ভূতের ঝোল Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
ভূতের ঝোল.
"ডিং ডং, ডিং ডং, ডিং ডং ", পরপর তিনবার অনাথবাবুর বাড়ির কলিংবেলটা বেজে উঠলো।
সবে সকাল ৮ টা ২০, এতো সকালে এতো তাড়া নিয়ে কে এলো ভাবতে ভাবতে অনাথবাবু দরজার দিকে এগোলেন। এই দোতলা বড় বাড়িতে তিনি আর তাঁর স্ত্রী থাকেন। দুই মেয়েরই বিয়ে হয়ে গেছে এবং তারা উভয়েই এখন বিদেশে সেটেলড। স্ত্রী মাধুরী এখন পুজোতে বসেছেন আর সারাদিনের কাজের মেয়েটাকে একটু আগে তিনি দোকানে পাঠিয়েছেন তাই অগত্যা নিজেই দরজা খুলতে এগোলেন।
দরজা খুলতেই একরাশ প্রশ্নবানে ও অভিযোগে জর্জরিত হয়ে অনাথবাবুর মাথায় সব তালগোল পাকিয়ে গেলো।
"কী শুরু করেছেন কী আপনি?? লজ্জা লাগে না। এইবয়সে এসে লোক ঠকানোর কারবার শুরু করেছেন? এটা ভদ্রলোকের পাড়া। আমরা কিন্তু এর শেষ দেখে ছাড়বো।", এক নিশ্বাসে এতগুলো কথা প্রবল উত্তেজনাসহ ধমকির সুরে বললেন পাড়ার ক্লাবের অতীব সক্রিয় প্রেসিডেন্ট মুকুল ঘোষ। তাঁর সাথে ক্লাবের আরও ৪-৫ জন রয়েছে, প্রত্যেকে মুকুলবাবুর কথা একবাক্যে সমর্থন করলো।
অনাথবাবু সাতে - পাঁচে না থাকা নির্বিরোধী মানুষ তার উপর ৮ বছর ধরে লো প্রেসার ও সুগারে ভুগছেন। কোনোরমে ঢোক গিলে মিনমিনে স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, "মানে, কী হয়েছে সেটা যদি একটু বলেন।"
"কী হয়েছে?? বারন করা সত্ত্বেও আপনি আবার গত সপ্তায় আপনার ভুতুড়ে বাড়িতে নতুন ভাড়াটিয়া বসিয়েছেন। তাদেরই বউটা আজ ভোররাতে ভূতের ভয়ে বাথরুমে পড়ে গিয়ে পা ভেঙ্গে এখন হসপিটালে ভর্তি। এইসব শুধু আপনার জন্য হয়েছে। জেনেশুনে লোককে ভূতের মুখে ঠেলে দিতে লজ্জা করে না আপনার???
আপনার নামে থানায় কমপ্লেইন করা উচিত, এটেম্প্ট টু মার্ডার কেস হওয়া উচিত আপনার বিরুদ্ধে।
শেষবার ওয়ার্নিং দিচ্ছি ওই বাড়িতে আর ভাড়া বসাবেন না। হয় নিজে গিয়ে থাকুন নয় বাড়ি পাকাপাকিভাবে ভুতকে ছেড়ে দিন। নাহলে ফল ভালো হবে না। এই বয়েসে এতো টাকার লোভ কিসের?? টাকাগুলো কী মরার পর সাথে নিয়ে যাবেন নাকী??",
বলে এক জ্বলন্ত দৃষ্টি অনাথবাবুর দিকে ছুড়ে দিয়ে মুকুলবাবু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা ফিরে গেলেন।
ততক্ষনে রাস্তায় রীতিমতো লোক জড়ো হয়ে গেছে, সবাই তাড়িয়ে তাড়িয়ে অনাথবাবুর দুরাবস্থা উপভোগ করছে।
কোনোরকমে কাঁপা হাতে দরজা বন্ধ করে ঘরে এলেন অনাথবাবু।
তাঁর গিন্নির ততক্ষনে পুজো করা হয়েগেছিলো, অনাথবাবুকে সোফায় বসতে বলে মাধুরীদেবী বললেন,"আমি ও কিন্তু ঘরভাড়া দিতে বারন করেছিলাম, তুমি শুনলে না। এবার দেখছোতো কী অবস্থা! এভাবে তো কোনোদিন বাড়িটা বিক্রি ও করতে পারবোনা, পোড়ো বাড়ি হয়ে যাবে আস্তেআস্তে।"
অনাথবাবু স্ত্রীর কথাশুনে আক্ষেপের ভঙ্গিতে মাথা নাড়লেন।
অনাথবাবু তথা অনাথবন্ধু আচার্য আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অঙ্কে এম. এসসি পাস করে চন্দননগরের একটি হাইস্কুলে শিক্ষকতার চাকরি পান। তিনি কাটোয়ার মানুষ, প্রথম ৩-৪ মাস ডেইলি পাসেঞ্জারির পর মানকুণ্ডুর কাছে একটি ছোট ভাড়ার বাড়িটির সন্ধান পান। প্রথমে বিধবা মাকে নিয়ে সেই বাড়িতে থাকতে শুরু করেন ও পরে বিয়ের পর স্ত্রী মাধুরী সংসারের হাল ধরেন। বাড়িটা ছিলো তাঁর স্কুলেরই তৎকালীন হেডমাস্টারের শশুরবাড়ি। পরবর্তীকালে অনাথবাবু বাড়িটি কিনেও নেন। তখন মানকুণ্ডুর এই পাড়াটা এতো জনবহুল ছিলো না। বাড়িটি ছোট, একতলা, তিনটি ঘর ও একপাশে একটি বাথরুম আর কিছুটা খোলা বারান্দা।
এইবাড়িতেই তিনি প্রায় ৩৫ বছর কাটিয়েছেন। কালক্রমে মেয়েদের বিয়ে হয়ে তারা প্রথমে রাজ্যের ও পরে দেশের বাইরে চলে যায়। অনাথবাবুর স্ত্রী মাধুরী পূর্ববঙ্গের এক জমিদারবাড়ির মেয়ে। তাই প্রথম থেকেই তাঁর বড়ো বাড়ির শখ ছিলো, তাই অবসর গ্রহনের পর অনাথবাবু সারাজীবনের সঞ্চয় জমিয়ে পাশের পাড়ায় এই নতুন বাড়িটি নির্মাণ করেন। দুই মেয়েই চাকুরীরতা, জামাইরাও প্রতিষ্ঠিত তাই টাকার চিন্তা তাঁর ছিলো না।
বছর তিনেক আগে তাঁরা পাকাপাকিভাবে এই বাড়িতে চলে আসেন। প্রথম এক বছর পুরোনো বাড়ি ফাঁকায় পড়েছিল। মাঝে দু -একবার লোক লাগিয়ে পরিষ্কার করিয়েছিলেন অনাথবাবু তারপর অনেকেভেবে ও মেয়েদের পরামর্শে বাড়ি ভাড়া দেবার সিধান্ত নেন অনাথবাবু। তাঁরই স্কুলে মাস্টারি করতে আসা এক সদ্য বিবাহিত দম্পতিকে বাড়িভাড়া দেন। বছরখানেক সব ঠিক ছিলো। তারপর ভাড়াটে মেয়েটি সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়ায় স্কুল ছুটি নিয়ে বাড়িতে থাকতে শুরু করে আর তখন থেকেই গন্ডগোলের সূত্রপাত।
মাসখানেকর মধ্যেই সেই দম্পতি অনাথবাবুর ঘরে এসে জানায় ওই বাড়িতে ভূত আছে, প্রতিদিন রাত্রে এবং দুপুরের দিকে বাথরুমের মধ্যে থেকে "ঝপাং ঝপাং" করে এক অদ্ভুত আওয়াজ হয়, যার কোনো কারন তারা খুঁজে পাইনি। এতদিন তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা অবদি প্রথমে স্কুল ও তারপর কোচিং সেন্টারে পড়ানোয় ব্যস্ত থাকতো, রাতেও তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যেত তাই হয়তো খেয়াল করে নি। তারা অনাথবাবুকে ওঝা ডাকিয়ে ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিলে অনাথবাবু হেঁসে ব্যাপারটা উড়িয়ে দেন।
বলেন, "প্রায় ৩৫ বছর তোমাদের কাকিমা সারাদিন একা ওই বাড়িতে থেকেছে, কোই? কখনো তো কিছু হয় নি। আমি কতবার তোমাদের কাকিমা বাপের বাড়ি গেলে সারারাত একা থেকেছি কোনদিন কিছুই শুনি নি। এসব তোমাদের মনের ভুল। নতুন সদস্য তোমাদের বাড়িতে আসছে, প্রথমবার মা -বাবা হওয়ার আনন্দে ও টেনশনে তোমরা ভুল শুনেছো।"
সেই দম্পতি তখনকার মতো ফিরে গেলেও দিন সাতেকের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে দেয়।
এরকিছুদিন পর এক চন্দননগর স্টেট ব্যাঙ্কের এক সদ্য ট্রান্সফার হয়ে আসা কর্মী ওই ঘরটি ভাড়া নেই। তাঁদের তিনজনের সংসার। স্বামী, স্ত্রী ও এক মেয়ে, মেয়েটি কলকাতায় এক কলেজে পাঠরতা।
কিন্তু মাস দুয়েকের মধ্যে একই অজুহাতে তাঁরা ঘর ছেড়ে দেন। অনাথবাবু এবারে আর অতটা হাঁসি ঠাট্টা করতে পারেন নি। তিনি ঠিক করেন নিজে গিয়ে কয়েকদিন থেকে ব্যাপারটা দেখে আসবেন। কিন্তু স্ত্রী মাধুরী প্রথম থেকেই ব্যাপারটা খুবই সিরিয়াসলি নিয়েছিল, তাঁর বিশ্বাস এক বছর বাড়ি খালি পড়ে থাকায় কোনো অশুভ আত্মা এসে সেখানে ঘাঁটি গেড়েছে। অনাথবাবুর বড়জামাইবাবু আবার আসামে থাকেন, তিনি সেখানকার নাম করা তান্ত্রিক ও হাত দেখিয়ে। তিনি সব শুনে মাধুরীদেবীকে এক বড় যজ্ঞ করার নির্দেশ দেন এবং যজ্ঞ না করানো পর্যন্ত কাউকে সেই বাড়ির ত্রিসীমনায় ঘেঁষতে বারন করে দেন। মাধুরীদেবী তাঁর বড়জামাইবাবুকে গভীর শ্রদ্ধা করেন তাই অনাথবাবুর আর সেখানে যাওয়া হয় নি।
এরপর ৪ মাস বাড়ি ফাঁকা ছিলো। তারপর একদিন সকালে তিন বন্ধুর একটা গ্রুপ অনাথবাবুর ঘরে আসে। তারা চন্দননগর একটি কলেজের ছাত্র ছিলো এখন কলেজ শেষ করে কলকাতায় চাকরিতে ঢুকেছে। তাঁদের তিনজনেরই বাড়ি অনেক দূরে দালালের মারফত সন্ধান পেয়ে তারা এই বাড়িটা নিয়ে থাকতে চায়। গিন্নি আপত্তি করলেও অনাথবাবু সানন্দে রাজী হয়ে যান। তিনি যুক্তিবাদী মানুষ, ভুতপ্রেতে বিশ্বাস করেন না।
তাঁর বিশ্বাস ছিলো ওই পাড়াটা একটু নির্জন আর ওই মহিলারা বাড়িতে একা থেকে নিজের মনেই এসব গল্প বানিয়েছে। তাই তিনজন ইয়ং ছেলে বাড়ি ভাড়া নিতে চাইলে তিনি নিশ্চিন্ত হলেন।
কিন্তু মাসখানেক কাটার আগেই সেই এক সমস্যা, বরঞ্চ বলা ভালো এবারে বেশী সমস্যা। আগের দুজন ভাড়াটিয়া সংসারী মানুষ ছিলো, পাড়া প্রতিবেশীদের সাথে বেশী মেলামেশা করতো না। তাই ভূতের খবর এতদিনে বাইরে চাওর হয় নি। কিন্তু এই ছেলেগুলো নিয়মিত ওই পাড়ার ক্লাবে যেত, তাই মাসখানেকের মধ্যে তারা যে ভূতের অজুহাত দিয়ে শুধু বাড়িই ছাড়লো না সাথে অ্যাডভান্স এর পুরো টাকা নিয়ে গেলো এবং গোটা পাড়ায় রটিয়ে দিয়ে গেলো কীভাবে অনাথবাবু সবজেনেশুনে শুধুমাত্র কটা টাকার জন্য তাদের মৃত্যুমুখে ঠেলে দিয়েছিলেন।
এরপর ৬ মাস আর কেউ আসে নি ঘর ভাড়া নিতে। অনাথবাবুও মেয়েদের সাথে পরামর্শ করে ঠিক করেছিলেন কিছু বছরপর কোনো প্রোমোটারকে বাড়িটি বিক্রি করে দেবেন।
তাঁর ছোটোমেয়ে রীমা আবার খুব সেনসেটিভ ও কল্পনাপ্রবন। ছোটবেলার স্মৃতি তার এভাবে নষ্ট করার ইচ্ছা ছিলো না, মূলত তার কথা ভেবেই অনাথবাবু বাড়ি বেচতে চাননি।
২.
গত সপ্তাহে অনাথবাবুর এক পুরনো ছাত্র এক দম্পতি ও একটি ৯-১০ বছরের ছেলেকে নিয়ে আসে। তারা ঘরভাড়া খুঁজছে। লোকটি রিষড়ার একটি মিলে কাজ করে, আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। তাদের কোয়াটারটি কর্তৃপক্ষ থেকে মেরামত করছে তাই মাস দুয়েকের জন্য ঘরভাড়া প্রয়োজন।
স্ত্রী মাধুরী চোখের ঈসারায় বারন করলেও নেহাত মানবিকতা খাতিরে ও ঘরের বদনাম ঘোচার আসায় অর্ধেকের ও কম ভাড়ায় অনাথবাবু ঘরভাড়া দিতে রাজী হন।
কিন্তু তারপর আজ সকালে এই কান্ড।
ইতিমধ্যে মাসখানেক আগে রাখা ২৪ ঘন্টার কাজের মেয়েটি রাস্তায় সবশুনে এসে অনাথবাবুকে অন্তত তিনবার শঙ্কিত স্বরে চোখ গোলগোল করে, "এ বাড়িতে আবার ভূত নেই তো?? তাহলে কিন্তু আমি কাজ করবো না। আমি চলে যাবো।"
এই কথাশুনে মাথা গরম হয়ে গেলেও তিনমাসের খোঁজ করার পর পাওয়া লোক পাছে কাজ ছেড়ে দেয় এই ভয়ে মিষ্টি হেঁসে তাকে বোঝাতে লাগলেন অনাথবাবু।
একটুপরে স্ত্রী মাধুরী চা নিয়ে আসতেই কলিং বেলটা বেজে উঠলো। ক্লাবের লোকেরা আবার এসেছে এইভেবে কাজের লোককে বাঁধা দিয়ে অনাথবাবু নিজে গিয়ে দরজা খুললেন।
কিন্তু দরজা খুলতেই চমক।
"কেমন আছো মামা", বলে প্রণাম করলো তাঁর অতি প্ৰিয় ভাগ্নে মলয়।
হাঁসিমুখে মলয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে ভেতরে নিয়ে এলেন অনাথবাবু।
স্ত্রী মাধুরীও মলয়কে দেখে খুব খুশী হলেন, সাথেসাথে রান্নাঘরে চলে গেলেন জলখাবারের ব্যবস্থা করতে।
মলয় অনাথবাবুর ছোটবোন রচনার একমাত্র ছেলে। অনাথবাবু তাকে বরাবরই খুব স্নেহ করেন। মলয়ের বাবা তথা অনাথবাবুর ভগ্নিপতি আর্মিতে চাকরি করতে গিয়ে কম বয়েসে মারা যান। তারপর তারা কাটোয়ায় থাকতো। কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার আগেই বোন রচনা মারা গেলে অনাথবাবু মলয়কে নিজের কাজে নিয়ে এসে রেখেছিলেন। মামারবাড়িতে থেকে ৩ বছর আর্ট কলেজে পড়ার পর মলয় স্কলারশিপ পেয়ে দিল্লীর এক ইউনিভার্সিটিতে পড়তে চলে যায়। বর্তমানে সে আর্টিস্ট হিসাবে মুম্বাইয়ে একটা বড় স্টুডিওতে কাজ করছে। প্রতি মাসে ফোনে যোগাযোগ থাকলেও মলয় অনেকদিন মামারবাড়ি আসে নি। তাই আজ হটাৎ এইরকম বিপদের দিনে ভাগ্নেকে কাছে পেয়ে খুব খুশী হন অনাথবাবুর।
কিছু প্রাথমিক কথাবার্তার মামা মামীর চিন্তারভাব খেয়াল করে মলয় কী হয়েছে জানতে চায়। প্রথমে বলতে না চাইলেও শেষপর্যন্ত মলয়ের জেদের কাছে হার মেনে সব বলতে বাধ্য হন অনাথবাবু।
সবশুনে মলয় হাঁসিমুখে বলে, "বেশ তো। আমি আজ রাতেই থাকবো ওখানে। রাস্তায় বিশুর সাথেও দেখা হয়েছিল, ওকেও সাথে নিয়ে নেবো। তারপর রাতে নাহয় ভূতের সাথেই পিকনিক হবে। 😂😂"
মাধুরীদেবী শুনেই প্রবল আপত্তি জানান। কিন্তু মলয় নাছোড়বান্দা। অনাথবাবু মনেমনে এই প্রস্তাবে সাই দিলেও মুখে প্রকাশ করতে পারছিলেন না।
শেষে একপ্রকার জোর করেই বর্তমান ভাড়াটিয়াদের সাথে যোগাযোগ করে তাঁদের থেকে ঘরের চাবি নিয়ে আসা হয়।
ভাড়াটিয়া বলে সে দুপুরের মধ্যে মধ্যে গিয়ে মালপত্র সব আজই নিয়ে আসবে। তারপর কোনো হোটেল বা ধর্মসালায় থাকবে। ওই বাড়িতে আর সে একমুহূর্ত ও থাকবেনা।
সন্ধ্যার মধ্যে কলেজবেলার
বন্ধু বিশুকে নিয়ে মলয় ওই বাড়িতে প্রবেশ করলো। তারা সাথে শোয়ার জিনিসপত্র এনেছিল। সব জিনিসপত্র রেখে মাটিতে বসে দুই বন্ধু গল্পে মেতে ওঠে। ৮ টা নাগাদ মলয় বাথরুম যায়। বাথরুমে গিয়ে কাজ করে ফিরে আসার সময় অপ্রত্যাশিত ভাবে একটা "ঝপাং " করে আওয়াজ হয় যেনো জলের মধ্যে কেউ জোরে আঘাত করলো। চমকে গেলেও মলয় না ঘাবড়িয়ে আওয়াজের উৎস্য অনুসন্ধান করতে থাকে কিন্তু আরও দুবার শব্দ হলেও শব্দের কোনো লজিক্যাল উৎস্য খুঁজে পাইনা মলয়।
বেরিয়ে এসে মলয় বিশুকে কিছুনা বলে চিন্তিত মুখে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসে।
মাধুরীদেবী রাতের খাবার করে দিতে চাইলেও নিয়ে আসে নি মলয়। বলেছিলো আজ বহুদিন পর বিশুর সাথে তার প্ৰিয় রেস্টুরেন্টে বিরিয়ানি খাবে তাই বিশুকে নিয়ে সেইদিকেই রওনা দেয় মলয়।
রেস্টুরেন্টে গিয়ে কিন্তু অতটা তৃপ্তি সহকারে খেতে পারলো না মলয়। বারবার ওই আওয়াজটার কথা মনে পড়তে লাগলো।
খাওয়া শেষ করে রাস্তায় আসতে আসতে বিশুর কথা শুনতে লাগলো। বিশু একটা ছোট চাকরি করে কিন্তু এখন চাকরির সাথে ব্যবসাও করতে চায়, সে বিষয়েই কথা বলছিলো।
মলয় তাকে কিসের ব্যবসা করবে জিজ্ঞেস করাতে সে বললো মাছের ভেড়ি করবে। সেখানে বিভিন্ন রকমের মাছ চাষ হবে। তারপর বিশু মলয়ের দিকে তাকিয়ে বললো, "তুইও আয় না। তুই ও তো মাছ খেতে ভালোবাসতিস। অ্যাকুরিয়ামের সখ ছিলো তোর। চলে আয় শেয়ারে বিজনেস করবো।"
মলয় উত্তর না দিয়ে মৃদু হেঁসে মাথা নাড়লো। কিছুক্ষনের মধ্যে ওইবাড়িতে ফিরে বিশু বাথরুমে ঢুকে ওই আওয়াজ শুনে যথেষ্ট ঘাবড়ে গেলো। মলয় তাকে শান্ত করে শুতে বললো। কিছুক্ষন গল্প করার পর দুজনেই শুয়ে পড়লো।
বিশু ঘুমিয়ে পড়লেও মলয়ের আর কিছুতেই ঘুম আসতে চাই না। শুয়ে শুয়ে সে আকাশ পাতাল ভাবতে থাকে, পুরোনো দিনের অনেক কথা যেনো সিনেমার ছবির মতো চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
হটাৎ একটা পুরোনো কথা বিদ্যুৎ চমকের মতো মাথায় আসতেই মলয় খাটের মধ্যে উত্তেজনায় প্রায় লাফিয়ে উঠলো।
৩.
পরদিন সকাল সাড়ে এগারোটা বেজে যাওয়ার পরও মলয় ফিরলো না দেখে অনাথবাবু আর মাধুরীদেবীর তো চিন্তায় প্রায় মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার যোগাড়। তারওপর মলয়ের ফোনটাও সুইচ অফ।
মাধুরীদেবীর প্রথম থেকেই মলয়কে ও বাড়িতে পাঠানোর বিন্দুমাত্র ইচ্ছা ছিলো না। রাগে গজগজ করতে করতে তিনি অনাথবাবুকেই দোষারোপ করতে থাকেন। তাই সাড়ে ১১ টা বেজে গেলে আর থাকতে লা পেরে অনাথবাবু গায়ে জামা গলিয়ে ও বাড়িতে যাওয়ার জন্য উদ্যোগী হলেন। দরজা খুলে বেরুতে যাবেন ঠিক সেই মুহূর্তে বাড়ির কলিং বেল বেজে উঠলো। দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেখলেন মলয় হাঁসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে।
তারপর মলয়কে কিছু বলার আগেই সে ঘরে ঢুকে মাধুরীদেবীকে উদ্দেশ্য করে বললো, "মামী কিছু খেতে দাও। খুব ক্ষিদে পেয়েছে।"
খাওয়া দাওয়ার পর মুখ ধুয়ে সোফায় আরাম করে বসে মলয় অনাথবাবুর দিকে তাকিয়ে বললো, "মামা, তোমার ভূত তাড়িয়ে দিয়েছি।"
"কী হলো কাল?? সব বল বাবা।", উৎকণ্ঠাভরা গলায় বললেন মাধুরীদেবী।
মলয় বলতে শুরু করলো, "কাল সন্ধ্যায় বাথরুম গিয়ে ওই আওয়াজ আমিও প্রথমে ঘাবড়ে গেছিলাম। বাথরুমটা এমনিই নির্জনে আর নির্জন জায়গায় হটাৎ ওইরকম আওয়াজ শুনলে যে কেউ ঘাবড়ে যাবে।
কিছুই আমার মাথায় আসছিলো না। তারপর বিশুর একটা কথার সূত্র ধরে বিছানায় শুয়ে শুয়ে পুরোনো কথা ভাবতে ভাবতে হটাৎ একটা চিন্তা আমার মাথায় এলো। তখনি বিশুর সাথে আলোচনা করে ওর ফোন থেকে আমাদের বন্ধু শঙ্করকে ফোন করলাম। শঙ্কর ভোর ৬ টার মধ্যে ওর দুজন লোককে নিয়ে চলে এলো। শঙ্কর এখন সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করার কাজ করায়। ট্যাংক খুলে ঘন্টাখানেকের মধ্যে যা ভেবেছিলাম তাই বেরুলো।
তোমাদের কী মনে আছে শেষবার যখন আমি এসেছিলাম তখন মামীকে ডাক্তার মাগুর মাছের ঝোল খেতে বলেছিলো। আমি নিজে বাজারে গিয়ে প্রায় ১০-১২ টা মাগুর মাছ কিনে এনেছিলাম। বাথরুমের এককোনে বড় গামলায় জল দিয়ে মাছগুলোকে রাখা হয়েছিল, পুঁটির মা রোজ একটা-দুটো করে মাছ মামীকে ঝোল করে দিতো। "
"হ্যাঁ, কেনো মনে থাকবে না? একদিন তো পুঁটির মায়ের হাতে মাছ সিং ফুটিয়ে দিয়েছিল, আমি আবার ওষুধ দিলাম।", বললেন অনাথবাবু।
"হুম। সেদিনই রাতে আমার দিল্লী যাওয়ার ছিলো। পুঁটির মা বলেছিলো দুটো মাছ লাফিয়ে পালিয়ে গেছে। আমি কাল রাতেই বুঝতে পারলাম যে মাছদুটো পায়খানার প্যানে পড়ে ভেতরে ঢুকে গেছিলো।
আর হয়েছেও তাই, সেপটিক ট্যাংক থেকে দুটো বড় মাগুর মাছ পাওয়া গেলো। দুটোরই ওজন প্রায় ১২-১৪ কেজি হবে। মাগুর মাছ তো এতো সহজে মরে না। তাই দিব্যি ওতো বড় হয়ে ট্যাংকের ভেতর জলে ঘাই মারতো। সেইকারনেই ওই রকম আওয়াজ হচ্ছিলো। আর সবাই শুনে কোনো কারন না পেয়ে বেচারা ভূতের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিলো। "
মাধুরীদেবী হাঁসতে হাঁসতে বললেন, "তা মাছগুলো কী করলি?"
মলয়ও হাঁসিমুখে বললো, "একটা মাছ ওই শঙ্করকে দিয়ে দিলাম। ওরা তো খুব খুশী, বললো শেওড়াফুলির বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যাবে। আর একটা মাছ ওইলোকেদের দিয়ে ভালো করে ধুইয়ে এক জেলেকে ডেকে কাটিয়ে আমাদের পাড়ার ক্লাবে গিয়ে প্রেসিডেন্ট সাহেবের হাতে দিয়ে এসেছি। তাঁকে বলেছি কাল রাতে আমরা ওইবাড়িতে একজন পিশাচসিদ্ধ তান্ত্রিক নিযে এসে একটা যজ্ঞ করিয়েছি, মাছটা তারই প্রসাদ। তিনি তো মাছ পেয়ে খুব খুশী। জানিয়েছেন ভবিষ্যতে বাড়িতে ভাড়াটে এলে আর কোনো ঝামেলা তিনি করবেন না।"
অনাথবাবু সবশুনে মহানন্দে বাচ্চাদের মতো প্রায় দুহাত তুলে নাচার ভঙ্গিতে বললেন, "বেটা মুকুল, আমাকে ঘোল খাওয়াতে এসেছিলি না??
এবার তুই ভূতের ঝোল খা। 😂😂😂😂"
সমাপ্ত...
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments