Header Ads Widget

সেই_রাতের_গল্প

সেই_রাতের_গল্প Bangla Bhuter Golpo (bhutgolpo.blogspot.com)






#সেই_রাতের_গল্প

২০১৭ সালে আমার এক বন্ধুর দিদির বিয়ের ঠিক হয়েছিল। তো একদিন বিকেলে বন্ধু ফোনে খবর টা জানালো বললো, "এপ্রিল মাসের ১৬ তারিখ দিদির বিয়ের ঠিক হয়েছে, তোকে কিন্তু আসতেই হবে।এখন থেকে ফোনে জানিয়ে রাখলাম যাতে কোনো কাজ না রাখিস ওই সময়,পরে একদিন বিয়ের কার্ড নিয়ে তোর বাড়ি যাবো নিমন্ত্রণ করতে।"ঠিক আছে এই বলে আরো কিছু কথা বলে সে ফোন রাখলাম।
দেখতে দেখতে চলে এলো এপ্রিলের ১৬ তারিখ। এর মাঝে একদিন বিয়ের কার্ড নিয়ে বাড়ি এসে নিমন্ত্রণ ও করে গেছে আমার বন্ধু। সে বার বার করে বলে গেছে তিনদিন থাকতে হবে তার বাড়িতে,কিন্তু আমার এক মুস্কিল হলো। শিবের গাজন উপলক্ষে আমাদের গ্রামে প্রতিবছর যে দুদিন যাত্রা পালা র আয়োজন করা হয় সেই যাত্রার এবছর দিন ঠিক হয়েছে এপ্রিলের ১৭ আর ১৮ তারিখ।এই দুদিন গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে নিজের নিজের প্রায় সব আত্মীয় স্বজন আসে, আমার বাড়িতেও সব আত্মীয় স্বজন আসে। খুব জমজমাট মেলাও বসে যাত্রা আর গাজন উপলক্ষে। তাই বন্ধুর বাড়িতে গেলে আমাকে যা করেই হোক আজ রাত্রেই অর্থাৎ ১৬ তারিখ রাত্রেই ফিরে আসতে হবে। বন্ধু কে সব জানালাম ফোনে, সে বললো"তাহলে তো কিছুই করার নেই তুই খাওয়া দাওয়া করে রাত্রেই বাড়ি চলে যাবি"। বন্ধুর বাড়ি বাঁকুড়া র ধলডাঙ্গা নামে একটা মোড়ের থেকে আরো প্রায় পাঁচ কিমি রাস্তা, সবে মিলে আমার বাড়ি থেকে ওই সাতাশ কিলোমিটারের মতো রাস্তা হবে। তা যাই হোক সকাল এগারোটার দিকে বন্ধুর বাড়ি গিয়ে পৌঁছলাম। সবার সাথে একটু আলাপ আলোচনা করতে করতে দুপুর ১ টা বাজতেই খাবার ডাক এলো, খাওয়া দাওয়া সেরে বসে গল্প করে আড্ডা দিয়ে সন্ধ্যে হয়ে গেল। তারপর শুরু হলো বিয়ে বাড়ির ব্যস্ততা। বরযাত্রী দের দেখে শুনে খাইয়ে দিয়ে নিজে খেয়ে যখন উঠলাম তখন ঘড়িতে রাত ১২ টা ২০ বাজে। বন্ধুকে বললাম" এবার তাহলে আমি আসি রে"। বন্ধু সব ব্যাপারটা জেনে আমাকে আসার সম্মতি দিলেও পাশে দাড়িয়ে থাকা বন্ধুর বাবা মায়ের কানে কথাটা যেতেই বাঁধলো গণ্ডগোলটা।"এতো রাত্রে আবার কেউ বাড়ি যায়, তোমার তো ওতো দূরে বাড়ি"বললেন বন্ধুর মা। বন্ধুর বাবা ও বললেন আজ কিছুতেই যেতে দেবেন না। তারপর বন্ধুকে বলে সে অনেক বুঝিয়ে রাজি করলো তার বাবা মা কে। বাইক নিয়ে আমি বেরিয়ে পড়লাম। মাঝে মাঝে কিছু বড়ো গাড়ি ছাড়া রাস্তা পুরো শুনশান। গ্রীষ্মকালের রাত, চাঁদের ঠিকরে পড়া আলো দেখে আর দু একদিন পরেই পূর্ণিমা হবে মনে হলো। বাইকে ফুরফুরে বাতাস নিতে নিতে ধীরে ধীরে আসছিলাম। অবশেষে মেইন রোড ছেড়ে নামলাম আমাদের গ্রামের সরু পিচ রাস্তায়। মেইন রোডে মাঝে মাঝে বড়ো লরি জাতীয় গাড়ি র দেখা পেলেও গ্রামের এই রাস্তা টা একেবারেই শুনশান আর চারিদিকে অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা।ধীরে ধীরে আসছি ঠিক যখন গ্রামের শেষের শ্মশানের পাশের ছোট ব্রিজটা র কাছে এসে পৌঁছলাম ঠিক তখনই আচমকা আমার বাইক টা একটা অদ্ভুত ভটভট শব্দ করে নিজের থেকেই বন্ধ হয়ে গেল। দু চারবার স্টার্ট দেওয়ার চেষ্টা করলাম, কিন্তু না কিছুতেই স্টার্ট নিল না বাইক টা। পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখলাম রাত একটা চল্লিশ বাজে। তারপর মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে বাইকের এদিক ওদিক ভালো করে দেখলাম, না সবই তো ঠিক আছে তাহলে এভাবে আচমকা স্টার্ট বন্ধ হয়ে গেল কিভাবে!গ্রাম এখান থেকে প্রায় আরো দু কিলোমিটার দূরে। মনে মনে ভাবলাম এমন একটা জায়গায় এই গভীর রাত্রে ফেঁসে গেলাম। সত্যি জায়গাটা যেকোনো লোকের বুকে ভয় ধরানোর জন্য যথেষ্ট। আমি দাড়িয়ে আছি শ্মশানের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোটো নদীটার ব্রিজে ওঠার ঠিক আগে আর এই ব্রিজটার বাম পাশে নদীর ধারে মড়া পড়ানো হয় আর ডানপাশে একটু দূরে একটা বিশাল বটগাছ যার নিচে ভৈরবের মন্দির। এখন গ্রীষ্মকাল নদীতে জল নেই বললেই চলে, ওই বাঁধ দিয়ে একটু জল ধরে রাখা হয়েছে পড়াতে নিয়ে আসা মৃতদেহ স্নান করানোর জন্য। এখানে এইভাবে দাড়িয়ে থাকার চেয়ে বাইক ঠেলে বাড়ির দিকে যাওয়াই ভালো এই ভেবে বাইক ঠেলতে শুরু করলাম। কিন্তু ঠিক ব্রিজটার মাঝ বরাবর আসতেই চমকে উঠলাম আমি, অনুভব করলাম আমার সামনে দিয়ে অস্বাভাবিক একটা গরম বাতাস বয়ে যাচ্ছে, বাতাসটা এতটাই গরম যেনো গায়ে ছেকা লাগলো আমার।যেখানে দাড়িয়ে আছি সেখানে বাতাসের উষ্ণতা যা অনুভব করছি ব্রিজের মাঝের অংশ থেকে ওই দিকের বাতাস এর থেকে অনেক বেশি গরম। এবার আমার একটু ভয় করলো গ্রামের অনেকের মুখেই শুনেছি এই জায়গাটা নাকি খুব খারাপ, রাত্রে অনেকেই অনেক কিছু দেখে এই জায়গায়।মাথায় শুধু গ্রামের লোকের কাছে শোনা এই জায়গার নানান অলৌকিক গল্প গল্প ঘুরপাক খেতে লাগলো ঠিক তখনই কানে দূরের দিক থেকে একটা আওয়াজ ভেসে আসলো। ধপ ধপ করে কোনো কিছুর হেঁটে আসার মতো আওয়াজ। আওয়াজটা আরেকটু সামনাসামনি আসতে বুক টা কেপে উঠলো, এতো কোনো ছোট খাটো কোনো প্রাণীর পায়ের আওয়াজ নয়, কোনো একটা বিশাল বড়ো কিছু প্রাণী হেঁটে আসছে মনে হচ্ছে। একটু পরেই চাঁদের আলোয় দেখলাম একটা বিশাল বড়ো মহিষ হেলতে দুলতে আসছে আমাদের গ্রাম দিক থেকে রাস্তা ধরে।। মহিষ টা আরো সামনাসামনি আসতে সেটার আকার দেখে বেশ অবাক হলাম, এতো বড়ো আর স্বাস্থ্যবান মহিষ আমি এর আগে দেখিনি কোনোদিন। ব্রিজের মাঝখানে দাড়িয়ে বিস্ফারিত চোখে আমি মহিষ টার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকলাম। আস্তে আস্তে মহিষ টা এসে দাড়ালো আমার সামনে ব্রিজের ওপারে, কিন্তু তার দৃষ্টি ব্রিজের ডানদিকের জলের দিকে। আমি একদৃষ্টে তাকিয়ে দেখছি আর ঠিক তখনই ঠিক মানুষের মতো করে মহিষ টা রাস্তার উপর থেকে ঝাঁপিয়ে গিয়ে পড়লো ব্রিজের নিচের সেই বাঁধিয়ে রাখা জলের উপর আর ঝাপানোর সাথে সাথে ঝপাং করে একটা শব্দ হবার পর দেখলাম বাঁধনের জল দুই ফাঁক হয়ে নিচের মাটি দেখা গেলো একবার। কিছুক্ষণ পর বাঁধনের জল আবার আগের মত অবস্থায় ফিরে এলো। কিন্তু একি! কোথায় গেলো এতো বড়ো আকারের সেই মহিষ টা? বাঁধনের জল একেবারে স্থির কোনো আওয়াজ নেই সেখানে, এতো বড়ো প্রাণীটা জলের মধ্যে থাকলে আওয়াজ উঠতো নিশ্চয়। আমি ব্রিজের উপর থেকে মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট ফেললাম জলের উপর কিন্তু জল একেবারে স্থির এতটুকু কম্পন মাত্র নেই তাতে। কিন্তু এত বড়ো প্রাণীটা তো আর চোখের সামনে থেকে নিমেষের মধ্যে উধাও হয়ে যেতে পারে না। জলের পাশাপাশি সেরকম কোনো ঝোপ ও নেই যে ঝোপে গিয়ে ঢুকে যাবে। ব্রিজের নিচে নজর ফেলে দেখছি মহিষ টা গেলো কোথায় আর ঠিক তখনই দেখলাম সেই জলের মধ্যে এক কোমর জলে দাড়িয়ে আছে একজন লোক।কিন্তু আমি তো এই জলের মধ্যে প্রায় দশ মিনিট ধরে লক্ষ্য করে আছি হটাৎ জলের মধ্যে মানুষ কোথা থেকে এলো, দশ মিনিট জলের নিচে ডুবে থাকা তো আর কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আমি তাকিয়েই থাকলাম সেদিকে,লোকটা ধীরে ধীরে জল থেকে উঠে দাড়ালো নদীর পাশে আর তারপর হঠাৎ করেই তার দৃষ্টি সোজাসুজি পড়লো আমার উপর, তার নজর পড়তেই শিউরে উঠলাম আমি লোকটার চোখ দুটো যেনো আগুনের মতো জ্বলছে, তার পরনে শুধু একটা লাল ধুতির মতো কিছু বাকি পুরো শরীর খালি। আমার থেকে নজর ফিরিয়ে সে আস্তে আস্তে চলতে শুরু করলো ব্রিজের ডানদিকের সেই বড়ো বটগাছের দিকে। আমি আর সেখানে দাড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না,এসব দেখার পর মনেই ছিল না যে বাইক খারাপ, ভয়ে আতঙ্কে সিটে বসে এক কিকেই বাইক স্টার্ট হয়ে গেলো। বাইক চলতে চলতেই তাকিয়ে দেখলাম লোকটা হেঁটে চলেছে বট তলার সেই ভৈরব মন্দিরের দিকে আর এখন তার চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে এক উজ্জ্বল আলোর ছটা।
                                                 ।।সমাপ্ত।।












website : BhutGolpo


Keywords

Horror Story

Bangla Horror Story

Bengali Horror Story

Horror Story in Bangla

Horror Story in Bengali

Bhut Golpo

Bangla Bhut Golpo

Bengali Bhut Golpo

Bhut Golpo in Bangla

Bhut Golpo in Bengali

Bhuter Golpo

Bangla Bhuter Golpo

Bengali Bhuter Golpo

Bhuter Golpo in Bangla

Bhuter Golpo in Bengali

Bhoot Golpo

Bangla Bhoot Golpo

Bengali Bhoot Golpo

Bhoot Golpo in Bangla

Bhoot Golpo in Bengali

Bhooter Golpo

Bangla Bhooter Golpo

Bengali Bhooter Golpo

Bhooter Golpo in Bangla

Bhooter Golpo in Bengali

Vut Kahini

Bangla Vut Kahini

Bengali Vut Kahini

Vut Kahini in Bangla

Vut Kahini in Bengali

ভূত গল্প

ভুতের গল্প

ভুতের কাহিনী

ভয়ানক অলৌকিক ঘটনা

পিশাচের গল্প

শাকচুন্নির গল্প

রাক্ষসের গল্প

ডাইনির গল্প

Post a Comment

0 Comments