পেয়ারার বীজ Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)
#পেয়ারার বীজ
চিনি তখন বছর চারেকের। চিনি মানে আমার মেয়ে, এখন ও আট। সেই সময় আমরা সদ্য ঐ গ্ৰামটায় গেছি। আমার বরের বদলীর চাকরী, তাই প্রায়ই আমাদের নতুন নতুন জায়গায় যেতে হতো। এটা ছিল পুরুলিয়ার একটি গ্ৰাম। গ্ৰাম হলে যা হয় আর কি, বেশ ফাঁকা ফাঁকা লাগে। সন্ধ্যা হতে না হতেই সব নিঃস্তব্ধ। আমরা এর আগে যে কোন গ্ৰামে থাকিনি তা নয়, কিন্তু এই গ্ৰামটা একটু বেশিই নিঝুম। "যাই হোক থাকতে যখন হবে তখন এতো ভেবে লাভ নেই" এই মনে করে আমি ঘর বেশ সাজিয়ে গুছিয়ে ফেললাম কয়েকদিনের মধ্যেই। কিন্তু একটা সমস্যায় পড়লাম, কোন কাজের লোক পেলাম না। অগত্যা আমাকেই ঘরের সমস্ত কাজ করতে হতো। সাথে ছোট বাচ্চা থাকলে যে কি নাকানি চোবানি খেতে হয় সেটা তো আপনারা জানেন ই। এই ভাবেই কাটলো কটাদিন। আমার বর সারাদিন ওর কাজের জায়গায় থাকতো, আমি মেয়েকে নিয়ে একাই থাকতাম বাড়িতে। প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হলেও পরে সয়ে গেছিল।খালি সময় আমি গোয়েন্দা গল্পের বই পড়তাম। আমাদের বাড়িটা ছিলো দোতলা, নিচের তলায় রান্নাঘর আর বসার ঘর, আর উপরের তলায় দুটো শোবার ঘর আর একটা ছোট ঠাকুর ঘর। এরকমই এক দিন আমি সব কাজ সেরে চিনিকে খাওয়াতে গেলাম। চিনি বেশিরভাগ সময় থাকতো দোতলার কোনের দিকের শোবার ঘরটায়। ঐ ঘরটা যেহেতু আমাদের কোন কাজে লাগতোনা তাই ওটা চিনির খেলার ঘর হয়ে উঠেছিল। চিনি দেখি জানালা দিয়ে তাকিয়ে কারো সাথে কথা বলছে আর হাঁসছে। আমি কাছে গিয়ে দেখি, পাশের বাড়ির জানালায় বসে এক প্রৌঢ়া মহিলা। বয়স আন্দাজ পঞ্চান্ন/ ছাপ্পান্ন হবে। চোখের নিচে কালি, কিন্তু পরনের শাড়িটা ময়লা হলেও বেশ দামী সেটা বোঝা যায়। ওনাকে দেখে কেন জানিনা চেনা চেনা লাগলো কিন্তু ঠিক চিনতে পারলাম না। আমি ভাবলাম, "বাবা এবাড়িতে মানুষ থাকে, জানতাম না তো"... বাড়িটা বেশ পুরোনো, ওটিও দোতলা। যাই হোক মৃদু হেঁসে আমি ওনাকে জিজ্ঞেস করলাম, " মাসিমাকে এর আগে তো দেখিনি, তা আপনি বুঝি এই বাড়িতেই থাকেন"?.. লক্ষ করলাম একটু হেঁসে উনি আবারো আমার মেয়ের সাথে কথা বলতে ব্যস্ত হয়ে গেলেন। আমি ভাবলাম থাক, উনি হয়তো আমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছুক নন। যাই হোক এভাবেই বেশ কিছুদিন কাটলো, চিনির সাথে ওনার দোস্তি ক্রমে ক্রমে বাড়তে লাগলো। একদিন আমাদের বাড়ির সামনের পেয়ারা গাছটা থেকে পেয়ারা পারা হলো। চিনি ঐ ঘরটায় দুটো পেয়ারা নিয়ে ঢুকলো, আমি আড়াল থেকে দেখলাম ও ঐ মাসিমাকে জানালা দিয়ে একটা পেয়ারা ছুড়ে দিয়ে আধো আধো গলায় বলল," দিদু পিলালা থাও"... আমি হেঁসে চলে গেলাম। আমার বরকে ও আমি আমার মেয়ের নতুন দোস্তের কথা বলেছিলাম, শুনে ও বলেছিল," কার মেয়ে দেখতে হবে তো, বন্ধুত্ত্বের শুরুই করলো হাফ সেঞ্চুরি করে "... পরের দিন সকালে হঠাৎ দেখি চিনি কান্না জুড়েছে। ছুটে গেলাম ঐ ঘরটায়, আমায় দেখে চিনি হাত বাড়িয়ে দিল কোলে ওঠার জন্য। ওকে কোলে তুলে কপালে একটা চুমু দিয়ে বললাম, " কি হয়েছে পুচকুলি"?... ও কান্না জড়ানো গলায় বললো, " দিদু আতেনি, সানলা বন্ন"... আমি দেখলাম সত্যিই জানালাটা বন্ধ, যেন সেটা কোন দিন খোলাই ছিল না। খুব অদ্ভুত লাগল, চিনিকে একটা চকোলেট দিয়ে কোনমতে চুপ করালাম। সেদিন থেকেই আমার নতুন কাজের লোক আসবার কথা। কাজের মাসির নাম ছিল নমিতা, সে কাজে আসতে আমি কথায় কথায় তাকে ঐ মাসিমার কথা জিজ্ঞেস করলাম। কিন্তু সে যেন আকাশ থেকে পড়ল, তার কথা অনুযায়ী ঐ বাড়ির মালিক অনেক দিন আগেই ঐ বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে কারণ তার বৌ ঐ বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছিলেন। যেহেতু নমিতা মাসি এই গ্ৰামেরই মানুষ তাই সে নিশ্চয়ই সত্যিই বলছে। তার কথা শুনে আমার গা হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে গেল। "তাহলে এতদিন আমার মেয়ের সঙ্গে যিনি কথা বলতেন তিনি কি তাহলে"..... মাথা ভোঁ ভোঁ করে ঘুরতে থাকে আমার। এরপর থেকে ঐ ঘরটা তালা লাগিয়ে রাখতাম। দুদিন পর চিনির একটা জামা আনতে ঐ ঘরে গেছি, কৌতূহল বশত ঐ জানালাটা খুললাম। খুব ভালো করে গোয়েন্দা নজরে দেখতে থাকলাম ঐদিকে। হঠাৎ আমার চোখ পড়ল জানালার নিচে কার্নিশের উপর। কিছু পেয়ারার বীজ পড়ে রয়েছে সেখানে। আমার মনে পড়ে গেল সেদিনের কথা, চিনি ঐ মাসিমাকে পেয়ারা দিয়েছিল। একমিনিট, কিন্তু ভূতে কি পেয়ারা খায় !! আমার মনেও এবার গোয়েন্দা ভর করলো। সবই হয়তো বেশি গোয়েন্দা গল্প পড়ার প্রতিফলন। অনেক প্রশ্নই এবার আমার মনে ঘুরপাক খেতে লাগল। সেদিন পুরো দিনটা আমি নজর রাখলাম ঐ বাড়িটার দিকে, কিন্তু কিছুই ঘটলো না। রাতে পিকু মানে আমার বর, আর মেয়ে ঘুমিয়ে যাবার পর আমি ধিরে ধিরে ঐ ঘরটায় গেলাম, জানালাটা খুলে দিলাম তারপর দেখলাম ঐ বাড়ির জানালার ফাঁক দিয়ে আলো দেখা যাচ্ছে। মনে হয় টর্চ বা ঐ জাতীয় কিছু। কিছুক্ষণ পর একটা গাড়ি স্টার্ট দেবার আওয়াজ ও পেলাম, ঐ বাড়ির সামনে থেকে। ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে না পারলেও এটুকু বুঝলাম যে কিছু একটা গন্ডগোল নিশ্চয়ই আছে। পরদিন ছিল রবিবার, আমি আমার বরকে সব ঘটনা খুলে বললাম। ও সব শুনে বললো," লোকাল কিছু লোকেদের জানাই আর থানায় একটা খবর দিই"। নমিতা মাসীর দৌলতে কিছু স্থানীয় মানুষের সাহায্য পাওয়া গেল। পুলিশে খবর দেওয়াতে, ওনারা এলেন, ওনাদের সন্দেহ এটা কোন স্মাগলিং এর কেস হতে পারে। যাই হোক শেষ মেষ ঐ বাড়ির তালা ভাঙা হলো। উৎসাহিত পাবলিক বাইরে ভীড় করে দাঁড়িয়ে। কিছুক্ষণ পর পুলিশ বাড়ির ভিতর থেকে একটি প্রৌঢ়া মহিলাকে অচৈতন্য অবস্থায় বের করলেন। " দিদু, দিদুল কি হয়েতে"? চেঁচিয়ে উঠলো চিনি। "এতো যোগমায়া রায়, রায় ইন্ডাস্ট্রির মালকীন। বেশ কিছুদিন ধরেই তো ইনি মিসিং, টিভিতে নিউজের শিরোনাম এখন এই খবরটা, দেখোনি তুমি পূজা"?? বললো আমার বর পিকু। এবার বুঝতে পারলাম ওনাকে দেখে আমার কেন এতো চেনা চেনা লাগছিল, টিভি চ্যানেলে অনেকবার ওনার ছবি দেখেছি। পুলিশ ওনাকে নিয়ে গেল, ওনার মাথার পিছনের দিকে একটু চোট লেগেছে। সেদিন রাতে আমরা সবাই সজাগ আর ঐ বাড়ির ভিতরে পুলিশ ঘাপটি মেরে জাল পেতে বসে। রাত তখন প্রায় দেড়টা হৈচৈ শুনে পাড়ার সকলে বেড়িয়ে এলো, আমরাও বেড়ালাম। তিনটি মুষকো চেহারার লোককে ধরে পুলিশ জিপে তুললেন পুলিশরা। পরে পুলিশ সুত্রে জানা গেছিল যে যোগমায়া দেবিকে অপহরণ করে এই বাড়িটায় নিয়ে আসে ঐ অপহরণকারী দল। যেহেতু এই বাড়িটা পোড়ো আর শহর থেকে দূরে তাই ঝুঁকি কম ছিল ধরা পড়বার। ওদের উদ্দেশ্য ছিল টাকা, কিন্তু যোগমায়া দেবি একদিন চেঁচামেচি করতে যাওয়ায় ওরা ওনার মাথায় আঘাত করে, আর তাতেই আনুমানিক তার স্মৃতি শক্তি আংশিক লোপ পায়। এরপর হয়তো ঐ অপহরণকারী দল জানতে পারে যে যোগমায়া দেবি জানালা খোলেন তাই বিপদের আশঙ্কায় ওনাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ফেলে রাখে। যদিও পরে চিকিৎসার পর উনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গিয়েছেন শুনেছি। তারপর কেটে গেছে পাঁচটা মাস, সেদিন পঞ্চমী, পূজোর ছুটি কাটাতে আমরা কলকাতা ফিরছি। বাড়ি থেকে সবে বেরিয়েছি, হঠাৎ সামনে একটা দামী গাড়ি এসে থামলো। একজন প্রৌঢ়া মহিলা গাড়ি থেকে নেমে এলেন, যোগমায়া দেবি, সঙ্গে তার ভাইপো অশোক অধিকারী। আমার সামনে এসে উনি বললেন," কি বলে যে ধন্যবাদ দেব আপনাদের, আপনারা না থাকলে যে কি হতো কে জানে"... ওনাকে থামিয়ে বললাম, " এগুলো তো সব দায়িত্বশীল নাগরিকদের কর্তব্য, আপনি সুস্থ আছেন এটাই সবচেয়ে বড় কথা"। উনি এরপর চিনিকে কোলে তুলে আদর করতে লাগলেন, চিনি ওর হাতে থাকা পেয়ারা টা ওনার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো," দিদু পিলালা থাও".....
সমাপ্ত।
website : BhutGolpo
website link : https://bhutgolpo.blogspot.com
Keywords
Horror Story
Bangla Horror Story
Bengali Horror Story
Horror Story in Bangla
Horror Story in Bengali
Bhut Golpo
Bangla Bhut Golpo
Bengali Bhut Golpo
Bhut Golpo in Bangla
Bhut Golpo in Bengali
Bhuter Golpo
Bangla Bhuter Golpo
Bengali Bhuter Golpo
Bhuter Golpo in Bangla
Bhuter Golpo in Bengali
Bhoot Golpo
Bangla Bhoot Golpo
Bengali Bhoot Golpo
Bhoot Golpo in Bangla
Bhoot Golpo in Bengali
Bhooter Golpo
Bangla Bhooter Golpo
Bengali Bhooter Golpo
Bhooter Golpo in Bangla
Bhooter Golpo in Bengali
Vut Kahini
Bangla Vut Kahini
Bengali Vut Kahini
Vut Kahini in Bangla
Vut Kahini in Bengali
ভূত গল্প
ভুতের গল্প
ভুতের কাহিনী
ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা
পিশাচের গল্প
শাকচুন্নির গল্প
রাক্ষসের গল্প
ডাইনির গল্প

0 Comments