অস্বস্তি Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
আমি জীবনে ভূত দেখিনি । এবং তাতে বিশ্বাসও নেই । আমার পরিবারের অনেকে নাকি দেখেছে বা অনুভব করেছে । অল্পবিস্তর আমরা সবাই ভুতের গল্প, কাহিনী ভালোবাসি, সে যতই অবিশ্বাস করি না কেন। তো আমি একটা ঘটনা বলবো, যা সম্পূর্ন সত্যি ঘটনা । আসল ঘটনা বলার আগে আমাদের বাড়ির কিছু ব্যাপার জানিয়েও রাখবো । যদিও ওই ঘটনার পরেও আমি বিশ্বাস করিনা ভূত আছে । ঘটনাটা জানানোর জন্যই পোস্টটা করছি । কোনোরকম মনগড়া কাহিনী নয় ।
আমি নবদ্বীপে থাকি । ঠাকুরদার বাবার আমল থেকে সুতোর ব্যবসা ছিল । একটা সময় নদীয়া জেলার অন্যতম বড় সুতোর ব্যবসায়ী ছিল আমার বাবা , দাদু, জ্যাঠারা । আজ সে ব্যবসা নিশ্চিহ হয়ে গেলেও আজও বীণাপানী ডায়িং বললে একডাকে সবাই চেনে । তো এত পুরোনো ব্যবসা ক্ষতির সম্মুখীন হতে শুরু করে একসময় ।
যে বাড়িতে ভাইয়েরা ছিল গলায় গলায় ভাব । ব্যবসা সম্পত্তি নিয়ে কোনোদিন ঝামেলা হয়নি । সেই পরিবারে ভাঙন ধরতে শুরু করে । অশান্তি ঝগড়া হতে হতে হাঁড়ি আলাদা হয় । এসবের পরে শুরু হলো অদ্ভুত ব্যাপার । রাত বিরেতে বাড়িতে নুপুরের শব্দ শোনা যেত । সন্ধ্যা হলেই বাড়িতে কেমন যেন থম মেরে যেত । কোনো কিছু নেই অথচ বাড়িতে থাকতে কেমন অস্বস্তি হতো সন্ধ্যার পর । সবারই এমনটা হতো ।
একটা সময় বাড়ি দুভাগ হলো । সেজ জেঠু আর আমার বাবা একদিকে থাকে । বড় জেঠু আর মেজ জেঠু অন্য ভাগে । আর কাকা ছিল একজন, সে এসব অশান্তি, ভাইয়ে ভাইয়ে ঝামেলা সহ্য করতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে কাকিমা, আর মেয়েকে নিয়ে চলে যায় বৈদ্যবাটি । সেই থেকে আর ফেরেনি । এবার আমার বাবা সবার সাথেই সম্পর্ক ভালো রাখার চেষ্টা করতো । কখনো ভালো হতো , তারপর আবার শুরু অশান্তি । তো এভাবে চলতে চলতে একদিন বাড়িতে আমাদের ভাগের জায়গায় বাবা বাগানের জন্য মাটি খুঁড়ছিল ।
বাবার বাগানের শখ ছিল । সেই মাটি খুঁড়তে গিয়ে একটা হাড় পায় । হাতের হাড় । বাবা বিশেষ আমল দেয়নি । কিন্তু এরপর বিভিন্ন জায়গা থেকে কবচ , তাবিজ , মাদুলি, কাগজে মোড়া শিকড়, এবং অনেক ছোট ছোট হাড় পাওয়া যেতে লাগলো । শুধু মাটির নিচ থেকে নয়, ইলেকট্রিক মিটার বক্সের ভেতরে, ঠাকুরের পুজোর ফুলের ঝুড়িতে , চাল রাখার পাত্রে এমনকি আধ ভাঙা সুইচবোর্ডের ভেতরেও এসব পাওয়া যেতে লাগলো । আমি আর বাবা এসব বুজরুকী বলে উড়িয়ে দিলেও বাকিরা বেশ ভয় পেতো । ওসব আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হতো ।
সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো বাড়ির নিচতলায় অর্থাৎ যেখানে আমরা থাকতাম সেখানে উঠোনে পাঁচিলের পাশে কাকের হাড়গোড় আর মরার খুলি পাওয়া গিয়েছিল । ওইদিকে পাশের বাড়িটাই ছিল বড় জেঠু আর মেজ জেঠুর জায়গা । তো এরপর আর নানা অশান্তিতে আমরা আমাদের জায়গার জমিটুকু একজনকে বিক্রি করে দিয়ে এবং যে ঘরে আমরা থাকতাম সেটা সেজ জেঠুকে বিক্রি করে বাড়ি ছেড়ে চলে আসি ।
এরপর থেকে ওই বাড়ির আমাদের থাকার জায়গাটা অমন ফাঁকা পরে আছে আজও । মাঝে মাঝে তবু খোঁজ খবর নিতে যাওয়া হয় । তো শুনেছিলাম যে সন্ধ্যের পরে নাকি বাড়ির নিচতলায় একা থাকা বা আসা যায়না । ভয় ভয় করে, নিচের ঘরে নাকি মাঝে মাঝেই কিসের শব্দ পাওয়া যায় । তো যাই হোক এবার আসি আসল ঘটনায় ।
আমি বিয়ে করি বছর চারেক আগে । বিয়ের পরে পুরোনো বাড়িতে যাই একদিনের জন্য । তো সেদিন রাতে থাকি ওই বাড়িতে । আমাদের শোয়ার ব্যবস্থা হয় নিচের ঘরে । আমার স্ত্রী আমাদের ওই বাড়ির ব্যাপারে বিশেষ কিছু জানতো না । আর আমি এসব ভয়ের ব্যাপার পাত্তাই দেইনি । আমি আর আমার স্ত্রী সে রাতে নিচের ঘরে ঘুমাই ।
বিদ্যুতের সমস্যার জন্য দুটো মোমবাতি রেখেছিলাম কাছে । শীতের রাত, তাই দরজা জানালা সবই ভালোভাবে বন্ধ করে শুয়ে পড়ি আমরা । রাতে যথারীতি বিদ্যুৎ যাবার পরে আমি উঠে দুটো মোমবাতিই জ্বালিয়ে ঘরে রাখা একটা পুরোনো কাঠের টেবিলে রেখে দেই । তারপর আবার ঘুমিয়ে যাই । রাতে আর কোনো অসুবিধা হয়নি । শুধু একবার আবার বিদ্যুৎ আসায় ফ্যানের হাওয়ায় ঘুম ভেঙেছিল।
আমার স্ত্রীয়ের বারোমাস পাখা চালিয়ে ঘুমোনোর অভ্যেস । হাজার ঠান্ডা লাগলেও হালকা ফ্যান চালিয়ে গায়ে কম্বল ঢাকা দেবেই । নাহলে ঘুম হয়না । তাই বাধ্য হয়েই চালানো হয়েছিল । তো তখন মোমবাতি নেভাতে উঠতে গিয়ে দেখলাম হাওয়ায় দুটো মোমবাতিই নিভে গেল । তো আবার শুয়ে পড়ি । সকালে ঘুম থেকে উঠে ভাবছিলাম নিচের ঘরে নাকি ভয় পায়, কিসব শোনা যায় আওয়াজ ! আমি কিছুই পেলাম না । দিব্যি কাটিয়ে দিলাম ঘুমিয়ে । তো এরপর ফ্রেশ হয়ে ভালো জামাকাপড় পরে বেরোব তখন নজর পড়লো সেই টেবিলের ওপর ।
লক্ষ্য করলাম টেবিলের ওপর মোমবাতি দুটো নেই । কিন্তু সেটা আমায় অবাক করেনি, অবাক করেছে যেটা, তা হলো রাতের টেবিলের ওপর যে মোমবাতি জ্বলেছে দুটো, তার বিন্দুমাত্র চিন্হ নেই টেবিলের ওপর । আমরা জানি মোমবাতি পুরো জ্বলে গেলেও কিছুটা অবশিষ্ট মোম রয়ে যায় । সেটুকুও যদি কোনো কারণে শেষ হয়ে যায় তো কাঠের টেবিলে অন্তত পোড়া দাগ থাকার কথা সামান্য হলেও ।
বা মোমবাতির সুতোর অতি সামান্য অংশ ? তাও নেই । আর এমনও নয় যে সারারাত জ্বলেছে ফলে নিঃশেষ হয়ে গেছে । নিজের চোখে দেখেছি মোমবাতি দুটো রাতে ফ্যানের হাওয়ায় নিভে যেতে । তাও যদি ধরে নেই ঘুম চোখে ভুল দেখেছি । কিন্তু মোমবাতি জ্বলেছে একটা কাঠের টেবিলে, তার সামান্য হলেও তো চিহ্ন থাকবে ! নেই, কিছু নেই । দেখে মনে হলো কাল রাতে ওই টেবিলে মোমবাতি জ্বলেইনি । দরজা জানালা নিজে বন্ধ করেছিলাম, সকালে নিজেই খুলেছি। তো কেউ আমাদের ওঠার আগে মোমবাতি নিয়ে যাবে সেটাও তো সম্ভব নয় । কি করে মোমবাতি গুলো নিশ্চিহ হয়ে গেল বুঝিনি ।
তো এই হলো ব্যাপার । ঘটনা হিসেবে বিশেষ কিছুই নয়। আমি কোনো অলৌকিক অভিজ্ঞতা বলতে আসিনি । নিজে যেটুকু সামান্য ব্যাপার দেখেছি তার যুক্তিপূর্ণ কারণ খুঁজতেই পোস্টটি করা ।
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments