Header Ads Widget

জেগে উঠেছে তারা

জেগে উঠেছে তারা Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)







#রি_রাইটিং_অ্যাওয়ার্ড_ইভেন্ট_ভূত_ভূতুম
#নরখাদক_নরহন্তা
#গল্প-জেগে উঠেছে তারা
------------------------------------

---------------------------
" কি দেখছিস শ্রী!তাড়াতাড়ি একটু ফাষ্টেড বক্স নিয়ে আয়। রক্ত পড়া বন্ধ করতে হবে। "
মায়ের কথায় চমকে ওঠে শ্রী। দ্রুত নিয়ে আসে ফাস্টেড বক্স। মায়ের হাতটা ব্যান্ডেজ করার পর, রক্ত পড়া বন্ধ হয়। সুমিতা দেবী যথারীতি আবার কাজে মন দেন।
শ্রী এর হাতে লেগে থাকা রক্তের গন্ধ এক নিঃশ্বাসে শুষে নেয় শ্রী। দারুন লাগছে তার। গন্ধটা বেশ লোভনীয়। অজান্তেই মুখের ভিতর আঙ্গুল টা দিয়ে দেয় শ্রী। একটা নোনতা স্বাদ। কিন্তু বড্ড চেনা, মনে হয় যেন দীর্ঘদিন এই স্বাদ আগলে রেখেছে বুকের মধ্যে। উদাস মনে প্রশ্নের উত্তর খোঁজে শ্রী।

দুপুরে খাওয়ার পর মায়ের কোল ঘেঁষে শুয়ে থাকে শ্রী। একথায় সেকথায় মায়ের মুখ থেকে জানতে পারে তার জন্ম আন্দামানে।
শ্রী মাকে জড়িয়ে ধরে বলে" মা চল না একবার ঘুরে আসি। বাবা তো ওখানেই ছিল অনেকদিন। "
শ্রী এর কথা শুনে সুমিতা বলেন" না ওখানে যাওয়া যাবে না। কারণ ওখানে যাওয়ার আপত্তি আছে তোমার বাবার। "
শ্রী বিরক্ত হয়ে বলে" কিন্তু কেন মা? আমি আমার জন্মস্থান দেখতে যেতে পারবো না!" শ্রী এর চোখ দুটো কেমন যেন বিস্ফারিত লাগে সুমিতার। কোনদিনতো এভাবে রেগে উঠতে দেখেনি শ্রী কে!
শ্রীএর শরীরটা ঝাকি দিতেই ধাতস্ত হলো শ্রী। তারপর বেরিয়ে গেল মায়ের ঘর থেকে।

ডক্টর অরিন্দম ত্রিপাঠী আর সুমিতার একমাত্র মেয়ে শ্রী। কয়েকদিন হলো 18 বছর পাড় করেছে সে। মা বাবার প্রতি তার গভীর ভালোবাসা, অথচ বেশ কদিন ধরেই শ্রী অনুভব করছে তার পরিবর্তনগুলো। রক্ত দেখলেই শরীরে অদ্ভুত এক শিহরন হয় তার। মাদকতায় মানুষ যে রকম আসক্ত হয়ে পড়ে ঠিক সে রকম। বন্ধুদের মধ্যেও সেই চাপানউতোর লক্ষ্য করে শ্রী। আজকাল বড্ড খিটখিটে লাগে নিজেকে, কেমন যেন অচেনা লাগে।
জন্ম স্থানের নাম শুনলেই কেমন যেন মন ছুঁয়ে যেতে চায় সেই স্থান। অথচ বাবা রাজি নয়...
কেন রাজি নয়! এই উত্তর আরো বেশি হিংস্র করে তুলছে মন। কিছুতেই যেন মেনে নিতে পারছে না শ্রী বাবার এই নিষেধ।

বেশ অনেক রাতেই অরিন্দম বাবু বাড়ি ফেরেন। নিজের ঘর থেকে রাস্তার দিকে চেয়ে থাকে শ্রী বাবার অপেক্ষায়। গাড়ির আওয়াজ হতেই শ্রী বোঝে বাবা বাড়ি ফিরেছে। সন্ধ্যা থেকেই বাবার অপেক্ষা করছিল সে...
ধীর পায়ে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে আসেন অরিন্দম বাবু। ভালো করে হাত-মুখ ধুয়ে প্রথমেই উনি ঢোকেন ওনার স্টাডিতে। এটা তার নিয়মিত অভ্যাস।
স্টাডি রুম এর কাছে আসতেই কেমন যেন এক অদ্ভুত অনুভূতি হয় অরিন্দমের। রাতের অন্ধকারের থেকেও গভীর অন্ধকার গ্রাস করে ঘরের ভেতরটা। নিস্তব্ধ বাতাবরণ ছেয়ে থাকে চারিদিকে। কিছু একটা অস্বাভাবিক অনুভূতি হচ্ছে আজ। তবুও সেই অনুভূতিগুলোকে উড়িয়ে দিয়ে ঘরের লাইটটা জ্বালিয়ে অরিন্দম চমকে ওঠে!

"শ্রী তুই! এভাবে অন্ধকারে কি করছিস মা? " অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে অরিন্দম
বাবার কথায় শ্রী বলে" আমি আন্দামান যেতে চাই।"
মেয়ের কথায় কোনো গুরুত্বই দেয় না অরিন্দম শুধু বলে অনেক রাত হয়েছে এবার তুমি ঘরে যাও।
বাবার কথায় কেমন যেন আগুন জ্বলতে থাকে শ্রী এর মনে। একটা অস্ফুট চিৎকার করে শ্রী বলে" কেন যেতে পারব না আমি আমার জন্মস্থানে তা আজকে তোমাকে বলতেই হবে? "
অরিন্দম বাবু ধমক দিয়ে ওঠেন" তুমি ঘরে যাও, সব কথা সবাইকে জানতে নেই। "
বাবার কথায় থরথর করে কাঁপতে থাকে শ্রী। সারা শরীর যেন আগুনের ছোঁয়ায় গরম হয়ে ওঠে শ্রী 'র। হাতের কাছে রাখা কাচের জগ টা ছুঁড়ে দেয় বাবার দিকে। অল্পের জন্য বেঁচে যান অরিন্দম।
কাচ ভাঙার আওয়াজে ছুটে আসে সুমিতা।
ততক্ষণে ঘর থেকে বেরিয়ে গেছে শ্রী।
মেয়ের এ ধরনের আচরণে খুবই অবাক হয় দুজনেই...

ব্রেকিং নিউজ। বিগত পনেরো দিন ধরে বিশিষ্ট ডাক্তার অরিন্দম ত্রিপাঠী এবং তার স্ত্রী দু'জনকেই পাওয়া যাচ্ছে না।মেয়ে শ্রী কে জিজ্ঞাসাবাদ করে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। প্রচন্ড শকে শ্রী আজ বাকরুদ্ধ। ত্রিপাঠি পরিবারের ফ্যামিলি ডক্টর শ্রী এর মানসিক স্থিতি বিচার করে বলেছেন সে এখন কোনো উত্তর দিতে সক্ষম নয়।
তদন্ত চলছে। আত্মীয় বন্ধুবান্ধব কে জিজ্ঞেস করেও সেভাবে কোন পথএখনও দেখা যায়নি। ব্যাপারটা সবার কাছেই যেন রহস্যময়।

প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। এত বড় বাড়ীটা যেন হয়ে উঠেছে প্রেতপুরী। বাষ্পাকার জলকণায় কাচের জালনা গুলো ধূমায়িত হয়ে উঠেছে। চেনা রাস্তাগুলো হঠাৎ করেই কেমন যেন অচেনা ঠেকছে। শ্রী যেন অদ্ভুত এক পর্দার আড়ালে আছে। বহু দৃশ্য, গভীর নিস্তব্ধতা, মৃত্যু শোক সবটাই যেন একটা স্বপ্ন। স্বজনহীন, বান্ধব হীন, সন্ধ্যাবেলা তাকে গ্রাস করছে। দেয়াল ঘড়িটার শব্দ আজ যেন তার বুকে এসে লাগছে। বিদ্যুতের আলোতে অন্ধকার ঘরে একটা নারীমূর্তির চলন ছাড়া কিছুই যেন স্পষ্ট নয়।
রুক্ষ চুল আর রক্তশূন্য চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসছে অন্ধকার ভেদ করে।
ভয়ঙ্কর খিদে পেয়েছে... এ খিদে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে মনের ভিতর। শ্রী এর শরীর কেঁপে উঠছে।
ঠিক সে সময় ডোর বেল বেজে ওঠে।
বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতোই চমকে ওঠে এক জোড়া চোখ।
নিচে নেমে দরজা খোলে শ্রী।
একজন বলিষ্ঠ যুবক দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে।
শ্রীকে দেখে ছেলেটি বলল " ম্যাম খাবারের পার্সেলটা"
শ্রী বললো " আপনি তো পুরো ভিজে গেছেন ভেতরে আসুন। বৃষ্টি থামলে চলে যাবেন"
শ্রী এর জোরাজুরিতে অবশেষে ভিতরে ঢুকলো ছেলেটি।
দরজা বন্ধ করতেই গোপন অসুখটা প্রস্ফুটিত হয়ে উঠলো শ্রী এর মুখে।
(সমাপ্ত)











website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments