হোটেল নীহারিকা Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
হোটেল নীহারিকা
শহরের অট্টালিকায় বসে বাইরে এমন তুমুল ঝড় বাদলা দেখে দু কলি কাব্য করতে ইচ্ছে করে। কিংবা ঘরে বিবি থাকলে ইচ্ছে হয়, বাসি প্রেম একটু নতুন করে ঝালিয়ে নিই। কিন্তু এমন ঝড় বাদলার সন্ধ্যেয়, আমার মনে পড়ে হোটেল নীহারিকার কথা।
বছর কুড়ি আগের কথা। তখন জোয়ান বয়স। চাকরিতে ঢুকেছি বছর খানেক। বিয়ে থা করিনি। ঘুরে বেড়ানোর খুব শখ আমার। ছুটি ছাটা পেলে একা একাই এদিক সেদিক বেরিয়ে পড়ি। এই কাছে পিঠেই দু একদিন। সেবার খেয়াল চাপল মন্দারমণি যাওয়ার। তখনও মন্দারমণি এতটা জনপ্রিয় হয়নি। দু একজন টুরিস্ট সবে যাওয়া আসা শুরু করেছে। দীঘার তুলনায় জনপ্রিয়তা তেমন নয়। তো, এক সকালে একাই বেড়িয়ে পড়লাম। এসপ্লানেড বাসে চেপে দীঘা। সেখান থেকে মোটর ভ্যানে মন্দারমণি। একটু নিরিবিলিতে কয়েকটা দিন বেশ কাটবে। দীঘার মতো ভীড় এখানে নেই। আমার কলিগ সুব্রত গত পুজোয় বউ বাচ্চা নিয়ে এসেছিল মন্দারমনি। ও একটা হোটেলের খোঁজ দিয়েছিল। একটু দামী ভালো হোটেল। আমি অবশ্য বেড়াতে এসে বিলাসিতার দিকে তেমন নজর দেইনা। একটা ঘর, তাতে পরিষ্কার বিছানা, দিন রাত জলের ব্যবস্থা আর একটু ভদ্রস্থ খাওয়া দাওয়া হলেই আমার চলে যায়। অতএব, সুব্রতর খোঁজ দেওয়া দামী হোটেলের চেয়ে একটু সস্তায় ছিমছাম হোটেল পেলে মন্দ হয়না। মন্দারমণি নেমে কিছুক্ষণ সমুদ্রের হাওয়া খেয়ে হোটেলের খোঁজে বেরোলাম। সেসময় মন্দারমনিতে হোটেল খুব বেশি ছিলও না। দু একটায় খোঁজ নিলাম। ঘর দোর খুলে দেখাল তারা, কিন্তু একটাও পছন্দ হল না। সুব্রতর বলে দেওয়া হোটেলে একগাদা টাকা খরচ করেই বোধহয় থাকতে হবে, এমন ভাবতে ভাবতে হাটছিলাম ঝাউবনের ধার ধরে। তখনই চোখে পড়ল বাড়িখানা। এগিয়ে গেলাম সেদিক। বাইরে থেকে দেখে বেশ পুরনো বলে মনে হয়। তবে গেটে যখন তালা নেই, লোকজন থাকে নিশ্চই। এদিক সেদিক তাকাতে সাইনবোর্ডটা চোখে পড়ল। হলুদ রঙের উপর নীল দিয়ে লেখা'হোটেল নীহারিকা'। অক্ষর সব চটে গেছে। কষ্ট করে পড়তে হয়। বাইরে থেকে হাঁক দেব কিনা ভাবছি, দেখি এক ভদ্রলোক ভিতর থেকে এগিয়ে এলেন। সম্ভবত আমায় দেখতে পেয়েছেন আগেই। একটু ভারী গলায় জিজ্ঞেস করলেন-"ঘর খুঁজছেন মশাই?"। "দিন দুয়েকের থাকার মতো একটা ঘর হবে কি?" উত্তর দিলাম আমি। ভদ্রলোক এসে বললেন-"স্বাগতম"। ভদ্রলোক গেট খুলে দিলেন। আমি চললাম ওনার পিছু পিছু। মালপত্র আমি নিতে যাচ্ছিলাম, ভদ্রলোক বাধা দিয়ে বললেন-"আহা, ওসব আপনি নিচ্ছেন কেন মশাই,ওসব ভজুয়া নিয়ে যাবে"। এই বলে জোর গলায় হাঁক দিলেন ভজুয়াকে। ভদ্রলোকের ষাটোর্ধ হবেন। সাদা ধবধবে টেউ খেলানো চুল, পাকানো গোঁফ। দামী পাঞ্জাবী , ধুতি। ভাজ করা শাল কাঁধের উপর বিছানো। চোখে সুতো আটা ফ্রেমেট চশমা। হাতে ছড়ি। যেন গত শতাব্দীর কোনো জমিদার বাবু হঠাৎ উদয় হলেন।
বাইরে থেকে দেখে বাড়িটাকে যতটা হতশ্রী বলে বোধ হয়, ভেতরে ঢুকলে ধারনা পাল্টাতে বাধ্য। বেশ ছিমছাম পরিষ্কার। কোথাও এতটুকু ধুলো ঝুল চোখে পড়ল না। ভদ্রলোক বললেন-" নিন, সিঁড়ি দিয়ে উঠে বাঁ দিকে ফিরে দ্বিতীয় ঘর।ভজুয়া আপনার মালপত্তর দিয়ে এসেছে"।আমি ইতস্তত করে বললাম-" বলছিলাম যে, টাকাপয়সার ব্যাপারটা আগে সেরে নিলে হত না?" ভদ্রলোক ভ্রু কুঁচকে বললেন-"আরে আগে মশাই থাকুন তো আপনি দিন দুয়েক, আপনার যা ইচ্ছে হয় আপনি দেবেন। আমার কাছে মশাই খদ্দেররা গেস্ট"। তাও আমি বললাম-" না না আপনি তাও বলুন মোটামুটি কত দিতে হবে আপনাকে"। দিনদুই থাকব, তারপর লোক বিশাল একটা অঙ্ক হেঁকে বসবে তা হলে মুস্কিল। ভদ্রলোক আমাকে অবাক করে বললেন-"ঠিক আছে। আপনি যখন বলছেন , দুশো টাকা না হয় দেবেন!"। আমি তো অবাক। অন্য হোটেল লজ গুলো তো পাঁচশোর কমে কথাই বলে না! ভদ্রলোককে এ নিয়ে আর ঘাটালম না। বললাম-"তা , মশাইয়ের পরিচয়টা জানা হয়নি"। ভদ্রলোক জিভ কেটে বললেন-এই দেখেছেন,কথায় কথায় নিজের পরিচয়টাই দেওয়া হয়নি। নমস্কার, আমি সৌরিন্দ্র মোহন ব্যানার্জী। লোকে আমাকে সৌরেন বাবু বলেই ডাকেন। আপনার যা ইচ্ছে হয় ডাকবেন"। আমার পরিচয় দিয়ে আমি বললাম-" বেশ আমি সৌরেন বাবু বলেই ডাকব না হয়"।
ঘরখানা বেশ বড়সড়। ঘরের মাঝে পালঙ্কখানা পেল্লায়। ধবধবে সাদা বলিশ চাদর পাতা।ইদানিং এতবড় খাট চোখে পড়েছে বলে মনে পড়ে না। খাটের পাশে একটা রিডিং টেবল , চেয়ার। এর থেকে বেশি কিছু আমার প্রয়োজনও নেই। বাথরুমে ফ্রেশ হতে গেছিলাম। এসে দেখি টেবিলে ধূমায়িত পেয়ালা, সাথে প্লেটে লুচি আলুভাজা হাজির। বেশ করিৎকর্মা লোক দেখছি সুরেন বাবু। এর মধ্যেই এতকিছুর ব্যবস্থা করে ফেলেছেন।
পেয়ালায় চুমুক দিয়ে বড় তৃপ্তি পেলাম। ঘন দুধের চা। আলুভাজা আর লুচিতে কামড় বসিয়েছি সবে এমন সময় দেখি ঘরের দরজায় সুরেন বাবু হাজির। মুচকি হেসে বললেন-"কি মশাই সব ঠিক আছে?কোনো অসুবিধে হচ্ছে না তো?" "কি করেছেন মশাই, এত বেলায় এত জলখাবার!" সুরেন বাবু হেসে বললেন-"এত আবার কি! আপনার কাঁচা বয়েস। এখন খাবেন না তো আর কখন? বললে হয়ত আপনি বিশ্বাস করবেন না আপনার বয়সে আমি টিফিনে এক কিলো পাঁঠার মাংস দিয়ে একধামা লুচি সাবার করতে পারতাম"। ভদ্রলোক বেশ মজলিশে। "আরে আপনি তো দাঁড়িয়ে কতক্ষন, বসুন না ঘরে এসে"। "না না, ভজুয়াকে বাজারে পাঠাতে হবে । লিস্টি করা বাকি এখনো। ও , বলছিলাম আপনার সব ধরনের মাছ চলে তো? মাংসের ব্যবস্থা এখানে করা একটু অসুবিধে মশাই" বললেন সুরেন বাবু। "আমি মশাই সর্বভূক" হেসে উত্তর দিলাম। "আপনি বরং বিশ্রাম করুন, আর বিরক্ত করব না" এই বলে চলে গেলেন সুরেন বাবু।
বিকেল পাঁচটা নাগাদ এক কাপ চা খেয়ে একটু সমুদ্রের ধারে হাঁটতে বেরোলাম। দুপুরে যা খাইয়েছেন ভদ্রলোক, এবেলা একটু না হাঁটলেই নয়। দামী চালের গরম ভাত, ঘি, আলুসিদ্ধ, মুগের ডালের সাথে ঝিরঝিরে আলুভাজা, পার্সের ঝাল, বড়ি দিয়ে পাবদার ঝোল।শেষ পাতে কাঁচা আমের চাটনি। ভদ্রলোক নিজে খান নামমাত্র। কিন্তু আমাকে দুটো ইয়া বড় সাইজের পাবদা না খাইয়ে ছাড়লেন না। নিজের হাতে সব পরিবেশ করলেন। ভজুয়াকে দেখলাম না কোথাও।
বিকেলে সমুদ্রের ধারে হাঁটছি আর ভাবছি, ভদ্রলোক এতসব খাওয়াচ্ছেন, এসবের জন্য আবার এক্সট্রা চার্জ ধরে বসবেন না তো! একটু দূরেই একটা নুলিয়াদের বস্তি আছে। ওখানকার কতগুলো বাচ্চা ঝিনুক শামুক কুড়াচ্ছিল। ওদের মধ্যে একজন বলল-"এই, ঘর চল তোরা, জল হবে মনে হচ্ছে"। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি পশ্চিম দিক কালো করে এসেছে। হোটেল থেকে অনেকটা দূরে এসে পড়েছি। তাড়াতাড়ি পা চালালাম। একটু এগোতে না এগোতেই চলে এল ঝড়টা। ঠান্ডা হাওয়ার সাথে বালি উড়ে এসে লাগল চোখে মুখে। চোখ মুখ বাঁচাতে ঝাউ বনের ভিতরের রাস্তা ধরলাম। ঝাউবনের ভিতর তখন অন্ধার ঘনিয়েছে।
হোটেলের রাস্তা ঠিকমতন চিনতে পারছি না। বড় বড় বৃষ্টির ফোঁটা গায়ে বিঁধছে। দিশেহারা অবস্থা। এমন সময় কেউ যেন আমার হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দিল। চমকে বললাম-"কে?"। চাপা গলায় এল উত্তর-" আজ্ঞে বাবু, আমি ভজুয়া"। একটা বেটে খাটো ছায়ামূর্তি বেরিয়ে এল আড়াল থেকে। এখানে আসার পর এই প্রথম চোখে দেখলাম ভজুয়াকে। ইতস্তত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম-"এই সময় তুমি এখানে?"। "আজ্ঞে রেতের বাজার করতে যাচ্ছিলাম। দেখলাম আপনি ঝাউবনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন" হে হে করে উঠল ভজুয়া। "তা আপনে তো উল্টো রাস্তায় চলেছেন বাবু। ও রাস্তায় যাবেন না। চোরাবালি আছে। ডান দিক দিয়ে ঘুরে সোজা চলে যান। হোটেলে পৌঁছে যাবেন"।
চমকে উঠি আমি। বলি-"চোরাবলি?বল কি?"
"এ হোটেলের আগের মালিক তো চোরাবালিতে ডুবে মারা গেছিলেন। ওত ভয় পাওয়ার কিছু নেই বাবু, ডান হাতের রাস্তা ধরে সোজা চলে যান" এই বলে হনহন করে হাঁটা লাগাল ভজুয়া।
প্রায় ছুটতে ছুটতে পৌছুলাম হোটেলের দরজায়। ততক্ষণে জোর বৃষ্টি আরম্ভ হয়েছে। প্রায় আধভেজা হয়ে হোটেলের দরজায় কড়া নাড়তেই ভিতর থেকে দরজা খুলে দিলেন সৌরেন বাবু। অবাক হলাম। ভদ্রলোক যেন আমার অপেক্ষাতেই ছিলেন। "এ হে হে মশাই একদম ভিজে গেছেন। তাড়াতাড়ি ভেতরে আসুন। আমি তোয়ালে নে আসছি"।
তোয়ালে দিয়ে গা মাথা মুছে নিলাম। একেই ঝড়বাদলা তারপর সন্ধ্যা প্রায় হয়ে এল। হোটেলের ভিতর অন্ধকারে বেশ অস্বস্তি হচ্ছিল আমার। সৌরেন বাবু আমার অবস্থাটা বুঝতে পেরে বললেন-" আর বলবেন না মশাই, একটু হাওয়া দিলেই হল। সব অন্ধকার। দাঁড়ান ভজুয়াকে লন্ঠন ধরাতে বলি"। অবাক হয়ে বললাম-" ভজুয়া বাজারে গেছে। আপনি জানেন না বোধহয়। ঝাউবনে আমার সাথে দেখা হয়েছিল"। সৌরেন বাবু আরও অবাক করে দিলেন আমায়-" সে তো অনেকক্ষণ। আপনি আসার আগেই আবার ফিরেও এসেছে"। আমাদের কথাবার্তার মধ্যেই দুটো লন্ঠন হাতে ঢুকল ভজুয়া। বেটে খাটো ছায়ামূর্তি যেন। মুখ চোখ ভালো করে দেখা যাচ্ছে না। সৌরেন বাবু বললেন-"যা, একটা লন্ঠন মশাইয়ের ঘরে দিয়ে আয়"।
হতভম্ব হয়ে নিজের ঘরে এলাম। ফ্রেশ হয়ে বাথরুম থেকে সবে বেরিয়েছি, দেখি সৌরেন বাবু দরজার গোড়ায় হাসি মুখে দাঁড়িয়ে। হাতে একটা প্লেট। কোনো সুখাদ্য মনে হচ্ছে। সৌরেন বাবু বললেন-"নিন মশাই, ভিজে তো একদম মিইয়ে গেলেন। এখন গরমা গরম মাছের চপ খেয়ে চাঙ্গা হউন দেখি"। সৌরেন বাবু কি অন্তর্যামী! এমন বাদলা সন্ধ্যেয় মনটা একটু ভাজাভুজি চাইছিল।
"তা মশাই চা এর কথা বলব। নাকি..."সৌরেন বাবু চোখ টিপে হাসলেন। হেসে বললাম-" তা মাঝে মাঝে চলে আমার"। "বেশ বেশ আমার কাছে ইম্পোর্টেড আছে এক বোতল। দাঁড়ান নিয়ে আসি"।
একটু বাদে সৌমেন বাবু ঢুকলেন ঘরে। নিজেই সোডা মিশিয়ে পেগ বানিয়ে দিলেন। কৌতূহল বশত জিজ্ঞেস করলাম-" এ জিনিস পেলেন কোথায় মশাই। এ ব্রান্ড বাজারে এখনও চলে?"
আমার কথায় খুক খুক করে হাসলেন সৌরেন বাবু। বললেন-"মশাইয়ের চোখ আছে দেখছি, ঠিকই ধরেছেন। এ ব্রান্ড বাজারে এখন মিলবে না। আমার কলকাতার বাড়িতে কয়েক বোতল কেনা ছিল। তারই একটা নিয়ে এসেছিলাম গতবার। তা একা একা এসব খেতে কি আর ভালো লাগে!"
"আপনি কোলকাতার লোক মশাই, আগে বলেননি তো" জিজ্ঞেস করলাম আমি।
হো হো করে হেসে উঠলেন ভদ্রলোক-" আমার চোদ্দ পুরুষ কলকাতায় বাস। আহিরিটোলার ব্যানার্জি ফ্যামিলির কথা ওখানকার সবাই জানে। বাপ ঠাকুর্দাদের তো জমিদারী রক্ত ছিল। আহিরিটোলার বিখ্যাত কাপড়ের দোকান, ব্যানার্জি এন্ড সন্স। নাম শুনেছেন নিশ্চই। ওতো আমাদেরই। আমি এখন এসব নিয়ে আছি। দোকান আমার ছেলে নাতিরা দেখে"।
আমার কলিগ সুব্রতও আহিরিটোলার ছেলে। সৌরেনবাবুকে জিজ্ঞেস করলাম ওর কথা। সৌরেন বাবু বললেন-"কি বলেন মশাই, ওকে চিনব না?ভবেশ মুখুজ্জের নাতি। ভবেশের ছেলেকে ছোট্ট বয়স থেকে দেখেছি। ওর বিয়েতে কব্জি ডুবিয়ে খেয়েছি"।
বড় খারাপ লাগল আমার। পাড়াপ্রতিবেশীর চেনা হোটেল ছেড়ে সুব্রত দামী হোটেলে উঠেছিল। বড় বাবুয়ানী হয়েছে ব্যাটার। অফিসে গিয়ে টাইট দিতে হবে। সুব্রত যে এখানে এসেছিল একথা, সৌরেন বাবুকে বললাম না। ভদ্রলোক কষ্ট পাবেন।
গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে সৌরেন বাবুকে আরেকটা প্রশ্ন করলাম। এখানে আসা থেকেই প্রশ্নটা উকিঝুকি মারছিল মনে। "আচ্ছা মশাই, আপনার হোটেলে আর কোনো বোর্ডার দেখছি না!" আমার প্রশ্ন শুনে একটু হাসলেন ভদ্রলোক। বললেন-"হোটেলের বাইরেটা দেখে সবাই ফিরে যায়। এখনকার লোকের বাইরেটাই সব। ভিতরটা আর কজন দেখে। আমারও এখন জেদ চেপে গেছে, যারা ভিতরের সৌন্দর্য খোঁজে তাদেরকেই আপ্যায়ন করি"।
"তবে আরেকটা ব্যাপারও আছে বুঝলেন?" বললেন সৌরেন বাবু। উৎসাহিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম-"কি ব্যাপার?"
"এ হোটেলের যে আসল মালিক ছিলেন, তিনি অপঘাতে মারা গেছিলেন। আত্মহত্যা। সেই থেকে এ বাড়ির একটা বদনাম রটে গেছে"।
কিন্ত ভজুয়া যে বলছিল, এ হোটেলের মালিক চোরাবালিতে ডুবে মরেছেন! কথাটা আর বললাম না সৌরেন বাবুকে। আমার যখন কোনো অসুবিধে হচ্ছে না, এসব কথা বাড়িয়ে লাভ নেই।
"নিন বেশ রাত তো হল, এবার ডিনার সেরে নিন। রাতে পমফ্রেট হয়েছে। চলবে তো আপনার?" হেসে জিজ্ঞেস করলেন সৌরেন বাবু।
"খুব চলবে " উত্তর দিলাম আমি।
আরও একটা দিন থেকেছিলাম নীহারিকা হোটেলে। আড্ডা খাওয়া দাওয়ায় বেশ কেটে গেল দুদিন। রোববার দুপুরে খেয়ে দেয়ে সৌরেন বাবুর কাছ থেকে বিদায় নিলাম। সোমবার অফিস জয়েন করতে হবে আমায়। পিছন ফিরে দেখলাম সৌরেন বাবুর চোখ ছলছল করছে।
অফিসের লাঞ্চ আওয়ারে ক্যান্টিনে পেয়ে গেলাম সুব্রতকে। আমায় দেখে সে বলল-"কি রে কেমন ঘুরলি?হোটেলটা কেমন বল?" উল্টে আমি বললাম-" তোর বাবুয়ানী হয়েছে ভাই। পাড়া প্রতিবেশীর হোটেল ছেড়ে অন্য হোটেলে কেউ থাকে?"
"কোন হোটেল?" প্রশ্ন করল সুব্রত।
"কেন?হোটেল নীহারিকা। তোদের পাড়ার সৌরেন ব্যানার্জির হোটেল।"
হো হো করে হেসে উঠল সুব্রত। বলল-"ভাই তুই দিনে দুপুরে গাঁজা টেনেছিস"।
"ফাজলামো করিস না" একটু বিরক্ত হলাম আমি।
সুব্রত বলল-"হোটেল নীহারিকা মন্দারমনির প্ৰথম হোটেল। কাপড়ের ব্যবসায় পয়সা করে আমাদের পাড়ার সৌরেন দাদু খুলেছিল। খুব মজলিসি লোক ছিলেন দাদু। একদম জমিদারী হাবভাব। সাজপোশাক। সে লোক যে কেন সুসাইড করল কে জানে!উনি মারা যাওয়ার পর ছেলেদের থেকে এক মাড়োয়ারি ভদ্রলোক হোটেল কিনেছিলেন। তিনিও নাকি চোরাবালি ডুবে মারা যান শুনেছি। তাপরপর থেকে ও বাড়ি পোড়ো বাড়ি", তা তোর হল কি?"
আমার সব কেমন গুলিয়ে যাচ্ছিল। ফ্যান ছেড়ে চোখে মুখে জল দিয়ে বসলাম। সৌরেন বাবু , সুসাইড, চোরাবালি ভজুয়া সব যেন পাক খাচ্ছে চারিদিকে। ভজুয়া, সে কে? মানুষ, নাকি...
সমাপ্ত
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments