টিফিন_রহস্য Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
#টিফিন_রহস্য
"স্যার একটু চলুন, আজ আবার টিফিন হাওয়া হয়ে গেছে রুম থেকে। "
ফুলকুঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সদ্য জয়েন করা হেডমাস্টারমশাই রমেন বাবু উঠে দাঁড়ালেন চেয়ার থেকে।
টানা বারান্দার দুপাশে সারি সারি ক্লাসরুম। আর উত্তর মাথায় শেষদিকের একটা রুমে রাখা হয় টিফিন। দপ্তরী কালীপদ সেই রুমের তালা খুলে দিতেই রমেনবাবু ঢুকে দেখলেন, ভেতরে টেবিলে রাখা টিফিনের গামলা গুলো। তবে তার মাঝে নেই ক্লাস থ্রির টিফিনের গামলাটা।
"রুমের চাবি তো তোমার কাছে থাকে কালীপদ, তবে প্রতিদিন এভাবে ঘর থেকে টিফিন চুরি যাচ্ছে কেমন করে।"
কালীপদ বললো, " স্যার কি আমাকে সন্দেহ করছেন? এ সামান্য টিফিন চুরি করে আমি কেনইবা আমার চাকরিটা খোয়াতে যাবো বলুন স্যার৷ "
রমেন বাবু ভেবে দেখলেন আসলেও তাই৷ ও কেন শুধু শুধু তা করতে যাবে?
"তা, রুমের তালার ডুপ্লিকেট চাবি কি আর কারও আছে নাকি কালীপদ। '
" না তো স্যার। "
খেঁকিয়ে উঠলেন রমেনবাবু। তবে প্রতিদিন কীভাবে চুরি যাচ্ছে টিফিন?"
কিছুক্ষণ থম মেরে রইলো কালীপদ।তারপর বললো, '' আচ্ছা স্যার, আপনি কি জানেন আপনার আগে যিনি ছিলেন হেডমাস্টার, উনি কেন সাসপেন্ড হয়েছিলেন? '
" হ্যা, জানি তো। ছাত্রদের অযথা মারধর করতেন,তুচ্ছ কারণে কঠোর শাস্তি দিতেন... তাই সাসপেন্ড করা হয়।"
"ভুল জানেন স্যার। এখানে অন্য কাহিনী আছে। "
"তা এতো না পেঁচিয়ে সোজাসুজি বলো না কি কাহিনী? "
"দীপু বলে এক ছাত্র ছিলো এ স্কুলের। ক্লাস থ্রিতে পড়তো। বাড়ি পাশের গজাপাড়া গ্রামে। খুব গরিব ছিলো ছেলেটা। বাবা ছিলো বেহেড মাতাল৷ আয় রোজগার করতো না কিছুই৷ বউ- বাচ্চা থাকতো না খেয়ে। সেদিকে তার কোন খেয়ালই ছিলো না। সারাক্ষণ মদের নেশায় চুর হয়ে থাকতো। তা দীপু লেখাপড়ায় তেমন ভালো না হলেও প্রতিদিন টিফিনের লোভে ক্লাস করতে আসতো। তা একদিন, তপন বলে ওর ক্লাসেরই একটা ছেলে, দীপুর সিংগারাটা কেড়ে নেয় । তারপর দীপু তেড়ে গিয়ে ওকে দুঘা লাগিয়ে ফের ওর থেকে সিংগারা হস্ত গত করে। তপন তখন হেডমাস্টারমশাইকে গিয়ে বিচার দেয় ওর নামে। তপন ছিলো আবার স্কুল কমিটির সভাপতি সুমিতবাবুর ছেলে৷ হেডমাস্টারমশাই তাই দীপুকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এলোপাথাড়ি বেত্রাঘাত করে৷ এখানেই শেষ নয়। সুমিতবাবু ব্যাপারটা জেনে , দীপুর বাড়ি গিয়ে ওর মা - বাবাকে যাচ্ছেতাই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, দীপুকেও স্কুল থেকে বহিষ্কার করে। মদের নেশায় চুর গজেনের তখন মাথায় আগুন ধরে গেছিলো। রান্নাঘর থেকে একটা চ্যালাকাঠ এনে দীপুকে মার লাগায়। দীপুর মা ছুটে এসে ছেলেকে বাঁচানোর সুযোগ পাননি। তার আগেই গজেনের চ্যালাকাঠের একটা বারিতে দীপুর মাথা মারাত্মক ভাবে জখম হয়। হাসপাতালে নেবার সুযোগ পাননি৷ জায়গাতেই মারা যায় দীপু।
এ ঘটনার সপ্তাহ খানেক পরে, অনেক রাত হয়ে গেলেও সুমিতবাবুর গঞ্জ থেকে ফেরার নাম নেই দেখে বাড়ির লোকেরা উনাকে খুঁজতে বের হন। তা শেষে উনার লাশটা পাওয়া গেছিলো গ্রামে ঢুকার মুখে খালের মধ্যে৷ শীতকাল, পানি নেই বললেই চলে। উনার মাথাটা প্যাকে গাড়ানো ছিলো, আর পা দুটি উপরে । গ্রামের মানুষ বলাবলি করতে লাগলো এ দীপুর অতৃপ্ত আত্মার কান্ড৷ যদিও তখন আমি ব্যাপারটা বিশ্বাস যাই নি। কারণ এ তো মানুষের কাজও হতে পারে। "
"কেন, উনার কোন শত্রু ছিলো নাকি?"
বললেন রমেনবাবু৷
"হা, তা ছিলো বইকি। স্কুল কমিটির সভাপতি নির্বাচনে কমলবাবু উনার প্রতিপক্ষ ছিলেন। তাছাড়া দুজনার মধ্যে পুরনো বিরোধ ও ছিলো। তা যাকগে সে কথা৷ এদিকে তপন নাকি তার আশেপাশে দীপুকে দেখতে পায়, ও নাকি তাকে মেরে ফেলার ভয় দেখায়, ওর মাকে সে বললো সেই কথা৷ সদ্য স্বামী হারা রানুর শোকের রেশ তখনো কাটেনি৷ ছোট বাচ্চা তপন, ওর কথা তিনি পাত্তা দেননি তেমন। সবচে বড় কথা যে মারা গেছে সে আবার কোত্থেকে এসে তপনকে ভয় দেখাবে? ছোট বাচ্চার মনের খেয়াল ভেবে তিনি ব্যাপারটা খুব একটা আমলে নেননি৷
গ্রামবাসীর ধারণা যে সত্যি তার প্রমাণ মিললো দিনকয়েক পর। সেদিন তপন বিকেলে মাঠে খেলতে গেছিলো, তা সন্ধ্যােয় সে ফিরছে না দেখে রানু চিন্তিত হয়ে পরে। ওর কাকারা বিস্তর খোঁজাখুঁজি করে গ্রামের শেষ মাথায় জঙ্গলের মধ্যে একটা গাছের গোড়ায় তপনের ঘাড় মটকানো দেহটা আবিষ্কার করে৷ পরপর দু দুটো নিষ্ঠুর হত্যাকান্ডে পুরো গ্রামে আলোড়ন শুরু হয়ে যায়। হেডমাস্টারমশাই সুরাজবাবু চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালান। উনাকে সাসপেন্ড করা হয়নি। আসলে আপনার কাছে আসল ঘটনা ইচ্ছে করেই সকলে চেপে গেছে৷ আর টিফিন হাওয়া হয়ে কোথায় যায় তাও আমি জানি। কিন্তু ইচ্ছে করেই বলিনি আপনাকে। আপনি কি মনে করেন...না করেন।"
"ম...মানে তুমি জানো, কে নেয় টিফিন?"
"হ্যা স্যার। জানি বইকি। "
"কে, সে?"
" আসুন আমার সাথে। "
বারান্দা থেকে নামলো কালীপদ।
"কোথায় যাচ্ছো।"
"চলুনই না৷ সব নিজের চোখে দেখবেন। "
কালীপদের পেছন পেছন স্কুল ছাড়িয়ে মিনিটদশেক হেঁটে গজাপাড়া গ্রামে ঢুকলেন রমেনবাবু। ছোটো একটা পুকুরের ধারে একটা কাঁঠাল গাছের সামনে এসে থামলো কালীপদ। রমেনবাবু সামনে তাকিয়ে দেখেন কিছু ছোটো ছোটো বাচ্চা হৈ হুল্লোড় করতে করতে লুচি খাচ্ছে সেখানে, আর স্টিলের গামলাটা যেটা কিনা হাওয়া হয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন টিফিন সমেত,সেটা গাছের গোড়ায় পড়ে আছে।
"কিছু বুঝতে পারলেন স্যার৷ প্রতিদিন দীপুর প্রেতাত্মাই গামলাটা এনে এখানে রেখে যায়। এ গ্রামের প্রায় সব বাচ্চারাই গরীব দিপুর মতো। দুবেলা দুমুঠো পেটপুরে খেতে পায় না ওরা৷ তা দীপু এদের সামান্য কিছু খাবারের সংস্থান করে৷ এরাও ভাবে না যে কে প্রতিদিন ওদের জন্যে এখানে টিফিন রেখে যায়! আমি আরও আগেই ব্যাপারটা টের পেয়েছিলাম৷ কিন্তু ইচ্ছে করেই বলিনি কিছু। কিন্তু এভাবে আর কতদিন মুখবন্ধ করে থাকবো তাই আজ সব খোলাসা করে দিলাম স্যার।"
রমেন বাবু কিছু বললেন না। চোখ থেকে সোনালী ফ্রেমের চশমাটা খুলে শার্টের কোণে মুছলেন। কালীপদ অবাক হয়ে দেখলো, হেডমাস্টারমশাইয়ের চোখের কোণে চিকচিক করছে জল।
এরপর থেকে আর কোনদিনই ক্লাস থ্রির টিফিনের গামলা হাপিশ হয়নি। কেননা রমেনবাবুর নির্দেশে প্রতিদিন টিফিন সমেত অতিরিক্ত একটা গামলা ঐ রুমে অন্যান্য গামলার সাথে সাজানো থাকতো। প্রতিদিন শুধু ঐ গামলাটাই হাপিশ হতো, আবার যথাসময়ে চলেও আসতো আগের জায়গায়৷
সমাপ্ত
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments