আত্মবিশ্বাস Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
তিনকড়ি দত্ত প্রতিদিন অফিস ঢোকার মুখে রাস্তার পাশের দোকানে থরে থরে সাজানো নানা ধরনের মিষ্টির দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে একবার চেয়ে দেখে।মনে হয় বড় বড় রসোগোল্লা,ল্যাংচা,আর জলভরা তাল সন্দেশগুলো তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অফিসে ঢোকে।আবার ছুটির সময় ঐ দোকানেই ঝুড়িভর্তি গরম কচুরি দেখে আবার ও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাসে ওঠে।না কাল রমার কাছে বাড়তি পঞ্চাশ টাকা চাইতেই হবে।তাহলে অন্তত গরম কচুরির সংগে উপাদেয় ভাঙা আলুর তরকারি আর দুটো রসোগোল্লা খাওয়া যাবে।
দু তিন দিন ভেবে ভেবে আজকে অফিসে বেরোনোর আগে তিনকড়ি দত্ত বৌ রমাকে পঞ্চাশ টাকা বাড়তি দেওয়ার কথাটা বলেই ফেলল। রমা কথাটা শুনে ভুরু উঁচিয়ে বলল-- পঞ্চাশ টাকা? তোমার দুপিঠের বাস ভাড়া,টিফিন সব তো গুছিয়েই দিই।হঠাৎ দরকার হতে পারে ভেবে একটা পাঁচশো টাকার নোট ও পার্সে দেওয়া থাকে।হঠাৎ পঞ্চাশ টাকার দরকার পড়ল কিসে শুনি?বিয়ের পর বহু কষ্টে তোমার সিগারেট খাওয়া বন্ধ করেছি।তুমি কি আবার সিগারেট খাওয়ার ধান্দা করছ?
তিনকড়ি কাঁচুমাচু মুখে বলল--না সিগারেট তো কবেই ছেড়ে দিয়েছি। তিনকড়ি মনে মনে ভাবল যার জন্যে চাইছি সেটা শুনলে বৌ আবার খ্যানখ্যানে গলায় একটা লম্বা চওড়া বক্তৃতা দেবে।বলল-- থাক দরকার নেই।বৌ বলল--সেই ভালো,টাকা কাছে থাকলে সিগারেট ধরবে।তোমার মা মৃত্যুর আগে আমার হাত দুটো ধরে বলে গিয়েছিলেন--বৌমা আমার সাদাসিধে ভালোমানুষ ছেলেটাকে একটু আগলে রেখো। শুনে রাখো ঐ পাঁচশো টাকার নোটটা খুব দরকার না হলে ভাঙলে আমি অনর্থ করব।
তিনকড়ির নিজের বিদঘুটে নামটা তার নিজেরই ঘোর অপছন্দ।জগতে এত ভালো ভালো নাম থাকতে তার নামটাই বাবা মাকে তিনকড়ি রাখতে হল?মার কাছে শুনেছে পরপর তিনটে মৃত সন্তান প্রসব করার পর নাকি সে জন্মেছে।তার ঠাকুমা ধাই মার কাছে তিনটে কড়ি দিয়ে তাকে কিনে নিয়েছিল।সেই থেকে তার নাম তিনকড়ি। অপুষ্ট রোগা তিনকড়ি তুলোয় মুড়ে আতুপুতু করে বড় হয়েছে।প্রাইমারি স্কুলে দাদু ঐ তিনকড়ি দত্ত নামটার আর পরিবর্তন করেনি।
ছোটোবেলায় তাকে বন্ধুদের সংগে খেলতে দেওয়া হত না পাছে হাত পায়ে চোট পায়।এই জন্যে তার তেমন বন্ধুও ছিল না।প্রাইমারি স্কুলে জানা পড়া না পারার জন্য কান ধরে এক পায়ে দাঁড়াতে হত।পরবর্তী সময়ে তার লেখাপড়ার সংগে সংগে শরীর স্বাস্থ্য ও ভালো হল। অফিসে নিজের চেষ্টায় চাকরি ও হল।কিন্তু আত্মবিশ্বাস টা যেন কোথায় হারিয়ে গেল।সদা সর্বদা মনে হয় এই বুঝি কে কি মনে করল। একে তো এই নাম তার ওপর চেহারায় আদ্যোপান্ত ভালোমানুষির ছাপ দেখে অফিসের সহকর্মীরাও তাকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করত।তাদের কাজটাও করিয়ে নিত।টিফিনে সবাই যখন ক্যান্টিনে ভালো ভালো খাবার খেতে যেত তখন তিনকড়ি বৌয়ের দেওয়া রুটি,আলুমরিচ আর ছোটো মাপের একটা সন্দেশ খেত।এটা নিয়েও বন্ধুরা টিকা টিপ্পনি কাটত।
সেদিন অফিস থেকে ফেরার পথে তার বাড়ির কাছাকাছি জায়গায় হঠাৎ একটা পার্স মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে তিনকড়ি পার্সটা তুলে নিল।দামী লেদারের ঝকঝকে পার্স।পার্সটাই কোনো নাম বা ফোন নাম্বার আছে ভেবে খুলে দেখল ভিতর ফাঁকা।একটুকরো কাগজ পর্যন্ত নেই।আহা এইরকম একটা পার্স কেনার তার কতদিনে র শখ।বৌয়ের কেনা সস্তা রেক্সিনের পার্সটা ঝুরঝুর করে পকেটে রেক্সিন খুলে খুলে মশারির মতো জালি কাপড় বেরিয়ে থাকে।
তিনকড়ি পার্সটা বাড়ি এনে আলমারির মাথায় রেখে দিল। বৌয়ের কাছে চাবি চেয়ে আলমারির ভিতরে রাখার সাহস পেলোনা।প্রতিদিন অফিস যাওয়ার সময় খুব মনে হয় পুরোনো পার্সটা ফেলে দিয়ে ওটা ব্যবহার করে।কিন্তু পরের জিনিস ভেবে নেড়েচেড়ে আবার রেখে দেয়।
সেদিন রাতে একঘুম পর তিনকড়ি জল পিপাসা পেয়ে বিছানায় উঠে বসতেই ঘরের মৃদু আলোয় দেখল একটা ধুতি পাঞ্জাবি পরা লোক তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।ভীতু তিনকড়ি চোর ঢুকেছে ভেবে একবার ভাবল ঘুমন্ত স্ত্রীকে ধাক্কা জাগিয়ে দেবে।পর মুহূর্তেই চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়তে যেতেই সেই লোকটা বলল--কি রে ভীতুরাম চোখ বন্ধ রাখলেই কি বিপদ এড়াতে পারবি?তিনকড়ি বলল--আপনি যেই হোন দয়া করে
প্রাণে মারবেন না।লোকটা বলল--দুর শালা,অশরীরীরা কাউকে মারতে পারে না।বড় জোর ভয় দেখাতে পারে।তিনকড়ি তুতলিয়ে বলল--ওরে বাবা!আপনি কি ভূতততত?--এই শালা একদম তোতলাবিনা।এই জন্যেই তোর বৌ তোকে এত হ্যালা ছেদ্দা করে, রাস্তার কুকুররা পর্যন্ত তোকে ভয় পায় না।আমি যা বলছি মন দিয়ে শোন।ঐ পার্সটা আমার।
তিনকড়ি বলল--আজ্ঞে ওটা আপনি নিয়ে যান ওটা আমি যত্ন করে রেখে দিয়েছি।আমার এখন পার্সের দরকার পড়ে না।ওটা আমার ছেলে জন্মদিনে উপহার দিয়েছিল।আচ্ছা তিনকড়ি তোর ভালোমন্দ খেতে যেমন ধর মাটন বিরিয়ানি,চিকেন চাঁপ, কাটলেট,ভেটকির ফ্রাই,ইলিশ ভাপা কিংবা লুচি পরোটা,নানা ধরনের সুস্বাদু মিষ্টি এসব খেতে ইচ্ছে করে না?--আজ্ঞে খুব ইচ্ছে করে।এসব শুনলেই তো জিভে জল চলে আসে।
---কিন্তু তোর হাতে টাকা থাকে না বলে খেতে পারিস না।
--আমি শুনেছিলাম বৌয়েরা একটু আধটু স্বামীর পকেট মেরে চুরি করে।সে আমার বৌও করত।কিন্তু তোর বৌ তো পুকুর চুরি করে রে হতচ্ছাড়া।অফিসে তো মাইনে ভালোই পাস।সেই টাকায় তোর কোনো অধিকার নেই।আসলে তোর ভিতরে ভালোমানুষি আছে সততা আছে কিন্তু আত্মবিশ্বাসের লেবেলটা একেবারেই শূণ্য। তোর বিয়ের ফুলশয্যার রাতেই তোর বৌ এটা টের পেয়ে গেছিল।
লোকটা বলল--আমি বহুদিন ধরেই তোকে লক্ষ্য করছিলাম।তোর অবস্থা দেখে একটু উপকার করার লোভ সামলাতে পারলাম না।শুধু সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম।সেদিন নির্জন রাস্তা দেখে পার্সটায় ঠুসে আত্মবিশ্বাস ভরে টুক করে ফেলে দিলাম।শোন কাল থেকে ঐ ব্যাগটা বুকপকেটে রেখে অফিস যাবি।ওটার টাচে তোর আত্মবিশ্বাস একবারে নব্বইয়ের ঘর ছুঁই ছুঁই করবে।
তিনকড়ি বলল---আত্মবিশ্বাস পার্সে ভরা যায়? আমাদের ক্ষমতা সন্বন্ধে তোর কোনো ধারণাই নেই।--তাতে নতুন কিছু হবে?--একবার রেখেই দ্যাখ না। তোর এখনকার অবস্থা তো সেই প্রাইমারি স্কুলে পড়া তিনকড়ির মতো। সেখান থেকে এখনও বেরিয়ে আসতে পারিস নি।আর তোর বৌ ঠিক ঐ স্কুলের রাগী দিদিমণি।যার চোখ রাঙানিতে সব সময় ভয়ে তটস্থ থাকিস।ইচ্ছে করলে একটা সিগারেট টানতে পারিস না।কোথাও আড্ডা দিতে পারিস না। রোজ রোজ চারাপোনার ঝোল,অফিস থেকে ফিরে চানাচুর মুড়ি আর রাতে পেটেন্ট পোলট্রির ফ্যাকফেকে কুসুম ওয়ালা ডিমের ঝোল। ছ্যা ছ্যা এটাকে কি বেঁচে থাকা বলে রে ইডিয়েট?
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনকড়ি মনে মনে ভাবল কাল রাতে সে কি স্বপ্ন দেখছিল?আহা স্বপ্নটা যদি সত্যি হত।কাল পার্সটা একবার বুক পকেটে নিয়েই দেখা যাক।
পরদিন যথারীতি বৌয়ের দেওয়া খুচরো টাকা আর পাঁচশো টাকার নোটটা পুরনো পার্সে ভরে অফিস যাওয়ার পথে ওটা ফেলে দিয়ে নতুন লেদারের পার্সটা বুক পকেটে রাখল।ওটা পকেটে রাখতেই শরীরটা কেমন চনমনে হয়ে গেল। অফিসে সেদিন টিফিন টাইমে তিনকড়ি তার কাছাকাছি বসা তিন সহকর্মীকে বলল--আজ আমি তোমাদের চিকেন রোল আর কফি খাওয়াবো।ওরা বলল--সেকি!! সুয্যি আজ কোনদিকে উঠেছে? তোমার পেটেন্ট রুটি আলুমরিচ কি হল ভাই?বৌ বকবে না তো?---না খেতে ইচ্ছে হলে খেওনা।কিন্তু একদম বাজে কথা বলবে না।
অফিস ছুটির পর তিনকড়ি চারটে ল্যাংচা আর চারটে বড় জলভরা তাল সন্দেশ নিয়ে বাড়ি ঢুকে প্যাকেটটা স্ত্রীর হাতে দিয়ে বলল---রমা আমি চেঞ্জ করে আসছি,তুমি ততক্ষণে লুচি সাদা আলুর তরকারি আর দুটো ল্যাংচা দিও। আর কাল টিফিন বক্সে লুচি আলুর দম আর জল ভরা তাল সন্দেশ দেবে।বৌ অবাক হয়ে বলল--বলি এসব কেনার টাকা কোথায় পেলে?--পাঁচশো টাকা ভেঙে কিনেছি,বাকি টাকা আমার কাছেই থাকবে।রমা কেমন বোমকে গিয়ে ভাবল--মানুষটার হল কি?
রমার আরো কিছু অবাক হওয়ার বাকি ছিল।পরদিন ছিল তিনকড়ির মাইনে পাওয়ার দিন।তিনকড়ি মাইনের টাকাটা নিয়ে প্রথমে একটা মলে গিয়ে একটা দামী অফিস ব্যাগ কিনল।তারপর তার নিজের জন্য একজোড়া জুতো,তিনসেট
দামী পোশাক আর বৌয়ের জন্য একটা সিল্কের শাড়ি কিনে গোদরেজের শোরুমে গেল।সেখানে একটা গোদরেজের আলমারি পছন্দ করে বাড়ির ঠিকানায় ডেলিভারি দিতে বলল।সব কেনাকাটা করে বাড়ির ফেরার পথে পাড়ার মাংসর দোকান থেকে পাঁচশো চিকেন কিনে বাড়ি ঢুকল।প্যাকেটগুলো রমার হাতে দিয়ে বলল--দ্যাখোতো শাড়িটা পছন্দ হয় কিনা?রমা গালে হাত দিয়ে বলল--আর দুটো প্যাকেটে কি আছে?--আমার তিনসেট
পোশাক আর জুতো।শোনো এখন কিছু খাবোনা।গরম কচুরি আর রসোগোল্লা খেয়েছি।মাংসটা একটু ঝাল ঝাল করে রেঁধো।সংগে ঝুরো আলুভাজা, বোঁটাশুদ্ধ লম্বা বেগুন ভাজা আর চাটনি করবে।আর হ্যাঁ কাল একটা আমার আলমারি আসবে।ওটা রাখার জায়গাটা দেখিয়ে দিও।
রমা আগুন চোখে বলল--তুমি ভেবেছোটা কি?মাইনের টাকাগুলো ছয় নয় করার সাহস পেলে কোথায়?বলি টাকা কি গাছে ফলে?--না টাকা আমার পরিশ্রমে ফলে।আর একটা কথা এবার থেকে টাকা আমার আলমারিতে থাকবে।তুমি এই পাঁচশো টাকার নোটটা রাখো।কিন্ত খবরদার দায়ে না পড়লে ওটা ভাঙলে আমি অনর্থ করব।আর কাল অফিস ছুটির পর আমার দেওয়া শাড়িটা পরে তৈরি হয়ে থেকো।কাল আমরা সিনেমা দেখে রেস্টুরেন্টে মাটন বিরিয়ানি খেয়ে ফিরব।
রমা আকাশ থেকে পড়ার মতো মুখ করে বলল--হ্যাঁ গো তোমার কি হয়েছে? নেশা টেশা ধরেছো নাকি?এসব কি তুমি কি বলছ?
চলো কাল তোমাকে সাইকিয়াট্রিস্ট দেখিয়ে আনি। আমার মনে হচ্ছে নির্ঘাত তোমার মাথার গন্ডগোল হয়েছে।তিনকড়ি বহুদিন পর হো হো করে হেসে বলল--আমার কিছু হয়নি গো শুধু হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাসটা ফুল ফ্লেজে ফিরে এসেছে।
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments