Header Ads Widget

অন্য_রূপ

অন্য_রূপ Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)





#ইভেন্ট_সিরিয়াল_কিলিং
#ছোটগল্প
#অন্য_রূপ


রাত প্রায় বারোটা। কোলকাতার এক ঘুপচি গলিতে এক ছোট্ট গার্লস মেস। মেস ঠিক বলা যায় না। এতটাই ছোট। একটি ঘরে চারজন মেয়ে থাকে তারা একসাথে। পাশে এক মস্ত উঠান। উঠানের শেষ প্রান্তে বাড়িওয়ালা প্রৌঢ় নিঃসন্তান ভদ্রলোক স্ত্রীসহ থাকেন। 

ঘরে অন্য তিনজন বান্ধবী শুয়ে পড়েছে। তাদের সকাল সকাল ওঠাই অভ্যাস। শুধু মধুমিতাই জেগে। গল্প লিখতে বসেছে এখন সে। সিরিয়াল কিলারের গল্প লিখবে সে আজ। অনেকদিনের ইচ্ছা তার এই টপিকে একটা গল্প লেখার। মূলতঃ সে ভৌতিক সাহিত্যই লিখে থাকে, অথবা অলৌকিক। ভৌতিক গল্প লেখার থেকে অলৌকিক গল্প লিখতেই সে ভালোবাসে। বেশ কিছুদিন ধরে এটাই তার নেশা। যদিও কোনো ম্যাগাজিনেই সে গল্প দিতে চায় না। বেশী কেউ জানেও না তার এই নেশার খবর। নিজের প্রতিভা নিজের ডায়েরীর মধ্যেই লুকিয়ে রাখতে সে ভালোবাসে। 

আসলে সারাদিন এক বেসরকারী সংস্থায় ঠিকে কাজ করে রাতটুকু রাখে সে তার নিজের জন্য। যদিও প্রতি রাত জাগা তার পক্ষে সম্ভব হয় না, তবু এক একটা রাত জাগতে হয় বৈকি! তবেই তো তার নেশা খাতা কলমে গল্প হয়ে ফুটে উঠতে পারে। আজ তাকে সিরিয়াল কিলারের গল্প লেখার নেশাতে পেয়েছে। সিরিয়াল কিলার তার বড্ড পছন্দের প্লট। কিন্তু অলৌকিক গল্প লেখার নেশাতে সে এতদিন এই প্লটকেই অবহেলা করে এসেছে। তবে আর দেরী নয়। আজ রাতের মধ্যেই সে লিখে বাস্তবায়িত করবে বহুদিনের পুরনো ইচ্ছাকে। 

এর আগে যতবারই সে গল্প লিখতে বসেছে কেমন একটা আবেশ ঘিরে ধরেছে তাকে। বলা ভালো গল্পের মধ্যের গভীরে ঢুকে তাকে বাস্তবায়ন করাটাই তার বৈশিষ্ট্য। এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পাঁচ মিষ্টিপ্রেমী মানুষের এক এক করে ঘটে যাওয়া সিরিয়াল কিলিং এর ঘটনাকে রহস্যের আকারে সাজিয়ে গল্প লিখতে শুরু করেছে সে। 

ঘটনার যে প্রধাণ চরিত্র, তার নাম 'মনন'। সেই এই গল্পে ধারাবাহিক খুনী। তাকেও সে মিষ্টিপ্রেমীরূপেই দেখাতে চায়। সে এক অনাথ যুবক। ছোট থেকেই সে মিষ্টি খেতে ভীষণই ভালোবাসে। হ্যাঁ! সে এতটাই মিষ্টি খেতে ভালবেসে এসেছে যে বর্তমানে এসে এক বেলাতেও মিষ্টি খেতে না পাওয়াটা তার কাছে এক ধরণের অভিশাপ বলে মনে হয়। যদিও তার অন্য কোনো শারিরীক অসুস্থতা তেমন নাই, তবু এই আতঙ্ক থেকেই সে এখন এক ধরণের মানসিক রোগে ভুগতে শুরু করেছে যার ফল হয়েছে এখন ভয়ঙ্কর। অন্য মিষ্টিপ্রেমীদের সে আর সহ্য করতে পারে না। তাদের মেরে ফেলাই বর্তমানে তার নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

এতটুকু লিখেই থামলো মধুমিতা। একটা কাজ করার আছে। ঘরটা পুরো নিস্তব্ধ। পুরো থমথমে এত নিস্তব্ধতা তার ভালো লাগছে না।

প্রায় পনেরো মিনিট পরে সে আবার গল্প লিখতে বসলো। এবারে গল্পে তাকে খুন করা দেখানো শুরু করতে হবে। মনন এর আগেও দুটো খুন করেছে। সেটা সে ফ্ল্যাশব্যাকে পরে দেখিয়ে দেবে। আপাতত মাঝখান থেকেই গল্পটা দেখাতে চায় সে। তিন নম্বর খুনের জন্য তৈরী হচ্ছে মনন। ঘাড়ের দিকের এক বিশেষ শিরাতে বিষাক্ত সুঁচ ফুটিয়ে দিতে পারলেই খুব সহজেই কাজ সারা যায়। এর জন্য মননকে যথেষ্ট পড়াশোনা করতে হয়েছে। যদিও এভাবে খুন করাও বেশ কঠিন, তবু সে খুন করাই বা কেমন যাতে কাঠিন্য থাকবেই না?

রাত বাড়লেই তার গল্পের চরিত্র মিশনে নামবে। কোলকাতার বিখ্যাত সব মিষ্টির দোকানের দিকে বেশ কিছুদিন ধরেই নজর রেখেছে সে। কারা বেশী মিষ্টি খায় তাদের চিহ্নিত করে তারপর তাদের অনুসরণ করে ঠিকানা চিনে এসেছে। এক একটা খুন এক এক ভাবে করে সে। প্রথাগত সিরিয়াল কিলারদের তুলনায় সে এখানে একটু আলাদা বৈকি। তবু একটা ব্যাপারে সে নিজের ছাপ রেখেই যায়। খুন করার পরে সে মৃতদেহের পায়ে মার্কার পেন দিয়ে 'ম' দিয়ে দেয়। মিষ্টির 'ম', মননের 'ম'। কিন্তু সবথেকে বড় কথা, এতকিছু সত্ত্বেও এখনও অব্দি তাকে কেউ ধরতে পারা তো দূর, কেউ সন্দেহই করেনি। খুন করতে শুরু করলেই তার মধ্যে কেমন এক যেন এক অলৌকিক শক্তি চেপে বসে। এই যেমন আগের খুন দুটো করার পরে তো প্রায় ধরা পড়েই যেত সে। কিন্তু হঠাৎ করে এত দৌড়নোর শক্তি সে কোথা থেকে পেয়েছিল, তার নিজেরই অজানা। দৌড় না উড়ে যাওয়া কে জানে। 



পেয়ে গিয়েছে চিহ্নিত মিষ্টিপ্রেমীকে। মনন এই জীবনের তিন নম্বর খুনটাও করে ফেলেছে। মনে অপার শান্তি এখন মননের। আজ রাতেই সে বাকি দুটো খুনও করতে চায়। যথারীতি মধুমিতা কেমন এক ঘোরে চলে গিয়েছে সে, গল্প মানেই তার বড় আপন, নিতান্তই আপন অনুভব। তবু একটু থামলো সে। তেষ্টা পেয়েছে তার। জল খেতে হবে। শরীরটাও কেমন যেন ঝিমঝিম করছে। উঠে দাঁড়ালো মধুমিতা। 

মিনিট কুড়ি পরে আবার লিখতে বসলো সে। মাথার মধ্যে গল্পের প্লট কিলবিল করছে। দ্বিতীয় খুনটা মনন শ্বাসরোধ করে করবে। এক একবার এক ধরণের পদ্ধতি। দারুণ রোমাঞ্চকর। 

কিছুক্ষণ বাড়তি বর্ণনা দিয়ে যেতে হল মধুমিতাকে। এবারে আবার আসল জায়গায় ঢোকার পালা। চার নম্বর মিষ্টিপ্রেমীকে মারতে একটু বেগ পেতে হয়েছে শ্বাসরোধ করে খুন করা অত সহজ হয় না, কিন্তু তবু সে পেরেছে। এবারে 'ম' লিখে দিয়ে পালানোর পালা মননের। 

নাঃ! একটু থামলো মধুমিতা। গল্পটা আর একবার প্রথম থেকে পড়ল। গতি ঠিকঠাক আছে তো? বোরিং গল্প তার একদম পছন্দ নয়। দু একটা স্থান পড়ে নিজেরই একটু কেমন লাগলো তার। বেশ রোমাঞ্চকর খুনী ফুটে উঠেছে তার কলমে। খুনীকে শেষ পর্যন্ত কি সে পুলিশের হাতেই তুলে দেবে? মাথার দুদিকে আঙুল দিয়ে চাপ দিয়ে ভাবতে বসলো মধুমিতা। দূর! আগে পাঁচ নম্বর খুনটা করুক তো মনন, তারপর নাহয় ভাবা যাবে! চেয়ার সরিয়ে উঠে দাঁড়ালো মধুমিতা। মাথায় একটু বাম লাগানো দরকার। 

মিনিট দশেক পরেই আবার লিখতে বসেছে সে। মনন এবারে গল্পের শেষ খুনটা করবে। ছুরিতে ধার দেওয়া আগে থেকেই আছে। এবারে শুধু পেটের মাঝখানে বিঁধে দেওয়ার পালা। এর পরে আবার অতীতের ঘটনা ছোট্ট করে বলে দিতে হবে এ গল্পে। আর মনন? ও সে আর খুন করবে কিনা, ধরা পড়বে কিনা, তা একটু রহস্য করেই রাখতে চায় মধুমিতা। ছোটগল্পে একটু অতৃপ্তির রেশ রাখা ভালো। তাতেই গল্পের পূর্ণতা। 

**

গল্প লেখা প্রায় শেষ। আগে যে মেসে থাকতো মধুমিতা, সেখান থেকে এক সপ্তাহ হল এই নতুন মেসে এসেছে সে। একই রাতে দুটো মেয়ের খুন হয়ে যাওয়ার পরে সেখানে থাকাটা আর নিরাপদ মনে হয়নি মধুমিতার। পুলিশের জেরাতে পড়তে কারই বা ভালো লাগে! যদিও চলে আসার সময়েও কেউ যে তাকে দেখতে পায়নি, বাধা দেয়নি, এটাই আশ্চর্য্যজনক। 

উঠে দাঁড়ালো মধুমিতা। ভোর হতে এখনও একটু দেরী। গল্পটা আর একটুই বাকি। চটপট তাকে পালাতে হবে। পরে শেষ করবে সে। পিছন ঘুরে তাকালো সে। আফিম মেশানো দুধ খেয়ে তিন বান্ধবী সেই যে ঘুমিয়েছে, আর তো উঠলো না। 

- "মিষ্টি খাবি? আর মিষ্টি খাবি? কতবার বলেছি না আমি মিষ্টি খেতে ভালোবাসি?" 
ক্রুদ্ধ গলায় চিৎকার করে উঠলো মধুমিতা। 

তারও কপাল খারাপ, যে মেসেই সে থাকতে যায় তার ঘরেই কিনা অন্য রুম মেটরা তার চোখের সামনে দিন রাত মিষ্টি খায়! এ অনাথ জীবনে একটাই তো লোভ তার। তাতে কি অন্যের ভাগ আর সহ্য হয়? 

প্রথম বান্ধবীর ঘাড়ের সুঁচটা বের করে নিল মধুমিতা। দ্বিতীয় জনের মুখের উপর থেকে চাপা দেওয়া বালিশটাও তুলে পাশে রেখে দিল সে। তৃতীয় জনের পেট থেকে এবারে ছুরিটা বের করে নেওয়ার পালা। 

রক্ত বয়ে যাওয়ার দাগ এখনও স্পষ্ট। সেই রক্তের ধারা বয়ে যাওয়ার পথ পেয়েছে ঘরের নালা দিয়ে। একটু রক্ত আবার চাপ ধরে রয়েছে। ভোরের আলো ফুটতে এখনও বেশ কিছুটা দেরী। 

এবারে তিনজনের পায়ে 'ম' লিখে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পালা। মধুমিতার 'ম'।
তার আগে কাল সন্ধ্যায় ওদের কিনে আনা মিষ্টির প্যাকেটের পড়ে থাকা মিষ্টিগুলো খেয়ে নিতে হবে তাকে। কাল থেকে আবার নতুন কাজ খুঁজতে হবে, নতুন ঠিকানা। আবার এক অন্য রূপের ছদ্মবেশে নতুন মিশন শুরু করতে হবে। 

ভোরের আলো ফুটতে চলেছে। মধুমিতা চলে যাচ্ছে চুপি চুপি। একটা মাছি তার মুখের উপর বসে তাকে বিরক্ত করছে বারবার। মিষ্টির গন্ধ পেয়ে এসেছিল বোধ হয় তার কাছে। 

-"উফ্ফ! এও তো আর এক মিষ্টিপ্রেমী! অসহ্য!"

লম্বা জিব বের করে টিকটিকির মত ছোঁ মেরে মাছিটিকে খেয়ে নিল মধুমিতা। 

-"আর খাবি মিষ্টি?"

**********
(সমাপ্ত)














website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments