বাক্সবন্দী Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
#বাক্সবন্দী
ভারাক্রান্ত মনে টয়লেট থেকে বের হলো অপরাজিতা। হাতে ওর আবারো হেরে যাওয়ার সিম্বল প্রেগন্যান্সি স্ট্রিপটাকে চেপে রেখে ধিরে ধিরে এগিয়ে এলো সমরেশের কাছে। সমরেশ উত্তেজিত হয়ে তাকালো অপার দিকে, মৃদু ঘাড় নেড়ে নেতিবাচক উত্তর দিলো অপা। সমরেশ রাগের বশে উঠে দাঁড়িয়ে অপাকে ধরে জোরে ঝাঁকিয়ে বলে উঠলো,"ড্যাম ইউ"..... তারপর ঘর থেকে ছিটকে বেরিয়ে গেল। এটা চতুর্থ বার, সে এবারো ব্যার্থ। তাদের বিয়ে হয়েছে সাতমাস হয়েছে, কিন্তু এর মধ্যেই অপার শ্বশুরবাড়ির লোকজন এমনকি তার বর সমরেশ ও বাচ্চার জন্য তাকে চাপ দিচ্ছে। অপা সমরেশের দ্বিতীয় স্ত্রী, তার প্রথম স্ত্রী অনুরাধা আত্মহত্যা করেছে এক বছর আগে। কারনটা ঐ একই, বিয়ের দুবছর পরেও সে এই পরিবারকে কোন বংশধর দিতে পারেনি। সমরেশের পরিবারের কথা অনুযায়ী তারা অনুরাধার ওপর কোন চাপ দেয়নি, বরং সে নিজেই ডিপ্রেশনে ভুগে আত্মহত্যা করেছিল। কিন্তু এ কথা যে কতদূর সত্যি সেটা অপরাজিতা এই সাত মাসেই হারে হারে টের পেয়েছে। হতাশার কুয়াশা থেকে বেরোতে না বেরোতেই অপার শাশুড়ি ঘরে এসে ঢুকলেন, "কি এবারেও নেগেটিভ তো? জানি, ছেলেটার মুখ দেখেই বুঝেছি। কি কুলক্ষনা বৌ ঘরে এনেছি রে বাবা, ভেবেছিলাম প্রথমটার হয়নি কিন্তু দ্বিতীয়টার নিশ্চয়ই হবে। এ তো দেখছি বংশের প্রদীপ না দেখেই চোখ বুজতে হবে। নাতি ছাড়া কে আমাদের সগ্গে বাতি দেবে গো"..... হতবাক অপার কষ্টের সীমা থাকে না। কান্নাও যেন শুকিয়ে গেছে তার, নিজের স্বামী পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে। কিন্তু সে কি করবে! বিয়ের আগে কোনদিন কোন শারীরিক সমস্যা ছিল না তার, প্রত্যেক মাসেই স্বাভাবিক ভাবেই ঋতূস্রাব হতো তার। বিয়ের আগে সম্পূর্ণ রূপে কুমারী ছিল সে, কোন পুরুষের সংস্পর্শে কোনদিন আসেনি অপা। তবুও সে স্বাভাবিক নিয়মে সন্তান ধারণ করতে পারছে না এটা তার খুব আশ্চর্য্যের লাগলেও সত্যি তার কিছুই করার ছিল না। বাপের বাড়ি তেমন সামর্থ্য নেই যে তাকে নিয়ে গিয়ে ভালো গাইনী ডাক্তার দেখাবে, আর সমরেশকে ডাক্তারের কথা বললে ও বলে," শালি তুই রুগ্ন তোর বাপ মা সেটা লুকিয়ে বিয়ে দিয়েছে সেটার জন্য আমরা ভুগবো কেন? তোর বাপকে বল ডাক্তার দেখাতে, আমি অযথা টাকা খরচ করতে পারবোনা"। সারাদিন আকাশ পাতাল চিন্তা করে কেটে যায় অপার, রাতে সমরেশ ওর মায়ের ঘরে শুতে যায় রাগ দেখিয়ে। অপরাজিতা খুব কান্নাকাটি করে তারপর মনে মনে ঠিক করে ফেলে যে সেও অনুরাধার পথ অনুসরণ করবে। রাত তখন দুটো, অপা উঠে তার লুকিয়ে রাখা ঘুমের ট্যাবলেট গুলো খুঁজতে থাকে, যেগুলো সে এমন ই কোনো এক সময়ের জন্য রেখে দিয়েছিল। হঠাৎ, পিছন থেকে আওয়াজ এলো,"দাঁড়াও, কি করতে যাচ্ছ এটা"?... আচমকা এক মেয়ের আওয়াজে চমকে উঠে পিছন ফিরলো অপা। অনুরাধা তার চোখের সামনে দাঁড়িয়ে, কঠোর চেহারা। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারে না অপা। অনুরাধা আবার বলে,"না আমি বেঁচে নেই, আমি যে মানষিক অত্যাচার সহ্য করেছি তার থেকেও অনেক গুন বেশি তুমি সহ্য করেছো, সেটা আমি জানি। কিন্তু আমি যে ভুলটা করেছিলাম আমি চাইনা সেই একই ভুল তুমি ও করো। আমার মৃত্যুর পর যেমন এদের কোন ক্ষতিই হয়নি তেমনি তোমার মৃত্যুর পরও হবে না। বরং আমাদের মতো আরো অন্য কোন বেচারি মেয়ের সর্বনাশ হবে".... অপরাজিতা এতক্ষণ চুপ করে ছিল, এবার বললো," কিন্তু তোমার আর আমার একি সমস্যা, দোষটা তো আমাদের, আমরা এদের বংশধর দিতে পারিনি"। "ভুল, সব ভুল, সব মিথ্যে, আমাদের কোন দোষ কোন অপরাধ নেই। না আমার ছিলো আর না তোমার আছে".... "মানে!! তাহলে"..... "ঐ খাটের বক্সটা খোলো, খোলো বলছি".... অপরাজিতা অনুরাধার কথা মতো বক্স খুললো। "এবার ওর ভিতর থেকে ঐ চাদরটা সরিয়ে ফেলো, এবার নিচের ঐ কাঠের বাক্সটা বের করো".... "কি আছে এতে"??.... "এতে আছে সত্যি, সেই জঘন্য মিথ্যাচারের প্রমাণ, যেটা আগে পেলে হয়তো আমাকে মরতে হতো না".... অপা বাক্স খুলে দেখলো বেশ কিছু কাগজপত্র, একটা একটা করে সব পড়তে লাগলো ও। সবকিছু পড়বার পর প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে গেল অপা। সমরেশের মেডিক্যাল সার্টিফিকেট এগুলো, বিভিন্ন ধরনের টেষ্টের রিপোর্টাস। এগুলোতে স্পষ্ট করে লেখা আছে যে, সমরেশ কোনোদিন বাবা হতে পারবেনা। ছোটবেলায় ফুটবল লেগে ওর প্রজনন অঙ্গের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর তার জন্যই ও সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা হারায়। "তাহলে এতদিন সব জেনে শুনে ওরা অযথা আমাদের ওপর মানষিক অত্যাচার করে গেছে"!!! " ওরা নয়, শুধু সমরেশ, পুরো রিপোর্ট এর ব্যাপারে ওর পরিবার অবগত নয়। সমরেশ ওদেরও ধোঁয়ায় রেখেছে".... অপা বললো,"তাহলে এখন কি করব!! আমার পরিবারের পক্ষে এদের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয়"... অনুরাধা বললো," লড়তে হবে না, ওর মিথ্যে ও নিজেই সবার সামনে স্বীকার করবে, শুধু তোমাকে শক্ত থেকে একটা নাটক করতে হবে"..... "আমি কি পারব"!! অনুরাধার কাছে সব শোনার পর বললো অপা। "তোমাকে পারতেই হবে, তুমি হার মানলে আমিও যে হেরে যাব বোন, তোমার পরাজয় হতে পারে না, তুমি যে অপরাজিতা"...... পরের দিন সকালে উঠে অপা সমরেশকে বললো,"আমি বাপের বাড়ি যাচ্ছি, গাইনী ডাক্তার দেখাতে".... প্রায় দুই সপ্তাহ পর অপা বাপের বাড়ি থেকে ফিরলে ওর শাশুড়ি জিজ্ঞেস করলেন ডাক্তার কি বলেছে?... অপা বললো ডাক্তার বলেছে এবার ও মা হতে পারবে। ওর শাশুড়ি খুব খুশি হলেন কথাটা শুনে। রাতে সমরেশ ফিরতে অপা ওকেও সব কথা বললো, ডাক্তার যা বলেছেন। সমরেশ বললো, "আমি ততক্ষণ বিশ্বাস করব না যতক্ষণ না সত্যি হচ্ছে"। এরপর একমাস কেটে গেল, একদিন রাতে সবাইকে খাবার পরিবেশন করছে অপা, হঠাৎ মাথাটা ঘুরে যায় ওর। ওর শাশুড়ি ওকে ধরে ফেলে আর ছেলেকে বলে,"যা বাবা ঐ টেষ্টের কার্ড কিনে আন, এবার বোধহয় কৃষ্ণ মুখ তুলে চেয়েছেন আমাদের দিকে"..... পরের দিন সকালে অপরাজিতা হাঁসি মুখে টয়লেট থেকে বের হয়ে আসে। ওর শাশুড়ি ওর ঘরেই ছিলো, ওর হাসিমুখ দেখে উনি বললেন,"কি বৌমা, হ্যাঁ তো"??.... অপা লাজুক ভঙ্গিতে বললো, "হ্যাঁ"..... হঠাৎ সমরেশ লাভার মত বিস্ফোরিত হয়ে এগিয়ে এসে অপার গালে এক চড় কষিয়ে দিলো। বাড়ির বাকি লোকেরা তো হতবাক, সমরেশের মা ওকে বললো," একিরে খোকা! বৌমা এতো ভালো একটা খবর দিল আর তুই ওকে মারলি? তুই কি পাগল হলি নাকি"??.... সমরেশ বললো," আমি পাগল হয়ে যাইনি, তোমাদের আদরের বৌমা একটা চরিত্রহীনা, কুলটা। জিজ্ঞেস করো ওকে কার পাপ পেটে এনেছে ও"??.... "কি বলছিস বাবা! এসব কি অলক্ষুণে কথা বলছিস তুই! অন্যের পাপ কেন হবে"??.... বলে উঠলো সমরেশের মা। "এটা তোমার সন্তান সমরেশ, আমি প্রমাণ দিতে পারি"... বললো অপা। "প্রমাণ দিবি? তুই কি প্রমাণ দিবি, আজ আমি সবার সামনে এমন প্রমাণ দেব যে সবাই বুঝে যাবে তুই কত বড় চরিত্রহীনা"... এই বলে সমরেশ নিজের কবর খুঁড়তে গেল ওর ঘরে। হাতে সেই কাঠের বাক্সটা নিয়ে ফিরে এলো সে। সবাই সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে বাক্সের দিকে, না জানি কি রহস্য আছে বাক্সবন্দী হয়ে!!... "এই দেখো, আমার মেডিক্যাল রিপোর্টস, এতে লেখা আছে আমি কোনদিন সন্তান জন্ম দিতে পারবো না। মা তোমার মনে পড়ে, ছোটবেলায় একবার ফুটবল লেগে আমার পুরুষাঙ্গের ক্ষতি হয়েছিল, এটা তার ই কারনে হয়েছে। এবার বলো তোমরা, আমি সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম তাহলে আমার স্ত্রী কি করে গর্ভবতী হয়"??... অন্যরা কিছু বলার আগেই সমরেশের মা ওর গালে ঠাস করে এক চড় মেরে বলল,"আমার ভাবতে ঘৃণা হচ্ছে আমি তোর মতো একটা সন্তান জন্ম দিয়েছি, ছিঃ ছিঃ ছিঃ"... আকষ্মিক চড় খেয়ে থ হয়ে যায় সমরেশ। ওর মা আবার বলে চলে," আমি না জেনে তোর পাপের ভাগীদার হয়ে দু দুটো নিরপরাধ নিস্পাপ মেয়েকে কতো কু-কথাই না বলেছি, আর তুই দিনের পর দিন সত্যি লুকিয়ে গেছিস। এমনকি তখনো মুখ খুলিসনি যখন অনু তোর মিথ্যার নিচে চাপা পড়ে মরলো"..... কাঁদতে থাকেন সমরেশের মা। সবাই চুপ, অপা এবার বললো, "শুনুন আমি গর্ভবতী নয়, এই নাটকটা শুধুমাত্র সত্যিটা সামনে আনার জন্য করেছি আমি। আমিও অনুরাধার মতোই মরতে চেয়েছিলাম, কিন্তু জানেন কে আমাকে বাঁচিয়েছে? অনুরাধা নিজে। হ্যাঁ অনুরাধার অতৃপ্ত আত্মা সেইরাতে আমাকে সব সত্যি বলে আর ওর অনুরোধেই আমি এই নাটকটা করি"..... সব শুনে সজল চোখে সমরেশের মা অপাকে বলে," আমরা অপরাধী, তুমি আমাদের যা শাস্তি দেবে আমরা মাথা পেতে নেব। শুধু একটাই অনুশোচনা মনে রয়ে গেল, যদি অনুর কাছে একবার ক্ষমা চাইতে পারতাম.... পাগলীটাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। যাইহোক তুমি পুলিশ ডাকো বৌমা, আইনের কাজ আইন করুক"। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে সমরেশ, অপা দেখলো ওর ঠিক পিছনে দাঁড়িয়ে জয়ের হাসি হাসছে অনুরাধা। মৃদু হাসির মধ্যে ও চোখটা ছলছল করে উঠলো "অপরাজিতার"।।
সমাপ্ত।
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments