অতিথি প্রেত ভব Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
অতিথি প্রেত ভব
আপনারা আজ পর্যন্ত যত ভূতের গল্প শুনেছেন তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ ভুতের বাসস্থানের কোনভাবে গিয়ে পড়েছে, অথবা কোন জিনিসকে নিজের বাড়িতে আনে যেটা ভূতের। এর থেকে একটা জিনিস আমরা মোটামুটি আন্দাজ করে নিতে পারি যে নতুন বাড়িতে ভূত থাকে না। আজকের গল্পে আপনাদের এই ধারণা ভাঙতে চলেছি।
২০২০ সালের আগস্ট মাস, ক্রমাগত লকডাউন এর ফলে মানুষের আর্থিক অবস্থার অবনতির পথে। তাই ফ্ল্যাট বাড়ি ও বিক্রি খুব একটা হচ্ছে না। এই জন্য কিছু মালিক অনিচ্ছাসত্ত্বেও ফ্ল্যাটের দাম কমিয়ে দিচ্ছে করতে বাধ্য হচ্ছেন। সেই সুযোগ নিয়ে বিপিনবাবু একটি 3bhk ফ্লাট নিয়ে ফেললেন ভি আই পি রোডে। নতুন ফ্ল্যাট পেইন্ট এর গন্ধ এখনও যায়নি। নিয়মমতো পূজার্চনা করে গৃহ প্রবেশ করলেন তারা এক সপ্তাহ পরে। বিপিনবাবু একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে সার্ভিস করেন। দিনভর উনি অফিসে থাকেন, বাড়িতে থাকে ওনার স্ত্রী বিমলা, কন্যা কিকি, আর ওনার মা শর্মীলা দেবী। কিকির বয়স তিন বছর, কথা শিখেছে, যতক্ষন জেগে থাকে, এক সেকেন্ডও সময় কথা না বলে নষ্ট করে না। পত্নী বিমলা সারাদিন রান্নাবান্নার কাজ আর নতুন ফ্ল্যাট গোছানোর কাজে ব্যস্ত থাকে।
ঘটনাটা শুরু হয় একটা বৃষ্টির রাতে। বিমলার একটু শরীর খারাপ ছিল, রান্না হয়নি, তাই অফিস থেকে ফেরার সময় বিপিনবাবু রেস্টুরেন্ট থেকে চিকেন কষা আর রুটি নিয়ে আসছিলেন রাত্রে খাবার জন্য। রাত্রি মোটামুটি দশটা হবে। লোডশেডিং ছিল, রাস্তাঘাট অন্ধকার, তারপর বৃষ্টি হওয়ার জন্য ফাঁকা। পাড়ার কোনে ছোট্ট ঘরটার পাশ দিয়ে আসার সময় বিপিনবাবুর গাটা কেমন যেন ছম ছম করে উঠলো। এখানে নতুন আসার জন্য পাড়া সম্বন্ধে তার খুব একটা আইডিয়া নেই। এটুকু জানেন যে বাড়িটাতে কেউ থাকে না। মোবাইলের ফ্লাশ লাইট টা জ্বেলে বড় বড় পা ফেলে বাড়িতে এগিয়ে চললেন বিপিনবাবু। বৃষ্টি খানিকক্ষণ আগে থেমে গেছে, বাড়ির সামনের কৃষ্ণচূড়া গাছটা থেকে হটাৎ ছড় ছড় করে পাতায় পাতায় জমে থাকা বৃষ্টির জল গুলো পড়ে গেল। হাওয়া হবে বোধহয় ভেবে বিপিনবাবু হাঁটার বেগ বাড়িয়ে দিলেন ও বাড়ি চলে এলেন। প্রতিদিনই বাড়ি ফিরলে প্রথমে কিকি কে কোলে নিতে হয়। তারপর কিকি সারাদিন কি করেছে সেটা তার বাবাকে তোতাপাখির মতো বলে। এটাই বিপিনবাবুর ডেইলি রুটিন। আজকে রুটিনে একটু বাগড়া পড়ল। একে তো এত রাতে বাইরে থেকে মাংস আনার জন্য মা শর্মীলা দেবী একটু বকাবকি করলেন। তারপরে কিকিও আজকে বেশি কিছু কথা বললো না। মাঝে মাঝে আলমারির উপরের দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে থাকলো। যাই হোক এর পরে সবাই মিলে মাংস রুটি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। রাত্রে আন্দাজ দুটো নাগাদ বিপিন বাবুর ঘুমটা ভাঙলো। কোন একটা শব্দে তার ঘুম ভেঙেছে! অভ্যেস মতো বাথরুম যাওয়ার জন্য উনি বেডরুম থেকে বেরোলেন আর দেখলেন যে রান্নাঘর থেকে একটা হালকা আলোর শিখা বেরিয়ে আসছে। যেন মনে হচ্ছে ভেতরে একটি নাইট ল্যাম্প জ্বলছে। কিন্তু রান্নাঘরে তো নাইট ল্যাম্প নেই! তাহলে কি চোর নাকি? চোর অবশ্য রান্নাঘরে কি করবে? এইরকম সাত-পাঁচ ভেবে বিপিনবাবু লাস্টে রান্নাঘরের দিকে গেলেন। ভিতরে উনি যা দেখলেন তো একজন সুস্থ মানুষকে হার্ট অ্যাটাক করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। রেফ্রিজারেটরে দরজাটা হা করে খোলা, তার ভেতর থেকে হালকা আলো বাইরে পড়েছে। আর সেই আলোতে দেখা যাচ্ছে ফ্রিজের সামনে কেউ বা কিছু বসে রয়েছে। উবু হয়ে বসে থাকা একটা মহিলার মত আকৃতি। পরনে কালো শাড়ির মতো কিছু একটা। তার নিচ থেকে বেরিয়ে আছে সাদা কঙ্কালসার পা দুটো। পায়ে বড় বড় নখ। মুখটা যেন একটা মাথার খুলির উপরে খয়রি রঙের চামড়া বাড়ানো হয়েছে, চোখের সাদা অংশ বলে কিছু নেই পুরোটাই চকচকে কালো। ফিজের সামনে বসে বসে ফ্রিজে রাখা অবশিষ্ট মাংস গুলি চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে। সহসা বিপিনের প্রবেশ করাতে এদিকে মুখটা ফিরিয়ে থাকলো। আর মুখটা খুলে বিশ্রী দাতের সারি বের করে একটা রক্ত জল করা শব্দ 'হা আ আ আ আ আ আ' করে ফ্রিজের মধ্যে লাফিয়ে ঢুকে গেল। এতগুলো অতিপ্রাকৃত জিনিস একসাথে সহ্য করতে না পেরে বিপিনবাবু অজ্ঞান হয়ে পড়লেন।
জ্ঞান ফিরল পরের দিন সকালে। নিজের বিছানায় শুয়ে রয়েছেন, গায়ে অসম্ভব ব্যথা। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করাতে বিপিন বাবু তার সমস্ত বৃত্তান্ত বললেন। বিমলা ও তার কোন কথাতেই বিশ্বাস করলে না, সে বরাবরই বিজ্ঞানমনস্ক, ফিজিক্সে অনার্স, তার উপরে ভুত-প্রেত একদমই বিশ্বাস করে না। অফিসে একই চেয়ারে বসে কাজ করার জন্য বিপিন বাবুর কোলেস্টরল ও সুগার হালকা বেশি আছে। তাই এযাত্রা দোষ ওদের দুজনের নামেই গেল। শর্মিলা দেবি কিন্তু ঘটনাটা সিরিয়াসলি নিয়ে ছিলেন।
পরবর্তী ঘটনাটি ঘটলো সেই দিন রাত্রে। একেই রবিবার তারপর বৃষ্টি বৃষ্টি ওয়েদার, ওদের ফ্যামিলি তাড়াতাড়ি ডিনার শেষ করে ঘুমাতে গেল। কিকি তার ঠাম্মির কাছেই শোয়, আর একটা বেডরুমে এই দম্পতি শোয়ে। বৃষ্টির ওয়েদারের সৌজন্যে বিপিন বাবু আর বিমলা একটু ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছিল, এমন সময় বিমলা চেঁচিয়ে উঠলো৷ ও ও ওটা কী! এই বলে রুমের কোনে ওয়াড্রোবের দিকে ইশারা করল। নাইটল্যাম্পের হালকা আলোতে বিপিনবাবুর দেখলেন ওখানে একটা ছায়ামূর্তি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এবার আরো ভালো করে দেখার সুযোগ হলো। লম্বা অন্তত 5 ফুট হবে, গায়ে কালো শাড়ী জড়ানো। হাত আর পায়ের চামড়া গুলো সাদা রঙ্গের। দুই হাতে ও পায় বড় বড় নখ, মুখটা রোগা কঙ্কালসার, চোখগুলো আলকাতরার মত কালো। সহশা হা আ আ আ আ আ আর্তনাদ করে দেওয়ালের মধ্যে মিলিয়ে গেল। বিমলার বিজ্ঞানমনস্ক মানসিকতা ভেঙে চৌচির করে দেয়ার জন্য এই ঘটনাটা যথেষ্ট ছিল। যাইহোক বাকি রাতটা তারা বিনিদ্র ভাবেই কাটিয়ে দিল।
সকালে বিপিনবাবু একটা ক্যাজুয়াল লিভ নিতে বাধ্য হলেন। চললেন কালীঘাটের উদ্দেশ্য, উনার কলেজ লাইফের বন্ধু কিশোর বরাবরই একটু ভূত প্রেত অতিপ্রাকৃতিক বিষয় নিয়ে ইন্টারেষ্ট রাখে। তার সাথে সব ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করতে সেই পাঠিয়ে দিল কালিঘাটের এক ফকিরের কাছে। ফকির বাবার আস্তানা টা খুজতে তার খুব একটা অসুবিধা হলনা। সমস্ত বৃত্তান্ত শোনার পরে ফকিরবাবা বললেন এটা একটা সামান্য ভূতের কাজ, তিনি একটা থলেতে কালো রঙের কিছু পাউডার ওনাকে দিলেন, আর তিন জনকে পরার জন্য তিনটে তাবিজ দিলেন। পাউডারটা যেন বাড়ির দরজা ও জানালাতে ছড়িয়ে দেওয়া হয় আর তাবিজটা যেন তিনজনে পরে নেয়। তবেই এই সমস্যার সমাধান হবে।
বিপিনবাবুর সমস্ত কিছু নিয়ে বাড়ি ফিরলেন এবং ফকিরের বলে দেওয়া প্রত্যেকটা কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করলেন। প্রথম দুই দিন বাড়িতে আর কোন অসুবিধা হলো না। তৃতীয় দিন সন্ধ্যেবেলার ঘটনা, বিপিনবাবুর যথারীতি তার অফিসে রয়েছেন। বিমলা সন্ধ্যেবেলা কিকি কে নিয়ে একটু পড়তে বসেছেন। কিকি বরাবরে পড়াশোনায় ভালো কিন্তু আজকে যেন একটু বেশী রকম অন্যমনস্ক, বারবার মা জিজ্ঞেস করাতে টেবিলের নিচের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলল ও কে মা? বিমলা দেখল টেবিলের নিচে ওই কালো অবয়বটি বসে রয়েছে, তার সাথে চোখে চোখ পড়ামাত্রই রক্ত জল করা সেই ভয়ঙ্কর আর্তনাদ হা আ আ আ আ আ করে অদৃশ্য হয়ে যায়।
জরুরী ফোন বিপিনবাবু তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরেন। পুরো ঘটনা শোনার পর যে ব্রাহ্মণকে দিয়ে গৃহে প্রবেশের পুজো করানো হয়েছিল তার শরণাপন্ন হন। ভুত ছাড়ানো বা ভাগানো টা ব্রাহ্মণের কম্য নয়। সেটা সবাই জানত, তবুও আমার সাথে যোগাযোগ কোন উপযুক্ত ব্যক্তির সন্ধানের আশায়। ব্রাক্ষ্মন পুরো ঘটনা শুনে দমদমের বাড়ি এক ওঝার ঠিকানা দিলেন।
রাত্রিরে বিপিনবাবু গাড়ি চালিয়ে উনার বাড়িতে গিয়ে হাজির হলেন। ও যার নাম ইন্দ্রজিৎ মুখার্জি, বয়স 45 থেকে 50 হবে, ছিপছিপে চেহারা, চোখদুটি শিশুর মত সরল। তিনি সমস্ত বর্ণনা শুনে পরের দিন বাড়িতে আসবেন বলে বললেন। পরদিন সন্ধ্যে হয়ে গেলো তাও ইন্দ্রজিৎ বাবু এলেন না। বিপিনবাবু মনে মনে ভাবতে লাগলেন এনার উপর বিশ্বাস করে ভুল হয়েছে। আজকে রাতটা দেখি কাল থেকে না হয় অন্য ওঝার সন্ধান করা যাবে।
রাত আটটা নাগাদ কলিং বেলের আওয়াজে গেট খুললেন বিপিনবাবু। দেখেন বাইরে ইন্দ্রজিৎ বাবু দাঁড়িয়ে রয়েছেন। গেট খোলা মাত্র উনি সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে এলেন না। একটু চারদিকে দেখে তারপরে ভেতরে এলেন। কারো সঙ্গে কোনো কথা না বলে উনি এক এক করে তিনটা বেডরুম ডাইনিং কিচেন বাথ্রুম সব জায়গায় কিছু যেন খুঁজে বেড়ালেন। মোটামুটি আধাঘন্টা নাগাদ উনার এই প্রক্রিয়া চলল। তারপরে ডাইনিংয়ের মেঝেতে আতপ চাল দিয়ে বড় একটি গন্ডি কেটে তার ভিতরে বাড়ির সবাইকে নিয়ে উনি বসলেন।
বিপিনবাবুকে উদ্দেশ্য করে বললেন আজকে একটু দেরি হয়ে গেল, তোমার কথা মতো আমি ওই পুরানো বাড়িটার ব্যাপারে অনুসন্ধান করছিলাম আর তাতেই এত দেরি। যাইহোক অনেক খোঁজখবর করে কিছুটা জানতে পেরেছি।
পাড়া-প্রতিবেশী থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী ওই বাড়িতে একটা বুড়ি আর তার ছেলে থাকতো, দুবছর হলো চাকরির জন্য ছেলেটা চেন্নাইতে থাকে, একটা কোম্পানিতে কাজ করে। বছরে দুই তিনবার বাড়ি আসে, বাড়িতে বুড়ি মানে মন্জুবালা একাই থাকতেন। তার বয়স 65-70 হলেও তিনি খুব কর্মঠ ছিলেন। সবার সঙ্গে হেসে কথা বলতেন, বাচ্চাদের খুব ভালবাসতেন। রান্না-বান্না করতে, খেতে আর খাওয়াতে খুব ভালোবাসতেন। ছেলে প্রতিমাসে খরচা করার জন্য কিছু টাকা পাঠাতো, তাতে ওনার ভরন পোষন হয়ে যেত। সবকিছু এভাবেই চলছিল, কিন্তু বাধ সাধলো লকডাউন। ছেলে চেন্নাইতে ফেঁসে গেল। বুড়ি কতদিন আর ঘরে একা থাকবেন, সময় সুযোগ হলে বাইরে বের হতেন, সবার সঙ্গে মিলেমিশে চলা যার স্বভাব তিনি একা কি করে থাকবেন? এইভাবে মারণব্যাধি কে তিনি নিজের শরীরে জায়গা দিলেন। পাড়ার লোকেরা যথাসাধ্য দেখাশোনা করল, ছেলেকেও খবর দিলো কিন্তু লকডাউনের সময় ছেলের আসতে কিছুদিন সময় লাগবে। দুর্ভাগ্যক্রমে মন্জুবালা দেবী এতদিন অপেক্ষা করতে পারলেন না। পাড়ার ছেলেরা তার দেহটাকে দাহ করল। এর পরে শোনা যায় এক দুই বার তাকে দেখতে পাওয়ার।
আমার আন্দাজ সেদিন রাতে আপনি যে খাবার নিয়ে ফিরছিলেন, আপনার সাথে ও আপনার বাড়ি এসেছে। আর ফকির বাবার কথা শুনে আপনারা যে আয়োজন করেছেন তাতে হিতে বিপরীত হয়েছে। ফকির বাবা না দেখেই উপায় বাতলেছেন তাতে ঘরের ভিতরে থাকা আত্মা ঘরেই বন্দী হয়ে গেছে। এই ধরুন আপনি ঘরবন্দি দিয়েছেন যাতে বাইরে থেকে কেউ ঘরে আসতে না পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে যাকে আপনি আটকাতে চান সে তো ঘরের ভিতরেই রয়েছে। আপনার ঘরবন্দির জন্যে ঘরের আত্মা ঘরেই বন্দী হয়ে গেছে বাইরে যেতে পারেনি। শরীরে রোগ হলে যে রকম ডাক্তারকে না দেখিয়ে ওষুধ খেতে নেই, সেইরকম এইসব সমস্যায় ওঝা বা গুনীন কে নিয়ে বাড়িতে এসে তবেই এর প্রতিকার করা উচিত। না হলে এর মত হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আপনার কন্যাকে কিকি মাঝেমাঝে তাকে দেখতে পায়। আপনাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বুঝলাম আত্মাটা আপনাদের কোন ক্ষতি করেনি, ক্ষতি করার উদ্দেশ্য থাকলে এতদিনে নিশ্চয়ই করতে পারত। কয়েকবার দেখা দিয়েছে এবং কিছু মেসেজ দিতে চাইছে যেটা আপনারা বুঝতে পারেননি। দেখি কার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে কি জানতে পারা যায়। এই বলে ইন্দ্রজিৎ বাবু প্লানচেটের ব্যবস্থা করলেন।
বিপিনবাবুর কে মাধ্যম হওয়ার জন্য অনুরোধ করতে তিনি অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজী হলেন। ছোট টি-টেবিল টাকে পরিষ্কার করে উপরে লাল কাপড় পেতে তার ওপরে একটি মোমবাতি জালালো হল। ইন্দ্রজিৎ বাবু মনে মনে মন্জুবালা কে স্মরণ করতে কিছুক্ষণের মধ্যে বিপিনবাবু অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করতে লাগলেন। টেবিলে বিপিনবাবু আর ইন্দ্রজিৎ বাবু ছাড়া তৃতীয় আর কোন ব্যাক্তি বসেন নি। বিমলা শাশুড়ি আর কন্যাকে নিয়ে পাশের একটি বেডরুমের মধ্যে চালের গন্ডির ভিতরে অপেক্ষা করছিল। কিছুক্ষন পর বিপিনবাবুর কন্ঠে অপরিচিত মহিলার কণ্ঠস্বর শোনা গেল। এবার ইন্দ্রজিৎ বাবু গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করতে শুরু করলেন।
-কে এসেছিস?
-মন্জুবালা।
-কি চাই এখানে?
-এখানে থাকতে চাই।
-এটাতো তোর বাড়ি নয়, তাহলে কেন থাকতে চাস?
-আমার কিকিকে খুব ভালো লাগে ওর সাথে আমি থাকতে চাই।
প্রশ্নোত্তর পর্ব হয়তো আরো কিছুদূর চলত হঠাৎ, বিমলার ভয়াল আর্তচিৎকারে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হল। ইন্দ্রজিৎ বাবু বললেন আর সম্পর্ক করার দরকার নেই বাকিটা আমার জানাই আছে। তিনি বিপিনবাবু কে বললেন মন মন্জুবালার অস্থি বিসর্জন দিতে আর শ্রাদ্ধ শান্তির ব্যবস্থা করতে। ওতেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
পরের দিন বিপিনবাবু পাড়ার লোকেদের থেকে চাবি নিয়ে মঞ্জুবালার অস্থি গঙ্গায় বিসর্জন দিলেন। ইন্দ্রজিৎ বাবুর তত্ত্বাবধানে শ্রাদ্ধশান্তি ও সম্পন্ন হল। এরপরে আর কোন অসুবিধা হয়নি।
আপনারা রাত্রে খাবার নিয়ে বাড়ি ফেরেন নাকি? অন্ধকার রাস্তা দিয়ে? বড়দের বলে যাওয়া কথা একটু মেনে চলুন।
ধন্যবাদ। কেমন লাগল কমেন্ট করে জানাবেন।
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments