Header Ads Widget

মাতৃস্নেহ

মাতৃস্নেহ Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)





#গল্প  
মাতৃস্নেহ



“আকাশ তখন ছেয়ে গেচে কালো মেঘে, হঠাৎ থেমে গেল দমকা হাওয়া। দম বন্ধ হওয়ার জোগাড়। গরমে ঘাম ঝরছে খুব। গেরাম-গাঁয়ে এমন হয় বোশেখ-জষ্টি মাসে। এই কার্তিকের শিরশিরে শীতে এইটে কেমন যেন আশ্চর্যির ঠেকল। আমি ফিরচিলুম সেই আটক্রোশ দূরের চিতলমারি গাঁ থেকে। বুঝলে দাদুভাই, তখন ওই গাঁয়ের ইস্কুলের হেডপণ্ডিত ছিলুম। আমারে সক্কলে ভারি মান্যিগন্যি করত। হপ্তায় রবিবারটি ছুটি, শনিবার দুপুরের পর রওয়ানা দিতুম বাড়ির দিকে। আবার রবিবারে দু’টি নাকে-মুখে গুঁজে পোঁটলা বেঁধে দুপুর-দুপুর থাকতে ফিরতুম। আটক্রোশ পায়ে হাঁটা কী আর চাট্টিখানি কতা রে দাদুভাই? তখন গায়েও বেজায় জোর ছিল, দেড়-দু’মণি ধানের বস্তা নিমেষে একা-ই বইতে পারতুম। আর খাওয়ার কতা বলচ কী— আস্ত পাঁঠা পলকে সেঁধিয়ে যেত পেটে!      

     “হে, হে— যাক্ সে কতা। যা বলচিলুম। তখন তোর বাপ দু’বছরের। সেদিন ছিল শনিবার, তায় অমাবস্যে। একটু দেরিই হয়ে গিয়েচিল, সন্ধ্যে নেমে গেল। একা হেঁটে বাড়ি ফিরচিলুম। বগলে কাপড়ের পোঁটলা আর গায়ে হালকা চাঁদর। গরমের চোটে খুলে ফেললুম। সামনের সাঁকোখানা পেরোলে জিয়নসিসে বিল। তা পেছনে ফেলে কিছুক্ষণ হাঁটলেই ডানে মোদের গেরামখানা দেখা যাবে। বিল ছিল বটে জিয়নসিসে। যদ্দুর চোখ যেত, খালি কালো জল আর ঘন কচুরিপানার ঝাড়। কোথাও জল গোঁড়ালি সমান, আবার কোথাও ঠাঁই অব্দি পাওয়া যায় না। বিলের পাশ দিয়ে চলে গেচে গেরামে যাওয়ার একচিলতে রাস্তা। ভয়ে এখন কেন, দিনের বেলা-ও মানুষজন এইখেন দিয়ে একা-একা যেত না। বিশ্বাস করতুম না ওসবে, তাজা বয়স আর বুকে সাহস ছিল বলে পাত্তাই দিতুম না। বিল এখন আর নাই, মানুষজনের বসতিতে ভরে গিয়েচে।      

     “সাঁকো পার হয়ে আমি জিয়নবিলে পা দিয়েচি। আগেও বহুবার এদিক দিয়ে গেচি, কিন্তু আজ কোনো প্রাণীর সাড়া নেই। সব যেন চুপ মেরে গিয়েচে অজানা আশঙ্কায়। আরেকটু পথ আচে, এখন পেছপা হওয়া যায়নে। ধরা গলায় একটা গান ধরলাম। তবুও মনে পড়ে গেল— যারা অপঘাতে মরে, এইখানেই তো কালো জলের তলে তাদের গলায় ইট বেঁধে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। বড়দের মুখে শুনিচি, তাদের অতৃপ্ত আত্মা গুমরে-গুমরে কাঁদে আন্ধারের কোণায়-কোণায়। আর কেউ একা আন্ধারে এলে জান নিয়ে ফিরতে পারে না! ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে গেল।

     “মনে-মনে ইষ্টনাম জপ করচি, আর বলচি— ওসব কিছু নয়। ওসব বলে কিছু আচে নাকি? কিন্তু আমার ভাবনায় ভুল ছিল। এখনো ভাবলে… বুকটা কেঁপে ওঠে!  

     “হঠাৎ অন্ধকারে কী একটায় হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলুম। বাক্সমতো জিনিসটে, মাটিতে গেঁথে ছিল— উপড়ে গেচে। আমি আর কৌতূহল দেখালুম না। উঠে আবার জোর কদমে হাঁটতে লাগলুম। অকস্মাৎ গরম দমকা হাওয়া বয়ে গেল, মড়াপচা গন্ধে ছেয়ে গেল চারিদিক। আমি থামলুম না। বিল-রাস্তার মাঝখানে চলে এয়েচি তখন। একটু দূরে দেখতে পেলুম, দু’টো ভাটার মতো জ্বলন্ত চোখ ভাসছে শূন্যে। কিন্তু ধড় নেই! সে কী তীব্র জীঘাংসা সেই জ্বলন্ত অঙ্গার-দু’টোয়! বিকট দাঁতগুলো যেন বহুদিন পর কোনও মানুষের রক্তের লালসায় বেরিয়ে আসচে আনন্দে! এক অপার্থিব অট্টহাসি দিল ধড়হীন মুণ্ডুটা।  
 
     “বুকের ধুকপুকুনিতে যেন কলজেটা বেরিয়ে আসে। আমি আবার পড়ে গেলুম। মুণ্ডুটা আমারই দিকে শূন্যে ভেসে আসচে! খুব ভয়ে-আতঙ্কে চিৎকারও দিতে পারলুম না। অকস্মাৎ চোখ গেল অন্যদিকে। কী বীভৎস সেই পচা-গলা ধড়টা! পৈতেটা ধরে গায়ত্রী পাঠ করতে গেলুম— এ-কী! কিচুই মনে পড়চে না যে! শেষে “মা— মা” বলে কেঁদে ফেললুম। আবছা আন্ধারে দেখলুম, অকস্মাৎ কোথা থেকে একটা বিশাল কালো নারীমূর্তির ছায়া ছুটে এল সেই ধড় আর মুণ্ডুর দিকে। করালবদনা নারীমূর্তির চোখও জ্বলচে বিকট আগুনে। চিরচেনা একটা মিষ্টি গন্ধ নাকে ভেসে এল। এগুলো সহ্য করতে না পেরে জ্ঞান হারালুম, তারপর আর কিচু মনে নেই।   

     “জ্ঞান হতে দেখি, গেরামের শেষ সীমার কানুনাপতের বাড়ির উঠোনে পড়ে আচি। এখানে কীভাবে এলুম— আমি জানিনে। নিশুতি রাত, ঘামে ভিজে গেচে সারা গা। যেটুকু জোর ছিল, সেটুকু নিয়ে এগিয়ে চললুম বাড়ি। বাড়িতে এগুলো কাউকে বললুম না। পরদিন থেকে খুব জ্বর। ইস্কুলে যেতে পারলুম না। টানা সাতদিন পরে তবে জ্বর নামল। সব কতা বাবাকে বললুম। বাবা একটু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তারপর যা কইলেন, তাতে কেঁপে উঠলুম। 

     “‘ওই বিলে এক অঘোরী তান্ত্রিক তন্ত্রচর্চা করত। যত মড়া ওখানে ডোবানো হত, তা দিয়ে শবসাধনা করত। সে একবার তিনটে জীবন্ত ষোড়শী মেয়েকে বলি দেয়। এজন্য গেরামের জমিদার আমাদেরই এক পূর্বপুরুষ তাকে মৃত্যুদণ্ড শাস্তি দিয়েচিলেন। দেবী শ্মশানকালীর পূজোর রাতে পাষণ্ডের বলি হয়। কিন্তু তান্ত্রিক বলে গিয়েচিল, ওর মাথা আর ধড় আবার জীবন্ত হয়ে উঠবে। তখন সে উজাড় করে দেবে এই গেরামখানি। জমিদার বুদ্ধি করে অন্য তান্ত্রিককে দিয়ে মন্ত্রপুত একটা চৌকো বাক্সে মাথা-ধড় বন্দি করে বিলের গভীরে লুকিয়ে রাখেন। মৃত তান্ত্রিকের “জিয়ন্ত-মাথা” থেকেই বিলের নাম হয়েচিল “জিয়নসিসে”।’       

     “চার বছর বয়সে বোন হতে গিয়ে আমার মা মারা গিয়েচিলেন। তাঁকে ওই জিয়নসিসে বিলঘেঁষা শ্মাশানেই দাহ করা হয়েচিল। হয়তো সেই তান্ত্রিকের মুণ্ডু-ধড়ের বাক্সে আমি হোঁচট খাওয়ায় মুক্তি পায় সে। আর আমার সেই স্নেহময়ী মা হয়তো তাঁর একমাত্তর সন্তানকে আর গোটা গেরামটাকে বাঁচাতে মহাকালীরূপে সংহার করেচিলেন সেই নরপিশাচের অতৃপ্ত আত্মাকে…।”  
     
     — কথা শেষ হতেই মায়ের ভালোবাসা-হারা আমার পঁচাশি বছরের তৃষিত ঠাকুরদার দু’চোখ বেয়ে নামল অশ্রুধারা।      

     ( সমাপ্ত )  















website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments