Header Ads Widget

সত্যি_ভূতের_গল্প

সত্যি_ভূতের_গল্প Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)








দু'বছর আগে করোনা ছিলো না। তখন আমি ভূত নিয়ে মেতে ছিলাম। এখন যে হারে করোনার রোগী দেখছি তাতে কদিন পরে ওদের দলেই না যোগ দিতে হয়। ভুলভাল যদি কিছু লিখে থাকি সে জন্য সকল ভূতেদের কাছে অগ্রিম ক্ষমাপ্রার্থী। 😀

#সত্যি_ভূতের_গল্প...৩


মাত্র আট বছর আগেও খড়গ্রামে একটাকা দামের রসোগোল্লা পাওয়া যেত। আমি আর পীযূষদা রোজই সন্ধ্যায় গোটা পঞ্চাশেক রসোগোল্লা নিয়ে বসতাম। নরম নরম, ফুলো ফুলো, ধোঁয়া ওঠা রসগোল্লা।

সেই রসগোল্লা রস শুদ্ধু কানাতোলা থালায় ঢালতাম। তারপর একই থালা থেকে দুজনে মুঠো করে মুখে পুরতাম। এক এক মুঠোতে তিনটে থেকে চারটে রসগোল্লা উঠত। দুজনেই হাভাতের মত খেতাম। নইলে অন্যজন বেশী খেয়ে ফেলবে।

সেদিন সন্ধ্যায় আমার ডিউটি চলছে। সবে রসগোল্লা থালায় ঢেলেছি, হঠাৎ মফিজুলদার গলার আওয়াজ, “স্যার, শিগগিরি চলেন। খুব খারাপ পেশেন্ট এয়েচে।”

আমি হতভম্বের মত রসগোল্লা ভর্তি থালার দিকে চেয়ে রইলাম। এখন এই থালা ছেড়ে আমি যদি হাসপাতালে যাই, একটাও অবশিষ্ট থাকবে না।

পীযূষদা আমার দোনামোনা ভাবটা বুঝল। বলল, “চল, তোর সাথে আমিও যাচ্ছি। এসে দুজনে একসাথে খাব।”

হাসপাতালের এমারজেন্সিতে ঢুকে দেখি একজন মাঝ বয়েসী লোক নিথর শুয়ে রয়েছে। দ্রুত বুকে স্টেথো বসালাম। এক বুক জোড়া স্তব্ধতা। ভালো করে শুনে বুঝলাম মাঝে মাঝে দু একবার অনিয়মিত হার্ট সাউন্ড পাওয়া যাচ্ছে।

মফিজুলদা বলল, “যখন এসেছিল স্যার তখনও গ্যাস্‌প করছিল।”

মফিজুলদার কথার মধ্যেই লোকটি খাবি খাওয়ার মত একটা নিঃশ্বাস নিল। যদিও এই নিঃশ্বাস দেখে খুব আনন্দ পাওয়ার কিছু নেই। তবু শেষ চেষ্টা করে দেখা যাক।

আমি চেষ্ট কম্প্রেশন করে হৃদপিণ্ড চালু করার চেষ্টা শুরু করলাম। পীযূষদা দোতলায় দৌড়ালো আম্বু ব্যাগ আর এন্ডোট্রাকিয়াল টিউব আনতে। আমি চিৎকার শুরু করলাম, “সিস্টার শিগগিরি এড্রিনালিন টানুন। দাদা, অক্সিজেনটা বাড়াও। মাক্স দিয়ে অক্সিজেন দাও।”

একজন ময়লা শাড়ি পরা মহিলা হাউমাউ করে কান্না জুড়ল। তার শাড়ি ধরে দাঁড়িয়ে আছে ছেঁড়া ফ্রক পরা একটি বছর পাঁচেকের মেয়ে। ছোট্ট মেয়েটি বোবা দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। তার চোখের সামনেই একজন ঢাল তলোয়ার ছাড়া নিধিরাম সর্দার মৃত বাবার বন্ধ হয়ে যাওয়া হৃদপিণ্ড চালু করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

এইসব ক্ষেত্রে পরিকাঠামোহীন গ্রামীণ হাসপাতালে পরিণতি বিয়োগান্তকই হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে পীযূষদা যন্ত্রপাতি নিয়ে এমারজেন্সিতে পৌঁছানোর আগেই লোকটির হার্ট স্বাভাবিক ছন্দে চালু হয়ে গেল। সে নিঃশ্বাস নিতে শুরু করল। এবং আমাদেরকে আরও অবাক করে কিছুক্ষণের মধ্যে লোকটি চোখ খুলে চাইল। তার মুখ দিয়ে যন্ত্রণার শব্দ বেরিয়ে এল।

এতক্ষণে রোগীর রোগের ইতিহাস জানার সুযোগ পেলাম। লোকটির বউকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলাম, “কি হয়েছিল?”

বউটি কেঁদেই আকুল। বারবার শুধু জিজ্ঞাসা করছে, “ও সুস্থ্য হয়ে যাবে তো।”

পীযূষদা বলল, “একটু আগে মরে গেছিল। এখন আবার বেঁচে উঠেছে। এরপরে কি হবে বলা কঠিন। কি করে এরকম হল সেটা তাড়াতাড়ি বলুন।”

মহিলার কাছ থেকে জানা গেল, লোকটির নাম মোশারফ হোসেন। তিন-চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিল এবং স্থানীয় কোয়াক ডাক্তারের ওষুধ খাচ্ছিল। আধঘণ্টা আগে হঠাৎ তার শরীর খুব খারাপ লাগতে আরম্ভ করে। বুকে ব্যথা শুরু হয়।। তারপর ভ্যানে করে হাসপাতালে আনার সময় সে হেঁচকি তুলতে আরম্ভ করে। কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যায়।

বললাম, “এ রোগীকে বহরমপুর নিয়ে যেতে হবে। এর অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা দরকার।”

“কেন ডাক্তারবাবু, ওতো ভালো আছে। ঐ দেখুন চোখ মেলে তাকিয়েছে। আপনারা যা পারেন করেন। আমরা গরীব মানুষ, কি করে বহরমপুরে যাব।”

ইদানীং গরীব মানুষ কথাটা শুনলেই মাথাটা চড়াং করে গরম হয়ে যাচ্ছে। যেন গরীব মানুষ হওয়াটা এক বিশাল গর্বের ব্যাপার।

“ঠিক ঠাক ওষুধ খাওনা কেন?”

“গরীব মানুষ বাবু।”

“মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করোনি কেন?”

“গরীব মানুষ বাবু।”

“এত বিড়ি খাও কেন?”

“গরীব মানুষ বাবু।”

“ওষুধের লাইনে দাঁড়িয়ে ঝগড়া করছ কেন?”

“গরীব মানুষ বাবু।”

“হাসপাতালের দেওয়ালে থুতু ফেললে কেন?”

“গরীব মানুষ বাবু।”

একই জবাব শুনে শুনে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি। রেগেমেগে বললাম, “গরীব মানুষ বলে চিকিৎসা পদ্ধতিতো আলাদা হবেনা। আপনার বরকে বাঁচাতে হলে বহরমপুর হাসপাতালে নিয়ে যান।”

লোকটিকে একেবারে প্রফুল্লদার এ্যাম্বুলেন্সে তুলে বহরমপুরে রওনা করে দুজনে কোয়ার্টারে ফিরলাম। রসগোল্লা ততক্ষণে ঠাণ্ডা হয়ে গেছিল।

যারা এই অব্দি পড়ে ভাবছেন “একিরে বাবা ভুত কোথায়। এতো ভূতের গল্প শোনাবে বলে রসোগোল্লার গল্প, হাসপাতালের গল্প, গরীব মানুষের গল্প শোনাতে শুরু করল।” তাদের বলছি একটু ধৈর্য্য ধরুন। ভূতের গল্প শুরু হবে ঠিক এর দশ দিন বাদে। একদিন সন্ধ্যে বেলায় ঐ মোশারফের স্ত্রী নুরনেহার বিবি এসে হাজির। আমি এমারজেন্সিতে অন্য রোগী দেখছিলাম। নুরনেহার বিবি চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “কিছু বলবেন।”

“ডাক্তারবাবু, ঐ দিন আপনি একটা লোকের জীবন বাঁচালেন না, তারপর বহরমপুর সদর হাসপাতালে পাঠালেন...”

আমি বললাম, “হ্যাঁ, মোশারফ হোসেন। সে আছে কেমন?”

“ভালো আছে। তিনদিন আগে সদর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিয়েছে। ওখানে অনেক পরীক্ষা করেও খারাপ কিছু পায় নাই।”

“বা, খুব ভালো খবর।”

“কিন্তু ডাক্তারবাবু, একটা সমস্যা হয়েছে। বেশ জটিল সমস্যা।”

একটু চুপ করে থেকে নুরনেহার বলতে থাকল, “আমার মনে হয় ও সত্যি সত্যি মরে গেছিল। ওর আত্মা শরীর থেকে বার হয়ে গেছিল। সেই সুযোগে একটা জিন ওর দেহে ঢুকে পড়েছে।”

আমি বললাম, “কি যাতা বলছ।”

“যাতা নয় বাবু। আমি সত্যি কথাই বলছি। মরণের পরে যখন দেহটা গরম থাকে তখন জিন মানুষকে আছর করে। মানুষ আবার বেঁচে ওঠে।”

“যত সব কুসমস্কার। জিন বলে সত্যি কিছু হয় নাকি?”

“হবে না কেন। জিন আল্লাহ তাআলার একটি সৃষ্টি। যেমন তিনি ফেরেশ্তা, মানুষ সৃষ্টি করেছেন তেমনি সৃষ্টি করেছেন জিন। তাদের বিবেক, বুদ্ধি, অনুভূতি শক্তি রয়েছে। তাদের আছে ভাল ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা। তাদের মধ্যে আছে ভাল জিন ও মন্দ জিন।”

“তুমি কি করে বুঝলে তোমার স্বামীকে জিনে ধরেছে?”

“জিনে আছর করলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কাজ করে, যা সে সাধারণ অবস্থায় করতে পারত না। বাড়ি আসার পর থেকেই নাজিমার আব্বা সেসব করে চলেছে। আগে সে প্রতিদিন মদ্যপানের মত হারাম করত। মদ খেয়ে মন্দ মেয়েদের কাছে যেত। বাড়িতে ফিরে হল্লা করত। আমার, এমনকি নিজের মেয়ের গায়েও হাত তুলত। কিন্ত হাসপাতাল থেকে ফেরার পর অন্য মানুষ। একবারের জন্যও মদ ছোঁয়নি। সময় পেলেই মেয়েকে নবী রসূলদের গল্প শোনাচ্ছে। মেয়েকে বিকালে ঘুরতে নিয়ে যাচ্ছে। এক মুহূর্তও কাছ ছাড়া করছে না। গত রাতে যা হয়েছে তা মারাত্মক। আমাকে ঘুম থেকে তুলে রসের আলকাপ গান শুনিয়েছে।”

আমি বললাম, “তাহলে তো ভালোই হয়েছে। জিনটাকে ভালো জিনই বলতে হবে।”

“কি যে বলেন ডাক্তারবাবু। আমি সারারাত ভয়ে কেঁপেছি আর আয়াতুল কুরসী মনে মনে বলেছি। আয়াতুল কুরসী পড়লে জিন, ভূত প্রেতের ধারে কাছে ঘেঁষার কথা না। কিন্তু এই জিনের কিচ্ছু হয়নি। বেশ কড়া ধাতের জিন। ডাক্তারবাবু, যে করে হোক নাজিমার আব্বার শরীর থেকে জিনটাকে বের করে দিন।”

সর্বনাশ, মেয়েটা কি আমাকে ওঝা ঠাউরেছে। বললাম, “দেখুন দিদি, আমি কোনও জিনের কারবার করিনা। আপনি আলেমের কাছে যান। আমাকে রেহাই দিন।”

নুরনেহার বিবি অত্যন্ত ব্যথিত মুখে বিদায় নিল।

আমি ঘটনাটা ভূলেই গেছিলাম। মাস খানেক পরের কথা। আউটডোরের লাইনে দেখি মোশারফ হোসেন। সাথে তার স্ত্রীও আছে।

মোশারফ হোসেন ভালোই আছে। তার একটাই সমস্যা, বুকের বাঁদিকে ব্যথা। বেচারা ব্যথার চোটে মাঝে মাঝে ভালো করে নড়তেও পারছে না। তার বন্ধ হয়ে যাওয়া হৃদপিণ্ড চালু করার সময় বুকে ভালই চাপাচাপি করতে হয়েছিল। রোগা মানুষদের এক্ষেত্রে অনেকসময় বুকের হাড়ও ভেঙে যায়। মোশারফের হাড় ভাঙ্গেনি। কিন্তু ব্যথা ভালই হচ্ছে।

মোশারফ আমাদের জন্য মনোহরা নিয়ে এসেছে। বলল, “স্পেশাল ওর্ডার দিয়ে বানানো। আমরা গরীব মানুষ, আর কি বা দিতে পারি।”

আমি নুরনেহার বিবিকে জিজ্ঞাসা করলাম, “সব ঠিক আছে তো। জিন ওর ঘাড় থেকে নেমেছে?”

নুরনেহার এদিক ওদিক চাইল। দেখল মোশারফ ধারে কাছে নেই। তারপর ফিস ফিস করে বলল, “জিন হোক, ইফরীত হোক, কোন কিছুতেই আমার আপত্তি নাই। বিয়ের প্রথম আটটা বছর অনেক মার খেয়েছি। নেশা করে নিজের মরদকে অন্য মেয়ের কাছে যেতে দেখেছি। মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলি নাই। আজ সেই মানুষটা পুরো পাল্টে গেছে। নেশা করে না। সংসারের জন্য পয়সা এনে আমার হাতে দেয়। আমায় সোহাগ করে। মেয়েটাকেও আদর করে। রাত জেগে গান শোনায়। জীবনে এই প্রথম শান্তি পেয়েছি। তা যদি পরপুরুষের ভূতের জন্য হয় তো তাই হোক।”

আমি বললাম, “ওরকম ভাবছ কেন? এমনও তো হতে পারে, এতদিন ধরে ওর উপর কোন বদ জিনের আছর ছিল। সেটা কেটে গেছে।”

নুরনেহার বলল, “আমি ওসব নিয়ে ভাবছিই না। এতদিন বাদে মানুষের সম্মানটুকু পাচ্ছি। আমি তাতেই খুশি। ভূতের সাথে সংসার করতে আমার কোনও আপত্তি নেই।”

হাত ধরাধরি করে ওরা দুজন হাসপাতাল থেকে চলে গেল।











website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments