৃতীয়ার বিকেলেই বাচ্চা জানান দিল যে সে আগেই আসবে। তড়িঘড়ি করে ভর্তি করা হল কলিকে। রাতে বেডে শুয়ে কলি নানা কথা ভাবছিল। এরকম সময়ে ওকে বাথরুমে যেতে হল। আয়া ঘুমোচ্ছে দেখে একাই উঠছিল। নেমে টাল সামলাতে না পেরে প্রায় পড়েই যাচ্ছিল। কিন্তু বিস্মিত হয়ে দেখল, ওকে কে ধরে ফেলেছে। একটা পরিচিত গন্ধ পেল ও। শাশুড়ির গা থেকে এরকমই স্নিগ্ধ গন্ধ পাওয়া যায়৷ ও একবার বলেও ফেলেছিল-, " মা, তুমি কি পারফিউম মাখ, এরকম সুন্দর গন্ধ বেরোয়।" শাশুড়ি বলেছিল," মায়েদের গায়ে এরকম গন্ধই থাকে। " সত্যিই, শাশুড়িই ওর হাত ধরেছে। বিস্মিত কলি বলে," মা, তুমি কখন এলে? তোমাকে আমার সঙ্গে থাকতে দিয়েছে?" শাশুড়ি আয়ার দিকে তাকিয়ে ঠোঁটে আঙুল দিয়ে চুপ করতে বলে ওকে। বাথরুম থেকে ফিরে এসে কলি শুয়ে পড়লে শাশুড়ি ওর মাথায় হাত বোলাতে থাকে। কলি বুঝতে পারে ওর দুচোখে নিবিড় ঘুম নেমে আসছে।

   কিন্তু, এই ঘুম বেশীক্ষণ স্থায়ী হল না। শেষ রাতে ওর পেটব্যথা শুরু হল। ডাক্তারবাবু এসে বললেন," সময় হয়ে গেছে। যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে কলি দেখল শাশুড়ি ঠায় দাঁড়িয়ে আছে বেডের থেকে একটু দূরেই। ও তাকালেই হেসে ইশারা করে বলতে চাইছে, চিন্তা কর না। সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু, ঠিক হচ্ছে কই! প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে ওর। এই কষ্ট আর সহ্য করতে পারছে না কলি। ডাক্তারবাবুর মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে উনিও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। নার্সদের চোখেমুখে উৎকণ্ঠার ছাপ। শাশুড়ির মুখ দেখে কিন্তু সেটা মনে হচ্ছে না। শাশুড়ি এগিয়ে এসে ওর মাথায় হাত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রণা যেন অনেকটাই কমে গেল। আর,ঠিক তার পরেই বাচ্চাটা জন্মালো। ওর তীক্ষ্ণ কান্নার আওয়াজে বুকের মধ্যে খুশীর হিল্লোল এল কলির। শাশুড়ির চোখ দিয়ে জল ঝরে পড়ছে। তারপরে চারদিক অন্ধকার হয়ে গেল কলির। জ্ঞান হারাবার আগে আবার সেই পরিচিত স্পর্শটা পেল কলি। শাশুড়ি তাহলে চলে যায় নি।

    জ্ঞান যখন ফিরল, তখন অনেক বেলা। ওর দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন ডাক্তারবাবু। ওকে চোখ মেলতে দেখে বললেন," যাক- বাঁচা গেল!" নয়ন,বাবা, মা- সবাই ঢুকে ওর দিকে উৎকণ্ঠিত চোখে তাকিয়ে রইল। ডাক্তারবাবু বললেন," আর চিন্তা নেই। এবার মা আর মেয়ে দুজনেই একদম ফিট।" শাশুড়িকে কিন্তু আর দেখতে পেলনা কলি৷ আর তিনদিন ওকে হাসপাতালে থাকতে হল। শাশুড়ি আর এল না। ফিরে গিয়েছে বোধহয়। নয়নকে পাঠিয়ে দিয়েছে। ফেরার সময় নয়ন ওকে নিয়ে নার্সিং হোম থেকে ট্যাক্সিতে উঠল। কলি অভিমানের গলায় বলল," তোমরা কেউ সেসময় ছিলে না। একা মা ছিল বলেই আমি বেঁচে গিয়েছি।" বিস্মিত নয়ন বলে," তোমার মা তো তখন ছিল না।" " আমার মা নয়- তোমার মা।" নয়ন কেমন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে ওর দিকে। তারপর কান্না চাপতে চাপতে বলে," তোমাকে বলা হয় নি- তুমি যখন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছ, তখনই মা চলে গেলেন।" " কি যা-তা বলছো!" নয়ন কিছু না বলে রুমাল দিয়ে চোখ মোছে। নির্বাক কলি কিছুক্ষণ পরে রুদ্ধ কণ্ঠে বল ওঠে," আমি জানি মা- তোমার ছেলে উল্টোপাল্টা বকছে। তুমি না থাকলে আমি আর খুকি বেঁচে থাকতাম কিনা কে জানে!" তারপরেই কান্নায় ভেঙে পড়ে কলি। বাচ্চাটা কেঁদে উঠলো। কলি বাচ্চাটাকে ওর বুকে টেনে নিল। সেদিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে নয়ন। তারপরেই ট্যাক্সির আয়নার দিকে ওর চোখ চলে যায়। সেখানে নিজের মুখটাকেই দেখতে পায় নয়ন। কেমন একটা অদ্ভুত হয়েছে মুখের ভাব। দুঃখ আর আনন্দ যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। বাচ্চাটা ঘুমিয়ে পড়েছে আবার। কলি ফিসফিস করে বলে," মা, তুমি দেখতে চেয়েছিলে না- এই দেখ তোমার নাতনি। " বাচ্চাটা ঘুমের ঘোরে হাসছে। দেয়ালা করছে। নয়নের বুকের মধ্যে কেমন করে ওঠে। শরতের সোনালি আকাশের রোদ ঝরে ঝরে পড়ছে। সামনেই দুর্গাপুজোর মন্ডপ থেকে পুজোর ঢাক বেজে উঠলো। আরতি হচ্ছে।













website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments